শিক্ষক পছন্দ না হওয়ায় তালায় ক্লাস বর্জন করেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা


প্রকাশিত : অক্টোবর ১৯, ২০১৯ ||

তালা (সদর) প্রতিনিধি: এবার শিক্ষক পছন্দ না হওয়ায় তালায় সন্তানদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন অভিভাবকরা। ঘটনাটি গত ১৯ অক্টোবরের উপজেলার ১০৭ নং নুরুল¬াপুর সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের। ১৫ অক্টোবর বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হিসেবে মো. আক্তারুজ্জামান যোগদানের পর ১৯ অক্টোবর তার প্রথম স্কুলে আসার খবরে বিক্ষুব্ধ হয় অভিভাবকরা। এদিন তাদের সন্তানদের বই-খাতা নিয়ে আর স্কুলে পাঠায়নি। এদিন সকাল থেকেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে নিজেরাই স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে জটলা করতে থাকেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল ১০৭নং নূরুল¬াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে স্থানীয় অভিভাবকরা সাংবাদিকদের ঘিরে ধরেন। এসময় তারা সদ্য যোগদান করা প্রধান শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামানকে তাদের অপছন্দের কথা তুলে ধরে যতদিন তাকে সেখান থেকে অন্যত্র বদলী করা না হবে ততদিন পর্যন্ত তাদের সন্তানদের ঐ স্কুলে পাঠাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

প্রধান শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামানের নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি সবেমাত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি। কোন বিষয়ে তিনি জ্ঞাত নন। এমনকি কারো সাথে পুরনো কোন বিষয়ে তার ঝামেলাও নেই।

এসময় বিদ্যালয়ের মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ও উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার খাতা দেখে তিনি বলেন, শিশু শ্রেণিতে ২৫ জন, ১ম শ্রেণিতে ১৪ জন, ২য় শ্রেণিতে ১০ জন, তয় শ্রেণিতে ৬ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ১৫ জন ও ৫ম শ্রেণিতে ৯ জন মোট ৭৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন শ্রেণি কক্ষে গিয়ে ১ম শ্রেণিতে মাত্র ১জন শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কোন কক্ষে কোন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষকরা সকলে অফিস কক্ষেই উপস্থিত ছিলেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেনা বলে জানান।

এদিকে স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, তারা উক্ত প্রধান শিক্ষককে ওই স্কুলে চাননা। তিনি থাকলে তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখাও ভালভাবে হবেনা বলেও দাবি করেন তারা। এসময় তারা আরো বলেন, গত প্রায় ৩ বছর যাবৎ বিদ্যালয়টির পরিচালনা পরিষদের কোন নির্বাচন হয়না। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এটিও কে আহ্বায়ক করে গঠিত এডহক কমিটি দিয়েই চলছে এর পরিচালনা পরিষদের কার্যক্রম। এমন নানা সংকটে সর্বশেষ মডেল টেস্টে বিদ্যালয়টি থেকে ৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও তাদের ১জনও কৃতকার্য হয়নি। অভিযোগে এ বিষয়টিও তুলে ধরেন তারা। তাদের দাবি, বিদ্যালয়টির উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখার মানোন্নয়নে এমন একজন প্রধান শিক্ষক চান যিনি বিদ্যালয়টিকে ভালভাবে চেনেন, জানেন ও ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখায় মনযোগী হবেন।

এছাড়া এলক্ষে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষের সাথে বারংবার যোগাযোগ করেন। এরপরও সদ্য যোগদানকৃত শিক্ষক উপরিমহলের যোগাযোগে তাদের দাবিকে উপেক্ষা করে অর্ডার করিয়ে এনেছেন। বিষয়টিকে স্থানীয় অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা ভালভাবে নিচ্ছেন না।

সর্বশেষ দুপুর ২টার দিকে মোবাইলে প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান মোবাইলে জানান, সংকট নিরসনে তিনি শিক্ষক-অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অচীরেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

সর্বশেষ বছরের শেষ সময়ে প্রধান শিক্ষক কেন্দ্রীক জটিলতায় শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষের বাইরে থাকার বিষয়টিকে ঠিক ভাল চোখে দেখছেন না স্থানীয় সচেতন অভিভাবক মহল। সমাপনী পরীক্ষার আগে ক্লাস বর্জনে তাদের পড়ালেখায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন। তারা সৃষ্ট সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লি¬ষ্ট উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এব্যাপারে তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের মোবাইলে বারবার যোযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি