আজ সু-সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী


প্রকাশিত : নভেম্বর ৩, ২০১৯ ||

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: আজ সু-সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সাহিত্যিক ইমদাদুল হকের জন্মস্থান পাইকগাছার গদাইপুরে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে সোমবার সকালে নতুন বাজার চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সাহিত্যিকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, সম্মাননা পদক প্রদান, পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, খুলনা (ডি-সার্কেল) এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, খুলনা দৌলতপুর সরকারি ব্রজলাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শংকর কুমার মল্লিক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপিকা ঢালী, ইউপি চেয়ারম্যান জুনায়েদুর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন, কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধান।

‘আব্দুল্লাহ’ উপন্যাসের রচয়ীতা, সু-সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ইমদাদুল হকের পিতা কাজী আতাউল হকের একমাত্র সন্তান। তিনি সন্তানের শিক্ষার বিষয়ে তৎপর ছিলেন। কাজী ইমদাদুল হক গ্রামের স্কুলে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পরে খুলনা জেলা স্কুলে ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি করেন। ১৮৯৬ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে এন্ট্রাস পাস করেন। ১৮৯৮ সালে কলকাতা মাদ্রাসা থেকে এফ,এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ১৯০৩ সালে কলকাতা মাদ্রাসার অস্থায়ী শিক্ষক পদে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর পূর্ব বঙ্গে ও আসান প্রদেশ গঠিত হওয়ায় ১৯০৬ সালে আসামে শিলংয়ে শিক্ষা বিভাগে ডিরেক্টরের অফিসে উচ্চমান সহকারী পদে চাকরি গ্রহণ করে। ১৯১১ সালে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং সেন্টারে ভুগোলের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ১৯১৭ সালে কলকাতা টিচার্স ট্রেনিং সেন্টারে প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ লাভ করেন। ১৯২১ সালে ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি প্রথম কর্মকর্তা পদে নিযুক্ত হন। ইমদাদুল হক ১৯০৪ সালে খুলনা শহরে মৌলভী আব্দুল মকসুদ সাহেবের জৈষ্ঠ্য কন্যা সামসুন্নেসা খাতুনকে বিয়ে করেন। কাজী ইমদাদুল হকের ৫ পুত্র কাজী আনারুল হক, কাজী সামছুল হক, কাজী আলাউল হক, কাজী নুরুল হক, কাজী টুকু (মৃত) এবং ২ কন্যা জেবুন্নেছা ও লতিফুন্নেছা। কাজী ইমদাদুল হকের পুত্র কাজী আনারুল হক শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন। শিক্ষা বিভাগে বিভিন্ন কাজে অসামান্য দক্ষতা, গভীর দায়ীত্ববোধ ও উদ্ধাবনী শক্তির স্বীকৃতি স্বরূপ তৎকালীন বৃটিশ সরকার কাজী ইমদাদুল হককে ১৯১৯ সালে খান সাহেব এবং ১৯২৬ সালে তাকে খান বাহাদুর উপাধীতে ভূষিত করেন। ইমদাদুল হকের স্মরণীয় সাহিত্যকর্ম তার একমাত্র উপন্যাস ‘আব্দুল্লাহ’। কাজী ইমদাদুল হক ১৯২৬ সালে ২০ মে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।