প্রেমিকার অপেক্ষায়


প্রকাশিত : নভেম্বর ৮, ২০১৯ ||

জোবায়রা খাতুন
তানিয়া গ্রামে উচ্চবিদ্যালয় না থাকার কারণে পড়তে এলো মামার বাড়িতে। ভর্তি হলো ক্লাস নাইনে। দেখতে খুব সুন্দরী পড়াশোনাতেও ভীষণ ভালো। নম্র ভদ্র ব্যবহারে সহপাঠীদের মধ্যে আমিনা, জাহেদুল, রেহানা, চঞ্চল সবাই তানিয়াকে খুব ভালোবাসে। মিষ্টি ব্যবহারে সবাই মন জয় করে।
জাহেদুল ক্লাসের ফার্স্ট বয়।তানিয়া জাহেদুলের চোখের স্বপ্ন হয়ে ওঠে,মনে মনে সে তানিয়াকে ভীষণ ভালোবাসে। মাঝে-মধ্যে তানিয়ার সাথে জাহেদুল দু চারটে কথা বলে। কেমন আছো?মন দিয়ে পড়াশোনা করছো তো? তুমি শুধুমাত্র পড়ার জন্য মামাবাড়িতে আছো,মা বাবাকে ছেড়ে।কথার মধ্যে নিজের নিজের ভাব প্রকাশ পাচ্ছে।
তানিয়া-মন দিয়ে পড়ি জাহেদুল দা।
জাহেদুল-তুমি আমাকে জাহেদুল দা কেন বলছো?আমরা তো একসাথেই পড়ি, ক্লাসমেট। তানিয়া-তুমি ক্লাসের ফার্স্ট বয়,ভীষণ ট্যালেন্টেড তাই রেসপেক্ট করে জাহেদুল দা বলি।
জাহেদুল-আবার জাহেদুল দা?
চঞ্চল-ছেড়ে দে জাহেদুল,তোকে তো সম্মান দিয়ে বলে ; এতে তো কোনো সম্যসা নেই।
তানিয়া-তুমি কেমন পড়াশোনা করছো জাহেদুল দা?
জাহেদুল-আমি পড়াটা অবশ্যই মন দিয়ে করি। আমার বাবার ইচ্ছে আমি রসায়নে গবেষণা করি। তাই ফিজিক্যাল সাইন্স খুব মন দিয়ে পড়ি।
তানিয়া-আমিও রসায়ন নিয়ে পড়তে চাই।
জাহেদুল-তোমার যদি ফিজিক্যাল সাইন্সসে কোনো রকম বুঝতে অসুবিধা হয় ; তোমার মামার বাড়ির পাশে জমিদার বাবুদের বাড়ির পাশে যে বাগান আছে আমি প্রতিদিন বিকেলে ওইখানে বেড়াতে যাই, তুমি বই নিয়ে আসবে আমি বুঝিয়ে দেব তোমাকে;যেখানে অসুবিধা হবে।
তানিয়া-কিছু কিছু জায়গায় তো অসুবিধা হয়। আমি মামিমাকে বলে বিকেলে বই নিয়ে আসবো তাহলে।
বিকেল হলো। তানিয়াকে পাশের বাড়ি থেকে সেলিনা ডাকতে এলো।
তানিয়া মামিমাকে বললো – মামিমা আমি সেলিনার সাথে জমিদার বাবুদের বাগানে একটু বেড়াতে যাচ্ছি।
মামিমা-ঠিক আছে যাও; বেড়ানোর নামে প্রেম করোনা আবার।কলঙ্ক দিও না আমাদের নামে। সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরবে। তোমার মামা অফিস থেকে ফিরে দেখতে না পেলে রাগ করবে।
তানিয়া -ঠিক আছে মামিমা,সন্ধ্যার আগেই ফিরবো।
মামিমা-হাতে বই নিয়ে কেন যাচ্ছো ফাঁকা হাতে যাও। এখন বই কি করবে তুমি?
