রেড ক্রিসেন্ট গ্যাছে, টার্মিনালও গেলো: গেলো গেলো, সব গেলো


প্রকাশিত : অক্টোবর ১৯, ২০১৯ ||

পাঠক: হঠাৎ উইকেট পতন। একে একে পতনের পর খুব দ্রুতই সবগুলি উইকেট হারিয়ে যাওয়া এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। ততক্ষণে দাম্ভিকতারও শেষ নামবে এমন প্রত্যাশায় ক্রিকেট ময়দানে হাজারো দর্শক। দর্শক তখন মনের সুখে করতালি দিয়ে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে দাম্ভিক গডফাদারকে।
ফার্ষ্ট উইকেট পতন হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে। সেখানে প্রধান হওয়ার লক্ষ্যে চলছিল ছুরিতে শান দেওয়ার কাজ। কিন্তু শান হলো না। অনেক কাঠ কয়লা পুড়িয়েও কাজ হলোনা। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে তালা ঝুলিয়েও লাভ হলো না। অবশেষে রণে ভঙ্গ দিয়ে উড়াল দিলেন বিদেশ বিভুঁইয়ে। হলো ফার্ষ্ট উইকেটের অসময়ের পতন।
এরপর এলো রেড ক্রিসেন্ট। সেখানেও ঘোলা-পেটা করে কয়েক চাটুকার পোস্টার-লিফলেট মার্কাকে সামনে রেখে একটি মনগড়া কমিটি করতে গিয়েও ধরা খেলো গডফাদার। আগেই হুংকার দিয়েছিল পোস্টার চাটুকার, তার গডফাদারের ইচ্ছাই নাকি শেষ কথা। তিনি যা চাইবেন তাই হবে। তিনি যা না চাইবেন তা হবে না। যাকে চাইবেন তিনিই হবেন কান্ডারি। এমনকি আমার রাজনৈতিক পদটিও যদি তিনি না চান তাই হবে। কিন্তু সে গুড়ে বালি পড়ে গেছে। প্রায় সাড়ে ১১ শ’ সদস্যের সবাইকে ডেকে ডুকে এনেও লাভ হলোনা। মাত্র ৪৬ জনকে পাওয়া গেলো কাগজে কলমে। বলা হলো মিটিং মুলতুবি। এই মুলতবি মিটিংয়ের আর টিকিটি মিললো না। শেষতক রণে ভঙ্গ দিয়ে এবারও মাঠ ছেড়ে গডফাদারের পলায়ন দৃশ্য দেখলেন দর্শক। হলো আরেক উইকেটের অসম্মানজনক পতন।
বড় আশা ছিল বাস টার্মিনালে বাস মালিক সমিতিকে নিজের দখলে আনার। সেই লক্ষ্যে তদবির তাগাদাও কম হয়নি। সাধারণ ভোটার সদস্যদের মতামতের পাশ কাটিয়ে মনগড়াভাবে গঠন করা একটি কমিটির শীর্ষে আনা হলো এক ব্যক্তিকে। দ্বিতীয় শীর্ষে আনা হলো সীমান্তের এক চোরাচালানিকে। মাস ছয়েক ভালই কাটছিল। কামাইও হয়ে আসছিল জুয়াড়ি চোরাচালানিদের হাত থেকে। কিন্তু বেরসিক প্রতিপক্ষের ঝড়ের তান্ডবে সব লন্ডভন্ড হয়ে গেলো। বেরসিক প্রশাসনও সিলগালা করে দিলো মালিক সমিতির সব কক্ষ। তাদের ধাওয়া খেয়ে পলায়ন ছাড়া উপায়ও ছিল না গডফাদারের পা চাটা বশংবদ জুয়াড়ি-চোরাচালানির। উইকেটের এই পতন চোখে পড়ার মতো।
এরই মধ্যে হঠাৎ জড়িয়ে গেলো ক্যাসিনো কান্ড। এক নিকট স্বজনের বাড়িতে ঢুকে বেরসিক পুলিশ টেনে বের করে আনলো কয়েক জুয়াড়িকে। হাতে পেল জুয়ার সরঞ্জাম, টাকা, খাতাপত্র। এ নিয়ে তো তোলপাড়। সরব মিডিয়া। এর প্রতিবাদ জানাতে মাঠে নামলো পোস্টার-লিফলেট চাটুকাররা। তারা প্রতিবাদী হয়ে সরব স্লোগান তুললো। বললো দুই মিডিয়া চাইনা। ওরা কাল থেকে শহরে বের হবে না। ওরা থাকবে না। গডফাদারের উপস্থিতি ও পৃষ্ঠপোষকতায় এই সরব উচ্চারণ শেষ পর্যন্ত হাওয়া হয়ে গেলো। শহরে তারা বের হচ্ছে নিয়মিত। কাকডাকা ভোরে দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে। পাঠক গিলছে গডফাদারি অহংকার ও চালবাজি।
অতএব উইকেটের পতন হলো আরও একটির।
শহরের হালচাল ভালো না। একটার পর একটা উইকেট পড়তে থাকলে কি আর ভালো থাকে হালচাল। এরই মধ্যে শহরের এক প্রান্তে একটি টাওয়ার ভাড়া নিয়ে সেখানে চালানো হচ্ছিল দেহ ব্যবসা। ওপরের আবরণ ছিল অন্য কিছু। ভেতরে তো চলছিল দেহ আদান প্রদান। সেখানেও বেরসিক পুলিশের হানা। থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়লো। হাতে মিললো এক গাদা কনডম। খদ্দেরও মিললো বেশ কয়েকজন। একজন নারীও। পুলিশ হাতে নাতে ধরে নিয়ে গেলো তাদের। এর পর থেকে পলাতক ছিল যৌন ব্যবসায়ী তরুণ তাজা এক নেতা যিনি চালিয়ে আসছিলেন পতিতালয়টি। কিন্তু রাতের ঘুম কামাই করে পুলিশ শুক্রবার তাকেও তুলে নিয়ে এলো শহরের বাইপাস রোড এলাকা থেকে। ধরা খেয়ে গেলো আরেক পতিতা কারবারী। উইকেট পতন হলো আরও একটির।
দর্শক কিন্তু হাততালি দিচ্ছে। তারা চূড়ান্ত হাততালি দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সেদিন সবগুলি উইকেটের পতন হবে। তারা সাতক্ষীরার সেই অহংকারী গডফাদারের চূড়ান্ত পরাজয় দেখার অপেক্ষা করছে। দর্শকদের পৃষ্ঠপ্রদর্শনের সময় আগত প্রায়। তখন মাঠে দর্শক গলা ফাটিয়ে বলবেন গেলো গেলো, সব গেলো। এবার কোন দম্ভ দেখাবেন তিনি?
লেখক: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পাঠক