ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এবার মানহানির মামলা!


প্রকাশিত : নভেম্বর ৭, ২০১৯ ||

অনলাইন ডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন মার্কিন লেখিকা ই জিন ক্যারল।

গত সোমবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলার অভিযোগে ক্যারল বলেছেন, দুই দশক আগে নিউইয়র্ক শহরের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ওপরে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতন করেছিল বলে দাবি করায় ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত একটি স্মৃতিচারণ বইয়ে ক্যারল প্রথমবারের মত তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। এরপর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেণ তিনি।

মামলার অভিযোগে তিনি জানান, ১৯৯৫ এর শেষ দিকে বা ১৯৯৬ এর শুরুর দিকে বার্গডফ গুডম্যানের তৎকালীন রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানে সাক্ষাতের পর তারা একসঙ্গে গল্প করেন ও কেনাকাটা করেন। সেখানেই স্টোরের সাজঘরে তাকে ধর্ষণ করেন ট্রাম্প। এ ঘটনার কিছু পরই ক্যারল তাকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

তবে ক্যারলের করা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ক্যারল এসব কথা বলে তার বইয়ের প্রচারের চেস্টা করছে।

এদিকে সোমবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা নতুন মানহানীর মামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউজ।

ক্যারল অনির্ধারিত ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক দাবি জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি সেসকল নারীর পক্ষ থেকে এই মামলাটি করছি যাদের লাঞ্চিত করা হয়েছে, উপহাস করা হয়েছে, বেআইনী কথা বলা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সহ দেশের কোনো ব্যক্তিরই আইনের উর্দ্ধে হওয়া উচিত নয়।’

২০২০ সালের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প বেশ কয়েকটি আইনী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন। যার মধ্যে ক্যাপিটল হিলের অভিশংসন তদন্ত সহ তার ব্যবসা ও আর্থিক লক্ষ্যবস্তু মামলা রয়েছে। ক্যারল তার মামলাটি নিউইয়র্ক স্টেট কোর্টে দায়ের করেছেন। সেখানে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরেকটি মানহানির মামলা চলছে।

ট্রাম্পের টিভি রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপেন্টিস’-এর এক প্রাক্তন প্রতিযোগী সামার জেরভোস অভিযোগ করেছেন যে, ২০০৭ সালে ট্রাম্প তাকে বিনা অনুমতিতে চুম্বন করেছিলো।

২০১৬ সালের নির্বাচনের এক সপ্তাহ পূর্বে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করা নারীদের মধ্যে জেরভোস একজন।

গত বছর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরেকটি মানহানির মামলা করা হয়েছিলো যেটি অবশ্য শেষ পর্যন্ত টিকেনি। অ্যাডাল্ট ফিল্ম স্টার স্টর্মি ড্যানিয়েলস ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সেই মামলাটি করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের এক ফেডারেল বিচারক মামলাটি গত অক্টোবরে বাতিল করে দেন। তিনি ড্যানিয়েলসকে জরিমানা প্রদানেরও নির্দেশ দেন।

এদিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মামলায় ক্যারলের বিবৃতি ছিল, ‘ট্রাম্প তাকে নৃশংশভাবে ধর্ষণ করেছিল।’

৭৫ বছর বয়সী ক্যারল তার বইয়ের উদ্ধৃতাংশের লেখা কথাটিই তার করা মামলায়ও বলেন। তিনি বলেন, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ঘটনাটি তিনি তার ঘনিষ্ঠ দু’জন বন্ধুকে জানিয়েছিলেন। তবে তিনি নিজের খ্যাতির কথা ভেবে ঘটনাটি কাউকে না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ক্যারল বলেন, নির্বাচনের পূর্বে তিনি এ ঘটনা সবার সামনে নিয়ে আসার ব্যাপারে চিন্তা করেন। ২০১৭ সালের #মি টু আন্দোলন তাকে সামনে এসে কথা বলতে বাধ্য করে। যৌন নির্যাতিত হওয়া বা হয়রানির শিকার হওয়া অনেক নারীরা এই আন্দোলনে নিজেদের কথা প্রকাশ করেছেন।

গত জুনে ওয়াশিংটন পোস্টসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ক্যারল তার কাহিনী বলার পর ট্রাম্প তাকে কটুক্তি করেন। তিনি বলেন, ‘এটা তাদের জন্য লজ্জাজনক যারা একটি বই বিক্রি করার জন্য এ ধরনের রাজনৈতিক এজেন্ডা চালানোর চেষ্টা করে ও লাঞ্চিত হওয়ার মিথ্যা গল্প তৈরী করে। এটি একটি অসম্মানজনক ব্যাপার। এসব মিথ্যাচার করা লোকদের খুব বেশি মূল্য দিতে হবে।’

ট্রাম্প বলেছেন, ক্যারোল যে অভিযোগ করছে সেটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং সে ‘আমার টাইপ’ নয়। এছাড়া অভিযোগকারীর সঙ্গে তার কখনো দেখাই হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

তবে গত জুনে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ক্যারলের ‘হোয়াট ডু উই নিড ম্যান ফর’ বইয়ের এক অংশে একটি ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেখানে তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা যায়। সেটি ১৯৯৭ সালের একটি এনবিসি পার্টি ছিল।