সেলিনা-পড়া দেখিয়ে নেবে।
মামিমা-এখন পড়া দেখিয়ে নেবে কার কাছে? বাগানে কোনো মাস্টার মশাই আসবে নাকি?
সেলিনা-আমাদের ক্লাসের ফার্স্ট বয় জাহেদুল পড়াশোনায় ভীষণ ইনটিলিজেন্ট ওর কাছে দেখিয়ে নেবে।
মামিমা-ভালো কথা কিন্তু ছেলে ছোকরাদের সাথে বেশি মিশবে না।
সেলিনা-তানিয়া তো কথাই কম বলে চাচী।
চুপচাপ দুজনে চলে গেল।
জাহেদুল বাগানে তন্ময়কে সাথে নিয়ে অপেক্ষায় আছে।তানিয়াদের যেতে দেখে তন্ময় বলছে-দেখ তোর প্রেয়সী আসছে। চুপ কর, চুপ কর, একদম কথা বলিস না।
তানিয়া দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বই খুলে বললো- এই জায়গাটায় অসুবিধা আমার।
জাহেদুল-দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে নেবে, বসো। ঘাসের উপর মেঝেতে চারজনেই বসে পড়লো।
তারপর জাহেদুল খুব মন দিয়ে তানিয়াকে পড়া বোঝাচ্ছে। মাঝে মধ্যে জাহেদুল তানিয়াকে দেখছে। তানিয়া পড়া এতোটা মন দিয়ে বুঝছে যে সে কিছুই বুঝতে পারলো না।যা বোঝার বুঝলো তন্ময় আর সেলিনা।তারা দুজনে চোখের ইশারায় একে অপরকে বোঝালো।
পরের দিন স্কুলে দেখা হলো। রসায়নে যে জায়গায় তানিয়ার অসুবিধা ছিল সে জায়গাটি পারফেক্ট হয়ে গেছে। রসায়নে বেনী মাধব স্যার ক্লাসে এলেন, পড়া ধরলেন। কয়েকজন পড়া বললো কিন্তু পুরো পড়া বলতে পারলো না। তানিয়া পারফেক্ট বললো।
স্যার বললেন-বাঃ তানিয়া খুব সুন্দর পড়া বলেছো।
পরের দিন আবার একইভাবে পড়া বোঝানো জমিদার বাবুদের বাগানে। পড়া শেষে জাহেদুল চকলেট পকেট থেকে বার করে সবাইকে দিল।
তানিয়া খাচ্ছে না,চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।
তন্ময় বললো-খাও তানিয়া, তুমি খাচ্ছো না কেন?
বাড়ি যাই। দেরি হয়ে গেলে মামিমা বকাবকি করবেন। বাড়ি গিয়ে খাবো।
এইভাবে কয়েকদিন পড়া বুঝিয়ে দিল।জাহেদুলও কাছে থেকে তানিয়াকে দেখার সুযোগ পেল।
কয়েক দিন যাওয়ার পর মামিমা বললো- পাড়ার লোকে ছি ছি করছে তানিয়ার মামা তানিয়াকে বাগানে যাওয়া বন্ধ করো।
মামা-পড়া বুঝিয়ে নিলে ছি ছি করার কি আছে। এতে তো তানিয়ার ভালো হচ্ছে।এসব নিয়ে মাথা ঘামাবে না।
মামিমা-না একদম যাবে না, আমি এরকম বদনাম শুনতে পারবো না।
এই নিয়ে মামা-মামির মধ্যে তুমুল ঝগড়া বেঁধে গেল।
তানিয়া ঝগড়া দেখে কাঁদতে শুরু করলো। কাঁপা গলায় বললো -আমি আর যাবো না বাগানে পড়া দেখিয়ে নিতে।
এদিকে ঝগড়ার আওয়াজ শুনে পাশের বাড়ির কয়েকজন দরজার পাশে দাঁড়িয়ে শুনে বলাবলি করছে -নিশ্চয়ই ওই মেয়েটি কিছু কলঙ্কের কাজ করেছে, তাই এতো ঝগড়া।এর আগে তো কখনো ঝগড়া দেখিনি এ রকম।
সেলিনা স্কুলে জাহেদুলকে ঝগড়া সম্পর্কে সমস্ত কথা বলল। এটাও বললো যে আর তানিয়া বাগানে যাবে না।
অবস্থা বেগতিক দেখে জাহেদুল তানিয়াকে বললো -ঠিক আছে,তোমাকে ক্লাসের মধ্যেই টিফিন পিরিয়ডে পড়া দেখিয়ে দেব। দুজনে তাই টিফিন খেতে সময় পেত না। পড়া বোঝাতে বোঝাতে ঘন্টা পড়ে যেত।
এইভাবেই ক্লাস টুয়েল্ভ পর্যন্ত জাহেদুল তানিয়াকে সাহায্য করতে থাকে। মাধ্যমিকে দুজনেই নব্বই শতাংশের বেশি নাম্বার পায়। ক্লাস টুয়েল্ভ পর্যন্ত দুজনে এই স্কুলেই পড়াশোনা করে।
কোনো কোনো ছাত্র-ছাত্রী ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে ওদের নিয়ে অনেক কথা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করেছে।
উচ্চ মাধ্যমিকেও তানিয়া-জাহেদুল দুজনেই নব্বই শতাংশের বেশি নাম্বার পায়।
দুজনেই বিদ্যালয়ে মিষ্টি নিয়ে যায়, শিক্ষকদের সালাম করে। শিক্ষকগণ প্রাণভরে দুজনকে দোয়া করে-তোমরা আমাদের গর্ব। তোমরা বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করো।
এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য দুইজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো। কলেজে দেখা হয় তানিয়া জাহেদুলের কথা হয় মাঝে মাঝে। কলেজ ক্যাম্পাসে বিকেলে দেখা হয় পড়া সংক্রান্ত আলোচনা করে।
জাহেদুল-এতোদিনে জাহেদুলের প্রেম তানিয়ার প্রতি গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে। জাহেদুল তার জীবনে তানিয়াকে আর পড়াকে এমনভাবে সাজিয়েছে যেন একই ফুলদানিতে গোলাপ আর রজনীগন্ধাকে পাশাপাশি সাজিয়েছে।
তানিয়া-কোনদিন জাহেদুল তাকে ভালোবাসে বুঝতে পারেনি। এমনভাবে পড়ার মধ্যে ডুবে থাকতো যে তার চোখে কোনোদিনই জাহেদুলের ভালোবাসা দেখতে পায়নি।
কলেজের বন্ধুরা বুঝতে পেরে বলতো- জাহেদুল তানিয়াকে বলে দাও ; তুমি ওকে ভালোবাসো।
জাহেদুল বলতো-না থাক ও ভালো মেয়ে, কোনোদিনই কারো সাথে সম্পর্কে জড়াবে না।ও তো আমার চোখের সামনেই আছে। পড়াটা মন দিয়ে করুক, সময় এলে বলবো। সুদীপ্ত বললো- দেখ সময়ের অপেক্ষা করতে করতে তানিয়া অন্য কারো যাতে না হয়ে যায়।
মজা করে একজন বন্ধু বললো- মোরগ অপেক্ষা করছে মুরগি কখন তার বাগানে আসবে,বাগানের ঘাস খাবে। এদিকে দেখা গেল অন্য কেউ এ্যাইসা মুরগি ধইরা নিয়া চোলা গেল।মোরগ শুধুই তাকায়াই থাক্যা গেইলো।
জাহেদুল-বাজে বকিস না মন দিয়ে পড়া কর।
গ্রাজুয়েশনের রেজাল্ট হলো দুইজনেই ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে। জাহেদুল ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছে।
তানিয়া জাহেদুলকে একটি ভালো কলম গিফ্ট করে।
জাহেদুল বলে-তুমি আমাকে কলম গিফ্ট করলে আমি ভীষণ খুশি হয়েছি। আমার জীবনের এটা সর্বোচ্চ উপহার।
তানিয়া বলে -কি যে বলো জাহেদুল দা, একটা কলম জীবনের সর্বোচ্চ উপহার কি করে হতে পারে?
