নারী পুরুষের সমতা রুখতে পারে দরিদ্রতা


প্রকাশিত : October 24, 2019 ||

জাহিদা জাহান মৌ: আমরা নারী, আমরা ও পারি সমাজ উন্নয়নে অগ্রগামী ভূমিকা রাখতে। সমাজ, সংসার এমনকি পরিবারে ও নারী যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। পুরুষের পাশাপাশি হাতে হাত মিলিয়ে কাঁধে তুলে নিয়েছে সংসারের দায়িত্ব। স্বামী, সন্তান, পরিবার স্বজন সবার কথা ভেবে এমনি সাবলাম্বী হওয়ার দৃড় প্রত্যয় নিয়ে আজকের নারী বেঁছে নিয়েছে কর্ম স্বনির্ভরতা পথ। তাই নারীরা ঘরে বসে সংসারের কাজের অবসরে নানা কর্মে উদ্যোগী হয়ে উঠেছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের প্রান্তিক ছিন্নমূল নারীগোষ্ঠী নিজ উদ্যোগে বাড়িতে বসে কাজ করছে। নানামুখী সৃজনশীল কাজ-যা স্থানীয় ঋষি ফাউন্ডেশনের কাছে তারা বিক্রি করে। গোপীনাথপুর গ্রামের নারীরা নিজ বাড়িতে বসে কচি খেঁজুর পাতা আর খড় দিয়ে অসাধারণ বাস্কেট বুনছে। যা এদের ভাষায় বলে সেট, তিনটা বাস্কেট দিয়ে এক সেট তাই নামকরণ করা হয়েছে সেট।
গোপীনাথপুর গ্রামের কর্ম উদ্যোগী নারীদের মধ্যে প্রতিভা রাণী মন্ডলের নাম সবার পরিচিত। তার স্বামীর নাম রঞ্জন মন্ডল। দুই মেয়ে এক ছেলে। মেয়ে চন্দ্রা মন্ডল এবং ইন্দ্রানী মন্ডল। আর ছেলে তরুণ কুমার মন্ডল। দু’মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। সংসারে শাশুড়ি আছে। এই ৬ জনের সংসার চালাতে বেশ হিমশিম খেতে হয়। স্বামী রঞ্জন মন্ডল রাজমিস্ত্রি কাজ করে। তবে যা পায় তা দিয়ে সংসার ভালোভাবে চলে না।
তাই প্রতিভা রাণী মন্ডল তার সংসারকে স্বচ্ছল করার জন্য স্বামীর পাশে দাঁড়াতে চায়। প্রতিভা রাণী মন্ডল স্থানীয় ঋষি ফাউন্ডেশন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ বাড়িতে খেজুর পাতা আর খড় দিয়ে হাতে বুনছেন তিন সাইজের তিনটা বাস্কেট। যাকে সেট বলা হয়।
প্রতিভা রাণীর কাছ থেকে জানা যায়, তিনি ১৫ বছর ধরে সেট বোনার কাজ করছেন। এভাবে তিনি তার পরিবারের স্বচ্ছলতায় ভূমিকা রাখছেন।
আরেকজন স্বনির্ভর নারী শিফালী রাণী মন্ডল। স্বামী ইন্দ্রজিৎ মন্ডল পেশায় কৃষি কাজ করেন। এক মেয়ে। নিজেরা স্বামী স্ত্রী দুজন, শ্বশ্বর শাশুড়িসহ পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। নিজেদের সম্পদ বলতে ভিটাবাড়িসহ দুই বিঘা জমি। তাতে ফসল যা হয় তা দিয়ে ভালোভাবে সংসার চলে না। জলাবদ্ধতার কারণে পানিতে তলিয়ে থাকে। তাই শেফালি রাণী সংসারের স্বচ্ছলতার জন্য হাতের কাজ করছেন। বুননে তৈরী করছে চমৎকার সব বাস্কেট। সে এই কাজ ১২ বছর ধরে করছে জানায়।
এদেরই মতো অলকা মন্ডল। তার স্বামী প্রফুল্ল¬ মন্ডল দিন মুজুরের কাজ করেন। নিজের বলতে ভিটে বাড়ি ছাড়া কিছুই নেই। সংসারে ৪ জন সদস্য। নিজেরা দুজনসহ দুই ছেল। একজন ইন্টারমিডিয়েট পড়ে অন্যজন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে। সংসার চালিয়ে ছেলেদের লেখাপড়া চালিয়ে করানো বেশ সংকটে পড়তে হয়। তাই সে বেছে নিয়েছেন বুননের কাজ। বাড়িতে বসে কাজ করছে সেট বুনেন।
সমাজে নারীরা আজ আর পিছিয়ে নেই। তারা পরিবারের স্বচ্ছলতা নিশ্চত করছেন। সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দেশের উন্নয়নে অগ্রগামী ভূমিকা রাখছেন। তবে আরো বেশি সহযোগিতা এবং মূলধন পেলে হয়তো ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে পরিবার দেশ, সমাজের এবং দেশের সীমা ছাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে পারেন তারা।