দোলনচাঁপার দুঃখ


প্রকাশিত : October 19, 2019 ||

অঙ্কন রায়
দোলনচাঁপা পুরোনো সাইকেলটা বের করে মোটামুটি ভাবে ধুলোটুলো ঝেড়ে ওটায় চেপে মনিমালাকে দেখতে গেল জঙ্গলের ভিতরে। একটা খবর পেয়েই এখন এই মুুহুর্তে যাওয়া মনস্থির করল ও। ওদের বাড়ি থেকে জঙ্গল খুব দূর না হলেও আড়াই পৌনে তিন কিলোমিটারের মতো হবে। আজকাল উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসায় বাড়ি থেকে সে ভাবে বেরোতে পারেনা দোলনচাঁপা। আগেও যে খুব বেড়িয়ে বেড়াত তা নয়। ওই বছর দুই আগে মাধ্যমিক পরীক্ষার পর মাস তিনেকের যে লম্বা ছুটিটা পেয়েছিল, তার দিন পনেরো মামাবাড়ি, পিসির বাড়ির জন্য তুলে রেখে বাদবাকি সময়টা টইটই করে বেড়ানোর অভ্যাস করে ফেলেছিল। সেই সময়েই একদিন স্কুলের গেটের কাছে আলাপ হয় ওর মনিমালার সঙ্গে। মেয়েটা মলিন পোষাক পড়ে ওর বাবার সঙ্গে একটু আড়ষ্ট ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল ঝুড়িনামা বটগাছটার তলায়। দোলনচাঁপাকে দেখে একটু ইতস্তত করে ভদ্রলোক ডাকলেন হাতছানি দিয়ে। সঙ্গে ওর বয়সী মেয়ে আছে বলেই সাহস করে এগিয়ে গেছিল ও। এমনি একা কোনও অচেনা লোক ওভাবে ডাকলে এগোতো না। সেটা মায়ের শেখানো।
দোলনচাঁপা এগিয়ে গেলে মানুষটা বলেছিলেন, তুমি তো এই ইস্কুলে পড়ো মামনি। তাই না? এটা আমার মেয়ে। ও এখানে কেলাস ফোর অবধি পড়েছিল। আর পড়াতে পারিনি গো। আমি জানতে চাইছি তোমাদের হেডসার কি এখন ভিতরে আছেন? আমি একটুকু দেখা করতাম। বাপ মেয়ে মিলে কিছু কাজের খোঁজ করছি গো। মাস্টারমশাই ভালো মানুষ। কিছু জুটিয়ে দিতে পারেন নিশ্চয়ই।
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে থামলেন উনি। দোলনচাঁপা বলল, আপনার মেয়ে যখন এই স্কুলে পড়ত, তাহলে আপনি তো চেনেন সবাইকে। চলে যান না গেট দিয়ে। নিজে কথা বলুন। স্যাররা সবাই আছেন। আমাদের তো এখন ক্লাস হচ্ছেনা। মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এমনি এদিকে বেড়াতে এসেছিলাম। আপনি ভিতরে চলে যান। তারপর দোলনচাঁপা চলে যেতে গিয়ে একবার মেয়েটার দিকে ফিরে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, কি নাম তোমার? কোথায় থাকো?’ মেয়েটা মুখে একটু কষ্টের হাসি টেনে এনে দোলনচাঁপাকে বলল, ‘দিদি,আমার নাম মনিমালা। আর আমার বাড়ি ওই দ্বারবুনিতে। জঙ্গলের ভিতর যে বসতিটা আছেনা, সেইখানে।’…