জাহেদুল- তুমি দেখবে এই কলমটি চিরদিন আমার পড়ার টেবিলে থাকবে।
তানিয়া-ঠিক আছে দেখবো।
এবারে এম এসসির ফাইনাল পরীক্ষা চলে এলো। পরীক্ষার আগের মুহূর্তে জাহেদুল তানিয়াকে ‘বেস্ট অফ লাক’- বললো।তানিয়াও জাহেদুলকে ‘বেস্ট অফ লাক’- বললো।
পরীক্ষার শেষে কেমন পরীক্ষা হয়েছে একে অপরকে জিজ্ঞেস করে।
পরীক্ষার রেজাল্ট হলো দুজনেই আবার ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে ।এবারে তানিয়া ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয়েছে জাহেদুল।সে তার বন্ধুদের মিষ্টি খাইয়েছে, তানিয়া এসব কথা কিছু জানে না । জাহেদুল তানিয়াকে একটি ভালো ডাইয়েরি একটি ভালো কলম উপহার দিল। খুব খুশি হয়ে তানিয়া জাহেদুলকে ‘থ্যাঙ্ক ইউ’- জানালো। জাহেদুল ‘ওয়েলকাম’- বললো।
এদিকে মেয়ের রেজাল্ট শুনে তানিয়ার মামা তানিয়ার আব্বা আলোচনা করছে। তানিয়া তো খুব ভালো রেজাল্ট করেছে ওকে তাহলে গবেষণার জন্য আমেরিকায় পাঠানো ভালো হবে। তানিয়ার মামা বলেন- আমার তো ছেলে মেয়ে নেই, ব্যাঙ্কে চাকরি করে আমার যা টাকা জমেছে তাতে তানিয়ার আমেরিকার পড়ার খরচ আমিই দিতে পারবো।
না,তোমাকে লাগবে না দুলাভাই। তুমি তোমার আরো দুটো ছেলে মেয়ে আছে তাদেরকে পড়াও।
তানিয়ার আব্বা বলে- এতোদিন ধরে তানিয়ার পড়ার খরচ তো তুমিই বেশি দিয়েছো, আমি আর কতটুকু দিয়েছি। তানিয়ার মামা বলে- আমাদের আল্লাহ তায়ালা কোনো সন্তান দেয়নি, তানিয়াই আমাদের সন্তান।
জাহেদুল-মনে মনে ঠিক করেছে এবার তানিয়াকে বলবে যে Í আমি তোমাকে ভালোবাসি।
তানিয়া-জাহেদুলকে বলে -জাহেদুল দা, আমি আমেরিকা যাচ্ছি। আব্বা মামা ঠিক করেছে গবেষণা বিদেশে করবো। তুমি কি বিদেশ যাচ্ছো, না এইখানে গবেষণা করবে?
জাহেদুল-আমার আব্বা একজন চাষী মানুষ। চাষবাস করে আমাকে পড়াশোনার খরচ জোগান। এতো টাকা আমার আব্বার নেই যে আমাকে আমেরিকাই পড়াতে পারবে।
তানিয়া-আমার দেশেই গবেষণার ইচ্ছে ছিল কিন্তু আব্বা মামা সবার ইচ্ছে বিদেশে, তাই যাচ্ছি।
জাহেদুল-গবেষণা সেরে তুমি তো দেশেই ফিরবে?
