জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা: পোস্ট অফিসে সিসি ক্যামেরা থাকা স্বত্বেও প্রতারণা


প্রকাশিত : অক্টোবর ১৭, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সিসি ক্যামেরা থাকা স্বত্বেও প্রতারণার ফাঁদে ফেলে এক দুস্থ নারীর ৪০ হাজার টাকা নিয়ে লাপাত্তা একটি প্রতারক চক্র! ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসের ক্যাশ কাউন্টারে। এঘটনায় অভিযুক্তদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল। এঘটনা শুধু একদিন নয়, প্রতিনিয়ত এধরনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসে। সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা ভাঙ্গানোর নাম করে এবং নতুন এ্যাকাউন খোলার নাম করে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। সূত্রে জানা যায়, ১৫ অক্টোবর দুপুর ১টা ৫মিনিটে সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসে টাকা উত্তোলন করতে যায় শহরের রেজিস্ট্রি অফিস পাড়ার বাসিন্দা মোছা. রোজিনা খাতুন। ক্যাশ কাউন্টারে দাঁড়ানোর পর একটি প্রতারক চক্র রোজিনা খাতুনের চারপাশ ঘিরে ফেলে। এসময় রোজিনা খাতুনের সঞ্চয়কৃত ৯০ হাজার টাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতারক চক্রটি ফাঁদে ফেলে রোজিনার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা সরিয়ে ফেলে এবং চেতনানাশক কোন বিষাক্ত কীট ব্যবহার করে। এতে রোজিনা খাতুন শারিরীক দুর্বলতাবস্থায় কোন রকমে বাড়ি ফিরে আসে। পরে ঐ টাকা গুনে দেখা যায় সেখানে ৪০ হাজার টাকা কম। রোজিনা খাতুন বলেন, দুপুর ১টা ৫ মিনিটে সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসে আমার নিজ নামীয় একাউন্ট থেকে ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে যাই। টাকা উত্তোলনের পর একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র আমার কাছ থেকে টাকা ভাঙ্গানোর নাম করে ৪০ হাজার টাকা সরিয়ে ফেলে। অনেক খোঁজাখুজির পরও আমি উক্ত প্রতারক চক্রদের খোঁজ পায়নি। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসে গিয়ে আমি উক্ত প্রতারক চক্রের প্রতারণার সিসিটিভি ফুটেজ দেখি এবং ছবি তুলে রাখি। কিন্তু পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ এনিয়ে নানান তালবাহানা করছে। এমতাবস্থায় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সনাক্তপূর্বক উক্ত প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আমার অতি কস্টে সঞ্চয়কৃত ৪০ হাজার টাকা যাহাতে ফেরত পেতে সেজন্য সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রতারক চক্রদের সনাক্ত করে শাস্তির দাবী এবং টাকা ফেরত পেতে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি অভিযোগ করেছেন রোজিনা খাতুন। উল্লেখ্য, রোজিনা খাতুনের বহু কষ্টে সঞ্চয়কৃত এ টাকাগুলো ফিরে পেতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রতারকদের সনাক্তকরণের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান এবং প্রতারণার শিকার রোজিনা খাতুনের ৪০ হাজার টাকা যাতে ফিরে পায় সেজন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।