ক্লিন সাতক্ষীরা গ্রিন সাতক্ষীরা: চাই সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে গণজাগারণ


প্রকাশিত : অক্টোবর ২৩, ২০১৯ ||

কামারুজ্জামান:

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা বিশ্ব নেতৃত্বের আইকন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, জঙ্গিমুক্ত, বেকারমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত, ভিক্ষুকমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে গ্রহণ করেছেন ডেলটা প্লান। ২০২০ সালকে মুজিব বর্ষ এবং ২০২১ সালকে স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী বর্ষ ঘোষণা করে যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছেন তা দেশবাসির মধ্যে আশার আলো জ্বেলেছে। উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। গ্রামে এখন শহরের আবেশ। ধীরে ধীরে গ্রাম পরিণত হচ্ছে শহরে। গ্রামে বসেই মানুষ ভোগ করতে শুরু করেছে শহরের সুবিধা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানী, যাতায়াত ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে হয়েছে ও হচ্ছে চোখ ধাঁধাঁনো উন্নয়ন। চিরচেনা সেই গ্রামের এখন অন্য রকম সৌন্দর্য। মাটির ঘর আর কাচা রাস্তা এখন নেই বললেই চলে। ঘরে ঘরে পৌছে গেছে বিদ্যুৎ। ই-সেবা এখন জনগণের দোর গোড়ায়। স্বাধীনতার পর বর্তমান সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। মানুষের ভালোবাসায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একের পর এক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশে রূপান্তরিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, জঙ্গিমুক্ত, বেকারমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত, ভিক্ষুকমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শূণ্য সহিষ্ণু নীতি অবলম্বন করেছেন। মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী বর্ষকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায়ও সে ঢেউ লেগেছে। জেলার উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এসেছে জোয়ার। মানুষের জীবন যাত্রায়ও লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল ও জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডেলটা প্লান বাস্তবায়নের সৈনিক হিসেবে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু মোকাবেলায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের ভূমিকা দেশবাসির প্রশংসা কুড়িয়েছে। সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অতন্ত্র প্রহরীর ন্যায় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করছেন। জেলাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল তার দপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করেছেন। ঘোষণা করেছেন ‘ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রীন সাতক্ষীরা’। কতিপয় সুবিধাভোগী ব্যক্তির রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে প্রশাসন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে সকল নদ-নদীর ইজারা বাতিল করেছেন। উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছেন অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সকল স্তরের প্রশাসন যখন একটি সুন্দর, নান্দনিক তিলোত্তমা সাতক্ষীরা গড়ার কাজে ব্যস্ত ঠিক তখনও কতিপয় অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কর্মকান্ড জেলা প্রশাসনের অর্জনগুলোকে ম্লান করে দিচ্ছে। এসব দুর্নীতিবাজ অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের এখনই সময়।

এ প্রসঙ্গে বলে রাখতে চাই, একটি বাঁশ বাগানের মধ্যে কয়েকটি সুপারী গাছ জন্ম নিলেই তাকে সুপারী বাগান বলা যায় না। আবার একটি ফসলের ক্ষেতে আগাছা থাকতেই পারে। তাই ভালো ফসলের জন্য উচিৎ আগাছা পরিস্কার করা। তেমনি দুর্নীতিমুক্ত জেলা গড়তে হলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা গেলে সার্থক হবে ‘ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা’। এই আন্দোলন বাস্তবায়নে দরকার সকল মহলের সহযোগিতা-দরকার একটা সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে গণজাগরণ সৃষ্টি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সেই জাগরণ সৃষ্টিতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা পূরণের জন্য যতেষ্ঠ নয়। ফলে ক্লিন সাতক্ষীরা গ্রিন সাতক্ষীরা আন্দোলন এখনো তৃণমূলের সকল পর্যায়ে পৌছানো সম্ভব হয়নি। এই কয়েকদিন আগেই জেলা প্রশাসন জেলার বিভিন্ন নদী খালের ৮৫ ভাগ অবৈধ নেট-পাটা উচ্ছেদ করেছে বলে ঘোষণা করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে প্রশাসন উচ্চেদ করেছে ঠিকই। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন ফিরে আসার পর আবারো অনেক স্থানে সেই নেট পাটা পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে। এসব নানাবিধ কারণে আমরা এখনো দেখছি নানা অসংগতি। সেই অসংগতির কয়েকটি খন্ডচিত্র।

