সুন্দরবনে ফিশিং ট্রলার দুর্ঘটনায় ৭ জেলে নিখোঁজ, ৮ জেলে উদ্ধার


প্রকাশিত : November 13, 2019 ||

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: পশ্চিম সুন্দরবনের গহিনে মাছ ধরতে যেয়ে এফবি তরিকুল ইসলাম-১ নামে একটি ফিশিং ট্রলারে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ১৫ জেলেসহ নিখোঁজ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ জন জেলেকে উদ্ধার করা হলেও বাকি ৭ জেলে এখনও নিঁখোজ। গত ৮ নভেম্বর সুন্দরবনে পুষ্পকটি বন অফিস সংলগ্ন নারকেল বাড়ি এলাকায় ফিশিং ট্রলারটি ইঞ্জিন বিকল হলে দুর্ঘটনার স্বীকার হয় হতভাগা জেলেরা।
নিখোঁজ ফিশিং ট্রলারের মালিক বরগুনা জেলার তালতলি থানার লালু পাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ ডাক্তারের ছেলে নজরুল ইসলাম জানান, গত ৫ নভেম্বর ১৫ জন জেলে সুন্দরবনের নারকেল বাড়ি এলাকায় মাছ আহরণের জন্য যায়। মাছ ধরাকালিন ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সংকেত পেয়ে গত ৮ নভেম্বর জেলেরা দ্রুত বাড়িতে ফেরার সময় ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ঝড়ের কবলে ট্রলারটি ডুবে যায়। বিপদগ্রস্থ জেলেদের মধ্যে ৮ জনকে হলদেবুনিয়া পাড়ের তলি এলাকায় অন্য জেলেদের সহায়তায় কাছিকাটা ভাসমান বিজিবি ক্যাম্পে ফিরে আসে। উদ্ধার হওয়া ৮ জেলে হলেন বরগুনা জেলার তালতলি থানার লালু পাড়া গ্রামের হযরত আলী খানের ছেলে জলিল খান (৪২) এবং একই এলাকার মুজিবার ফারাজির ছেলে জসিম ফরাজি (৩৫), মৃত আব্দুল আজিজ ফরাজির ছেলে মোস্তফা ফরাজি, আব্দুল আলিম মোল্যার ছেলে কনু মোল্যা এবং একই জেলের ৯ নং বালিয়াতলি ইউনিয়নের আজিজাবাদ গ্রামের মৃত বেলায়েত মাঝির ছেলে দুলাল মাঝি (৫০), মৃত হাবিবুর কমান্ডারের ছেলে হারুন মিয়া (৪৫), চরডাঙ্গা গ্রামে মৃত হাশেম পালোয়ানের ছেলে মোশারফ পালোয়ান (৩৫) ও লালু পাড়া গ্রামে অহেদ শিকদারের ছেলে আনোয়ার শিকদার।
কাছিকাটা রিভারআইন বিজিবি নীলডুমুর অধিনায়ক বলেন, গত ১২ নভেম্বর জেলেদের উদ্ধার করে রায়নগর নৌ পুলিশ ফাড়িতে হস্তান্তর করা হয়। রায়নগর নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই রেজাউল ইসলাম বলেন, জেলেদের শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শ্যামনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধারকৃত জেলেদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে নিখোজ জেলেরা হলেন- বরগুনা জেলার তালতলি থানার আজিজাবাদ গ্রামে মুসলিম খানের ছেলে লিটন খান (৪০), লিটন খানের ছেলে সুমন (২৫), মৃত আমজাদ মল্লিকের ছেলে মোসলেম মল্লিক (৫২) এবং লালুপাড়া গ্রামে মুজিবার ফারাজির ছেলে সবুজ ফারাজি (২৫), মৃত ময়জুদ্দিন হাওলাদারের ছেলে কামাল হাওলাদার (৩০), মৃত কঞ্চান হাওলাদারে ছেলে শানু হাওলাদার (২৮) এবং একাব্বর হাওলাদের ছেলে রাসেল হাওলাদার। নিখোজ জেলেদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে রিভারআইন বিজিবি অধিনায়ক জানান।