খোলা কলাম: শিশু শ্রম নয় এই হোক অঙ্গিকার, মুক্ত কর, বেরিয়ে এসো খুলে বদ্ধ দ্বার


প্রকাশিত : অক্টোবর ১৯, ২০১৯ ||

জাহিদা জাহান মৌ: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শহরের প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেটসহ পলাশপোল এলাকায় দিন দিন বেড়ে চলেছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। এসব শিশুদের যাদের বয়স দশ-পনেরো বছরের মধ্যে তারা পেটের তাগিদে কাজ করছে। কখনো বা পরিবারের মানুষের জন্য কাজ করছে।

এরা কাজ করছে কখনো কখনো দৈনিক চুক্তিতে কখনো বা মাসিক বেতনে দু-হাজার থেকে তিন হাজার টাকায়। কাজ করছে পুরো মাস। দৈনিক ১২-১৪ ঘন্টায় কাজ করছে তারা। কেউ কেউ আবার দুই শ’ থেকে তিন শ’ টাকায় কাজ করছে পুরো একমাস।

এসব শিশুরা কাজ করছে ফাস্ট ফুড, ফুলের দোকান, রেস্টুরেন্ট এবং মটর গ্যারেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। অথচ এই সময়ে এসব কমলমতি শিশুদের হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, কলম আর কাঁধে স্কুল ব্যাগ। কিন্তু তার পরিবর্তে সেই কাঁধে সংসারের দায়িত্ব তুলে নিয়ছে তারা।

সারাদিন প্লেট গ্লাস ধুঁয়ে হাতের করুণ অবস্থা তাদের। থাকে কালি ভর্তি মুখ। এদের সামান্য রোজগারের টাকায় জুগিয়ে চলেছে অসুস্থ বাবার ঔষধ খরচ। অসহায় স্বামী পরিত্যক্তা মায়ের সংসার খরচের এক অংশ যোগান দেয় এসব পথকলির শিশুরা।

এসব শিশুদের কারও বাবা নেই, কারও বাবা ফেলে রেখে চলে গিয়ে বিয়ে করে সংসার পেতেছে অন্য জায়গায়। তাই পরিবারে মা তাদের একমাত্র আশ্রয়, পরম নির্ভরশীলতার জায়গা। মা বাসা-বাড়িতে যেয়ে কাজ করে যা পায়, তা দিয়ে দু’বেলা পেট পুরে খেতে পায়না। সেখানে লেখাপড়া স্বপ্নের মতো মনে হয় তাদের।

তবে সুযোগ পেলে, পরিবারের সচ্ছলতা নিশ্চিত হলে তারা লেখাপড়া করতে চায়। চায় বড় মানুষ হতে। লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হতে চায়। ফিরতে চায় আপন ঘরে মায়ের কাছে।

এসব শিশু শ্রমিকের মা যেহেতু পরিবারের একমাত্র অভিভাবক, তাই মায়েরা জানান, চার পাঁচজন ছেলে, মেয়ের ভরণপোষণ তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। তাই তিনি নিজে গিয়ে মটর গ্যারেজে তার বাচ্চাকে দিয়ে এসেছেন। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সব থেকে যেটা বেশি প্রয়োজন খাদ্যের। আর সেটা যখন অনিশ্চত তখন অন্য কোন কিছুর কথা মাথায় আসেনা। তাই অন্তত দু-বেলা পেট ভরে যাতে খেতে পায় সেজন্য তার সন্তানকে কাজ করতে দিয়েছে।

কারো বাবা বলেছেন, তিনি অসুস্থ হওয়ার পর সংসার চালাতে না পারে না, এমনকি নিজের ঔষধের টাকা জোগাড় করতে পারেন না, তাই বাধ্য হয়ে কার ছোট নাবালক শিশুটিকে তিনি নিজে গিয়ে দিয়ে এসেছেন।

আমাদের দেশের অর্থনৈতিক দূরব্যবস্থা হচ্ছে শিশু শ্রমের প্রধাণ কারণ।  লেখাপড়ার খরচ দিতে না পেরে এবং সংসারের গ্লানি একজন বাবা মাকে বাধ্য করে তার সন্তানকে শ্রমে নিযুক্ত করতে। এমন কথা বলেছেন তারা।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে জাতীয় শ্রম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের কোন প্রকার কাজে নিযুক্ত কার যাবে না। আর ১৪ বছরের উর্ধ্ব বয়সী কিশোরদের জন্য দৈনিক ৫ ঘন্টা কর্ম সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। জাতীয় শিশু শ্রম নিরসন নীতি ২০১০ এ শিশু শ্রম বিলোপ সাধনে যথাযথ পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।