মনিমালার সঙ্গে দোলনচাঁপার দ্বিতীয় সাক্ষাৎ হয় ওর ইলেভেনে ভর্তির সময়। নিজের স্কুলেই মাধ্যমিক শেষে রেজাল্ট বেরোনোর পর নতুন ক্লাসে ভর্তির জন্য যেদিন ও এল, দেখল স্কুলগেটের ভিতরে ঢুকে ডানদিকেই একটা ছোট চায়ের স্টল। সঙ্গে বিস্কুট, কেক আর পাঁউরুটির প্যাকেট সাজানো আছে। একটা বেঞ্চের ওপর বসে আছে মনিমালা। বাঃ। ওরা এখানে খাবারের স্টল দিয়েছে? বেশ ভাল তো! দোলনচাঁপা আনন্দে এগিয়ে গিয়ে মনিমালার হাত ধরে বলল, ‘হ্যাঁরে বোন, তোরা কবে এখানে দোকান দিলি? আমাদের ছুটির মধ্যে? এটা তো দারুণ সারপ্রাইজ! ‘
মনিমালার বাবা স্টোভ থেকে কেটলি নামিয়ে কাচের গেলাসে চা ঢালতে ঢালতে বললেন, ‘হ্যাঁ গো মামনি। মাস্টারমশাই আমাদের ঠাঁই করে দিলেন ইস্কুলেই। বলেছিলাম না, এরকম মানুষ হয় না। মনির তো মা নাই। বাপ বেটিতে তাই তোমাদের কাছেই থেকে গেলাম।’
দোলনচাঁপা খুশি খুশি মনে ভর্তি হতে গেল।
এরপর রোজই ওদের দেখা সাক্ষাৎ চলতে থাকলো। দোলনচাঁপা মনিমালার বন্ধু হয়ে গেল খুব তাড়াতাড়ি। ভালো বন্ধু। দোলন আর ওর ক্লাসের মেয়েরা ফাঁক পেলেই ওদের দোকানে এসে বসে। মনি’র সঙ্গে কত গল্প চলে তখন। ওর বাড়ি দ্বারবুনি। জঙ্গলের ভিতর ঝিলম দীঘির পারের বসতিতে। সেটা জেনে একদিন বন্ধুরা দল বেঁধে মনিমালার বাড়ি যাওয়ার প্যানও করে ফেলল। যে যার বাড়ির পারমিশন নিয়ে এক রবিবার ছুটির দিন হৈহৈ করতে করতে ইলেভেন ক্লাসের দশবারোজন মেয়ে দল বেঁধে গেল দ্বারবুনি। মনিমালার বাবা ওদের নিয়ে গিয়েছিলেন। সঙ্গে আরও কয়েকজনের বাবা গিয়েছিলেন। বাড়ি দেখে শুনে তাঁরা ফিরে গিয়েছেন। মেয়েরা তো আনন্দে আত্মহারা যাকে বলে। এমন সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ যে ওদের সবার বাড়ির এত কাছে জঙ্গলের ভিতর লুকিয়ে থাকতে পারে, কারো ধারণাতেই ছিলনা। দোলনচাঁপারা মনিমালার সঙ্গে দীঘিপার, সোনাঝুরির বন, গ্রামের অন্যান্য মাটির বাড়ি সব ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকলো আর আনন্দে মেতে রইলো। দুপুরে খিচুরি, আলুর দম, ডিম ভাজা আর চাটনি ছিল দারুণ উপাদেয়। সবাই শালপাতার থালা চেটে চেটে পরিষ্কার করে খেয়েছে।…
মনিমালা একটু একটু করে হয়ে গেল দোলনের বেস্ট ফ্রেন্ড। মেয়েটা এত ভালো স্বভাবের যে কখনও কোনও একটা দিনের জন্যও নিজেদের কষ্টের কথা, অভাব অনটনের কথা মুখ ফুটে দোলনদের বলেনি। হাসি খুশি থাকতো নিজে, আর সবাইকে আনন্দ বিলিয়ে বেড়াতো। দোলনচাঁপা প্রায়ই স্কুল ছুটির পর সাইকেল চালিয়ে চলে যেত জঙ্গলে মনিদের বাড়ি। ওখানে কাকিমার হাতের গরম চপ আর মুড়ি খেতো।…
উচ্চমাধ্যমিকের আগে টেস্ট পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর দোলনরা হয়ে গেল একেবারে গৃহবন্দী। এই সময় আর স্কুল যেতে হয়না। প্রিপারেশন লিভ প’ড়ে যায়। তাই অনেকদিন স্কুল যাওয়া হয়নি দোলনচাঁপার। তাই অনেকদিন মনিমালার সঙ্গে দেখাও হয়নি দোলনচাঁপার। আজ সকালে খবরটা পেয়েই দারুণ চমকেছে সে। আর ভিতরে ভিতরে বিচলিতও। অনেকদিন বাইরে বেরোনো হয়নি। সাইকেলটাকে ঝেড়ে ঝুরে সাফসুতরো ক’রে টায়ারে হাওয়া দিয়ে বের করল দোলন। এক্ষুনি জঙ্গলে না গেলেই নয়। খবরটা পাওয়ার পর কি বসে থাকা যায়? ওর পড়ার ঘর থেকে কানে এল বিধুকাকু বাবার কাছে বসে গল্প করছেন আর গল্পের মধ্যেই বেরিয়ে এসেছে আজকের বিষয়ের সারমর্ম। কান খাড়া ক’রে শুনেছে দোলন। কথাগুলো জুড়ে যা দাঁড়ালো তা হল– অবশেষে আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। ঝিলমদীঘির পার ধরে জঙ্গলের মাঝবরাবর সিক্স লেনের চওড়া রাস্তা হচ্ছে তিন কিলোমিটার। আমাদের এলাকার সঙ্গে নতুন টাউনশিপের যোগাযোগের প্রধান রাস্তা হতে চলেছে এটা। কাজ আরম্ভ হয়ে গেছে…’
এরপর আর কিছু ভাবতে পারেনি দোলন। ওর কানটা ভোঁ ভোঁ করছিল। ওই ঝিলমদীঘির পারেই তো মনিমালাদের বাড়ি! ওদের ছবির মত গ্রাম দ্বারবুনি। এইরকম চওড়া রাস্তা হলে ওরা কোথায় যাবে? ওদের কি বসতি উঠিয়ে দেওয়া হবে? না না। এ হতেই পারেনা। এক্ষুনি বেরিয়ে গিয়ে নিজের চোখে দেখে আসা দরকার মনিমালাদের অবস্থা। মেয়েটা এমনই যে কোনও অসুবিধায় বা বিপাকে পড়লেও জানাতে আসবেনা। সব বিপদ একা একা ফেস করবে ও আর ওর বাবা। দোলনরা যেন ওদের কেউ নয়।
সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দিয়ে জঙ্গলের পথে পা চালালো দোলন। দ্রুতবেগে। সাইকেলটার কান্ডিশন তেমন ভালো নয়। ক্যাঁচ কোঁচ আওয়াজ হচ্ছে। তবু তো চলছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ডাঙালপাড়া পেরিয়ে ধোপাঘাট ডিঙিয়ে দ্বারবুনি জঙ্গলের কাছাকাছি চলে এল ও। আর আসতেই চোখে পড়লো পরিবর্তনটা। আজ মাস দুয়েক বাড়ি থেকে বেরোয়নি। এর মধ্যেই এতখানি পাল্টে গেছে জায়গাটা! জঙ্গলের মাঝবরাবর অনেকখানি জায়গা চওড়া ভাবে গাছ কেটে সাফ করে দেওয়া হয়েছে। সেই ফাঁকা জায়গাটা দিয়ে যতদূর দৃষ্টি যাচ্ছে কোনও বসতি বা মানুষজনের চিহ্নটুকু নেই। কোথাও বুঝি ম্যাজিকের মত ভ্যানিশ হয়ে গেছে মনিমালাদের গ্রাম দ্বারবুনি। দূরে একপাশে চিকচিকে জল দেখা যাচ্ছে ঝিলমদীঘির। আর তার পাশ ঘেঁষে অনেকখানি চওড়া ফাঁকা প্রান্তর ধু ধু বালিয়াড়ির মতো পড়ে আছে। দোলনচাঁপার বুকের ভিতরটা তোলপাড় করছে। কোথায় গেল মনিমালারা? ও এই দু’মাস এমন পড়াশোনায় মশগুল ছিল যে একবার খবরও নিতে পারেনি ওদের! আর ওরাও কেমন? আস্ত একখানা গ্রাম উৎখাত হয়ে গেল উন্নয়নের সড়ক গড়তে, আর তার জন্য কোনও আওয়াজ, কোনও প্রতিবাদ কিচ্ছু হল না? না কি কিছু হয়েছিল আর ও সেটা টের