সিপাহী-জনতার অভ্যূত্থান দিবসে জাসদের আলোচনা সভা


প্রকাশিত : নভেম্বর ৭, ২০১৯ ||

৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যূত্থান দিবসে জেলায় জাসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় মুনজিতপুরস্থ জেলা জাসদের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা জাসদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী রিয়াজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক শেখ ওবায়েদুস সুলতান বাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ কামাল, জেলা জাসদের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আমির হোসেন খান চৌধুরী, তালা উপজেলা জাসদের সভাপতি বিশ^াস আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আবদুর রাজ্জাক, আশাশুনি উপজেলা জাসদের আহবায়ক সুরাত উজ্জামান, জেলা যুব জোটের সাধারণ সম্পাদক মিলন ঘোষাল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম আবদুল আলিম, সাহিদুজ্জামান রুবেল প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তমের নেতৃত্বে  সিপাহী বিদ্রোহ, সিপাহী-জনতার অভ্যূত্থান ছিল বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে  হত্যা, অবৈধ ক্ষমতা দখল, সংবিধান লংঘন, সামরিক শাসন জারি, সেনাবাহিনীর  প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে ক্ষমতালিপ্সু অফিসার ব্যক্তিগত ক্ষমতা দখলের জন্য পাগলা কুকুরের মতো কামড়াকামড়ি বন্ধ করতে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা-সংকট দূর করতে এবং সেনাবাহিনীসহ ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে এক মহান বিপ্লবী প্রচেষ্টা। জিয়ার বিশ্বাসঘাতকতায় সিপাহী-জনতার অভ্যূত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

বক্তারা আরো বলেন, জিয়া সিপাহীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠে। কর্নেল তাহেরকে সাজানো মিথ্যা মামলায় বিচারের নামে প্রহসন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে কয়েকশত অফিসার ও সৈনিককে হত্যা করে। জলিল, রব, সিরাজুল আলম খান, হাসানুল হক ইনু, রবিউল আলমসহ জাসদের নেতাদের সামরিক আদালতে মিথ্যা মামলায় প্রহসণমূলক বিচারে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়ে অমানবিক কারানির্যাতন চালায়। সিপাহী জনতার অভ্যূত্থান প্রচেষ্টা জিয়ার বিশ্বাসঘাতকতায় সফল না হলেও ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র কাঠামোর উপর আঘাত হানে।

আলোচকরা বলেন, ইতিহাস ৭ নভেম্বরের ঘটনায় কর্নেল তাহেরকে মহানায়ক আর জিয়াকে খলনায়ক হিসেবে চি‎হ্নিত করেছে। যারা ৭ নভেম্বরকে অফিসার হত্যা বা বিপ্লব সংহতি হিসেবে চিহ্নি‎ত করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে তারা আসলে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার  হত্যাকারী ও ক্ষমতালিপ্সু অফিসারদের কামড়াকামড়ির কুৎসিত ঘটনা আড়াল করতে চায়।

জেলা জাসদের নেতৃবৃন্দ বলেন, জিয়া, খালেদ, শাফায়াত জামিলসহ সবাই কি আঙ্গুল চুষছিল? খালেদ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের শায়েস্তা করতে না, নিজে ক্ষমতা দখল করতে অভ্যূত্থান করেছিল। খালেদ বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার খুনীদের নিরাপদে দেশত্যাগ করার সুযোগ করে দেয়। খালেদ খুনি মোস্তাককে আটক করাতো দূরের কথা তার সাথেই যোগসাজশে নিজে সেনাপ্রধানের ব্যাজ লাগান। শহীদ কর্নেল তাহের শুধু আদালতের রায়েই একজন মহান দেশপ্রেমিক বিপ্লবী না, কর্নেল তাহের জনতার বিচারেও একজন মহান দেশপ্রেমিক বিপ্লবী। জাসদ কর্নেল তাহেরের চেতনাকে ধারণ করেই শোষণ-বৈষম্য-বঞ্চনামুক্ত দেশ গড়ার  সংগ্রাম করে যাচ্ছে। জাসদের সুশাসনের জন্য সংগ্রাম আর শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান একে অপরের পরিপূরক। কর্নেল তাহেরের মতো সাহস নিয়ে দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের আখড়ায় আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত হতে জাসদের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি