দেবহাটার সুবর্ণাবাদ ইউনাইটেড ক্লাবের নব-নির্মিত কার্যালয় উদ্বোধন

দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটার সুবর্ণাবাদ ইউনাইটেড ক্লাবের নব-নির্মিত কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে সুবর্ণাবাদ ইউনাইটেড ক্লাবের নব-নির্মিত কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি দেবহাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গনি। সুবর্নাবাদ ইউনাইটেড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কৃষ্ণপদ সরকারের সভাপতিত্বে এবং সেন্ট্রাল হাইস্কুলের শিক্ষক সঞ্জয় সরকারের সঞ্চালনায় এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন দেবহাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জিএম স্পর্শ, জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রাণনাথ দাশ, শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য অচিন্ত্য কুমার মন্ডল, গাজী শহিদুল্যাহ, ইউপি সদস্য শ্যামলী রানী মন্ডল, ইউনাইটেড ক্লাবের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

আগরদাঁড়ীতে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এবং আগড়দাঁড়ি ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় সদর উপজেলার আগড়দাঁড়ি ইউনিয়নে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে আগড়দাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় সরকার বিভাগ সাতক্ষীরার উপপরিচালক হোসেন শওকতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর-০২ আসনের সংসদ সদস্য।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা তথ্য অফিসার মো. মোজাম্মেল হক, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার পূলক চক্রবর্তী, আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. মজনুর রহমান মালি ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সাতক্ষীরার প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা প্রমুখ।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এড. শ্যামল কুমার ঘোষ, যুব নেতা প্রভাষক মইনুল ইসলাম, ইউপি সদস্য সামছুর রহমান, ইউপি সদস্য ইয়াছিন কবির প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা  করেন জেলা তথ্য অফিসের ঘোষক মো. মনিরুজ্জামান। এসময় ইউপি সদস্য ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বই মেলা শুরু হবে ১৬ নভেম্বর (ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখতে ঘোষিত মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে শুরু হবে সপ্তাহব্যাপী বই মেলা। একই সাথে উদযাপিত হবে সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরির রজত জয়ন্তী উৎসব।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিতব্য এই মেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকাশক সংস্থার স্টলে সব ধরনের বই পাওয়া যাবে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নিজাম উদ্দিন। মূখ্য আলোচক হিসেবে আলোচনা করবেন কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে তার সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাকজমকপূর্ণ মেলা আয়োজনে সভায় বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ১৬ নভেম্বর সকাল ৯টায় বই মেলার উদ্বোধন ও পাবলিক লাইব্রেরির রজত জয়ন্তী উপলক্ষে র‌্যালি, সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা, বই মেলা ও পাবলিক লাইব্রেরির পতাকা উত্তোলন এবং তার পরে বই মেলা ও পাবলিক লাইব্রেরির রজত জয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং স্মরণিকার উদ্বোধন করা হবে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বদিউজ্জামান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আহমেদ, সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি জিএম নুর ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, সাতনদী সম্পাদক হাবিবুর রহমান, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনেকেই বলতো, আবৃত্তির মূলধারাকে নষ্ট করছি: কবিতা কানেকশন

অনলাইন ডেস্ক: বাংলা কবিতাকে সবশ্রেণীর মানুষের কাছে পৌঁছাতে চায় কলকাতার ভিন্ন ধারার ব্যান্ড ‘কবিতা কানেকশন’। সম্প্রতি বাংলাদেশের আবৃত্তি সংগঠন কণ্ঠবীথির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাগুরায় এসেছিলো এই ব্যান্ডের সদস্যরা। অনুষ্ঠানের পর তাদের সঙ্গে একান্ত আলাপ হয় ।
দলটির প্রধান ও আবৃত্তিশিল্পী পলাশ দাস বলেন, ‘ছেলেবেলা থেকেই আবৃত্তির সাথে জড়িত আমি। একক আবৃত্তিকার হিসেবে আবৃত্তিও করেছি ভারতের বিভিন্ন স্থানে। পাঁচ বছর আগে মনে হলো আবৃত্তিকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে পরিবেশন করলে কেমন হয়। দীপময় তখনও গান নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়েনি। ওকে বললাম গান, আবৃত্তি আর মিউজিকের একটা কম্বিনেশন করলে কেমন হয়। দেখলাম এতে তারও বেশ আগ্রহ। কী নাম দেওয়া যায় ভাবতে বেগ পেতে হয়নি। যেহেতু কবিতাই আমাদের মূল মাধ্যম তাই নাম রাখলাম- কবিতা কানেকশন।’
পলাশ দাস আরও বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমরা দারুণ সাড়া পেয়েছি কাজটি করে। সবাই বেশ ভালোভাবে নিয়েছে আমাদের নিরীক্ষাকে। প্রথমে অনেকেই বলত, আবৃত্তির মূলধারাকে নষ্ট করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের অনুষ্ঠান দেখে সবাই বুঝেছে- এটি শুধু আবৃত্তি নয়, গানও নয়, গান আর কবিতার একটি মিশ্রণ। ঢাকায় আমাদের একটা অনুষ্ঠান দেখে বাংলাদেশের প্রবীণ আবৃত্তিশিল্পী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক আশরাফুল আলম বলেছিলেন, তোমাদের নাম হতে পারত মিশ্রিতা। তবে যাই করিনা কেন বাংলা কবিতাই আমাদের মূল ভাবনা।’
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের আবৃত্তির মূল পার্থক্যটা কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে পলাশ বলেন, ‘বাংলাদেশের আবৃত্তি চর্চা মূলত সাংগঠনিক। এখানে অসংখ্য আবৃত্তি সংগঠন রয়েছে। প্রচুর ছেলেমেয়ে কাজ করছে। দেখলেও ভালো লাগে। এই যে মাগুরার মতো ছোট শহরে কণ্ঠবীথি কাজ করছে। দেখে ভালো লাগলো তাদের প্রায় একশর বেশি সদস্য। কিন্তু আমাদের আবৃত্তি চর্চা একেবারেই গুরুমুখী। প্রত্যেকেই একক চর্চা করে। মূল পার্থক্য হচ্ছে এখানে সাংগঠনিক চর্চার কারণে আবৃত্তিশিল্পীদের মধ্যে চেতনার জায়গাটি খুব স্পষ্ট। সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আবৃত্তিকর্মীরা ভূমিকা রাখছে এখানে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের আবৃত্তিশিল্পীরা এটাকে পেশাদারি শিল্পে রূপ দিতে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে দুটোরই প্রয়োজন আছে।’
এদিকে ব্যান্ডের গায়ক দীপময় এখন কলকাতায় তরুণ সংগীতশিল্পী হিসেবে বেশ পরিচিত। তিনি সংগীতশিল্পী হয়েও কেন কবিতা কানেকশন-এ যুক্ত আছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘আমার সংগীতজীবন একটি আলাদা স্বত্বা। তারমধ্যেও কবিতা নিয়ে কাজ করি। এখানে প্রতিটা কবিতার সাথে আবহ মিলিয়ে একটি বা আংশিক গান করা হয়। এটি নিয়ে আমরা অনেক চিন্তা ও চর্চা করি। কবিতা কানেকশনে কাজ করি একেবারে অন্তর থেকে। বাংলা, বাংলা গান ও কবিতার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে। আমার মনে হয় আমরা এই কাজটি সঠিকভাবে করতে পারছি।’
বাংলাদেশে কবিতা কানেকশন-এর তৃতীয় সফর এটি। কেমন লাগছে জানতে চাইলে সবাই একযোগে বলে উঠলেন, ‘দারুণ’। পলাশ দাস যোগ করলেন এভাবে, ‘এই বাংলায় এলেই বোঝা যায় বাঙালি একটি আলাদা জাতি। আর এখানকার আতিথেয়তার তুলনা হয় না। বারবার আসতে ইচ্ছা হয়।’
কবিতা কানেকশন-এর একটি প্রযোজনা:

ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তির ৮ বছর সশ্রম কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি: ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্থ্য করে কলারোয়ার এক যুবককে ৮ বছর সশ্রম কারাদন্ড ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের দন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার ওই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামী খায়রুল দফাদার (৪২) কলারোয়া উপজেলার ঝিকরা দক্ষিণপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম দফাদারের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামী খায়রুল দফাদার একই গ্রামের জনৈক গৃহবদূকে প্রায় সময় কু-প্রস্তাব দিত। কিন্তু গৃহবধু তার ওই প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ২০১২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী বেলা ১১ টার দিকে পুকুরে গোসল করতে গেলে ফাঁকা পেয়ে খায়রুল তাকে অসৎ উদ্দেশ্যে জাপটে ধরে এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই ঘটনায় গৃহবধু বাদী হয়ে একই দিনে কলারোয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এস আই হুমায়ুন কবীর তদন্ত শেষে আসামীর বিরুদ্ধে চাজর্শীট দালিল করেন।
আদালত ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও নথী পর্যালোচনা কওে মঙ্গলবার প্রকাশ্য আদালতে উপরোল্লিখিত রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন, বিশেষ পিপি এড. জহুরুল হায়দার বাবু, তিনি সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান

বদিউজ্জমান: বিচার বিভাগে দক্ষতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে সুদূর অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন সাতক্ষীরার মানবতার জজ খ্যাতি পাওয়া জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান। বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি দুই সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণের জন্য তাঁকে মনোনয়ন প্রদান করে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ওয়েসট্রার্ণ ইউনিভার্সিটিতে তিনি এই উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণ গ্রহণ কালে অস্ট্রেলিয়ার আইন ও বিচার ব্যবস্থা বিষয়ে সরাসরি ধারণা প্রদান করা হবে। তিনি ইতোপূর্বে ইউরোপের মাল্টা ও ইংল্যান্ড থেকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিষয়ে এলএলএম ডিগ্রী অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ভারত সিঙ্গাপুর ও পূর্ব তিমুর থেকে বিচার ব্যবস্থাপনার উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, এ মাসের ৯ নভেম্বর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াতে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

‘ক্লিন সাতক্ষীরা গ্রিন সাতক্ষীরা বাস্তবায়নে দুর্নীতিই প্রধান অন্তরায়’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতা উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক: জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘ক্লিন সাতক্ষীরা গ্রিন সাতক্ষীরা বাস্তবায়নে দুর্নীতিই প্রধান অন্তরায়’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে দুর্নীতিমুক্ত ক্লিন সাতক্ষীরা গ্রিন সাতক্ষীরা গড়ার প্রত্যয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় পরিবারের কেউ বা আপজনও যদি দুনীর্তিবাজ থাকে তাদেরকে এড়িয়ে চলতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে প্রতিবন্ধকতা আসবেই কিন্তু সেই প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে এগিয়ে যেতে হবে। সাতক্ষীরা জেলাবাসী অনেক ভাগ্যবান যে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এখানে অবস্থিত। তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্যেশ্যে বলেন, জীবনে ভালো করতে হলে পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। চিত্রাংকন, নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি জানতে হবে। খেলাধুলা করতে হবে, শরীর ও মনকে ভালো রাখতে হবে। পড়াশুনার বাইরে অন্যান্য ভাবনা ভাবতে হবে।
জেলা প্রশাসক মুজিব বর্ষ পালন সম্পর্কে বলেন, এই জেলা থেকে এমন কিছু কর্মসূচি নিয়ে এগুতে চাই যাতে সবাই ভাবে সীমান্তবর্তী ও রাজধানী থেকে দূরবর্তী হলেও চিন্তা, চেতনা, মননে ও মানসিকতায় অনেক এগিয়ে। জাতি হিসেবে দেশকে এগিয়ে নেয়ার অনেক কিছুই আছে এই সাতক্ষীরা জালাতে। এইক্ষেত্রে তিনি সৌম্য সরকার ও মোস্তাফিজুর রহমানের কথা উল্লেখ করেন। নারী ফুটবল দলের অধিনায়কও এই জেলার মেয়ে।
এ সময় এই জেলাতে নারী ফুটবল লীগ চালুরও ঘোষণা দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক ছাত্রছাত্রীদের মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
তিনি ছাত্রছাত্রীদেরকে ফুল হিসেবে উল্লেখ করে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ফুলকে প্রস্ফুটিত করে এর ঘ্রাণ ছড়িতে দিতে বলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে উন্নয়নের এবং মানবিকতার যে রোল মডেল হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান। এই প্রজন্মকে এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে যাতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। আর এর জন্য পড়তে হবে, জানতে হবে।
জেলা প্রশাসক দুর্নীতি সম্পর্কে আরও বলেন, দুর্নীতি শুধু যে উন্নয়নেরই অন্তরায় তা নয়, এটি ভালো উদ্যোগেরও অন্তরায়। রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অনেক অর্জন কিন্তু দুর্নীতি আমাদেরকে পিছিয়ে দিয়েছে।
যে লক্ষ্য নিয়ে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, সেই ঢেউ সারা সাতক্ষীরা জেলাতে ছড়িয়ে পড়বে বলে জেলা প্রশাসক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরে জেলা প্রশাসক ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ‘বিদ্রোহী কবিতা’ আবৃত্তি করেন।

১৫ আগস্টের শোকসভায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি: সেই জঙ্গি জামাত গালিবের পদোন্নতির সুপারিশ!

পত্রদূত রিপোর্ট: সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার আগেই গভর্নিং কমিটির সভা ডেকে ৮ জন শিক্ষকের পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ছফুরননেছা মহিলা কলেজে। ওই সভায় বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তির দায়ে দীর্ঘদিন সাসপেন্ডে থাকা রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার চার্জশীটভুক্ত এক আসামীরও পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির সুপারিশ করা হলেও ওই বিভাগে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩ জন। গত মাসে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও গুরুতর এসব অনিয়ম জায়েজ করা হয়েছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে-এমনই অভিযোগ পদোন্নতি বঞ্চিত একাধিক শিক্ষকের।
সম্প্রতি সাতক্ষীরা সিটি কলেজে শিক্ষক নিয়োগে নানা অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জামাত-শিবিরের কয়েকজন শিক্ষককে এমপিওভুক্তির খবর প্রকাশের পর ঝাউডাঙ্গা কলেজ, ভালুকা চাঁদপুর কলেজ, সাতক্ষীরা দিবা নৈশ কলেজ ও শহরের ছফুরন নেছা মহিলা কলেজে শিক্ষক নিয়োগ এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে একই ধরনের অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ৫টি কলেজেরই সভাপতি সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের ছফুরন নেছা মহিলা কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, বিগত ২০১০ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরা শহরের ছফুরন নেছা মহিলা কলেজে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক মো. আসাদুল্লাহ আল গালিব ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের পক্ষে এবং বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন কটুক্তি করে বক্তব্য দেন। কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ্য সভায় গালিব এ বক্তব্য দিলেও কেউ তার ওই বক্তব্যের জোরালো কোন আপত্তি বা প্রতিবাদ করেনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দৈনিক পত্রদূতে খবর প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়। জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মুনসুর আহমেদ বাদী হয়ে উক্ত গালিবের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে উক্ত মামলায় গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে আসামী গালিবের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। মামলাটি বর্তমানে সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলার কারণে গালিব দীর্ঘদিন সাসপেন্ড ছিলেন। পরবর্তীতে গত ৭-০৪-২০১৮ তারিখে কলেজ গভর্নিং কমিটির সভাপতি মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তার সাসপেন্ডের আদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং সর্বশেষ গত ৬ মার্চ ২০১৯ তারিখে আর একটি সভায় তার পদোন্নতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এদিকে সাতক্ষীরা ছফুরন নেছা মহিলা কলেজের ৮ জন শিক্ষকের পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সেটি গোপন রেখে একই সভায় নতুন ৮ জনের পদোন্নতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পদোন্নতি বঞ্চিত একাধিক শিক্ষক জানান, যাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তাদের একজন জামাতের রোকন। এছাড়া আরও কমপক্ষে ৪জন শিক্ষা জীবনে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। সূত্রটির দাবী, অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের পদোন্নতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে গত ৬ মার্চ ২০১৯ তারিখে সদর এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সভাপতিত্বে ছফুরন নেছা মহিলা কলেজের গভর্নিং কমিটির সভা দেখিয়ে উক্ত ৯ শিক্ষকের পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে ওই সময় এমপি রবি উক্ত কলেজের সভাপতিই ছিলেন না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে গত ৩-১২-২০১৮ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের আদেশক্রমে ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক ড. মো. মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা শহরে অবস্থিত কলেজ হিসেবে ছফুরন নেছা কলেজের সভাপতির দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের উপর অর্পন করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৩-০৩-২০১৯ তারিখে একই ব্যক্তি স্বাক্ষরিত আর একটি চিঠিতে সাতক্ষীরা সদর আসনের এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে উক্ত কলেজের সভাপতি মনোনয়ন দেওয়া হয়। সেই হিসেবে নতুন করে সভাপতি মনোনীত হওয়ার (১৩-০৩-১৯ তারিখ) এক সপ্তাহ পূর্বে ০৬-০৩-১৯ তারিখে তার সভাপতিত্বে কোন বৈধ সভা অনুষ্ঠানের সুযোগ ছিল না।
এদিকে গালিব ছাড়াও যে ৮ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, সেটি নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের অভিযোগ। পদোন্নতিপ্রাপ্তরা হলেন, সামছুন্নাহার, মো. শাহাদাত হোসেন, কৃষ্ণপদ মহলদার, মো. রেজাউল করিম, মো. লতিফ হাসান, ভোলানাথ সরকার, এআরএম সেলিম আকতার ও মল্লিক সাহিদ মোস্তফা।
এরপূর্বে বিগত ০৪-০৯-০৯ তারিখে ছফুরন নেছা মহিলা কলেজের তৎকালীন সভাপতি সাবেক এমপি এমএ জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পদোন্নতি সংক্রান্ত তৎকালীন বিধি অনুযায়ী কৃষ্ণপদ মহলদার, কল্যাণ কুমার ঘোষ, পম্পাবতি মুখার্জী, প্রদীপ কুমার দাশ, মো. লতিফ হাসান, মল্লিক সাহিদ মোস্তফা, মো. রেজাউল করিম এবং সেলিনা সুলতানার পদোন্নতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মো. শাহাদাত হোসেন, ভোলানাথ সরকার, সামছুন্নাহার ও এআরএম সেলিম আকতার আদালতে মামলা করেন এবং মামলার কপিসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় সাবেক এমপি এমএ জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদোন্নতির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল মর্মে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু তারপরও সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় প্রদীপ কুমার দাশ, কল্যাণ কুমার ঘোষ ও সেলিনা সুলতানা হাইকোটে একটি রিট আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রথমে ৬ সপ্তাহ ও পরবর্তীতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। সেই আদেশ বলবৎ থাকা অবস্থায় এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গত ৬ মার্চ ২০১৯ তারিখের সভায় পদোন্নতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এদিকে গভর্নিং কমিটির উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রদীপ কুমার দাশ, কল্যাণ কুমার ঘোষ ও সেলিনা সুলতানা উপ-পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলে সম্প্রতি একটি আবেদনে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।
এদিকে বিভিন্ন অফিসে আবেদন-নিবেদন মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে প্রতিকার চাইলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাথে দৈনিক পত্রদূতের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তারা কাগজপত্র দিয়ে সহায়তা করলেও কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক জানান, মামলা তুলে নেওয়া এবং নতুন করে এ ব্যাপারে আর কোন পদক্ষেপ নিলে তাদের হাত-পা ভেঙে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ সম্পর্কে ছফুরননেছা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফুন্নাহার বলেন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক আসাদুল্লাহ গালিব পদোন্নতি পাননি। ২০১০ সালের ১৫ আগস্ট শোকসভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কটুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ‘নেটওয়ার্কের সমস্যা কিছু শুনতে পাচ্ছি না’ বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করলেও ‘হ্যালো-হ্যালো-হ্যালো’ বলে বারবার ফোন কেটে দেন।
জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পদোন্নতির বিষয়ে আমরা কিছু জানতে পারি না। ম্যানেজিং কমিটি পদোন্নতি দিয়ে থাকে। আমাদের জানানো হয়না এবং কখনো ডাকে না। তিনি আরও বলেন, ম্যানেজিং কমিটি রেজুলেশন করে শিক্ষকদের প্রমোশন দেয়। প্রমোশন পাওয়ার পর শিক্ষকরা বেতন ভাতা পাওয়ার জন্য আমাদের কাছে আবেদন করেন, তখন আমরা জানতে পারি। আমরা তখন ম্যানেজিং কমিটির স্বাক্ষর ঠিক থাকলে অগ্রায়ন করি। তখন আমাদের কোন মন্তব্য লাগে না। প্রমোশনের সময় আমাদের কখনো ডাকেও না। পদোন্নতির বেতন নেওয়ার সময় কলেজ অধ্যক্ষকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে লগ ইন করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সকল তথ্য সাবমিট করে ওই অনুযায়ী বেতন দাবী করে উপজেলা সার্ভারে দেয়। তখন উপজেলা অফিস যাচাই বাছাই করে জেলা সার্ভারে দেয়। এরপর আমরা যাচাই বাছাই করে অঞ্চলের সার্ভারে দিয়ে থাকি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক আগে থেকেই বেতনধারী থাকেন সেজন্য আমরা যাচাই বাছাই করে ছেড়ে দেয়। এর বেশি আমাদের দায়িত্ব থাকে না।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ছফুরন্নেছা কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি একটি জাতীয় অনলাইন দৈনিকের প্রতিনিধিকে বলেন, ছফুরননেছা মহিলা কলেজের ৮ শিক্ষকের পদোন্নতির বিষয়ে আমি বলতে পারছি না। আমি এখন একটি মিটিংয়ে আছি।
প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আপনারা প্রিন্সিপালের কাছে জিজ্ঞাসা করেন না কেন? সভাপতি পদে এমপিদের রাখে। আমি বা আমরা কারো পদোন্নতি দেই না। পদোন্নতি দেয় বোর্ড। এসব বিষয়ে প্রথমে জেলা শিক্ষা অফিস, পরে যায় রিজিওনাল অফিস, তারপরে যায় ঢাকা। তারা দেখে শুনে বুঝে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেয়। আমাদের সুপারিশে নয়, তার (আসাদুল্লাহ গালিবের) হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং ডিজি অফিসের নির্দেশনা তার পদোন্নতি হয়েছে। শিক্ষক আসাদুল্লাহ গালিবের বিরুদ্ধে মামলা চলামান আছে কিনা জানা নেই। তবে তাকে পয়সা দেওয়ার জন্য বলে দিয়েছে। তিন মাসের বেশি কারো বেতন বন্ধ রাখা যাবে না। গালিবের পক্ষে সুপারিশের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এমপিরা অনেক জিনিস দেখতে পারে না।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের আসাদুল্লাহ গালিবের জামাতের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সত্য নয়। জামাতের সংগঠনই নেই, সে কিভাবে জামাতের রোকন হবে। তিনি আরও বলেন, আমি এখন ব্যস্ত আছি আর কথা বলতে পারছি না।

কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ৬ নভেম্বর বুধবার জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভা

আগামী ৬ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার সকাল ১০টায় তুফান কনভেনশন সেন্টার লেকভিউতে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত বর্ধিতসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক সফল স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা: আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি। প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাননীয় হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি।

বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন। সভাপতিত্ব করবেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি মুনসুর আহমেদ। সংশ্লিষ্ট সকলকে উক্ত বর্ধিতসভায় উপস্থিত থাকার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কাশিমাড়ী ভূমি অফিসে বিভিন্ন অনিয়ম ও সমস্যা নিষ্পত্তির লক্ষে গণশুনানি অনুষ্ঠিত

কাশিমাড়ী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে গণশুনানি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যাগে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী জমির মালিক, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ হাসান খান উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগী জমির মালিকদের কাছ থেকে নানা অনিয়মের কথা শোনেন।
এ সময় ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান দুখী, মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী পিয়াদা, মাস্টার দেলোয়ার হোসেন, মাস্টার মাওলানা মোস্তফা নুর হোসেন, শামসুর ঢালী, ডাঃ মোস্তফা মাহমুদ, সানাউল্লাহ সরদার, শংকরকাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ, ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী নুরুল হক বাচ্চু, মজিবর মোল্যা, গাজী জগলুল হায়দার, ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম, সিদ্দিক ঢালী, লাইলী বেগম, রশিদ গাজীসহ এলাকাবাসী এবং কাশিমাড়ী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খন্দকার আশরাফ হোসেন ও পিয়ন আইয়ুব আলী উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন কাশিমাড়ী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খন্দকার আশরাফ হোসেন ও পিয়ন আইয়ুব আলীসহ ভূমি অফিসে নিয়মিত যাতায়াতকারী ভূমি দালালদের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে অবৈধভাবে বিভিন্ন সেবার নামে ঘুষ গ্রহণসহ অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।
এ নিয়ে গত ১ আগস্ট দৈনিক পত্রদূত এ ‘কাশিমাড়ী ভূমি অফিসে ঘুষের হাট’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজর আসে।
এরই পেক্ষিতে বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগের ফলে ভূমি অফিসে গণশুনানির আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।

নয়াদিল্লিতে হাজার হাজার পুলিশ সদস্যের বিক্ষোভ, থমথমে পরিস্থিতি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির হাজার হাজার পুলিশ সদস্য বিক্ষোভ শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে নয়াদিল্লির পুলিশের সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভ করছেন তারা।

রাজধানীতে পুলিশ সদস্যদের এই বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছে সারা দেশের পুলিশ কর্মকর্তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, গত শনিবার দিল্লি সাকেত জেলা আদালতে এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে একদল আইনজীবীর সংঘর্ষের পর তিস হাজারিতে পুলিশ-আইনজীবী সংঘর্ষ বাঁধে।

এ ঘটনায় কমপক্ষে ২০ পুলিশ সদস্য ও বেশ কয়েকজন আইনজীবী আহত হয়েছেন এবং বহু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে আইনজীবীদের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সদর দফতরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেছেন পুলিশ সদস্যরা। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যরা এসময় কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

একই ঘটনায় সোমবার আইনজীবীরাও ধর্মঘট পালন করেছিল। আইনজীবী ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়ে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন চেয়েছে।

রোববার দিল্লি হাইকোর্ট একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই), গোয়েন্দা ব্যুরো এবং ভিজিলেন্সের পরিচালকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল দ্বারা এই সহিংসতার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভরত পুলিশ সদস্যদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস)। টুইটারে দেয়া এক বার্তায় বলা হয়, সারা দেশের পুলিশ কর্মকর্তারা দিল্লির বিক্ষোভরত পুলিশ সদস্যদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।

ইয়ং টাইগার্স অ-১৮ জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপে কুষ্টিয়া জেলা ৬ উইকেটে জয়ী

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে এবং সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে আজ ৫ নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯টায় ইয়ং টাইগার্স অ-১৮ জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপ’২০১৯-২০ এর দক্ষিণ অঞ্চলের ‘বি’ ভেন্যুর ৫ম খেলা কুষ্টিয়া জেলা বনাম ভোলা জেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় ভোলা জেলা টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৩৯.২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান করে। জবাবে কুষ্টিয়া জেলা ৩১.৪ ওভারে ৪টি উইকেট হারিয়ে ৭৮ রান করে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে যায়। ফলে কুষ্টিয়া জেলা ৬ উইকেটে জয়লাভ করে। আগামী ৬ নভেম্বর,২০১৯ ঝিনাইদহ জেলা বনাম চুয়াডাঙ্গা জেলার মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ইসলাম মানে শান্তি: মুসলমানদের কেন অশান্তি!

