কলারোয়ায় ৭৭বছর বয়সী সেই বৃদ্ধার ভাতার কার্ড দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান লাল্টু


প্রকাশিত : নভেম্বর ৪, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ৭৭ বছর বয়সী সেই বৃদ্ধার ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান। ‘কলারোয়ায় আজো ভাতার কার্ড হয়নি ৭৭ বছরের বৃদ্ধার’- শীরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে সেটি দৃষ্টিগোচর হয় উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টুর। তিনি তাৎক্ষণিক অসহায় ওই বৃদ্ধাকে বিশেষ ব্যবস্থায় ‘বয়স্ক ভাতা’র কার্ড প্রদান করেন। জানা গেছে, অতিসম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ৭৭ বছর বয়সী বৃদ্ধা রুপিয়াকে নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়- ২৫বছর আগে স্বামীর মারা যাওয়ার পর ওই বৃদ্ধার ২ পুত্রও মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। নাতি-পুতিদের অভাবের সংসারে কোনরকম অসহায়ভাবে জীবনের শেষ প্রান্তে তিনি। তিনি কানে শোনেন না, চোখেও প্রায় দেখেন না, হাটেন কোনরকম খুঁড়িয়ে খুড়িয়ে। বার্ধক্যের এ পর্যায়ে আসলেও অসহায় এই বৃদ্ধার কপালে জোটেনি বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধি ভাতা অথবা অন্য যেকোন সরকারি ভাতার সহায়তা। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন- ওই বৃদ্ধার জাতীয় পরিচয়পত্র ছিলো না, এখন স্মার্ট আইডি পেয়েছি। পরবর্তীতে তার জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে সোমবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু ওই বৃদ্ধাকে অফিসে ডেকে আনান। ‘পরবর্তীতে’ নয় বরং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করলেন ভাতার কার্ডের। সেখানে ৭৭ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে বিশেষ ব্যবস্থায় ‘বয়স্ক ভাতা’র কার্ড তুলে দেন তার হাতে। এ বিষয়ে লাল্টু বলেন, ‘আমি দায়িত্বে এসেছি ৬ মাসের মতো। কিন্তু কি কারণে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান অসহায় এমন একজন বৃদ্ধাকে উপকারভোগী কার্ড করে দিতে পারেনি সেটা আমার বোধগম্য নয়। আমি হতবাক হয়েছি ৭৭ বছরের দৃষ্টিহীন বিধবা মহিলা এতোদিনেও কোন উপকারভোগীর আওতায় না আসায়।’ লাল্টু আরো বলেন, ‘আমি এখন থেকে পৌরসভাসহ ১২টি ইউনিয়নে খোঁজ খবর নিচ্ছি। এধরনের আর কোন অসহায় ব্যক্তি অবহেলিত অবস্থায় থাকলে অগ্রগণ্য ভিত্তিতে দলমত নির্বিশেষে তাদেরকে উপকারভোগীর আওতায় নিয়ে আসবো।’ সেসময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ ফারুক হোসেন, উপজেলা আ’লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক স ম মোরশেদ আলী ভিপি, কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ভুট্টোলাল গাইন, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সিদ্ধেশ্বর চক্রবর্তী প্রমুখ। কার্ড হাতে পাওয়ার পর বৃদ্ধা রুপিয়ার চোখে আনন্দের পানি ঝড়তে দেখা যায়। ভাঙা কন্ঠে তিনি জানান, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান লাল্টুর বদৌলতে অবশেষে কার্ড পেয়েছি, এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি রইলো কৃতজ্ঞতা।’