কন্যা শিশুদের জীবনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে দিন


প্রকাশিত : নভেম্বর ৩, ২০১৯ ||

গাজী আবদুর রহিম: শিশুদের সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য চাই মনোরম পরিবেশ। আর মুক্ত প্রকৃতির নির্মল হাওয়া। তারা যেন চলাফেরা করতে স¦াচ্ছন্দবোধ করে, সেদিকে খেয়াল রাখা। তবে আমরা ছেলে শিশুদের যতটা স্বাধীনতা দিতে সক্ষম, কন্যা শিশুদের ততটা স্বাধীনতা দিয়ে নিরাপদ থাকতে পারিনা। কারণ এখন চারিদিক কন্যা সন্তানরা প্রতিনিয়ত তার আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি যুবকদের কাছে ধর্ষিত হচ্ছে। বর্তমান সময়ে দেশে এটি প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্য অন্যতম একটি। এখন দেশে যা ধর্ষণ হচ্ছে তার প্রায় ৫০% শিশুর বয়স ১২ বছরের কম। দিনান্তে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এভাবে শিশু ধর্ষণ চলতে থাকলে আমাদের আগামী প্রযন্মকে আধারের পথযাত্রী হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।

কিছু পুরুষ, যাদের নরপশু বললে সমাজ সহজে চেনে, এরা যৌন চাহিদা মেটাতে শিশুদের ব্যবহার করছে। মানুষের চিন্তা ভাবনার স্তর কতটা নিচে নাবলে এমন জঘন্য কাজ করা যায় তা ভাবনার লেশ রাখে না। আমরা সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের মহামারীর ব্যাপকতা সম্পার্কে পত্রিকার কয়েকটা সিরোনাম দেখে আসি:

১। ৮ দিনে ৪১ শিশু ধর্ষণের শিকার: মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ৯ মে ২০১৯)।

২। ৬ মাসে প্রায় ৪০০ শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে (বিবিসি নিউজ, ৭ জুলাই ২০১৯)।

৩। ৬ মাসেই ধষণের শিকার হয়েছে ৪৯৬ শিশু, বেড়েছে ৪১ শতাংশ (কালের কন্ঠ, ৬ অক্টোবর ২০১৯)।

এ ছাড়াও অভিভাবকরা অনেক সময় ধর্ষণের খবর প্রকাশ না করে থাকেন। প্রকাশ না করার ২টি কারণ আছে। তার একটি হল সম্মানহানী হওয়ার ভয়। অন্যটি হল ধর্ষকের ক্ষমতার কাছে পরাজিত হওয়ার ভয়।

২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ৯ এর আওতায় ধর্ষকদের শাস্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। নিম্নে উক্ত ধারাগুলো উল্লেখ করা হল:

৯ (১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডীত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডীত হবেন।

৯(২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তা হলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যুত এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডীত হবেন।

৯(৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তা হলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডীত হবেন এবং এর অতিরিক্তি অন্যুত এক লক্ষ  টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডীত হবেন।

৯(৪) যদি কোন ব্যক্তি  কোন নারী বা শিশুকে-

(ক) ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডীত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডীত হবেন।

(খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যুত পাঁচ বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডীত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডীত হবেন।

৯(৫) যদি পুলিশ হেপাজতে থাকাকালীন সময়ে কোন নারী ধর্ষিত হন, তা হলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে, সেই ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি তারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য,অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যুত পাঁচ বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডীত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডীত হবেন।

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধর্ষিতাদের অভিভাবকরা দিনের পর ভুক্তভোগী হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের নারী শিক্ষার হার কমে যাবে।এই করাঘাত থেকে উত্তোরণের জন্য ধর্ষণের আইন মৃত্যুদন্ড করে, দ্রুত এই মামলা নিষ্পত্তির ব্যাপারে সরকারের তৎপর হওয়া দরকার। লেখক: সাংবাদিক ও কবি