সরদার এম.এ মজিদ:
ইসলাম মানে শান্তি, কিন্তু বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কেন অশান্তি? শান্তি মূলত অশান্তি দূর করার নাম। সেই অশান্তির কারণে মুসলমানরা আজ নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, ঘৃর্ণিত, অপমানিত। বর্তমান বিশ্বের মুসলমানরা অমুসলিমদের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে যেমন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তেমনি নিজেদের সেই ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা বেমালুম ভূলে গেছে। মাত্র ১৪ শত বছরের ব্যবধানে দ্বীনের ধারক বাহক এদের মতভেদ ও মতবিরোধ এর কারণে সঠিক পথ ও মতের দিক নির্দেশনা না থাকায় দাওয়াতের কাজে নিস্প্রভ হয়ে পড়েছে। সর্বকালের বিশ্বজয়ী মুসলমান জাতির ইমান আমলের দূর্বলতা, কর্মে বিমুখিতা, জ্ঞানের স্বল্পতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক কলঙ্কময় ইতিহাস রচনা করে চলেছে। মুসলমানরা ভূলে গেছে নিজেদের সোনালী ইতিহাস, হারিয়ে ফেলেছে গৌরবময় ঐতিহ্য, খুয়ে ফেলেছে আকাশ ছোয়া হিম্মত, দৃঢ় চেতামন ও সতেজ ইমান। হতাশা আত্মবিস্মৃতি আজ পুরা জাতিকে অবশ করে দিয়েছে। ইসলাম এসেছে তো মানব জাতির কল্যাণের জন্য ও হেদায়েতের জন্য। মুসলমানদের মূল ধর্মগ্রন্থ হলো আল-কোরান। কোরান এসেছে বিশ্ব মানবজাতির পথ প্রদর্শক হিসেবে, মানুষের কল্যাণের জন্য ও হেদায়েতের জন্য। যাহারা ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন এবং এক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে তাহারা মুসলমান। আর যাহারা ইসলাম গ্রহণ করে নাই তাহারা অমুসলিম। অমুসলিমদের জান, মাল, ইজ্জত, আব্রুসহ সকল প্রকার নিরাপত্তার বিধান তো ইসলাম দিয়েছে। ইসলামে কোন সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতিবাদ, সুদ, ঘুষ, জেনা-ব্যাভিচার, খুন, জখম, অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন, বেহায়াপনা, অপসংস্কৃতিসহ সকল প্রকার নেশার দ্রব্য খাওয়া বা পান করা ইসলামে স্বীকৃতি দেয়নি। তাহলে বর্তমান বিশ্বে কেন মুসলমানরা আজ মার খাচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে, ঘৃণিত ও অপমানিত হচ্ছে। তাহলে আমরা কি শুধু মানুষ? আমাদের কি কোন হুস জ্ঞান নাই? ইসলাম ও মুসলমানদের যে আদর্শ থাকার কথা সেগুলি কি শুধু কোরান-হাদিসে সীমাবদ্ধ। বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের আল্লাহর ভয় বলতে কিছুই নাই। যদি থাকত তাহলে পেপার পত্রিকায় অনৈতিক কার্যকলাপ প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হতো না, যাহা জাহিল্যাতের যুগকে হার মানিয়েছে। আল্লাহ পাক কোরানে বলেছেন “তোমরা পরিপূর্নভাবে ইসলামে দাখিল হও”। তাহলে আমরা কি পরিপূর্ণভাবে ইসলামে দাখিল হতে পেরেছি? কোরানুল কারিমে তিনি আরও বলেছেন “হে ইমানদারগণ তোমার আল্লাহকে ভয় করো এবং মুসলমান না হয়ে কবরে এসো না”। আমরা তো মুসলমান আছি, আমাদের পূর্বপুরুষরা মুসলমান ছিল তাহলে আল্লাহ পাক কেনো বলেছেন তোমরা মুসলমান না হয়ে কবরে এসো না? মুসলমান হতে গেলে উত্তম আদর্শ, নীতি-নৈতিকতা, সৎ-চরিত্রবান; আমার জবানের দ্বারা, চলাফরা, কাজকর্ম, আচার ব্যবহার, লেনদেন এর দ্বারা অন্য কোন মানুষ যেন কষ্ট না পায় সেই ব্যক্তি হলো মুসলমান। তাহলে আমরা পারতেছি না পূর্ণাঙ্গ ইসলাম মানতে আর না পারছি পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হতে। এই প্রসঙ্গে আমি একটি উদাহরণ না দিয়ে পারছি না- পাঠক কুলের কাছে শুধুমাত্র বোঝানোর জন্য বলা হলো। মনে করেন ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ মানুষ আর তার অঙ্গ প্রতঙ্গ গুলি হলো মুসলমান। একটি মানুষের যদি কোন অঙ্গ প্রতঙ্গে ত্রুটি হয় তাহলে সেই মানুষটিকে প্রতিবন্ধী বলা হয়। তাহলে ইসলাম কি আজ প্রতিবন্ধী? একজন প্রতিবন্ধী মানুষ তো নিজের ইচ্ছা খুশি মত নড়াচড়া বা চলাফেরা করতে পারেনা। সেই হিসেবে ইসলাম মনে হয় প্রতিবন্ধী ও বাকশক্তি রহিত হয়ে গেছে। কারণ তার নড়াচড়ারও কোন ক্ষমতা নাই। অন্যদের চক্রান্তে আজ মুসলমানরা দিশেহারা-এরা খুব লোভী জাতি, স্বার্থের মোহে পড়ে যে যাকে যেভাবে বোঝাচ্ছে সে সেই কায়দায় বুঝে ইসলামের নিয়মনীতি আংশিক মানছে আর আংশিক মানছে না। যখন আংশিক মানছি তখনই আমরাও প্রতিবন্ধী। ইসলাম ও মুসলমানদের অবস্থা বর্তমানে প্রতিবন্ধীর মত। আর সেই কারণে বিশ্বের মুসলমানরা আজ নির্যাতিত এবং তাদের জঘন্য কর্মকান্ডের কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো যেমন ফিলিস্তিনে মার খাচ্ছে কারা- মুসলমানরা, ইসরাইলে মারা খাচ্ছে কারা- মুসলমানরা, ইরাকে মার খাচ্ছে কারা- মুসলমানরা, আফগানিস্থানে মার খাচ্ছে কারা- মুসলমানরা, মায়ানমারে মার খাচ্ছে কারা- মুসলমানরা, আল কায়দা কারা- মুসলমানরা, তালেবান কারা- মুসলমানরা, জেএমবি কারা- মুসলমানরা, ইসলামী নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতৃত্ব দেই কারা- মুসলমানরা, সন্ত্রাসী কারা- মুসলমানরা, জঙ্গিবাদ কারা-মুসলমানরা, দূর্নীতি করছে কারা-মুসলমানরা, খুন করছে কারা- মুসলমানরা, জেল খাটছে কারা- মুসলমানরা, ধর্ষণ করছে কারা-মুসলমানরা, ফাঁসির কাষ্টে কারা- মুসলমানরা, ডাকাতি করছে কারা- মুসলমানরা, চুরি করছে কারা- মুসলমানরা, ছিনতার করছে কারা- মুসলমানরা, ভিক্ষা করছে কারা- মুসলমানরা, আর কত বলব বা লিখব, লিখতে গেলেও লজ্জাবোধ হচ্ছে। এই যদি হয় ইসলাম ও মুসলমানদের অবস্থা তাহলে আমি নি:সন্দেহে বলতে পারি ইসলাম ও মুসলমানরা বর্তমানে বাক প্রতিবন্ধী। ইসলাম যখন পৃথিবীতে এসেছিল তখন কতজন মুসলমান ছিল। আর এখন কতজন মুসলমান? উত্তম আখলাক, সৎ চরিত্রবান ও নীতি নৈতিকতার আদর্শ আজ ভূলুণ্ঠিত। বেইমান ও মুনাফেকের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে চলে এসেছে যে ইসলাম ও মুসলমানদের সংখ্যা খুবই নগন্য। বর্তমান বিশ্বের মুসলমানরা তো সেই গৌরবমন্ডিত ইতিহাস ভূলে গেছে বললেই চলে। হতাশা ও হীনমন্যতা মুসলিম জাতি স্বত্তাকে গ্রাস করে নিয়েছে। ফলে নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছে এবং ইসলামের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে যা মুসলমানদেরকে বিরাজমান বিপর্যস্ত পরিস্থিতিহৃত ঐতিহ্য পূনরুদ্ধারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে দাওয়াতের মাধ্যমে। যেমন মৌমাছি ফুলের নির্যাস টুকু আহরণ করায় সেইটুকু যেমন দামী, তেমনি আমরাও যদি কোরআন হাদিসের ঐ টুকু জ্ঞান অন্বেশ্বন করতাম তাহলে আমরাও ঐ রকম দামী হতে পারতাম। এহেন পরিস্থিতিতে মুসলমানদের উচিত একমাত্র পথ ইসলামের পূর্নাঙ্গ আদর্শ মেনে চলা ও মুসলমানদের নীতি নৈতিকতার বিকাশ ঘটানো। মুসলমানদের জাতীয়তাবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ এর অটুট বন্ধনে এক্যবদ্ধ হতে পারলে এবং সকল প্রকার অনৈতিক কার্যকলাপ ও অপকর্মের পরিসমাপ্তি ঘটাইতে পারলে, দেশ ও জাতিকে গ্লানিমুক্ত করে পূর্নাঙ্গ ইসলাম ও আদর্শবান মুসলমান হতে পারলে বিশ্বের দরবারে মুসলমানরা পূনর্জীবিত ভাবে মাথা উচু করে দাড়াতে পারবে ইনশাল্লাহ।
বাস্তববাদী লেখক ও গবেষক: সরদার এম.এ মজিদ, পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা, মোবাইল নং- ০১৭২৩৯১২৭৪১
তারিখ: ০৫.১১.২০১৯ খ্রি:।

জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম. আর. খানের স্মরণসভা ও মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম. আর. খানের স্মরণসভা ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা-২০১৯ এর উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে উক্ত স্মরণসভা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বদিউজ্জামান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম, পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মীর্জা সালাহ উদ্দীন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, বি.এম.এ সাতক্ষীরার সভাপতি ডা. আজিজুর রহমান, শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ। মেডিকেল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, তৌফিকা রহমান নেহা ও শেখ গালিবুর রহমান।
বক্তারা জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম. আর. খানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সবাইকে মানবতার সেবায় ব্রত রেখে তার আদর্শ অনুসরণের আহবান জানিয়ে বলেন, ডা. এম.আর খান এঁর মত জীবন্ত কিংবদন্তী ডাক্তার হতে পারলেই তোমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।
মেডিকেলে উত্তীর্ণ সাতক্ষীরার ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে এ সময় ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা ও সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী।

আয়েনউদ্দীন মাদ্রাসার উদ্যোগে প্রসপেক্টাস বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা আয়েনউদ্দীন মহিলা আলিম মাদ্রাসার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসপেক্টাস বিতরণ করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টার দিকে ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন কালু উপস্থিত থেকে প্রসপেক্টাস বিতরণ করেন। এসময় স্থানীয় গর্ণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো: রুহুল আমিন বলেন, নারী শিক্ষা বিস্তারে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সুবিন্যস্ত ও সুপরিকল্পিত শিক্ষা কর্মসূচী নিয়ে আয়েনউদ্দীন মহিলা আলিম মাদ্রাসার যাত্রা শুরু করেছে।
শিক্ষার্থীদের একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার যোগ্য সৈনিক বিজ্ঞান মনস্ক, দেশপ্রেমিক, সুনাগরিক ও দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধনের জন্য মননশীল ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জাতি বিনির্মাণে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিনিময়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পরম সন্তুষ্টিও পরকালের জবাবদিহিতা ও মুক্তিলাভের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি, সহীহ কুরআন তেলাওয়াত শিক্ষার ব্যবস্থার পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার অপূর্ব সমন্বয়, বিভিন্ন ক্যাডেট মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সমন্বয় সাধন, শিশুদেরকে সহজ-সরল উপায়ে বিনোদনের মাধ্যমে পাঠদানসহ অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে পাঠ দান করে থাকে।