সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর মাঝে টান টান উত্তেজনা: কালিগঞ্জে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আজ


প্রকাশিত : নভেম্বর ৬, ২০১৯ ||

নিয়াজ কওছার তুহিন: প্রায় ৫ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এই সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠনটির নেতৃত্বে আসছেন কারা তা জানার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন স্থানীয় সূধী সমাজ।
সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্যসচিব ও ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সজল মুখার্জী জানান, উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭ নভেম্বর উপজেলা সদরে অবস্থিত শহীদ সোহরাওয়ার্দী পার্কে সম্মেলনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলন উপলক্ষে ৬ নভেম্বর (বুধবার) কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সাতক্ষীরার তুফান কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত দলের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মুনসুর আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ্ব নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সফল স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ডা: আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন। সভায় কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন তদারকি কমিটির দলনেতা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ জাফরুল আলম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তিনি আরও জানান, কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলের তালিকা নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে আলোচনার ভিত্তিতে তালিকা আংশিক সংশোধন করে কাউন্সিল অধিবেশনের জন্য ৩৮৭ জন কাউন্সিলরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও ১০৮ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ৩৭২ জন। এর বাইরে কো-অপ্ট করা হয়েছে ১৫ জনকে। বৃহস্পতিবার সকালে অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষে যারা প্রার্থী হতে চান তারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে পারবেন। এর সমঝোতার ভিত্তিতে অথবা গোপন ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে সভাপতি পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক ও তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য প্রবীন নেতা মাস্টার নরিম আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শেখ মোজাহার হোসেন কান্টু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডিএম সিরাজুল ইসলাম, ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্যসচিব সজল মুখার্জী, আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সভাপতি ও যুদ্ধকালীন কমান্ডার প্রয়াত শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ আবুল কাশেম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে প্রাথমিক ভাবে আভাস পাওয়া গেছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আর কেউ প্রার্থী হবেন কী না তা দলটির কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কারণে সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী ও দলটির সদস্য শেখ মেহেদী হাসান সুমন আজ অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতি বা সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে পারছেন না বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ওই সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের কান্ডারী বর্ষিয়ান জননেতা যুদ্ধকালীন কমান্ডার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহেদুজ্জামান। আর কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সাঈদ মেহেদী। সাড়ে ৪ বছরেরও অধিক সময়ে নানা গ্রুপিং এর কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওয়াহেদুজ্জামান মৃত্যুবরণ করেন। আর এর মধ্যে দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে একমাত্র ব্যক্তিতে পরিণত হন সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী।