পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে পুরাতন সাতক্ষীরা জিএন প্রাইমারি স্কুল গ্রহণ করেছে সৃজনশীল নানা কর্মসূচি


প্রকাশিত : অক্টোবর ২৪, ২০১৯ ||

লোশমী পারভেজ রোজ: পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে পুরাতন সাতক্ষীরা জিএন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একঝাঁক স্বপ্নচারী শিক্ষক এ বিদ্যালয়ে জ্বেলেছেন শিক্ষার আলো। মূলত শিক্ষা নিয়ে কাজ শুরু করলেও বিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ক্লিন সাতক্ষীরা-গ্রিন সাতক্ষীরা বাস্তবায়নে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান সকলের নজর কেড়েছে। তাদের শুভ্র চিন্তা, মেধা-মনন কাজে লাগিয়ে স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে দাঁড় করিয়েছেন শিক্ষক ও কার্যকরী কমিটি। শত শিক্ষার্থীর আশার বাতিঘর এখন পুরাতন সাতক্ষীরার জিএন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সময়ের শৈল্পিক প্রজ্জলনে জ্বলে ওঠা এ বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান উন্নয়নে গ্রহণ করেছে নানা কর্মসূচি। ঝড়েপড়া রোধ ও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটাতে চালু করা হয়েছে শিক্ষাবৃত্তি। গড়ে তোলা হয়েছে পাঠাগার। এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা চিন্তা করে চালু করা হয় মিড ডে মিল। অভিবাবকহীন স্কুল পড়ুয়া শিশু কিংবা পারিবারিকভাবে যার নেওয়া হয় না লেখাপড়ায় পরিচর্যা, সেই সব শিশুদের দায়িত্ব নিয়ে বিদ্যালয়টি এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। মেধার বিকাশে শিশুদের জন্যে রাখা হয় শিক্ষামূলক বিনোদন। পাঠাগারের শিশু কর্নার শিক্ষার্থীদের থেকে দেয়া হয় শিশুতোষ বিভিন্ন ধরণের ছবি ও গল্পের বই পড়ার সুযোগ। এখন গল্পের বইয়ের মাধ্যমে খেলাচ্ছলে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা পড়া ও অনুধাবনের যোগ্যতা অর্জন করছে প্রতিদিন। সাপ্তাহিক বক্তব্য ও বিতর্ক চর্চার আসর, জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক দিবস উদযাপন, চিত্রাংকন, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, দেশ ও জাতির ইতিহাসভিত্তিক উপস্থিত সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা ইত্যাদির ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আফরোজ জানান, শিক্ষার মান উন্নয়নে তারা সকলে একযোগে কাজ করছেন। শিক্ষার আলোয় আলোকময় উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ে তুলতে জিএন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজিত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে অভিভাবক মন্ডলী তার সন্তানদের নিয়ে হাজির হন। যেখানেবাড়ি বাড়ি গিয়ে উপস্থিত হন প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আফরোজ, সহকারি শিক্ষক নার্গিস আক্তার, ফারজানা ববি, নাজমা খাতুন, শরিফা আক্তার, নাছিমা খাতুন, মেহের নিগারসহ অন্যরা। সকল শিক্ষার্থী স্কুল ড্রেস পরে বিদ্যালয়ে হাজির হবে এবং বাড়িতে তৈরি করা খাবার টিফিন হিসেবে নিয়ে আসবে এমন প্রত্যাশার বার্তা ছড়িয়েছেন শিক্ষকরা। সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন তারা। ঝরে পড়া রোধে ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষকরা অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত বৈঠক করেন। ২০২০ সালকে মুজিব বর্ষ ও ২০২১ সালকে স্বাধীনতা রজত জয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষে বিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে সৃজনশীল কর্মকা- শুরু করেছে। আগামীতে বিজয় ফুল উৎসব নিয়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। স্কুলটিতে কয়েক শত শিক্ষার্থী লেখা পড়া করছে। ব্রিটিশ শাসনামলে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন জমিদার জীবন নাথ রায় চৌধুরী।