জালি আঁটি সবাই ফ্যালে, পাকা আঁটি ফ্যালার কেউ নেই


প্রকাশিত : অক্টোবর ২৫, ২০১৯ ||

এড. শেখ মোজাহার হোসেন কান্টু:
আমাদের উপ-মহাদেশে অনেকেই ছাগল পোষে, কেউ ব্যবসায়িক ভাবে, কেউ মনের খায়েশে, আবার কেউ আহারের কারণে ছাগল পুষে থাকে। গ্রামে অনেকেই বকরী ছাগল পোষে, বাচ্চা নেওয়া জন্য, খাসি ছাগল পোষে আর্থিক লাভের জন্য, বিশেষ একটি মহল-ছাগল প্রজননের জন্য ছাগ/পাঠা পোষে।
ধীরেণ ঋষি মহাশয়ের বাড়িতে কতকগুলি ছাগ/পাঠা রয়েছে, তারা মালিকের দেওয়া খাবার খায়, সারাদিন মালিকের বাড়িতেই বাঁধা থাকে এবং তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করে। ধীরেনের বাড়িতে, ছাগ/পাঠার সাথে সাথে কতকগুলি বকরী ছাগল এবং ধাড়ী ছাগল (বয়স্ক মাদী ছাগল) আছে। দুই তিনটি বকরী ছাগল, কয়েকদিনের ব্যবধানে, কোনোটি একটি, কোনোটি দুইটি আবার কোনোটি তিনটি শাবক (বাচ্চা) প্রসব করেছে। ছোট পুরুষ শাবক গুলি, দৌড়া দৌড়ি করে এবং মায়ের দুগ্ধ পান করে, আর বয়স্ক ধাড়ী ছাগলের (নানী ছাগল) পাশে গিয়ে নৃত্য করে আর মহা আড়ম্বরে বলতে থাকে, ‘নানী ভেবোনা, বড় হয়ে নানার মত আমরাও কাজ করে যাবো’। নানী ছাগল বলে, ‘অত আশা করোনা, কয়েকদিন পর খাসিকারক আসবে এবং আঁটি ফেলে দিয়ে যাবে’। ছোট শাবকগুলি নানী ছাগলের কথা আমলে নেয় না।
ধীরেন ব্যবসায়ের স্বার্থে, ছাগ/পাঠা এর পিছে পিছে, ছাগ/পাঠা পালতে থাকে। কারন, বয়স্ক ছাগ/পাঠা এর কর্মক্ষমতা কমতে থাকলে, কালিপূজায় তাকে বিক্রয় করে, পরবর্তী ছাগ/পাঠাকে কাজে লাগিয়ে থাকে। ছোট শাবকগুলি, ঐ মাঝারি ছাগ/পাঠা গুলোকে মামা সম্মোধন করে এবং জিজ্ঞাসা করে, ‘মামা নানী বলছিলো, খাসিকারক আসবে এবং নাকি আঁটি ফেলে দিয়ে যাবে ?’ মাঝারি ছাগ/পাঠা (মামা পাঠারা) উত্তর দেয়, ‘খাসিকারক যদি আসে, তাহলে নীচের দিক থেকে শুরু করলে, তোদের বিপদ, আর উপরের দিক থেকে শুরু করলে, তোর নানার বিপদ, আমাদের কি ? বিষয়টা তোর নানার কাছে জিজ্ঞাসা কর।’ ছোট শাবকগুলি এবার নানা ছাগ/পাঠা এর কাছে জিজ্ঞাসা করলো, ‘নানা-নানী বললো, খাসিকারক আসবে, আঁটি ফেলে দিয়ে যাবে, সত্যিই যদি খাসিকারক আসে, তাহলে কি করা যায়?’ বয়স্ক ছাগ/পাঠা উত্তর দিলো, ‘জালি আঁটি সবাই ফ্যালে, পাকা আঁটি ফ্যালার কেউ নেই, তোদের ভাবনা তোরা ভাব।’ সত্যিই একদিন জীতেন ঋষি মহাশয় আসলো, ধীরেন ঋষি মহাশয়ের বাড়ির ছাগলের পুরুষ শাবকগুলিকে ধরে, যথারীতি আঁটি ফেলে খাসি করে দিয়ে গেল। কয়েকদিন অসুস্থ্য থাকার পর, শাবকগুলি সুস্থ্যতা লাভ করে, নানী ছাগলের কাছে, দু:খ করে জিজ্ঞাসা করলো, ‘নানী-আমাদের আঁটি ফেলে খাসি করে গেল, কিন্তু মামাদের, নানাদের আঁটিতে হাত দিলো না, এটা কেমন বিচার?’ নানী ছাগল বললো, ‘প্রত্যেকবারে এই অবস্থায় হয়, বিরাট তর্জন গর্জন করে, সব খাসি করে দেবো, কোন পাঠা রাখবো না, এবার পাঠা সাইজ করে দেবো, কিন্তু শেষে দেখা যায়- যত জালি আঁটি ফ্যালার লোকের অভাব নেই, ঐ পাকা আঁটিতে হাত দেওয়ার কেউ নেই। নানা পাঠারা বহাল তবিয়াতে চুটিয়ে পাঠাগীরি করে যাবে, জালিদের কারো পাঠা হ’তে দেবে না। কি আর করবি বল! খাসি হয়েই জীবন কাটা”।
আমরাও তাই দেখছি, ধীরেন ঋষি মহাশয়ের আর জীতেন ঋষি মহাশয়ের, কারবার-ই চলছে। প্রত্যেক বারের তর্জন গর্জন শুনি, আশা করি ঐ বুড়ো পাঠাদের আঁটি ফ্যালা হবে, আমরা একটু স্বস্তি ফিরে পাবো। কিন্তু, দেখা যায়, বুড়ো পাঠা, বুড়ো পাঠাই থাকে, কেবল জালিগুলোর আঁটি ফ্যালা হয়। এই ধারাবাহিকতার পরিবর্তন কি কখনো আসবে ? লেখক: রাজনীতিক ও আইনজীবী