পায়নি? পাশ দিয়ে যাওয়া এক কাকুকে ডেকে জিজ্ঞেস করল দোলন, ‘কাকু, এখানে যে গ্রামটা ছিল, কোথায় গেল? সেই কাকু অবাক হয়ে একবার দোলনের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সে কি ভাই? তুমি এখানে থাকো না? তোমায় তো আগে দেখেছি বলেই মনে হচ্ছে। কত কান্ড হল। গ্রাম তুলে দিয়ে তার মাঝখান দিয়ে রাস্তা হবে বলে লড়াই হল, দুজন মানুষের প্রাণ গেল… আর তুমি কিছু জানো না?
দোলন অসহায় মুখে বলল, ‘সত্যি কাকু, আমি কিছু জানিনা। মাস দুয়েক আমি একেবারে অন্য জগতে ছিলাম। সামনে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা তো, তাই বাড়ি থেকে বেরোতাম না। আর এর মধ্যেই এত কিছু? ওখানে আমার বন্ধু মনিমালা থাকতো। ওরা কোথায় গেল? কিছু তো জানিয়েই গেল না।…’ দোলনচাঁপা বলছে আর ওর অজান্তেই ওর দুচোখ উপচে উঠে জল নেমে আসছে গাল বেয়ে। ঠোঁটের কোণ কেঁপে উঠছে। ওই কাকু একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললেন, ‘তুমি বাড়ি ফিরে যাও ভাই। চিন্তা কোরোনা। তোমার বন্ধু আর ওই গ্রামের সবাইকে সরকার এখান থেকে দশ কিলোমিটার দূরে আর একটা সুন্দর জায়গায় জমি দিয়ে বসতি বানিয়ে দিয়েছে। সেটা ওদের এখানকার বাড়িঘরের চেয়েও অনেক অনেক ভালো আর সুন্দর। তাই তো ওরা চলে গেল। তুমি চিন্তা কোরো না। এখন তো সবাই ব্যস্ত নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে লড়াই করতে, মানিয়ে নিতে। তোমার বন্ধু ঠিক তোমার সঙ্গে দেখা করবে। একটু স্থিতিশীল হোক সব পরিস্থিতি। ঠিক দেখা করবে। তুমি এখন বাড়ি ফিরে যাও ভাই।’…
অচেনা কাকু খুব সুন্দর করে গুছিয়ে বোঝালেন দোলনকে। দোলন সাইকেল ঘুরিয়ে বাড়ির দিকে ফিরে যেতে যেতে ভাবতে লাগলো এই উন্নয়নের কথা। ভাবতে লাগলো ওর বন্ধুর শৈশব কৈশোরের স্বপ্নের বাসভূমি হারিয়ে চলে যাওয়ার কথা। ও মনে মনে মনিমালাকে কথা দিয়ে এল ওই ঝাঁ চকচকে সিক্সলেনের রাস্তা দিয়ে কোনওদিন কোথাও যাবে না ও। ওই রাস্তাটাকে চোখের দেখাও দেখতে চায়না দোলনচাঁপা। দু’চোখের জলের ধারা বাঁধ মানছে না ওর।…
বাড়ি ঢুকতেই মা টের পেলেন মেয়ের মনের অবস্থা। দীপা মেয়েকে কাছে ডেকে বসিয়ে বললেন, ‘তুই আমাকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি কোথায় বেরিয়ে গেলি, আমি ঠিক বুঝেছি রে। তুই খবর পেয়েই মনিমালাদের বাড়ি দেখতে ছুটেছিলিস। তাই না বল?’ দোলন মায়ের কাঁধে মাথাটা হেলিয়ে রেখে ফুঁফিয়ে উঠলো। ওর গলার স্বর কেমন আটকে আটকে আসছে একটা অব্যক্ত কষ্টে… কান্নায়। কোনও রকমে বলতে পারলো, ‘তুমি জানতে, তাই না মা? আমায় আগে বলোনি পরীক্ষার ভয়ে। ঠিক বলছি?’
