বাবরি মসজিদের দাবি ছেড়ে দিতে পারে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড: এনডিটিভি


প্রকাশিত : অক্টোবর ১৭, ২০১৯ ||

ভারতের অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের জমির দাবি ছেড়ে দিতে পারে এই মামলার অন্যতম পক্ষ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। মামলা নিস্পত্তিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের গঠন করে দেওয়া একটি মধ্যস্থতাকারী প্যানেল তাদের প্রতিবেদনে এমন আভাস দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি। সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, রাম মন্দির নির্মাণে সরকার অধিগ্রহণ করলে জমির ওপর নিজেদের দাবি প্রত্যাহার করে নিতে পারে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। তবে এর বিনিময়ে সরকারের কাছে অযোধ্যায় বিদ্যমান মসজিদের সংস্কার ও উপযুক্ত যেকোনও স্থানে নতুন মসজিদ নির্মাণের কথা জানিয়েছে তারা। .

 

বাবরি মসজিদের অবস্থান উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে৷ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একাংশের দাবি, যেখানে মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছে সেই জায়গাটি ছিল দেবতা রামের জন্মভূমি, তা ভেঙে মসজিদ বানানো হয়। এ নিয়ে হিন্দু-মুসলিম বিরোধ বহুদিনের। ১৯৯২ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন থাকার সময়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বাবরি মসজিদ। এর জেরে সৃষ্ট দাঙ্গায় প্রাণ হারায় অন্তত ২ হাজার মানুষ। ভারতের প্রাচীন শহর অযোধ্যার ওই বিতর্কিত স্থানটি কোন সম্প্রদায়ের দখলে থাকবে, তা নিয়ে মামলা চলছে ৬০ বছর ধরে।

২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল বাবরি মসজিদের ভূমি তিন ভাগে ভাগ করে বণ্টনের আদেশ দেয়। আদালতের নির্দেশনায় মুসলিম ওয়াকফ বোর্ড, নিরমাজি আখড়া আর রামনালা পার্টিকে সেখানকার ২ দশমিক ৭ একর জমি সমানভাগে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। হিন্দু-মুসলিম দুই পক্ষই সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিল।  বুধবার সেই শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বরের আগে এই মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।

গত শুক্রবার (৮ মার্চ) ভারতের প্রধান রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একটি পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বাবরি মসজিদ সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেয়। ওই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এফএমআই কলিফুল্লাহ। তার সঙ্গে কমিটিতে আরও থাকবেন হিন্দু ধর্মীয় গুরু রবি শংকর এবং বর্ষীয়ান আইনজীবী শ্রী রাম পাঞ্চু।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ওই মধ্যস্থতাকারী প্যানেল তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাম মন্দিরের জন্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে দাবি প্রত্যাহার করে নেবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। এর পাশাপাশি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপে পাওয়া মসজিদগুলোর একটি উপস্থাপন করবে তারা। আর আদালতের নিয়োগকরা একটি কমিটি নামাজের জন্য ব্যবহৃত এসব মসজিদগুলোর নামকরণ করবে।