ক্লিন সাতক্ষীরা: অক্টোবর, ২০১৯ খ্রি.। জেলাব্যাপী মহাআয়োজনে চলছে দুই অভিযানÑমশকনিধন ও স্বচ্ছ-সাতক্ষীরা। কয়টা মশা মরেছে বা আদৌ মরেছে কিনা, সন্দেহ আছে। অন্যদিকে স্বচ্ছ-অভিযান অস্বচ্ছ থেকে যাচ্ছে কিনা, সেটাও প্রশ্ন। অত:পর সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়ক। সড়ক-দুর্ঘটনায় মারা পড়া একটা পথ-কুকুরের লাশ দেবহাটা উপজেলার ৩নং সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন শিশুপার্কের সামনে জনবহুল প্রকাশ্য স্থানে তিন দিন যাবৎ পড়ে থাকতে দেখা গেলো। এক পর্যায়ে লাশের পেট ফুলে গেলো, বীভৎস লাশের উপর মাছি ভনভন করতে লাগলো, পচা দুর্গন্ধে পরিবেশ দুর্বিষহ হয়ে উঠলো। লাশে পোকা হয়ে যাওয়ার পর তৃতীয় দিন, ১৩ অক্টোবর কোন সহৃদয় ব্যক্তি লাশটিকে রাস্তার পূর্ব পাশ থেকে টেনে নিয়ে পশ্চিম পাশে রাস্তার পগারে ফেলে দিলো। সেখানেই মৃতদেহ পচে-গলে যেতে থাকলো, পোকা কিলবিল করতে লাগলো। কয়েকটা দিন বিকট দুর্গন্ধে মানুষ ধারে-কাছে টিকতে পারলো না, পথচারীরা নাকে কাপড় চেপে দ্রƒত পথ অতিক্রম করলো। বিশেষ করে শিশুরা অনির্দিষ্ট কালের জন্য পার্ক ছেড়ে ভেগে গেলো, ত্রিসীমানায় কাউকে দেখা গেলো না। তবে ইউনিয়ন পরিষদের ‘সেবা’ নেওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে অনেককে ‘ওয়াক থু’ করতে করতে ভেতরে ঢুকতে দেখা গেলো। এক্ষেত্রেও জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব নিতে হবে? জনগণ কী সচেতন হতে পারে না? আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের পরিবেশ আমাদেরই সুন্দর রাখার দায়িত্ব।

গ্রিন সাতক্ষীরা: বর্ষামৌসুম এলেই ঘটা করে শুরু হয় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশ জুড়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান। সেই সাথে হালে যোগ হয়েছে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে দেশে-বিদেশে বিশেষ আগ্রহে তালবীজ রোপণ কার্যক্রম। উত্তম উদ্যোগ। কিন্তু দেবহাটা উপজেলার সখিপুর মোড়ের চিত্রটা একটু ভিন্ন রকম। এখানে সরকারি সম্পত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকা একটা জ্যান্ত তালগাছ নাশকতা চালিয়ে বারবার মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে ও হচ্ছে। সুস্পষ্ট হত্যা-প্রচেষ্টা। ৩০৭ ধারার অপরাধ সমতুল্য। কিন্তু তালগাছটি প্রতিবারই কোন রকমে ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে গেছে এবং এবারও তাই। এই অপরাধ প্রকাশ্য স্থানে বারবারই সংঘটিত হচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই, ‘দেখানো’র অনেকেই আছে। বৃক্ষরোপণ খুব সহজ, কিন্তু সংরক্ষণ করা অনেক কঠিন; যেমন স্বাধীনতা অর্জন করা যতটা না কঠিন, তারচে’ ঢের কঠিন রক্ষা করা। বৃক্ষরোপণ অভিযান দৃশ্যমান। কিন্তু বৃক্ষ সংরক্ষণের বিষয়টা গুরুত্বহীন, উপেক্ষিত ও অবহেলিত। তাই আমরা দেখতে পাই, সখিপুর সরকারী কেবিএ কলেজ সংলগ্ন মাঠে পরিচালিত ‘অতিক্ষুদ্র চারা রোপণ-অভিযান’ শেষে, অনতিপরে অনেকগুলো সুরক্ষা-খাঁচা ধূলিশয্যা গ্রহণ করে দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলায় পড়ে আছে। ‘কমরেড’গণের খবর নেই। এত ছোট চারা বাঁচল না মরলো, কারো কোন দায় নেই।

