টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যানে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত


প্রকাশিত : নভেম্বর ২, ২০১৯ ||

অনলাইন ডেস্ক: দিল্লিতে রোববার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এক যুগেরও বেশি সময় আগে টি-টোয়েন্টি খেলা শুরু করলেও প্রথমবারের মতো দুই প্রতিবেশী দেশ মুখোমুখি হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজের লড়াইয়ে। এর আগে কোন দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেনি দেশ দুটি।

দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণটিতে ভারতের বিপক্ষে আটবার মুখোমুখি হলেও কোন এখনও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে দেখে নেয়া যাক কেমন ছিল সে ম্যাচগুলোর ফলাফল।

প্রথম ম্যাচ, ট্রেন্ট ব্রিজ, ২০০৯ (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ)
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারত মুখোমুখি হয় ২০০৯ সালে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে সহজ জয় তুলে নেয় ভারত। ট্রেন্ট ব্রিজের সে ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৮০ রান তোলে ভারত। পরে ব্যাট করতে নেমে একমাত্র জুনায়েদ সিদ্দিকী ছাড়া আর কেউ বলার মতো রান পাননি। তিনি ২২ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলেন। ভারতের হয়ে স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা একাই তুলে নেন ৪ উইকেট। ধুঁকে ধুঁকে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৫৫ রান পর্যন্ত যেতে পারে বাংলাদেশ। ২৫ রানে ম্যাচ হারে মোহাম্মদ আশরাফুলের দল।

দ্বিতীয় ম্যাচ, মিরপুর, ২০১৪ (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ)
দুই দলের পরবর্তী দেখা হয় পাঁচ বছর পর। এবারের উপলক্ষও ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এবার প্রথমে ব্যাট হাতে নামে টাইগাররা। স্লো পিচে ৭ উইকেটে মাত্র ১৩৮ রান তোলে স্বাগতিক দল। দলের পক্ষে ওপেনার আনামুল হক বিজয় সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহর ক্যামিও ইনিংসে (২৩ বলে ৩৩) লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। তবে ভারতকে আটকাতে তা যথেষ্ঠ ছিলো না। ব্যাট হাতে অনায়াসেই সে লক্ষ্য অতিক্রম করে কোহলি-রোহিতরা। ৯ বল হাতে রেখে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় ভারত।

তৃতীয় ম্যাচ, মিরপুর, ২০১৬ (এশিয়া কাপ)
তৃতীয়বারের মতো ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দেখা হয় ২০১৬ সালের এশিয়া কাপে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৬৬ রান তোলে ভারত। ব্যাট হাতে বিরাট কোহলি ব্যর্থ হলেও রোহিতের কল্যাণে বড় সংগ্রহ পায় দলটি।  ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১২১ রানের বেশি তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। সাব্বির রহমান করেন সর্বোচ্চ ৪৪ রান।

চতুর্থ ম্যাচ, মিরপুর, ২০১৬ (এশিয়া কাপ ফাইনাল)
একই বছর একই টুর্নামেন্টে দেখা হয় দুই প্রতিবেশীর। সেবার গ্রুপপর্বে ভারতের কাছে হারলেও বাকি ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠে টাইগাররা। বৃষ্টির বাধায় প্রতি ইনিংসের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয় ১৫ ওভার। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহর ১৩ বলে ৩৩ রানের ইনিংসের কল্যাণে ১২০ রান করতে পারে মাশরাফির দল। বল হাতে শুরু থেকে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরে টাইগাররা। কিন্তু শেষদিকে ধোনির ক্যামিওতে ১০ বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত।

পঞ্চম ম্যাচ, ব্যাঙ্গালুরু, ২০১৬ (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ)
টাইগার সমর্থকদের কাছে দীর্ঘশ্বাস ও আফসোসের এক ম্যাচ হয়ে আছে ব্যাঙ্গালুরুর এই ম্যাচটি। নিশ্চিত জয় যে সেদিন আয়েশ করে হেলায় ছুঁড়ে ফেলেছিলেন মুশি-রিয়াদরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৪৬ রান তোলে ভারত। ব্যাট করতে নেমে জয়ের দিকে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে ৩ বলে মাত্র ২ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। এমন সময় ‘গ্লোরি শট’ খেলতে গিয়ে পরপর দুই বলে সাজঘরে ফিরে যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শেষ বলে মুস্তাফিজুর রহমান রান আউট হলে বাংলাদেশ ম্যাচটা হেরে যায় ১ রানে।

ষষ্ঠ ম্যাচ, কলম্বো, ২০১৮ (নিদাহাস ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ)
শ্রীলংকার বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ টুর্নামেন্ট নিদাহাস ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বশেষ মুখোমুখি হয় ভারত ও বাংলাদেশ। এ টুর্নামেন্টের গ্রুপপর্বে দুইবার মুখোমুখি হয় দু’দল। প্রথম ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৩৮ রান তুলতে পারে টাইগাররা। পরে ব্যাট করতে নেমে ৮ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছায় ভারত। ফিফটি পান ওপেনার শিখর ধাওয়ান।

সপ্তম ম্যাচ, কলম্বো, ২০১৮ (নিদাহাস ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ)
টুর্নামেন্টে মুখোমুখি দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে ভারত। রোহিত শর্মার ৮৯ রানে ভর করে ১৭৬ রানের বড় সংগ্রহ পায় তারা। রান তাড়ায় ৫৫ বলে ৭২ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিম। তবে আর কেউ তেমন অবদান না রাখায় ৬ উইকেটে ১৫৯ রান পর্যন্ত যেতে পারে বাংলাদেশ। ম্যাচটি বাংলাদেশ হেরে যায় ১৭ রানে।

অষ্টম ম্যাচ, কলম্বো, ২০১৮ (নিদাহাস ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ ফাইনাল)
ভারত-বাংলাদেশ দ্বৈরথে আরেকটি দুঃস্বপ্নের ম্যাচ নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল। কারণ আরেকবার তীরে এসে তরী ডোবায় টাইগাররা। স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়ে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৬৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় টাইগাররা। ৫০ বলে ৭৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট সাব্বির রহমান। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে টাইগাররা। শেষ দুই ওভারে ভারতের লাগবে ৩৪ রান; এমন সমীকরণে উইকেটে আসেন দীনেশ কার্তিক। রুবেলের করা ‘পেনাল্টিমেট’ ওভারে ২২ রান তোলেন তিনি। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১২ রান। বল হাতে পঞ্চম ডেলিভারি পর্যন্ত যথেষ্ট সফল ছিলেন সৌম্য সরকার। শেষ বলে দরকার ছিল ৫ রানের। এমন পরিস্থিতিতে শেষ বলে ছক্কা হাঁকান কার্তিক। ভারতকে ‍উপহার দেন শিরোপা। ম্যাচ শেষে সৌম্যের লুটিয়ে পড়ে থাকা আজও লাখো টাইগার সমর্থকের কাছে অন্যতম দুঃসহ স্মৃতি।

এখন পর্যন্ত একবারও না জেতা বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই ভারতের বিপক্ষে নামবে। সিরিজের তিনটি ম্যাচ হবে যথাক্রমে ৩, ৭ ও ১০ নভেম্বর।