নবীন স্থপতির চোখে লেকটির পূণর্জীবনে নতুন গোপালগঞ্জের স্বপ্ন পূরণে তালার ছেলে অনিক


প্রকাশিত : অক্টোবর ১৭, ২০১৯ ||

ইলিয়াস হোসেন, তালা (সদর): সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সুখ শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা আকাংখাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য-সংষ্কৃতি- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনার কথা মাথায় রেখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার (স্থাপত্য) ডিসিপ্লিনের প্রাত্তন ছাত্র নবীন স্থপতি এস এম অহিদুজ্জামান অনিক এর ভাবনায় উঠে এসেছে আগামীর মডেল গোপালগঞ্জ। অনিক সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মোহাল্লাপাড়ার মৃত আফসার আলী সরদারের ছেলে।
বাংলাদেশের স্থপতির জন্মভূমি নদীমাতৃক রুপসী বাংলার মধুমতির তীরে গড়ে ওঠা গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গি পাড়ায়। গোপালগঞ্জ পৌরসভা যা মধুমতি নদীর একটি শাখা কালীগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত। কালীগঙ্গা নদীর একটি উপশাখা বক্ররেখার ন্যায় পুরো শহরটাকে দু’ভাগে ভাগ করে ফের কালীগঙ্গায় গিয়ে মিশেছে। সঙ্গত কারণে তাই এর প্রকৃতির নিপুন হাতে গড়া শৈল্পিক প্রকৃতি যুগ যুগ ধরে শহরটাকে লালন করে আসছে ভিন্ন আয়োজনে। বক্ররেখার ন্যায় শৈল্পিকরুপ নেয়ার কারণে উপশাখাটি লোকমুখে লেক নামেই পরিচিত। তবে নানা সংকট ও প্রতিবন্ধকতায় লেকটি আজ রীতিমত হুমকির সম্মুখীন।
বক্ররেখার ন্যায় এই লেকের পূর্ব পাশ দিয়ে বহমান গোপালগঞ্জ টাউন রোডটি দক্ষিণের খুলনা, টুঙ্গিপাড়া ও উত্তরে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে রাজধানী ঢাকা ও উত্তর বঙ্গের সাথে সরাসরি যুক্ত।


তবে দেশের ঐতিহাসিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ গোপালগঞ্জ জেলার লেকপাড়ের পূর্বাংশ দাঁড়িয়ে আছে তথাকথিত পশ্চিমা সংষ্কৃতিকে ভর করে। পশ্চিমাংশ অব্যবহৃত ও অবহেলিত। এরফলে পূর্বাংশে সৃষ্ট যানজট ও কোলাহলময় পরিবেশ সেখানকার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ বসবাসেরও অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দয্য বহনকারী লেকপাড়টি পর্যটন কেন্দ্রের বিপরীতে পর্যবসিত হয়েছে ময়লার স্তুপ ও ভাগাড়ে। তবে নবিণ স্থপতি এস এম অহিদুজ্জামান অনিকের স্থাপত্য গবেষণায় উঠে এসেছে এর পূনর্জীবিতকরণ পন্থা। যা সৃষ্ট সমস্যার একমাত্র সমাধান হতে পারে।
তরুণ স্থপতির দৃষ্টিতে লেকটির পূণর্জীবনে একটিই পন্থা খোলা রয়েছে। আর তা হল, প্রাকৃতিক ব্যবহার সুনিশ্চিত করা। এর জন্য প্রথমেই প্রয়োজন, পানি পথের যাতায়াত ব্যবস্থা। এরজন্য লেকপাড়ের দু’প্রান্তে দু’টি নৌকা ঘাটের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। যা গোপালগঞ্জের নিজস্ব সংষ্কৃতিকে বহন করবে। এছাড়া দু’টি ঘাটের মধ্যবর্তী বর্তমান ও সম্ভাবনাময় সাংষ্কৃতিক স্পটগুলোকে সনাক্তকরণ ও তা লেকের পশ্চিম পার্শ্ববর্তী একটি সাংষ্কৃতিক পথের মাধ্যমে যুক্তকরণই লেক সংলগ্ন একটি সার্বজনীন পরিবেশ তৈরী করতে পারে।
প্রাপ্ত সাংষ্কৃতিক হটস্পটগুলো ক্রমান্বয়ে ইজতেমার মাঠ,শেখ মনি স্মৃতি মিলনায়তন এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী, গোপালগঞ্জ লেক পার্ক, শেখ কামাল স্টেডিয়াম, ও স্টেডিয়াম মার্কেট এবং শেখ রাসেল শিশু পার্ক। প্রসঙ্গত, সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনায় লক্ষের সাথেই সামঞ্জস্য রেখেই শেখ মনি স্মৃতি মিলনায়তন ও শেখ কামাল স্টেডিয়াম মার্কেটকে পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।


বিস্তারিত প্রস্তাবনার মধ্যে রাখা হয়েছে, নির্দিষ্ঠ হাঁটা দুরত্বে নৌকা ভিঁড়ানোর ঘাট, যাকে কেন্দ্র করে উন্মুক্ত ও আচ্ছাদিত বসার জায়গা ছোট-খাটো চা ও খাবারের দোকান। উল্লেখ্য যে,প্রস্তাবিত সাংষ্কৃতিক গমন পথের দু’টি ঘাটকে কেন্দ্র করে দুটি বড় বানিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। এর সাথে সহায়ক কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে,মাছের বাজার ও ভ্যান স্ট্যান্ড।
এদিকে রাস্তার প্রস্তাবনা রয়েছে,তিন ধরণের দু’টি ভ্যান গাড়ির জন্য এবং একটি ঘোড়ার গাড়ির জন্য। ঘোড়ার গাড়ি গোপালগঞ্জের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী বাহন যা আজ বিলুপ্তির পথে। আর এটি বাস্তবায়ন হলে, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবিদেরকেও পুনর্জীবিতকরণ সম্ভব হবে। তাছাড়া রাস্তার অন্যান্য বৈশিষ্ঠ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, দু’ধারে গাছের সারি, বাইসাইকেল লেন, পায়ে হাাঁটার রাস্তা ও বসার জায়গা।
সর্বশেষ বলা যায়, লেক ও লেক পাড়কে ব্যবহার উপযোগী করার মাধ্যমে গোপালগঞ্জের নিস্ব সাংষ্কৃতিক ধারাবহিকতা বজায় রেখে নাগরিক সুবিধা সম্পন্ন সার্বজনীন পরিবেশ তৈরী করা সম্ভবপর,যা নগরবাসীর শারীরিক ও মানষিক উন্নতির জন্য সহায়ক হবে।