শুদ্ধি অভিযান আইওয়াশ নাকি, দেখা যাবে: শেখ হাসিনা


প্রকাশিত : অক্টোবর ২৯, ২০১৯ ||

ন্যাশনাল ডেস্ক: চলমান শুদ্ধি অভিযান নিয়ে বিএনপির অভিযোগ, এটা সরকারের ‘আইওয়াশ’। এ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অভিযানে আপন-পর কোনো কিছু দেখা হয়নি। অপরাধজগতের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরই ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আইওয়াশের ব্যবসাটা বিএনপি ভালো জানে। অপেক্ষা করেন, আইওয়াশ নাকি, দেখা যাবে। মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে গণভবনে সদ্য সমাপ্ত আজারবাইজানে ন্যাম সম্মেলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভয় শব্দটি তাঁর ডিকশনারিতে নেই। ১৪ দলের নেতা রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি বলেছে, আওয়ামী লীগকে একা করা হবে-এমন কথায় প্রধানমন্ত্রী ভীত কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগকে একা করা হবে, প্রধানমন্ত্রীকে ভয় দেখানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাতে ভীত কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। আমার বাবাকে দেখেছি, কীভাবে তিনি সাহসের সঙ্গে রাজনীতি করে এই বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই ভয় শব্দটা আমার নেই। ছোট থেকেই নেই। আর ভয় পাওয়ারও কোনো কারণ নেই। ভয় পেলে এই অভিযানে আমি নামতাম না। কে কোন দল করে, সেটা আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় না। শুরু করলে ঘর থেকেই করতে হয়।’
বিএনপি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দুর্নীতির খনি। তিনি ১৯৭৫ সালের ঘটনা ও জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টানেন। বিএনপির প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই হত্যা, দুর্নীতির মামলা আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই দলের চেয়ারপারসন দুর্নীতির দায়ে কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুর্নীতিগ্রস্ত এবং মামলার দায়ে দেশান্তর। তাদের মুখে এত কথা কোত্থেকে আসে।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও ১৪ দল নেতা রাশেদ খান মেননের বিতর্কিত বক্তব্য প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের একজন নেতা বলে ফেলেছেন। তাঁর তো মনে দুঃখ হতেই পারে। জেনে হোক, অজান্তে হোক, কোনো এক ক্লাবের চেয়ারম্যান করা হয়েছে এলাকার এমপি হিসেবে। তিনিও নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাঁর নির্বাচিত হওয়াটাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।’ এ ছাড়া বলেন, জনগণ ভোট দিতে না পারলে এবং জনসমর্থন না থাকলে আন্দোলন গড়ে উঠত।
মেনন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এটা ১৪ দলের বিষয়। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সেটা ১৪ দল মেনে নিয়েছে। সেখানেই মিটমাট। রাজনীতি করলে বহু কথা শুনতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব কথা শুনে তা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে রাষ্ট্র চালাব কখন। আমার রাষ্ট্র চালানোর জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য যে কাজ করার, আমি আমারটা করে যাই। ভয়-ওই শব্দটা আমার ডিকশনারিতে নাই।’
শুদ্ধি অভিযান নিয়ে বিএনপির অভিযোগ আইওয়াশ করা হচ্ছে। মূল অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে। এ অভিযোগের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আসল দুর্নীতিবাজদের দুজন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে শাস্তি পেয়ে গেছেন। বিএনপির আরও নেতা আছেন, যাঁরা অপরাধী, পর্যায়ক্রমে সবাই শাস্তি পাবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আইওয়াশ করতে যাব কিসের জন্য? আমি তো আমার আপন–পর কোনো কিছু দেখিনি। অপরাধজগতের সঙ্গে যারা জড়িত, সে যে-ই হোক, তাকে ধরেছি। আইওয়াশের ব্যবসাটা বিএনপি ভালো জানে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অপেক্ষা করেন, আইওয়াশ নাকি, দেখা যাবে।’
ক্যাসিনো নিয়ে অভিযানের আগে গণমাধ্যমে কোনো সংবাদ আসেনি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেই এটা খুঁজে বের করেছেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে খবর চলে এসেছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং যাকে দিয়ে করলে যথাযথ হবে, তাকে দিয়েই করিয়েছি।’ অনেক গণমাধ্যম থাকতেও কেউ এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেনি বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া বলেন, কখন কে ধরা পড়ে বলা যায় না।
১০০ জনে তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা নিতে। আর কতজনের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে আছে, তা জানতে চাইলে বলেন, কতজনের তালিকা আছে, এটা তিনি এখন বলবেন না। এ ছাড়া জানান, কোনো এক পত্রিকার সম্পাদক এক ব্যাংকের এমডিকে ফোন করে ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কাছে টাকা চেয়েছেন, নয়তো তাদের বিরুদ্ধে লেখা হবে। এসবও বের হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। রাজনীতিবিদের বাইরে অন্য ক্ষেত্রের দুর্নীতিবাজদের ধরা প্রসঙ্গে বলেন, সময় বলে দেবে। অভিযানের মধ্য দিয়ে সবাইকেই ধরা হবে।
নুসরাত হত্যার বিচার দ্রুত হওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এটার সুবিধা ছিল নুসরাত নিজে জবানবন্দি দিতে পেরেছিল। এটা গুরুত্বপূর্ণ আলামত ছিল। অনেক সময় দেখা যায়, সাক্ষীর অভাব থাকে, ঝামেলা হয়। এ ছাড়া জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি সাংবাদিকদেরও সাধুবাদ জানান নুসরাত হত্যাকান্ডের বিচারে বড় ভূমিকা পালন করার জন্য। তিনি আরও জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় মামলা জট বেড়েছে। তবু নুসরাত হত্যার বিচার একটা দৃষ্টান্ত। নুসরাতকে সাহসী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত সাহসী মেয়ে। মেয়েটা জীবন দিয়ে গেছে। সে একটা সাহসী ভূমিকা রেখে গেছে। শেষ পর্যন্ত সে কিছুতেই নত হয় নাই।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির তথ্য তুলে ধরে বলেন, এই পেঁয়াজ শিগগির পৌঁছাবে। পেঁয়াজ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এই সমস্যা সাময়িক। আরও পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, যারা এখন মজুত করছে, তারা কত দিন ধরে রাখতে পারবে। পেঁয়াজ কিন্তু পঁচে যায়। রাখতে গিয়ে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গিয়ে তাদেরই লোকসান হবে, লাভ হবে না।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যাম সম্মেলনে দেশগুলোর আর্থসামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উন্নয়ন গুরুত্ব পেয়েছে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, শান্তি যাতে প্রতিষ্ঠা হয়, সেদিকে দৃষ্টি ছিল। সবাই বাংলাদেশের উন্নয়নে বাহবা দিয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া বলেন, ২০০১ সালে সরকারে না আসতে পারায়, প্রস্তুতি নিলেও বিএনপি ক্ষমতায় আসার কারণে ন্যাম সম্মেলন বাংলাদেশে হয়নি বলে জানান।
পদ্মা সেতু বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে উদ্বোধন হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটা টেকনিক্যাল জিনিস। সময় বেঁধে দিয়ে হয় না। পদ্মা অনেক খরগ্রোতা নদী হওয়ায় এখানে অনেক টেকনিক্যাল বিষয় কাজ করছে। সুনির্দিষ্ট সময় বলা যাবে না, কিছু সময় লাগবে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।