কথিত প্রভাবশালী রাজনীতিকের ছত্রছায়ায় থাকা দুই চাঁদাবাজ সাংবাদিক গ্রেপ্তার, পালালো সহযোগীরা (ভিডিও)


প্রকাশিত : November 13, 2019 ||

পত্রদূত ডেস্ক: শহরের ইটাগাছায় অবস্থিত আব্দুল খালেকের মালিকানাধীন শাহিনুর বেকারীতে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত দুই যুবকের নাম মামুন হোসেন মিলন ও মাজহারুল ইসলাম।
মামুন হোসেন শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা (মুন্সিপাড়া) এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে এবং মাজহারুল ইসলাম বাঁকাল এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় ১২ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৪১৯ পেনাল কোড ১৮৬০; অপরের রূপ ধারন করে (সাংবাদিক পরিচয়ে) চাঁদা দাবি করত: চাঁদা আদাইয়ের অপরাধে ৩৫ নং মামলা হয়েছে। মামলার বাদী শহরের ইটাগাছা উত্তরপাড়ার মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র আব্দুল খালেক।
মামলার এজাহারের বর্ণনা মতে, এসময় শহরের সুলতানপুরের আব্দুল হাকিম ও আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা গ্রামের কালাম সরদারের পুত্র পলাশ হোসেন নামে আরো দুইজন পালিয়ে যায়।
মামলায় বলা হয়, সাতক্ষীরা সদর থানার ইটাগাছায় ‘শাহিনুর বেকারী’ নামীয় বাদীর একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। বাদী দীর্ঘদিন সেখানে সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছেন। আসামীরা দীর্ঘদিন যাবৎ বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে। অনুমান ৫/৬ মাস পূর্বে আসামীরা বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে বাদীকে বিভিন্ন ধরণের ভয় ভীতি দেখিয়ে বাদীর নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা গ্রহণ করে।
গত ১১ নভেম্বর সোমবার বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে আসামীরা বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সফিজুল ইসলামের নিকট ‘দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার ও দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরা পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি দেখায় এবং বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে পত্রিকায় লেখালেখি করবে বিভিন্ন প্রকার মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হবে ইত্যাদি কথাবার্তা বলে ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করলে আসামীদের কথায় ভয় পেয়ে বাদীর প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ২ হাজার টাকা নগদ প্রদান করে এবং ম্যানেজার সফিজুল ইসলাম বাকী টাকা দেওয়ার জন্য পরের দিন অর্থাৎ ১২ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে আসার জন্য বলে। তখন আসামীরা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যায়। এরপর ১২ নভেম্বর বেলা ১টার দিকে আসামীরা বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশে জনৈক মো. ফরহাদ হোসেন (১৫) এর মেসার্স নিউ চায়না ফুডস্ নামীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেয়ে একইভাবে ২০ হাজার টাকা দাবি করলে উক্ত ফরহাদ হোসেন আসামীদের কথায় ভয় পেয়ে ৩ হাজার টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে বাদীর প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সফিজুল ইসলাম বিষয়টি বাদীকে অবগত করে। এরপর আসামীরা বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে পূর্বের দাবিকৃত চাঁদার টাকা দাবি করলে বাদীসহ মেসার্স চায়না ফুডসের মালিক ফরহাদ হোসেনসহ এলাকাবাসি মামুন হোসেন মিলন ও মাজহারুল ইসলামকে আটক করি। এসময় শহরের সুলতানপুরের আব্দুল হাকিম ও আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা গ্রামের কালাম সরদারের পুত্র পলাশ হোসেন নামে আরো দুইজন পালিয়ে যায়। ধৃত আসামীদের নিকট থেকে দুটি ক্যামেরা, দুটি আইডি কার্ড, একটি মাইক্রোফোনসহ বিভিন্ন প্রকার জিনিসপত্র জব্দ করা হয়।

এদিকে কথিত সাংবাদিক বাহিনী পুনরায় শাহিনুর বেকারীতে গেলে জনৈক ব্যক্তি বিষয়টি মোবাইল ফোনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানকে জানান। এরপরপরই সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানার পুলিশ উক্ত বেকারীতে অভিযান চালায়। এসময় মামুন হোসেন মিলন ও মাজহারুল ইসলামকে হাতে নাতে আটক করতে সক্ষম হয়। তারা চাদাবাজীর কথা স্বীকার করে এবং নিজেদেরকে সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রকাশিত দুটি পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেয়। এছাড়া আব্দুল হাকিম ও জাহিদুর রহমান পলাশসহ আরো কয়েকজন পালিয়ে যায়।
আটককৃত দুইজনসহ পলাতকরা সাতক্ষীরার একজন কথিত প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজী করে আসছে বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই প্রদীপ কুমার জানান, শহরের ইটাগাছা এলাকার শাহিনুর বেকারীতে সাংবাদিক পরিচয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিলন ও মাজহারুলকে আটক করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চাঁদাবাজ গ্রুপের হোতা মুনজিতপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের পুত্র আব্দুল হাকিম ও তার সহযোগি আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা গ্রামের আবুল কালাম সরদারের পুত্র জাহিদুর রহমান পলাশসহ তাদের সহযোগীরা। তিনি আরো জানান, সাংবাদিক পরিচয়দানকারী আটক দুই চাঁদাবাজসহ এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বেকারী মালিক আব্দুল খালেক বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে।
এদিকে, শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এই চাঁদাবাজ গ্রপটি জেলার বিভিন্ন স্থানে কখনও সাংবাদিক, কখনও ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।