যবিপ্রবির একমাত্র ছাত্রী হলে অন্তহীন ভোগান্তি


প্রকাশিত : নভেম্বর ৩, ২০১৯ ||
জহুরুল ইসলাম,যবিপ্রবিঃ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একমাত্র ছাত্রী হল ‘শেখ হাসিনা ছাত্রী  হল’ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি। হলের ডাইনিং, রিডিং রুম, বাথরুম সব জায়গাতেই অন্তহীন সমস্যা। নানা সমস্যার কথা জানালেও সমস্যা সমাধানের উদ্দ্যোগ নেই। শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, শেখ হাসিনা হলে নিম্নমানের খাবার পরিবেশ করা হয়। হলের অভ্যন্তরীণ একমাত্র ক্যান্টিনও দুই মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে। এসব সমস্যার কারণে ছাত্রীদের অনেক দিন ধরেই রুমে রান্না করে খেতে হয়। কিন্তু হঠাৎ ২৬ অক্টোবর পরীক্ষার আগের দিন হলে অভিযান চালিয়ে সব রাইস কুকার, হিটার ও রান্নার সরঞ্জামাদি জব্দ করেছে হল প্রশাসন। পরীক্ষার মধ্যে হঠাৎ এমন অভিযানে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
অপরদিকে হলের টয়লেট, বেসিন খুবই অপরিষ্কার, অপরিচ্ছন্ন। পরিচ্ছন্নকর্মীদের বললেও তারা কর্ণপাত করে না। ইন্টারনেট সুবিধার জন্য ওয়াইফাই সেবার রাউটার স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ওয়াইফাই সংযোগ দিলেও রাউটার থেকে দূরের রুমগুলোতে সংযোগ পায় না। আবার অনেক রুমে কিছু সময় পর পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হলে নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ দেয়ার কথা থাকলেও নামমাত্র সেগুলো চলে। যা শিক্ষার্থীদের কোনো কাজে আসে না। খোঁড়া অজুহাতে হলের গেট সন্ধ্যা সাতটায় বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় হলের ছাদও বন্ধ রাখা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ভোগান্তি লাঘবে অবিলম্বে হলের ক্যান্টিন চালু করতে হবে। সকালে ক্যান্টিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ নাস্তা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একইসাথে অন্যান্য খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকতে হবে। অন্যান্য সংকট নিরসনের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট ড. সেলিনা আক্তার বলেন, ডাইনিং এর খাবারের মান উন্নয়নে কাজ চলছে। অতিরিক্ত বাবুর্চিও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে ক্যান্টিন বন্ধের বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। এখানে খাবার স্বল্পতা থাকলেও ক্যান্টিন চলছে নিয়মিত। আমাদের পরিচ্ছন্নকর্মীরা নিয়মিত পরিষ্কার করছে। তারপরও যদি টয়লেট বাথরুম নোংরা হয় তাহলে আমি এখানে অবশ্যই ছাত্রীদের অবহেলাকে দায়ী করবো। রিডিং রুমে চেয়ার, টেবিল ও ফ্যানের স্বল্পতা আছে। আমরা এ বিষয়ে বারবার প্রকৌশল দপ্তরকে অবহিত করার পরও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।