তানিয়া-অবশ্যই ফিরে আসবো দেশে। তোমার এতদিনে বিয়ে হয়ে যাবে।
জাহেদুল-কি করে হবে বিয়ে, তুমি তো থাকবে না দেশে।
কথাটা ফাজলামি মনে করলো বিদিশা।
তানিয়া-বিদেশ থেকে ফিরে আসে চারবছর পরে; সাথে জীবন সঙ্গী নিয়ে।বিদিশার বাড়িতে হৈচৈ আনন্দের সমাহার চলছে। বাড়িতে ছোট করে একটা অনুষ্ঠান হলো। আত্মীয় স্বজনরা এলো।
তানিয়া-চার পাঁচদিন পরেই স্বামীকে নিয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে। অধ্যাপকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় স্বামীর সাথে। তারপর জাহেদুলের ঠিকানা নিয়ে তার বাসায় দেখা করতে যায়।
বলে- জাহেদুল দা, এই দেখ আমার স্বামী, কেমন হয়েছে বলো।
জাহেদুলের বুকে ঝরা ঝর্ণা গেল থেমে, রক্ত নালীতে বাহিত সমস্ত আশা গেল মুছে। অমাবস্যার রাতে গিলে খাওয়া চাঁদের মতো শুকনো কণ্ঠে উত্তর দিল- খুব ভালো মানিয়েছে তোমাদের।বসো বসো। চেয়ারে বসলো ওরা।কিছু কথা আলোচনা হলো। তানিয়া বললো- জাহেদুল দা, তুমি করোনি বিয়ে?
জাহেদুল-সে রকম মেয়ে পাইনি খুঁজে। তানিয়ারা চলে এলো।
একটি দুঃখের গান এবারে। গানের কথা- এতোদিন ধরে আশায় ছিলাম, তুমি আসবে বলে। তুমি তো এলে কিন্তু জীবন সঙ্গী নিয়ে। ভেবেছিলাম একদিন গোলাপ হয়ে ফুটবে আমার বাগানে। অবশেষে গোলাপ ফুটলো অন্যের বাগানে। হায়রে পোড়া কপাল! আমার স্বপ্ন ভেঙে হলো ছারখার।কি করবো কোথায় যাবো,কে বুঝবে বুক ভাঙা ব্যাথা। তার কথা ভেবে ভেবে কাটিয়েছি বছরের পর বছর।
এতোদিনে এসে বুঝলাম সেও হলো পর।
এখন লাগছে বেঁচে থেকে আছি কবরের ভেতর।
এতোদিন ধরে আশায় ছিলাম তুমি আসবে বলে।
তুমি তো এলে কিন্তু জীবন সঙ্গী নিয়ে।
তানিয়া কয়েকদিন থাকলো। একজন বান্ধবীর সাথে দেখা হলো। তার কাছ থেকে জানতে পারলো জাহেদুল তাকেই ভালোবাসে। সে কোনোদিনই আর বিয়ে করবে না। তানিয়ার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।বারবার মনে ভেসে আসে কথাটি- কি করে করবো বিয়ে তুমিই তো ছিলে না দেশে।
এই কথার মানে বুঝতে পারিনি আমি। আমার ভুলে ওর জীবন হয়েছে মরুভূমি। তানিয়ার মনের এই কথাগুলো রেকর্ডিং করে শোনাতে হবে। তানিয়ার মুখে প্রকাশ পাবে বিষন্নতার ছাপ।
তানিয়া একাই যায় জাহেদুলের বাসায়। বলে- তুমি মনের কথা আমাকে খুলে বলোনি। টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখে তার দেওয়া কলমটি যতœ সহকারে কলমদানিতে রাখা আছে। মনে পড়ছে কথাটি এই কলমটি আমার জীবনের সর্বোচ্চ উপহার।
কিছু বলছে না জাহেদুল। চোখ দিয়ে ঝরঝর করে জল ঝরছে। তানিয়ার চোখেও একইভাবে জল ঝরছে। কাঁদতে কাঁদতে তানিয়া বলে- এতো ভালোবেসেও তুমি তোমার ভালোবাসা প্রকাশ করোনি। আমি পাগলি বুঝতেও পারিনি।
আল্লাহ তায়ালার কাছে এটাই দোয়া চাইবো- আরো একবার তোমার আমার জন্ম দিয়ে আমার তোমার চারহাত যেন এক করে দেন।