ভিক্ষুকমুক্ত সাতক্ষীরা: দেবহাটা উপজেলার সখিপুর মোড় এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই জনৈক প্রাক্তন গ্রাম-পুলিশ ভিক্ষা করেন। ইনি বৃদ্ধ, জরাগ্রস্ত, অসুস্থ, এবং অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, খুবই অভাবী মানুষ; ভিক্ষা করা ছাড়া তার আর কোন উপায় নেই। তিনি ৩নং সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে প্রজাতন্ত্রের একজন সম্মানিত কর্মচারী হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় অবসর গ্রহণ করেন। আজ তিনি ভিক্ষা করছেন। একজন গ্রাম-পুলিশের ভিক্ষা করা খুবই লজ্জার এবং তাৎক্ষণিকভাবে অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, এটাই সত্য ও স্বাভাবিক। এটাই বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র। উন্নয়ন গুটি কয়েক লোকের পকেটে চলে গেছে, সবার ভাগ্যে জোটেনি। কিছু মানুষ রাতারাতি ধনকুবের বনে গেছে, সম্পদের পাহাড় গড়েছে, রাখার জায়গা নেই। সেখান থেকে ছিটে-ফোঁটা যৎকিঞ্চিত দান-খয়রাত করে দারিদ্র্য-বিমোচন করা বা ভিক্ষুকমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব নয়। ক্ষুধার তাড়নায় শুকিয়ে মরা, যা আত্মহত্যার শামিল, বা চুরি করার চেয়ে ভিক্ষা করে জীবন বাঁচানো অনেক বেশি শ্রেয়। সেক্ষেত্রে ভিক্ষা করা নিশ্চয় মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। ভিক্ষুক-পুনর্বাসন প্রচারণা মাত্র; বাস্তবে সাম-কুচ, বেশি কিছু নয়। একটা পেট ও জীবনের জন্য প্রয়োজন কতটা আর তাকে দেওয়া হচ্ছে কতটুকু, সেটাই সর্বাগ্রে বিবেচ্য। তারপর না হয় পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া যায়। এসব দেখে আমার মনে হয়, বাংলাদেশকে ‘ভিক্ষুকমুক্ত’ ঘোষণা করার মতো সময় ও অবস্থা এখনো আসেনি। পেশাদার ভিক্ষুক অবশ্যই উচ্ছেদ হোক, কিন্তু সত্যিকারের অভাবী ব্যক্তিদের প্রতি সরকার নমনীয় হোন, সুদৃষ্টি দিন, কামনা করি। জোর করে দেশ ভিক্ষুকমুক্ত করা যায় না। অসহায় ও নিরুপায় মানুষের ন্যূনতম প্রয়োজন পূর্ণ করতে পারার আগ পর্যন্ত ‘তিউনেশিয়ার বু-আলী’দেরকে তাদের মত করে বাঁচতে দেওয়া উচিত।

খোঁড়া এক তিন-ঠ্যাং   স্যারের কুকুর,

তার পিছে প্রতি মাসে    খরচ প্রচুর।

মাসে টাকা পঁচাত্তর,   পা-প্রতি পঁচিশ;

শিক্ষকে সতের মাত্র,   যেন বখশিশ!

বেতন বিচারে গুরু     প-িতের মূল্য

কুকুরের এক পা-র     নয় সমতুল্য।

ভিখারী উচ্ছেদ চাই    কতটুকু দিয়ে?

