ঝাউডাঙ্গায় আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ


প্রকাশিত : অক্টোবর ২২, ২০১৯ ||

মনিরুল ইসলাম মনি: প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন প্রকল্প-২ (জমি আছে, ঘর নেই) এর আওতায় সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত ঘর নির্মাণে নি¤œমানের ইট ব্যবহারসহ আর্থিক কারচুপি ও দায়সারাভাবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পরও অনেকে ভেঙে পড়ার ভয়ে ঘরে বসবাস করছেন না। তবে, ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ দেয়া এক লাখ টাকার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকায় এসব ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ করছে।

ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হাবিবুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন প্রকল্প-২ (জমি আছে, ঘর নেই) এ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ২০টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে কিছু ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকীগুলির কাজ চলমান রয়েছে।

সরজমনিনে ইউনিয়নের ঝাউডাঙ্গা মাঠপাড়া, পাথরঘাটা, হাজীপুর, ওয়ারিয়াসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখাগেছে, আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর বরাদ্দকৃত ঘরগুলি তড়িঘড়ি করে কোন রকমে নির্মাণ কাজ শেষ করা হচ্ছে। যদিও তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ভয়ে ঘর বরাদ্দপ্রাপ্তরা অনিয়মের বিষয়ে নিরব ভুমিকায় রয়েছেন। সম্প্রতি ইউনিয়নের পাথরঘাটায় একটি ঘর ধসে পড়ায় বিষয়টি জানাজানি হলে অনেক স্থানে ঘর নির্মাণ শেষ হলেও ভয়ে নতুন নির্মিত ঘরে থাকছে না। এছাড়া অনেক ব্যক্তি নিজের অর্থ দিয়ে উক্ত প্রকল্পের ঘর বসবাসের উপযোগী করছেন। যদিও, ইউনিয়নে প্রকল্পের ঘরের নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, কতৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত সময়ে (৩/৪ দিন) ঘর নির্মাণ কাজ শেষ করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় সুশীল সামজের প্রতিনিধিরা জানান, এখানে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর ঘর নির্মাণে এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিটি ঘর থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আত্মসাত করছে বলে ভুক্তভোগীরা তাদেরকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। তারা আরো বলেন, এ সব দুর্নীতিবাজদের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ম্লান হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে তারা উর্ধতন কতৃপক্ষকে অবিলম্বে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ঘর বরাদ্দ পাওয়া ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঠপাড়া গ্রামের মৃত করিম সরদারের ছেলে সবুর সরদারসহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো কয়েকজন জানান, ঘর টেকসই করতে তাদের আরো অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অতিরিক্ত টাকা ব্যয়ের বিষয়ে আগে জানলে তারাসহ অধিকাংশই এ ঘরের বরাদ্দ নিতেন না। সবুর সরদার বলেন, ২৯টি নি¤œমানের টিন (একটি ১০ ফুট ও ২৮টি সাত ফুট), এক ট্রলি খোয়া, তিন ট্রলি বালী, ২৮০০ ইট দিয়ে তার একটি রুম ও একটি বাথরুম তৈরী করা দিয়েছে। ঘরে লিংটন না দিয়ে বালু ও খোয়া মিশ্রিত জমানো খুটি দেয়া হয়েছে। যার কারনে ঘরের পাঁচ ইঞ্চি গাঁথুনি প্রাচীর অধিক ঝুঁকিপুর্ণ হওয়ায় তিনি নিজ অর্থ দিয়ে অতিরিক্ত ইট ও সিমেন্ট কিনে কিছুটা মজবুত করেছেন। তবে যাদের টাকা নেই তাদের ঘর ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ঘরের বাইরের অংশে প্লাস্টার করা হচ্ছে না,  ঘর ও বাথরুমের দরজা একই (কাঠের ফ্রেমে টিন দিয়ে তৈরী), বাথরুমে ৩৫ টাকা মুল্যের প্লাস্টিকের প্যান ও এক ইঞ্চি বিশিষ্ট অতি নিন্ম মানের ৬টি রিং দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরটি সামান্য মজবুত করতে সবুরের অতিরিক্ত প্রায় ৪৫ হাজার খরচ করতে হয়েছে বলে জানান।

আবার অনেকের অভিযোগ নির্মাণকৃত ঘরে ইট কম দেয়ায় দরজা ও জানালা একটু বেশি বড় করা হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণের সময় মাটির নীচে বালী না দেয়া এবং অতি অল্প সময়ে মাত্র ৪জন শ্রমিক দিয়ে দায়সারাভাবে প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে- যা বসবাসের জন্য ঝুকিপুর্ণ হওয়ায় নির্মাণ কাজ শেষ হলেও অনেকে উক্ত ঘরে বসবাস করতে পারছে না। তারা অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে নির্মিত ঘরের ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছে তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বরাদ্দপ্রাপ্ত এসব অসহায় ব্যক্তিরা অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষের নিকট দাবি করেন।

এবিষয়ে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নে আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর ঘর নির্মাণের তদারকির দায়িত্বে থাকা শরিফুল ইসলাম ও মিজান জানান, প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে, নি¤œমানের জিনিষ ব্যবহারের বিষয়টি তারা অস্বীকার করে জানান, বর্তমান সময়ে ভাটাগুলিতে ইটের সংকট থাকায় গত বছরের ইট ব্যবহার করা হয়েছে।

জানতে চাইলে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইয়ারুল হক জানান, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।