জেলেদের সাগরযাত্রা: শুটকির মৌসুম ১ নভেম্বর থেকে শুরু


প্রকাশিত : অক্টোবর ২৯, ২০১৯ ||

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): সুন্দরবনে শুটকি আহরণ মৌসুম ১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে। নভেম্বর থেকে সুন্দরবনে দুবলার চরের শুটকি পল্লীতে শুরু হবে কর্ম ব্যস্ততা। এজন্য পাইকগাছার সহ¯্রাধিক জেলে সোমবার থেকে সাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। আবার কেউ কেউ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলতি শুটকি মৌসুমে পাইকগাছা উপজেলার প্রায় দেড় শ’ ট্রলার নিয়ে সহ¯্রাধিক জেলে সাগর যাত্রা শুরু করেছে। সোমবার থেকে জেলেরা সাগর যাত্রা শুরু করেছে ও বুধবারে সকল জেলে চলে যাবে। উপজেলার হিতামপুর মালোপাড়া, রাড়–লী, কাটিপাড়া, নোয়াকাটি, মাহমুদকাটী, কপিলমুনি, কাশিমনগর, শাহপাড়া, আলমতলাসহ বিভিন্ন এলাকার জেলেরা ট্রলার ছেড়ে মোংলায় গিয়ে অবস্থান করবে। মোংলা থেকে পাসপার্মিট নিয়ে সমুগ্র যাত্রা শুরু করবে।
শুটকি আহরণ মৌসুমে বঙ্গোপসাগরের তীরে আলোরকোল, মাঝের কোল, দুবলারচর, নারিকেল বাড়িয়া, শেলারচর সহ ৮টি চরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২০ হাজার জেলে অবস্থান করবেন। সমুগ্র থেকে মাছ আহরণ করে সন্দুরবনের এসব চরে এনে শুটকি তৈরী করবেন তারা। এ জন্য এই চরে গড়ে তোলবেন অস্থায়ী জেলে পল্লী। সুন্দরবনের দুবলার চরে শুটকি পল্লীতে শুরু হবে কর্ম ব্যস্ততা। জেলেরা ইতোমধ্যে তাদের ট্রলার, জাল, নঙ্গর সহ সকল সরঞ্জম গোছানো হয়ে গেছে। সমুগ্রে যাওয়ার জন্য এ সব জেলেরা চড়া সুদে টাকা নিয়েছেন সুদে কারবারীদের কাছ থেকে। কেউ এনজিও, বিভিন্ন ব্যাংক ও সমিতি থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন। সমুদ্রে গিয়ে বনদস্যুদের হামলা, মুক্তিপণ ও অপহরণের শঙ্কা মাথায় নিয়ে দুচিন্তার মধ্য দিয়ে ৫-৬ মাসের অনিশ্চিত জীবন শুরু করতে চলেছে জেলেরা।
উপজেলার মালোপাড়ার সমুগ্রগামী জেলে সিতেরাম জানান, তিনি ২টি ট্রলার সহ ১৬ জন লোক নিয়ে সমুদ্র যাত্রা করছেন। দুবলার চরে পৌছানোর পর অস্থায়ী ভাবে থাকার ঘর তৈরী করবেন। এই ৫-৬ মাস বনদস্যুদের মুক্তিপন ও অপহরণের শঙ্কা রয়েছে। তার উপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করে মৎস্য আহরণ করবেন। আগেরমত বনদস্যুদের দোরাত্ব না থাকলেও অনেক চাঁপের মধ্যে থাকতে হবে তাদের।
সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল-আল-মামুন বলেন, প্রতিবছরের মত এবারও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন চরগুলোতে নভেম্বর থেকে শুটকি আহরণ মৌসুম শুরু হচ্ছে। জেলেদের নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন বিষয়ে বনরক্ষকরা সব সহযোগিতা করে থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। শুটকি মৌসুম সামনে রেখে জেলেদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক সুন্দরবন ও উপকূলে র্যাব ও আইন শৃংখলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।