শুভ সন্ধ্যা সৈকত যেন আরেক ‘কুয়াকাটা’


প্রকাশিত : অক্টোবর ২৮, ২০১৯ ||

অনলাইন ডেস্ক: সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, দীর্ঘ সৈকত। হাওয়ায় দোল খায় সবুজ ঝাউ বন। বালুময় দীর্ঘ সৈকত আর ঝাউবনের সবুজ সমীরণের এ দৃশ্যটি যেন প্রকৃতি প্রেমের একটি উদাহরণ। এই প্রেমময় দৃশ্যপটের নামই- শুভ সন্ধ্যা। দক্ষিণে তাকালে অথৈ সাগরের ঢেউ আর ঢেউয়ের সঙ্গে দোল খাওয়া মাছ ধরার ট্রলার ব্যতীত আর কিছুই দেখা যাবে না। বলছিলাম শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের কথা।

সমুদ্রের কোল ঘেঁষা প্রান্তিক জেলা বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়ায় অবস্থিত এই সৈকত। জেলার প্রধান তিনটি নদী পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বরের মিলিত জলমোহনায় সৈকতটি দাঁড়িয়ে আছে যৌবনা রূপ নিয়ে। বেলাভূমিটি প্রায় চার কিলোমিটার লম্বা এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। সাগর তীরের বালুকণা পর্যটকদের দু-পায়ের অলঙ্কার হয়ে সঙ্গে থাকে। সীমাহীন সাগর তীরের মুক্ত বাতাস আর চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক শোভা যেন এই সৈকতটির দৃষ্টি আকর্ষণের টোপ।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট টেংরাগিড়ি এই বেলাভূমির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে গেলেই দেখা মিলবে, সাগর পাড়ে সবুজের সমারোহে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ আর পাখির কুহুতান। মৃদু ঢেউয়ের ভালোবাসা পায়ে নিয়ে, স্নিগ্ধ বাতাস গায়ে লাগিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখার মুহূর্তটা কোনো পর্যটকের পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। প্রকৃতি প্রেমের এমন লোভে পড়ে গেলে এই স্বর্গে যেতে মন চাইবে বারবার।

শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত

শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত

শুভ সন্ধ্যার পর যেতে পারেন আশার চরে। অসংখ্য মৎস্যজীবীর বসবাস সেখানে। দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, গভীর অরণ্য ও শুঁটকিপল্লী রয়েছে আশার চরে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যাওয়া মানুষ শুঁটকি উৎপাদনের জন্য চরটিতে ঘর বাঁধে। বছরে সাত থেকে আট মাস থাকে শুঁটকি উৎপাদনের ব্যস্ততা। আশার চরের কাছেই রয়েছে তালতলীর বিশাল রাখাইন পল্লী। বঙ্গোপসাগরের তীরে এ পল্লীতে কুপিবাতি জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাঁতে কাপড় বোনার কাজ। রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দিরও দেখে আসতে পারেন। ফকিরহাট বাজারের ছোট ছোট খাবারের হোটেলগুলোতে সমুদ্রের তাজা মাছ পাওয়া যায়, দাম তুলনামূলক সস্তা।

গ্রামীণ ভাবধারায় অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি এই সৈকতটির এখনো পর্যটন স্থান হিসেবে খুব বেশি পরিচিতি মেলেনি। সৈকতটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হলে সার্বিক উন্নয়ন ঘটবে এই জনপদের দরিদ্র মানুষের। ভ্রমণপিপাসুরা বলছেন, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের চেয়ে এই সৈকতের সৌন্দর্য ও সম্ভাবনা কম নয় বরং বেশি। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, আবাসিক হোটেল-মোটেল নির্মাণ এবং পর্যটন সুবিধা দিলে বছরজুড়ে পর্যটক মুখর থাকবে এই বেলাভূমি।