দীপা মেয়ের চুলে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, ‘আমার সোনা মা। কষ্ট পাস না। দেখনা, তোকে জানাইনি যাতে পরীক্ষার মধ্যে তুই কোনওভাবে বিচলিত না হয়ে পড়িস। মনিমালা একদিন ওর বাবার সঙ্গে এসেছিল। ওদের সমস্ত পরিস্থিতির কথা বলে গেছে। তুই যখন জেনেই এসেছিস, আর লুকিয়ে লাভ নেই। মনি তোর জন্য একটা চিঠি দিয়ে গিয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম তোর পরীক্ষার পর ওটা দেব। কিন্তু এখনই দেখে নে। কি আর করি। সব জেনেই গেছিস যখন…’
মা উঠে গেলেন ভিতরের ঘরে আর দোলনচাঁপা হতভম্ব হয়ে বসে আছে মায়ের চলে যাওয়ার দিকে মুখ করে।
কিছুক্ষণ পরে ও হামলে পড়েছে মনিমালার দেওয়া চিঠিটার ওপর।…
‘বন্ধু আমার, তোকে জানিয়ে গেলাম আমরা অনেক দূরে চলে যাচ্ছি। আমাদের গ্রামের মাঝখান দিয়ে বিরাট রাস্তা হচ্ছে তো, তাই আমাদের মানে গ্রামের সব লোকজনদের সরে যেতে হচ্ছে অন্য খানে। আমাকেও যেতে হচ্ছে। দশ কিলোমিটার দূরে নতুন গ্রাম তৈরী হচ্ছে আমাদের জন্য। সেখানে আমাদের পাকা বাড়ি হবে। জলের কল বসবে। দীঘিতে নেমে জল নেওয়ার ভয় থাকবে না। আরও অনেক অনেক সুবিধা পাব। চিন্তা করিসনা বন্ধু। আমি সবদিক গুছিয়ে ঠিক একদিন তোর কাছে আসবো দেখা করতে। কিন্তু জানিস, আমি অন্য কোনও রাস্তা দিয়ে আসবো। ওই নতুন চওড়া রাস্তায় কোনওদিন হেঁটে বা গাড়ি চেপেও আসবো না। তুই ভালো থাকিস। ভালো ভাবে পরীক্ষা দিস দোলন। অনেক অনেক আদর নিস।’…
উন্নয়নের ওই শৈশব কেড়ে নেওয়া রাস্তায় কোনওদিন না হাঁটার শপথ কেমন অজান্তেই দুই বন্ধুর এক হয়ে গেল। এই মিল দোলনকে আরও কতো কতো ভালোবাসায় ভরিয়ে দিল মনিমালার জন্য, তা এক দোলনচাঁপা ছাড়া আর কেই বা জানবে! আর একজন জানে। সে হল ওর অবিরাম গড়িয়ে নামা দু’চোখের দুঃখ-জল।