দেখে এলাম অনিন্দ্য সুন্দর খেরুয়া মসজিদ


প্রকাশিত : অক্টোবর ২৮, ২০১৯ ||

অনলাইন ডেস্ক: সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই শেরপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা। সহযাত্রী মজনু মিয়ার উষ্ণ অভ্যর্থনা শেরপুরে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গেই। আমাদের সঙ্গে আরো যুক্ত হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আশিক। শেরপুর বাস স্টান্ড থেকে একটি অটো রিকশা করে শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকার টোলা গ্রামে চলে গেলাম। আর এখানেই রয়েছে মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন খেরুয়া মসজিদ। চোখে পড়ল মসজিদের সামনে রয়েছে একটি কবর। পুরো চত্বর যেন কার্পেটের মতো সবুজ ঘাস বিছানো। এর চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছপালা।

আমরা যখন পৌঁছালাম ততক্ষণে দুপুর গাড়িয়েছে। সবার মত আমরাও ওযু করে মসজিদে ঢুকে যোহরের নামাজ জামায়েতে আদায় করলাম। তিনটি কাতারে একসঙ্গে প্রায় ১০০ জন নামাজ পড়তে পারেন। এরপর বাহিরে এসে চারিদিকে ঘুরে ঘুরে দেখলাম তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি। মসজিদের উত্তর-দক্ষিণ দেয়ালে রয়েছে একটি করে দরজা। তিনটি দরজা সামনে। মাঝেরটি আকারে বেশ বড়। এ দরজার দু’পাশে দেয়ালে বসানো রয়েছে দু’টো শিলালিপি।

মসজিদের পিছনের দিক

মসজিদের পিছনের দিক

চারকোণে চারটি অষ্টভুজ মিনার। পশ্চিম দেয়ালে ভেতরের রয়েছে আয়তকার তিনটি মেহরাম। আকারের দিক দিয়ে মাঝেরটি তুলনামূলক বড়। মসজিদটি সর্ম্পকে জানতে আমরা আশেপাশের অনেককেই বিভিন্ন প্রশ্ন করলাম। একজন জানালেন, মসজিদটি প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয়ার পর চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবেশ আকর্ষণীয় করতে তুলতে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা।

মসজিদের দেয়ালে অসাধারণ কারুকাজ করা

মসজিদের দেয়ালে অসাধারণ কারুকাজ করা

আমাদের জানার আগ্রহ দেখে একজন বললেন, মসজিদটির ইতিহাস নিয়ে একটি বই লেখা আছে। সেটি পড়লে সব জানতে পারবেন। ইতিহাস জানতে বইটি কিনে নিলাম মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছ থেকে। বইটি উল্লেখ্য, ১৬ শতকের শেষ দিকে ছিল বারো ভূঁইয়া ও মোঘলবিরোধী বিপ্লবের সংকটকালীন মুহূর্ত। কাকশাল বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল শেরপুর মোর্চা বারো ভূঁইয়া ছাড়াও আফগান নেতা মাসুম খান কাবুলীল সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে কাকশাল বিদ্রোহীরা। আর তখনই মূলত খেরুয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়।

তিন গম্বুজ মসজিদ

তিন গম্বুজ মসজিদ

মসজিদটি ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে জওহর আলী খান কাকশালের ছেলে নবাব মির্জা মুরাদ খান নির্মাণ করেছিলেন বলে এর দেয়ালে লিপিবদ্ধ রয়েছে। মসজিদের উত্তর-দক্ষিণের দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ৩৪ মিটার। পূর্ব-পশ্চিমের প্রস্থ ৭ দশমিক ৫ মিটার। ভেতরের দৈর্ঘ্য ১৩ দশমিক ৭২ মিটার ও প্রস্থ ৩ দশমিক ৮ মিটার। কথা হলো মসজিদটির তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গেও। তিনি জানান, নিয়মিত মসজিদটি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থানসহ বিদেশি পর্যটকরা আসেন। মসজিদটির নির্মাণশৈলী দেখে সবাই ভীষণভাবে মুগ্ধ হন বলেও জানান তিনি।

যেভাবে যাবেন

বগুড়া শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা থেকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক ধরে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা শহর। এখান থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটারের পথ। শহরের ধুনট মোড় থেকে মাজার গেট হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে গেলেই দেখা মিলবে এই মসজিদটির। মাজার গেটে প্রবেশ পথে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের লাগানো একটি সাইনবোর্ড চোখে পড়বে। মসজিদটি কিছুটা গ্রামের ভেতর। তাই পাকা সড়ক বাদে সামান্য মেঠো পথ পাড়ি দিতে হবে।