প্রমিনেন্ট এসসিএস লিমিটিডের কর্মচারি হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: গ্রেপ্তারের দাবি


প্রকাশিত : নভেম্বর ৮, ২০১৯ ||

সংবাদদাতা: অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে সমিতিতে টাকা জমা করানোর নামে এক গ্রামের ৩২ জনের কাছ থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রমিনেন্ট এসসিএস লি. নামের এক স্বল্প সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠানের কর্মী হাসিনা খাতুনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এসে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন ওই সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠানের ৩০ জনেরও বেশি গ্রাহক।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের জোড়দিয়া গ্রামের মৃত শেখ সৈয়দ আলীর বৃদ্ধা স্ত্রী বিলজান বিবি (৯০) জানান, ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে তাদের গ্রামের ফারুকের স্ত্রী হাসিনা খাতুন সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠান প্রমিনেন্ট এসসিএস লিমিটেড এর কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতি বছরে নয় হাজার টাকা কিস্তি টাকা জমা দিয়ে ১০ বছর মেয়াদী পাস বই খুলতে পরামর্শ দেন। জমা টাকা ১০ বছরে চারগুণ হবে বলে তাকে বলা হয়। সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল চৌরঙ্গী মোড়ে তাদের অফিসে যেয়ে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি প্রথম কিস্তির টাকা জমা দেন হাসিনার কাছে। পাঁচ বছরে ৪৫ হাজার টাকা জমা দেওয়ার পর জমার রশিদ ও পাস বই নিয়ে ব্যাংকে যেয়ে টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দেবেন বলে তাকে একটি ব্যাংকের নীচে বসিয়ে রাখা হয়। দু’বছর আগের ঘটনা হলেও আজো পর্যন্ত তিনি তার ব্যাংকে জমা রাখা টাকার কোন প্রমান দেয়নি হাসিনা। বয়স্ক ভাতা, ফেতরা ও জাকাতের মাধ্যমে পাওয়া ওইসব টাকা আত্মসাৎকারি হাসিনাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

একইভাবে একই গ্রামের শেখ মজিয়ার রহমানের স্ত্রী মাছুরা বেগম ২০১০ সালের ৪ মার্চ বাৎসরিক পাঁচ হাজার টাকা কিস্তির প্রথম কিস্তি জমা দেন। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর জমা দেন সপ্তম কিস্তি। ৩৫ হাজার টাকা জমা দেওয়ার পর ব্যাংকের চেক দেওয়ার নাম করে এক ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে জমা রসিদ ও পাস বই নিয়ে নিয়েছে হাসিনা। গ্রাহকদের জমা টাকা দিয়ে হাসিনা নিজের ঘরের আসবাবপত্র ও ব্যাংক ব্যালান্স বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একইভাবে জোড়দিয়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুল হাকিমের ছেলে শেখ বাচ্চু বছরে পাঁচ হাজার টাকা করে ৩০ হাজার, আব্দুল গণির স্ত্রী বছরে পাঁচ হাজার টাকা করে পাঁচ বছর ২৫ হাজার টাকা ও মাসিক ২০০ টাকা ১৬ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। শেখ আশরাফের ছেলে শেখমতিয়ার রহমান সাত বছরে ৩৫ হাজার, মুনসুরের ছেলে মোহাম্মদ আলী পাঁচ হাজার টাকা করে সাত বছরে ৩৫ হাজার, শেখ আফিলউদ্দিনের ছেলে আবুল খায়ের ৫ বছরে ২৫ হাজার. আবুল খায়েরের মেয়ে জুলিয়া মাসিক ২০০ টাকা করে সাত বছরে ১৭ হাজার টাকা, তানিয়া খাতুন ২০০ টাকা করে আট বছরে ১৭ হাজার টাকা, ইব্রাহীমের স্ত্রী আছিয়া মাসিক ১০০ টাকা করে ৪৪ মাসে চার হাজার ৪০০ টাকা, শেখ মনিরুলের স্ত্রী ময়না খাতুন মাসিক ২০০ টাকা করে আট বছরে১৭ গাজার টাকা, শেখ কওছারের ছেলে মনিরুল মাসিক ২০০ টাকা করে নয় বছরে ১৯ হাজার, ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী শেফালী খাতুন মাসিক ২১৫ টাকা করে ছয় হাজার ৭০০ টাকা, শেখ মঈনুরের স্ত্রী রেবেকা মাসিক ১০০ টাকা করে পাঁচ হাজার টাকা, শেখ কামরুলের স্ত্রী তাছলিমা মাসিক ১০০ টাকা করে পাঁচ হাজার টাকা, শেখ আলফাজউদ্দিনের স্ত্রী শাবনুর সুলতানা মাসিক ১০০ টাকা করে তিন হাজার ২০০ টাকা, শেখ আব্দুল হামিদের স্ত্রী খালেদা খাতুন মাসিক ৫০ টাকা করে ১০ বছর টাকা জমা দিয়েছেন হাসিনার কাছে। ১০০ টাকা করেমাসিক কিস্তিতে শেখ আসাদুল ইসলামের স্ত্রী সর্বানু ১০ বছর, সৈয়দ আলীর ছেলে আব্দুল হামিদ মাসিক ২২০ টাকা করে ১৫ মাস টাকা জমা দিয়েছেন। এমনি করে ৩২ জনের ১০ লক্ষাধিক টাকা জমা নিয়েছে হাসিনা। অনেকেই ২০১৮ সালের প্রখম দিকে সাতক্ষীরা থেকে অফিস উঠে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর আর টাকা জমা দেননি। আবার অনেকেই বাড়ি থেকে হাসিনার কাছে টাকা জমা দিয়েছেন। বিভিন্ন কৌশলে নারীদের ভবিষ্যতের কথা, তাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা বলে বই করিয়ে পরে পাস বই ও টাকা জমা দেওয়ার রসিদ নিয়ে নিয়েছেন হাসিনা।

জোড়দিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদ জানান, হাাসিনা তার খালাতো ভাই এর স্ত্রী। গত বছর টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীন হয়ে যাচ্ছে এমন ভেবে তাদের পক্ষে ইউপি সদস্য শেখ জাকিয়া হক অপরদিকে হাসিনার পক্ষে তার ভাই সাত্তার ও মোনায়েমকে নিয়ে তারা প্রমিনেন্ট এসসিএস লি. এর খুলনাস্থ কদমতলা অফিসে যান। সেখানে যেয়ে তারা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা ৫০ জনেরও বেশি গ্রাহকের নুন্যতম টাকা জমা হয়েছে বলে তাদেরকে জানান। বাকি টাকা হাসিনা আত্মসাৎ করেছে বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তারা। বই ও মানি রিসিট থাকলে টাকা ফেরৎ দেওয়ার ব্যপারে তারা ভেবে দেখবেন বলে তাদেরকে অবহিত করেন। ফিরে এসে তিন মাসের মধ্যে কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় তারা ফিংড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সামছুর রহমানের কাছে চলতি বছরের মার্চ মাসে লিখিত অভিযোগ করলেও তাদের কাছে অভিযোগের কোন কপি না থাকায় চেয়ারম্যান সে অভিযোগ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানতে চাইলে জোড়দিয়া গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী হাসিনা খাতুন বলেন, প্রতিষ্টানের টাকা জমা নিয়েছেন তিনি। তবে অফিস উঠে গেলে টাকা ফেরৎ দেওয়ার তার কোন দায়বদ্ধতা নেই।

এ ব্যাপারে প্রমিনেন্ট এসসিএস লি. এর খুলনার কোন কর্মকর্তার মোবাইল নং খোলা পাওয়া যায়নি।