দুদকের নির্দেশে সাতক্ষীরা সিটি কলেজে নিয়োগ বাণিজ্যের তদন্ত শুরু: যুদ্ধাপরাধী খালেক মন্ডলের দেওয়া ৬ জামাত কর্মীর অবৈধ নিয়োগ বৈধ হয়েছে বর্তমান সময়ে


প্রকাশিত : অক্টোবর ২০, ২০১৯ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: নিয়ম বর্হিভূতভাবে এবং মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে রেজুলেশান জালিয়াতির মাধ্যমে সাতক্ষীরা সিটি কলেজে ২০ জন শিক্ষক নিয়োগ ও ২১জন শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের নির্দেশে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রায় ৪ কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, কলেজ অধ্যক্ষ আবু সাঈদ ও মাউশি’র মহাপরিচালক, মাউশি’র খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এই কলেজের সভাপতি।

দুদকের ১০৬ হট লাইনে গত ২৪ জুলাই সকালে উক্ত সিটি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক বিধান চন্দ্র দাসের এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত পহেলা আগস্ট দুদকের উপ-পরিচালক এনফোর্সমেন্ট মো. মাসুদুর রহমান সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিবেদন প্রেরণ পূর্বক কমিশনকে অবহিত করনের নির্দেশ প্রদান করেছেন।

এরআগে ১০৬ দুদকের হট লাইন থেকে প্রদত্ত অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ পত্রসহ লিখিত অভিযোগ চাওয়া হলে অভিযোগকারি প্রভাষক বিধান চন্দ্র দাস গত ৫ আগস্ট ৬পৃষ্টা বর্ণিত অভিযোগ ও শতাধিক পৃষ্টার তথ্য প্রমানসহ দুদক চেয়ারম্যান বরাবর ফের আবেদন করেন। যা হট লাইনে করা অভিযোগের সাথে সংযযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে হট লাইনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত সিটি কলেজ ১৯৮০ সালে এমপিওভুক্ত হয়। উক্ত প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আবু সাঈদ সরকারি পরিপত্র উপেক্ষা করে টাকার বিনিময়ে সিনিয়র শিক্ষককে হটিয়ে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। অভিযোগকারি গত ২ মে ২০১০ তারিখে দ্বিতীয় শিক্ষক হিসেবে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেন। উক্ত সময় তার ইনডেক্স ছিলনা। নিয়ম অনুযায়ী ইনডেক্স নাম্বার বা সরকারিকরণের জন্য অভিযোগকারী আবেদন করলেও অধ্যক্ষ সেটি ফরোয়ার্ড না করে ১২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন। অভিযোগকারি তা দিতে না পারায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ পরবর্তীতে ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গত ৫ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে অবৈধভাবে এবং জাল জালিয়াতির মাধ্যমে রুনা লায়লা নামক একজনকে পদায়ন করিয়াছেন। যা সম্পূর্ণ নীতি বর্হিভূত। রুনা লায়লা গত পহেলা মে ২০১৭ সালে ইনডেক্স নাম্বার পান। তার ইনডেক্স নাম্বার ৩০৯৪৩৬৪। অবৈধ নিয়োগ সংক্রান্ত এবং জাল জালিয়াতি সংক্রান্ত সকল তথ্য অভিযোগকারির নিকট রয়েছে’।

এদিকে লিখিত অভিযোগ ও বিভিন্ন তথ্য সূত্র থেকে কলেজ শিক্ষিকা রুনা লায়লা সম্পর্কে জানাগেছে, প্রাথমিক ও শিক্ষা অধিদপ্তর ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে সহকারি শিক্ষিকা পদে সরকারি চাকুরি পান। এরপর পহেলা মার্চ ২০১৭ তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম জেলার শ্যামনগর উপজেলার ৪৩নং হেনচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি প্রদান করেন। যথারীতি শিক্ষিকা রুনা লায়লা উক্ত স্কুলে যোগদান করে নিয়মিত চাকুরি করেন এবং প্রত্যহ হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করেন।

শিক্ষিকা রুনা লায়লার বিরুদ্ধে অভিযোগ, এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি গ্রহণের আগে তিনি সাতক্ষীরা সিটি করেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে যোগদান করে যথারীতি দায়িত্ব পালনপূর্বক কলেজ ফান্ড থেকে বেতন ভাতাদি উত্তোলন করেন। এরই মধ্যে সিটি কলেজের প্রভাষক পদ থেকে চাকুরিতে অব্যাহতি না নিয়ে ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসেবে চাকরি গ্রহণ করে হেনচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করে বেতন ভাতাদি উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরিরত অবস্থায় বিগত ১৭ সালের মে মাসে সিটি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা হিসেবে এমপিওভুক্ত হন তিনি। এরপর ১৫ জুন ২০১৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে সিটি কলেজে ফিরে আসেন রুনা লায়লা। এসময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক মাসের বেতনও সোনালী ব্যাংক শ্যামনগর শাখায় ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারের অনুকুলে ফেরত দেন। অভিযোগ রয়েছে রুনা লায়লা একই সাথে সিটি কলেজ ও হেনচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন।

বিধান চন্দ্র দাসের একই অভিযোগের অপর অভিযুক্ত সাতক্ষীরা সিটি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শাখায় তৃতীয় শিক্ষক অরুণ কুমার সরকার। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের ধীরেন্দ্র নাথ সরকারের পুত্র।

তিনি গত ১৫ ডিসেম্বর ২০১১ সালে উক্ত কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শাখায় যোগদান করেন। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৮-৮-২০১৮ ও ১২-৩-২০১৯ তারিখের পরিপত্রে ডিগ্রি স্তরে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্তির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে অধ্যক্ষ আবু সাঈদ ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির যোগসাজসে ১৫ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক অরুণ কুমার সরকারের নিয়োগ ও যোগদান সংক্রান্ত তথ্য জালিয়াতি ও গোপন করে ৪ঠা ফেব্রুয়ারী ২০১০ তারিখের পূর্বে ডিগ্রি স্তরের তৃতীয় শিক্ষক হিসেবে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এমপিওভুক্ত করেন। উল্লেখ্য, এই শিক্ষকের পূর্বের নিয়োগ বিধিসম্মত নয় এই অভিযোগে ৭ মার্চ ২০১৫ তারিখে সভাপতি ও অধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেন। এরপর কোন নিয়োগ বোর্ড ছাড়াই ওই বছরের জুন মাসে মোটা অংকের দফা রফা করে পুনরায় কলেজে যোগদান করেন তিনি। পাশাপাশি ডিগ্রি স্তরে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষার্থী কম থাকায় অভিযোগ রয়েছে, ভূয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে ডিগ্রি স্তরে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগে বলা হয়।

অপরদিকে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের কৃষি ডিপ্লোমা শাখার রসায়ন বিভাগের খন্ডকালিন শিক্ষক নাজমুন নাহার। তিনি ২০১৮ সালের মে মাসে বিএসসির রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। তার ইনডেক্স নাম্বার ৩০৯৬৬৮৬। বিগত ২০১১ সালে তৎকালিন অধ্যক্ষ আবু আহমেদ এর সময় ৬-১২-২০১১ তারিখে নিয়োগ বোর্ডে রসায়ন বিভাগে কোরাম পুরণ না হওয়ায় ওই নিয়োগ বোর্ড কোন শিক্ষকের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেননি। অথচ এই শিক্ষক নাহমুন নাহারের ওই বোর্ড কর্তৃক ভূয়া নিয়োগ ও যোগদান দেখিয়ে বর্তমান অধ্যক্ষ ও সভাপতি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কাগজপত্র জালিয়াতি ও তথ্য গোপন করে এমপিওভূক্ত করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৮-৮-২০১৮ ও ১২-৩-২০১৯ তারিখের পরিপত্র উপেক্ষা করে ডিগ্রি স্তরে ইংরেজি বিভাগে এসএম আবু রায়হান, বাংলা বিভাগে মো. মনিরুল ইসলাম, দর্শন বিভাগে মো: নাসির উদ্দীনকে একই ভাবে জালজালিয়াতির মাধ্যমে ও তথ্য গোপন করে ডিগ্রি স্তরের তৃতীয় শিক্ষক হিসেবে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। বিএসসি শাখায় ডিগ্রি স্তরে কোন ছাত্র ছাত্রী না থাকলেও প্রাণি বিজ্ঞানে আশরাফুন্নাহার ও সুরাইয়া জাহানকে ২০১৮ সালে কাগজপত্র জালিয়াতি করে ও তথ্য গোপন করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে এমপিওভুক্ত করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালিন সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনোহর আলী পারিবারিক কারণে একক সিদ্ধান্তে তৎকালিন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আব্দুর রশিদকে একদিনের জন্য ১৯-১২-২০০২ তারিখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করে ছুটি নেন। এই একদিনই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়ে আব্দুর রশিদ তৎকালিন পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জামায়াত নেতা ও তৎকালিন সংসদ সদস্য বর্তমানে যুদ্ধাপরাধ মামলায় কারাগারে থাকা অধ্যক্ষ মাও. আব্দুল খালেক এর নির্দেশে এক বিতর্কিত নিয়োগ বোর্ড দেখিয়ে অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক, উপাধাক্ষ্য মো. শহিদুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগে মো. কাদির উদ্দীন এবং মো. মফিজুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে একেএম ফজলুল হক, ইসলামের ইতিহাস বিভাগে মো. আশরাফুল ইসলাম ও মো. আব্দুল ওয়াদুদ, ইতিহাস বিভাগে মো. জাকির হোসেন, দর্শন বিভাগের মো: জাহাঙ্গীর আলম, ভূগোল বিভাগে মো. নজিবুল্যাকে রাতারাতি নিয়োগ প্রদান করেন। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নীরিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ২২-১০-২০১১ ও ২৩-১০-২০১১ তারিখে শিক্ষা পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান এবং অডিট অফিসার মো. ফরিদ উদ্দীন নীরিক্ষা ও পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ৩-১-২০১২ তারিখে তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদের আমলে নিয়োগকৃত শিক্ষক কর্মচারিদের নিয়োগ যথাযথ হয়নি মর্মে মহা পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, যুগ্ম সচিব (অডিট ও আইন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সভাপতি ও অধ্যক্ষ পরিচালনা পরিষদ সাতক্ষীরা সিটি কলেজসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এরপর যুদ্ধপরাধী মামলায় কারাগারে থাকা জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক মন্ডলের সময়ে বিতর্কিত ওই ১৪জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল না করে বর্তমান অধ্যক্ষ আবু সাঈদ ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কাগজপত্র জালিয়াতি করে এবং প্রকৃত তথ্য গোপন করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অর্থনীতি বিভাগে মো. কাদির উদ্দীন এবং মো. মফিজুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে একেএম ফজলুল হক, ইসলামের ইতিহাস বিভাগে মো. আশরাফুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগে মো. জাকির হোসেন, দর্শন বিভাগের মো. জাহাঙ্গীর আলমকে এমপিওভুক্ত করান। অভিযোগ রয়েছে এরা সকলেই জামায়াত শিবিরের ক্যাডার এবং বিভিন্ন নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় একাধিকবার আটক হলেও আওয়ামী লীগের এমপির হাত ধরে তারা এমপিওভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ ও সকল অপকর্মের জায়েজ করেছেন।

অভিযোগে আরও জানা যায়, গত ৬-১২-২০১১ তারিখে অনুষ্ঠিত নিয়োগ বোর্ডের নিয়োগকৃত শিক্ষকদের অবৈধ দাবী করে সদর সহকারি জজ আদালতে সাবেক অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক বাদী হয়ে তৎকালিন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু আহমেদসহ পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধে ৪২/১২ একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলা এখনও চলমান রয়েছে। যার আগামী ধার্যদিন চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে। অথচ অধ্যক্ষ আবু সাঈদ ও পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এসব তথ্য গোপন করে বিপুল অর্থের বিনিময়ে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অরুণ কুমার সরকার, বাংলা বিভাগের মনিরুল ইসলাম, উদ্ভিদ বিজ্ঞানের মো: মোস্তাফিজুর রহমান, প্রাণি বিজ্ঞান বিভাগের আশরাফুন নাহার ও সুরাইয়া জাহান, রসায়ন বিভাগে আজিম খান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সৈয়দা সুলতানাকে এমপিওভুক্ত করেছেন। যে বিতর্ক এবং মামলা নিয়ে বিজ্ঞ আদালত এখনও কোন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।

এদিকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের হট লাইনে ২৭ জুলাই ও লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির পর গত পহেলা আগস্ট দুদকের উপ-পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. মাসুদুর রহমান ইনফোর্সমেন্ট ইউনিটের নথি নং ই.এন/প্রকা/৭৮৯ স্মারকে গৃহীত অভিযোগটির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে প্রেরণ করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। সেখানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক প্রতিবেদনের মাধ্যমে কমিশনকে অবহিতকরণের জন্য বলা হয়।

এদিকে এ আদেশ সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবশীষ চৌধুরি প্রাপ্তির পর গত ৪ আগস্ট দুদকের কমিশন বরাবর এক জবাবে জানান, সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু সাঈদ পবিত্র হজ্বব্রত পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন মর্মে খোজ নিয়ে জানা গেছে। এমতবস্তায় হজ্বব্রত পালন শেষে দেশে ফিরলে উক্ত অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক কমিশনকে অবহিত করা হবে। এরপর হজ্বব্রত পালন শেষে দেশে ফিরেছেন অধ্যক্ষ আবু সাঈদ। এব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী জানান, বিষয়টি তদন্ত চলছে এরবেশি কিছু বলা যাবেনা।

বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ অধ্যক্ষ আবু সাঈদ জানান, আমাদের দেশে কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেই। আমার সময়ে কোন নতুন নিয়োগ হয়নি কিন্তু শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছে। বর্তমান সময়ে এমপিওভুক্ত হওয়া অনেক কঠিন ব্যাপার। বিধান বাবু যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার কাছে কাগজপত্র আছে। অভিযোগকারি বিধান বাবু আশাশুনি সরকারি কলেজে চাকরি করেন। এখানে যখন চাকরি করতো তখন প্যাটান বর্হিভূত ছিল। যে কারণে তার এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। সাবেক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ এর আমলে শিক্ষক নিয়োগ হয়। এসব বিষয়ে তার কাছে থাকা কাগজপত্র দেখে রিপোর্ট করার অনুরোধ জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, দুদকের কাছে অভিযোগের বিষয়ে তিনি জেনেছেন। দুদকের এই অভিযোগ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরি তদন্ত করছেন বলে জানান।

এব্যাপারে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।