একটু তুলনা করি   আপনারে  নিয়ে।

দুর্নীতিমুক্ত সাতক্ষীরা: দেবহাটা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের ২১০/২০০২-০৩ নং জমা-খারিজ কেস-নথির সাথে সংযুক্ত খ্রি. ২৪-০৯-২০০২ তারিখে মঞ্জুরকৃত ওয়ারেশ কায়েম সনদপত্র টেম্পারিং করে জীবিত, বিবাহিত, সস্ত্রীক সংসারী গৃহস্থ, তিন সন্তানের পুরোদস্তুর জনককে নিঃসন্তান ও ‘অবিবাহিত অবস্থায় মৃত’ দেখানো হয়েছে। উদ্দেশ্যÑতীব্র মাত্রার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী দুটি হিন্দু মেয়ের মহামূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ করা। ইতোমধ্যে সে উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে। আরজীতে বহু বৎসর আগে শ্মশানে পুড়ে ছাই-ভস্ম হয়ে যাওয়া মৃত মানুষকে বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশে উক্ত মৃত ব্যক্তির ভৌতিক স্বাক্ষর দেখিয়ে তার নামে ‘নোটিশ জারী’ দেখানো হয়েছে। এতে আবার স্বাক্ষর করেছেন (চক্ষু মুদিয়া, বুজিয়া না খুলিয়া, মাবুদ মাওলাই মালুম) তৎকালীন ইউএনও, দেবহাটা। কিমাশ্চর্যম! এছাড়া আমরা মাঝেমধ্যে দেখতে পাই, দুর্নীতির বিভিন্ন আখড়া থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের ‘ছোট ভাই’রা হাতেনাতে ধরা পড়ছেন। কিন্তু অপরাধী কি শুধু এরাই? চক্র-গুরুরা কি নিষ্পাপ?

পারসেন্ট-কমিশন   চলে তলে তলে,

ধরা খায় একজন,  ভূত ডালে ডালে।

জমির খতিয়ান বা পর্চার সার্টিফাইড কপি পাওয়া ও তথ্যপ্রাপ্তি মানুষের যে কতটা প্রয়োজন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এতদিন জেলা সদরে এসে এক ঘাটে টাকা-পয়সা দিয়ে যা তোলা সম্ভব ছিল, এখন থেকে তা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার  থেকে শুরু করে ঘাটে ঘাটে সেলামী পেশ করে তবে হাতে পাওয়ার আশা করা যেতে পারে। তদুপরি সময় ও শ্রম বিসর্জন তো আছেই। জীবন কালিপদ হওয়ার জোগাড়। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ঘোষণা আসা মাত্র একটা পেশাজীবী সুবিধাবাদী দালাল শ্রেণি বগল বাজাতে শুরু করে দিয়েছে Ñ

সাত ঘাটেতে সাত ডাকাতে নিবে আনায় আনা,

আমার ঘাটে হাতিয়ে নিব মোটা নজরানা, পাবলিক গো, আমি নীতির ঘাটের পাজী।

জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন, আপনি আমাদেরকে ঘাটে ঘাটে, সাত ঘাটে বাঘের মুখে ফেলবেন না। যা হওয়ার, তা এক ঘাটেই হোক; আপনার প্রত্যক্ষ নজরদারী ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই হোক। কারণ এদেশে ‘দুর্নীতিমুক্ত কিছু’ মানুষ বিশ্বাস করতে চায় না। ‘দুর্নীতিমুক্ত ভূমি অফিস’ হতে পারে পাবলিক তা মানতে চায় না। ‘দুর্নীতিমুক্ত’ শব্দটাই এখন খুব হাস্যকর শোনায়। টা ভুক্তভোগীরাই জানেন কোন অফিস কতটা দুর্নীতিমুক্ত। দু:খে তাদেরÑ

‘বালিশ’ ভাসিয়া যায়    নয়নের জলে,

নালিশ কাঁদিয়া মরে  ‘পরদা’র তলে।

বিবেক যে বাঁধা আছে   কুনীতির ডালে,

টলারেন্স চলিতেছে  জিরোর আড়ালে।

লেখক: কামরুজ্জামন, রতেœশ্বরপুর, দেবহাটা, সাতক্ষীরা