সাতক্ষীরা উপকূলে ঝড়ো বাতাসের সাথে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি (ভিডিওসহ সর্বশেষ আপডেট)


প্রকাশিত : নভেম্বর ১০, ২০১৯ ||

অনলাইন ডেস্ক: ঘূর্নিঝড় ‘বুলবুলে’র প্রভাবে সাতক্ষীরায় রাত বাড়ার সাথে ঝড়ো বাতাসের সাথে সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলো পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আকাশ গুমট, থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে আতঙ্ক বাড়ছে সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালীনি, মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও কাশিমাড়িসহ আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা ও শ্রীউলা এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। ইতোমধ্যে-শ্যামনগর উপজেলার এবং আশাশুনি উপজেলার রাত বাড়ার সাথে আশ্রয় কেন্দ্রেগুলোতে যেন তিল ধরার ঠাই নেই। অনেকে আবার ভিটের মায়া ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে চাচ্ছেন না। তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর করে আনা হচ্ছে। রাতে বিভিন্নস্থানে নতুন করে আরো বহু মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছ্
েস্থানীয়রা জানিয়েছেন রাত ১২টার পর থেকে সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ‘ভারতে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে সাগর দ্বীপে ও সুন্দরবনে আঘাত হানার পর এটার গতি বেগ কমে গেছে। এটার অগ্রভাগ ইতোমধ্যে দেশের সুন্দরবন উপকূলে প্রবেশ করেছে। কেন্দ্র প্রবেশ করতে পারে ভোর নাগদ। রাত ১২টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘন্টায় সাতক্ষীরায় ৬৪.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এখনও পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ১০ নং বিপদ সংকেত চলছে। বাতাসের আদ্রতা ৯৬%। এটা ভোররাতে সাতক্ষীরাসহ বাংলাদেশের সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে গতিবেগ যেমন বলা হচ্ছিল সেটা থাকছে না। গতি অনেক কমে গেছে।’
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার চার উপজেলায় সরকারী ২৭০টিসহ ৭টি উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার আশ্রয় কেন্দ্রে ১ লাখ ৮৫হাজার মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যে পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে গঠিত টিম উপকূলবর্তী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা শ্যামনগরে অবস্থান করছেন। হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক সার্বক্ষনিক খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গাবুরা ইউনিয়নের সখিন বেগমন বলেন, ‘আমার ভিটে মাটি ছেড়ে কোথায় যেতে চাইনা। যতোই ঝড় হোক আমাদের যা হোক না কেন বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবো না। বাড়ি থেকে গেলে ফিরে এসে আর কিছু পাবো না ’
বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া গাবুরা এলাকার আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমরা এখানে এসে উঠেছে। এখন কোন খাবার দাবার কিছু পায়নি।’
পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান এড. আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা আছি বাঁধ নিয়ে আতঙ্কে। রাত যতো বাড়ছে নদীর পানি তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ ততই আতঙ্কিত হচ্ছে। কেউ এখন আর বাড়িতে নেই। অধিকাংশ মানুষ এখন সাইক্লোন শেল্টারে।’
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, আমার ইতোমধ্যে ঝূর্কিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ এখন সাইক্লোন সেল্টারে অবস্থান করছেন। সেনাবাহিনী আমাদের সাথে যোগ দিয়েছেন।
জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস.এস মোস্তফা কামাল ইতিমধ্যে জেলার ২৭০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১লাখ ৮৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে দাবী করেছেন। এছাড়া দুর্যোগ কবলিতদের সহায়তায় ৩১০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৭ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট ও পর্যাপ্ত ওষুধপত্র মজুদ রাখা হয়েছে। একই সাথে দুর্যোগ পূর্ববর্তী, দূর্যোগ কালীন এবং দূর্যোগ পরবর্তী তিন স্তরের প্রশিক্ষিত ২২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ ৮৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া শিশুদের জন্য ১ লাখ টাকা ও গবাদি পশুর জন্য আরো ১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালে থাকা নৌযানগুলিকে উপকূলবর্তী নিরাপদ স্থলে আনা হয়েছে।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার দুটি বিভাগের আওতায় ২৫০ কিলোমিটার বেঁড়িবাধ ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। বুলবুলের জলেঅচ্ছাসের আঘাত যদি ৭ ফুট উচ্চতায় হয় সেক্ষেত্রে এসব বেড়িঁবাধ রক্ষা করা সম্ভব হবেনা বলে জানা গেছে।