নদী-খাল রক্ষার আহ্বানে বিশ্ব নদী দিবস পালন


প্রকাশিত : নভেম্বর ৬, ২০১৯ ||

জাহিদা জাহান মৌ: নদী জীবন্ত সত্তা, নদী বাঁচলে বাঁচবে মানুষ, বাঁচবে দেশ-এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ব নদী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলার নদ-নদী, খাল-বিল রক্ষার্থে করণীয় শীর্ষক এ আলোচনা সভা বুধবার সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বদিউজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকতা, জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি আনিসুর রহিম, পানি কমিটির এবিএম শফিউল ইসলাম, প্রথমআলো স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জী, এটিএন বাংলা’র সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম কামরুজ্জামান, জেএসডি নেতা সুধাংশু শেখর সরকারসহ অন্যরা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বদিউজ্জামান বলেন, সমস্যা যে কোথায় সেটা সবাই জানি, সমস্যার জন্য যারা বেশি দায়ী তাদেরকে প্রেসারক্রিয়েট করতে হবে। আইন অনুযায়ী মাটি ভরাট জলাবদ্ধতা বন্ধ থাকবে। এক বছরের চুক্তি দেওয়া হবে। একসনা আইন যেকোন সময় বাতিল করতে পারবেন। অবৈধভাবে যে আছে তাকে প্রেসারক্রিয়েট করতে হবে। প্রাণ সায়রের খালের এখন যে অবস্থা সেটা আগের চেয়ে ভালো। ইটভাটা শহরের ৩ কি. মি এর মধ্যে করা যাবে না। পলি মাটি যদি ইটভাটার মালিকরা নিতে চাইলে তা নদী খননের মাধ্যমে নিতে হবে। সুন্দর স্বচ্ছ সাতক্ষীরা যেনো করে যেতে পারি সে প্রত্যাশায় কার্যকর নীতিমালা করতে হবে।
নাগরিক কমিটির সভাপতি আনিসুর রহিম বলেন, জলপথ এখন আর নেই। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন সকল খাস জমি ভূমিহীনদের মাঝে দিতে হবে। আজকে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও কি সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৭ অক্টোবরের মধ্যে নেট-পাটা অপসরণ করার কথা বললেও ও তা অপসারণ হয়নি। সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সাধারণ জনগণকে নিয়ে কাজ করলে সফলতা নিশ্চয় আসতো। সাতক্ষীরার যেটুকু জলপথ আছে, সেটুকু বাঁচিয়ে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। না পারার দায় সকলের।
পানি কমিটি এবিএম শফিউল ইসলাম বলেন, এ সমস্যা শুধু সাতক্ষীরার নয়, বাংলাদেশের সব জেলাতেই। ১৯৬০ সালে যে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, সে বাঁধ দেওয়ার কারণে আজ এ অবস্থা। পলি জমে পলির অবিচ্ছেদ্য অংশ জলাভূমিতে আসায় সাতকক্ষীরা সদরের ৬ টি এলাকা এখনো পানির নিচে তলিয়ে। বাংলাদেশের জেলা শুধু সুন্দরবনের কারণে টিকে আছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকতা বলেন, কপোতাক্ষ বেতনা নদীতে কোন জোয়ার আসেনা। জলবায়ু পরিবর্তনের একটা কারণ, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ১কিমি বেড়ে যেতে পারে। ১.৪ সিল্ট আসে প্রতিবছর ভারত থেকে। নদীগুলো জীবিত হলে অটোমেটিক সব দখলদার নিরবচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সাতক্ষীরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। নদীগুলোকে কীভাবে বাঁচানো যায় সে উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রথমআলো স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জী বলেন, সাতক্ষীরার অধিকাংশ নদী দখল এবং ভরাট হয়ে গেছে। যে উদ্যোগ নেওয়া হয় তা কার্যকর করা হয়না। তবে সাধুবাদ জানাই, যে জেলা প্রশাসক এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। শ্যামনাগরে যমুনা নদীর উপরে এমন কোন জায়গা নেই, যেখানে দখল হয়নি। নেট-পাটা আছে এখনো। ৮৪% নেট পাটা উচ্ছেদের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা নয়। ফিংড়িতে যেয়ে দেখা গেছে সরানোর পর আবার দেওয়া হয়েছে। মরিচ্চাপ নদী খনন কোথাও ১৫০, ২০০ বা মাত্র ৫০ ফিট খনন হয়েছে।
প্রাণ সায়রের খাল খননেরর কথা বলা হয়েছে, তবে যদি সিএস রেকর্ড অনুযায়ী না হয় খুব বেশি কার্যকর হবে না। আবার নর্দমায় পরিণত হবে। তাই সঠিকভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এটিএন বাংলা’র সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম কামরুজ্জামান বলেন, দেখেছি নেটপাটা এখনো বিদ্যামান। ৩০টি গ্রামে ১৩টি বিলে, ৮টি স্থানীয় পত্রিকা এবং প্রথমআলোসহ সমকালে নিউজ হলে ও কোন কার্যকর হয়নি, ২০১৩ সালের হামলার দায় এড়াচ্ছে, পুরা খালের মাঝখন দিয়ে বেড়িবাঁধ দিয়ে মাছ চাষ হচ্ছে, কপোতাক্ষ, মরিচ্চাপে, পদক্ষেপ যদি যথাযথ না নেওয়া তবে আমদের ডুবিয়ে মারার অবস্থা, রান্না খাওয়ার অসুবিধা, একজন মানুষ মারা গেলেও কবর দেওয়ার উপায় থাকে না। এইসব বিষয়গুলো ভেবে দেখেই পদক্ষেপ নিতে হবে, এ ব্যাপারে মিডিয়া সহযোগিতা করবে।
সুধাংশু শেখর সরকার বলেন, খাল কেটে নদীর মাটি সরিয়ে উপরে রাখা হলে তা বর্ষায় ধুয়ে আবার নদীতে পড়ছে। ১৯৬২ সালের রের্কড অনুযায়ী খাল কাটতে হবে। উপর মহলের টেলিফোনের জন্য যেন কাজের ব্যহত না হয়। যদি হয় তাহলে এটা সাতকক্ষীরার জন্য অভিশাপ।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর আব্দুল হামিদ বলেন, নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ করা হচ্ছে। বেতনা নদীতে জেগে ওঠা চর দখল বেতনা নদীর পাড়ে তারাপদ বৈদ্যের দ্বারা বেআইনিভাবে চর দখল করে ঘর নির্মাণ করেছে। বিশ্ব নদী দিবস ২০১৯, জলরন্যর জন্য জলপথ। সিএস রিপোর্ট ধরে নদী ও খাল রক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাধব চন্দ্র দত্ত।