আশাশুনির পল্লীতে চার সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের অভিযোগ: মামলা


প্রকাশিত : নভেম্বর ৬, ২০১৯ ||

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির পল্লীতে চার সন্তানের জননী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ধর্ষণের শিকার গৃহবধু (৪০) বাদি হয়ে আশাশুনি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে গৃহবধুর মৎস্য ঘেরের বাসায়। থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নাসিমাবাদ গ্রামের গৃহবধু পার্শ্ববর্তী গহর ফকিরের দোকানে বাকীতে মালামাল ক্রয় করত। আনুমানিক এক মাস পূর্বে গহর ফকিরের তিন পুত্র শহিদ, ছায়দুল ও সাইদ পাওনা টাকা নিয়ে গৃহবধুর স্বামীর সাথে কথাকাকাটির এক পর্যায়ে মারপিট করে হাত ভেঙে দেয়। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানায় মামলা হলে একজন আসামী বাদে বাকি আসামীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে মামলার বাদি গৃহবধুকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিল। গত সোমবার রাতে স্বামী বাড়িতে না থাকায় প্রতিদিনের মত গৃহবধু পার্শ্ববর্তী নিজ মৎস্যঘেরের বাসায় অবস্থান করে। ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে ঘেরের বাসার দরজায় ধাক্কা দিলে খালেদার ঘুম ভেঙ্গে যায়। কে জানতে চাইলে, পূর্বের মামলার আসামী শহিদ বলে, ‘তোকে মামলা তুলে নিতে বলেছি, তুই যখন মামলা তুলবিনা, আজ তোর জীবনের সব আশা মিটিয়ে দেব’। বলা মাত্র বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শহিদ ও অজ্ঞাতনামা আসামীরা তাকে জাপটে ধরে মুখ বেঁধে পরনে থাকা জামাকাপড় ছিড়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে রক্তাত্ব জখম করে। তার ডাক চিৎকারে পার্শ্ববর্তী তার বোন ঘটনাস্থলে পৌছে তাকে রক্তাত্ব অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরদিন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে একজনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে আশাশুনি থানায় ৭(১১)১৯ নং মামলা করা হয়েছে। থানা অফিসার ইনচার্জ আবদুস সালাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ পেয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার খালেদাকে ডাক্তারি পরিক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।