শ্যামনগরে পত্রদূত ‘হট কেক’, প্রতি কপি দশ টাকায় বিক্রি, থানায় জিডি


প্রকাশিত : নভেম্বর ৭, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: বৃহস্পতিবার শ্যামনগরে দৈনিক পত্রদূত পত্রিকা ছিল ‘হট কেক’। উপজেলাজুড়ে পত্রিকাটির এতই চাহিদা ছিল যে, প্রতি কপি বিক্রি হয়েছে দশ টাকায়। অল্প সময়ের মধ্যে পত্রিকার সবগুলো কপি শেষ হওয়াতে শেষ পর্যন্ত উৎসাহী পাঠকের অনেকে পত্রিকাটির ফটোকপি সংগ্রহ করেন।

শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের প্রভাবশালী নারী ইউপি সদস্য দেলোয়ারা বেগমের পুত্র বহু অপকর্মের হোতা মারুফ হোসেন মিলনকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় পত্রিকাটির এমন চাহিদা সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় পরিবেশকগণ জানিয়েছে।

আলোচিত এ মারুফ হোসেন মিলন ইতোপূর্বে স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম, ইয়ুথ ফোরামসহ বিভিন্ন এনজিও’র সাথে কাজ করেছেন। বর্তমানে বারসিক নামীয় প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন।

এদিকে ঘটনার শিকার গৃহবধু আগের রাতে তার বাড়িতে ঢুকে কু-প্রস্তাব দেয়ার ঘটনায় মিলনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। যার নং ৩৪৩।

সাধারণ স্থানীয় পাঠক এবং প্রতিনিধিদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের সদস্য দেলোয়ারা বেগমের ছেলে মারুফ হোসেন মিলনকে গণধোলাই নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। পূর্ব পরিচয়ের সুত্র ধরে আটুলিয়া গ্রামের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রবেশ করে তার স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র স্থানীয়রা আটক করে তাকে ওই গণধোলাই দেয়। এক পর্যায়ে শ্যামনগর থেকে মিলনের অভিভাবকসহ বিশিষ্টজনেরা ঘটনাস্থলে যেয়ে রাত ৯টার দিকে তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে। এসময় জনরোষ থেকে বাঁচাতে মিলনকে তার অভিভাবকগণ প্রকাশ্যে জুতাপেটা করে-এমন কাজ আর করবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি আদায় করে।

জানা গেছে, দৈনিক পত্রদূত ছাড়া সাতক্ষীরা, যশোর কিংবা খুলনার অন্য কোন পত্রিকাসহ অনলাইন নিউজ পোর্টালে পর্যন্ত সংবাদটি জায়গা না পাওয়াতে পাঠকরা দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন।

এদিকে ঘটনার শিকার গৃহবধুর স্বামী ব্যবসায়ী স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে মিলনের সাথে তার স্ত্রীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তার অনুপস্থিতিতে মিলন তার বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে এবং তার দুই সন্তানের জননীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনসহ সম্ভ্রমহানীর চেষ্টা করে। ইতোপুর্বে একই ধরনের ঘটনা দুই বার ঘটিয়ে স্থানীয়দের হাতে উপুর্যপোরী গণধোলাইয়ের শিকার হয় আলোচিত মিলন।

ওই ব্যবসায়ী আরও অভিযোগ করে জানিয়েছেন, তার অবর্তমানে শ্যামনগর থেকে তার আটুলিয়ার বাড়িতে যেয়ে স্ত্রীকে ফুঁসলিয়ে মিলন কয়েক লাখ টাকার সোনার গহনা হাতিয়ে নিয়ে পরবর্তীতে সে গহনা বিক্রির টাকায় ডিসকভার মটরসাইকেল ক্রয় করে।

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য একাধিক সুত্র জানিয়েছে, মারুফ হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসারকে লাঞ্ছিত করার মতো অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তার মা সদর ইউনিয়নের প্রভাবশালী ইউপি সদস্য হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে টু-শব্দটি পর্যন্ত করতে সাহস দেখায় না। তাছাড়া সদরের একটি প্রভাবশালী মহলের সার্বক্ষণিক ছত্রছায়ায় থাকায় মারুফ হোসেন মিলন কোন কিছুর পরোয়া করেন না বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

এদিকে নিজের প্রতিষ্ঠানের একজন স্টাফের এমন অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বারসিকের নির্বাহী পরিচালক সুকান্ত সেন জানান, ইাের্বে তার বিষয়ে কেউ আমাকে কিছুই জানায়নি। তবে আপনার নিকট থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি, এখন খোঁজ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিব।