সাংবাদিক বরুণ ব্যানার্জি ও আ.লীগ নেতা রহিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন (ভিডিও)


প্রকাশিত : November 16, 2019 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরে ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মোশা কর্তৃক সাংবাদিক বরুণ ব্যানার্জি ও ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি রহিল উদ্দীনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রোহিল উদ্দীন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, দূর্গাপদ বিশ্বাস, ইউপি সদস্য ভৈরব বিশ্বাসসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ঘোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মোশা আওয়ামী লীগে একজন অনুপ্রবেশকারি ও মহাদূর্ণিতী পরায়ন ব্যক্তি। তাকে দল থেকে বহিষ্কারসহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার রহিল উদ্দীন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের কাছে গত ৩ নভেম্বর এক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এ অভিযোগের আলোকে অনলাইন পত্রিকা দৈনিক সাতক্ষীরায় একটি তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট প্রকাশ হয়। রিপোর্টটি প্রকাশিত হওয়ার পর তার গাত্রদাহ শুরুহয় এবং তার পৃষ্টপোষকদের কথা মত এ কাল্পনিক মামলা করেছেন। আমরা চেয়ারম্যান মোশাকে ধিক্কার জানাই এবং অবিলম্বে এ কথিত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই অন্যথায় আমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মিরা উপজেলা, জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দিয়ে এ অবাঞ্চিত চেয়ারম্যানকে অপসারণ করব। তারা আরো বলেন, সে জামায়াত পরিবারের সদস্য। তার বাবা ১৯৭১সালে পাকিস্থান গর্ভমেন্টের সৃষ্টি পিস কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে সে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে। পরবর্তিতে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় আসলে সে আবার স্বদলে ফিরে যায়। চেয়ারম্যান মোশা ২০০২সালে রাজাকার খালেক মন্ডলের হাতে বয়াত হয়ে ঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে লিখিত অঙ্গিকারনামার মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামিতে যোগদান করে। অঙ্গিকার নামায় চেয়ারম্যান মোশা স্ব হস্তে লিখিতদেন যে তিনি আজীবন রাজকার খালেক মন্ডলের সহচার্যে থেকে জামায়াত সংগঠনের হয়ে কাজ করবেন। তিনি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশকিছু নেতার পরোক্ষ সহযোগিতায় অন্যায়ভাবে নৌকা প্রতিক পান এবং চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। কিন্তু যুদ্ধাপরাধির অভিযোগে রাজাকার খালেক সন্ডল আটক হওয়ার পর চেয়ারম্যান মোশা বড়ই বে সামাল হয়ে পড়েন এবং ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা মামলা, নির্যাতন, নিপড়িনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সে উদ্দ্যেশে গত ২০১৭সালের ৩১মার্চ মোশার সৃষ্টি “দা” বাহিনি দিয়ে বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা, সাধারণ সম্পাদক আবুবকর ছিদ্দিককে, ঘোনা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি, ইউনুছ আলী ও তার বৃদ্ধপিতা আব্দুল করিমকে পিটিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাদি হয়ে চেয়ারম্যান মোশা ও তার দা বাহীনির সদস্যদের নামে থানায় মামলা করে যার নং জিআর ১৯৭/১৭ (সাত)। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় ঘোনা বাজারে এক প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। সে একজন চিহ্নিত চোরাচালানি। ঘোনা এবং গাজিপুর সীমান্তের দুটি চোরাঘাট এবং দুটি গরুখাটাল সে পরিচালনা করে গত ১০ বছরে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। পৈত্রিক সুত্রে তিনি সাড়ে ৬বিঘা জমির মালিক হলেও বর্তমানে তিনি ৫০ বিঘা জমির ক্রয়সুত্রে মালিক হয়েছেন। তাছাড়া দাঁদভাঙ্গা বিলের ওয়াপদা ভেড়ি বাঁধের পারে সরকারি ২০০বিঘা খাসজমি জোর পূর্বক দখল করে মাছ চাষ করছে এবং একটিপ্রাইভেট কার কিনেছেন। যারদাম ২৭ লক্ষ টাকা। সাতক্ষীরা মধুমোল্যার ডাঙ্গি একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছেন কয়েক কোটি টাকা দিয়ে। অপরদিকে গ্রামের ঘোনা বাজারের উপর একটি দ্বিতল ভবনও নিজবাড়ির দলহুজ ঘর করেছেন তিনতলা। এসব অর্থ সম্পূর্ণ দূনীর্তির মাধ্যমে রোজগার করা।
তিনি পেশা হিসেবে বাঁশদহ গ্রামে স্থাপিত শহিদ স্মৃতি কলেজে শিক্ষকতা করেন। সেখানে ও তিনি দূনীতির মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাত করেন। সে ঘটনায় কলেজে চেয়ারম্যান মোশার বিরুদ্ধে এলাকাবাসি ঝাড়ু মিছিল করে এবং কলেজের প্রতিষ্টাতার ভাই আব্দুল্লাহ আলমাহমুদ বাদি হয়ে বিঙ্গ দুর্নীতি দমন ট্রাব্যুনাল সাতক্ষীরা আদালতে একটি মামলা করেন যার নং পিটিশন ৭/১৮। মামলাটি বর্তমানে বিচারধীন। আমাদের ইউনিয়নের সভাপতি সরদার রহিল উদ্দীন ১৯৭৭সালে রাজশাহি বিশ্ববাদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে কোন চাকুরিতে যোগদান না করে দলের কাজে তিনি আজীবন কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথান, থেকে সকল আন্দলন সংগ্রামে তিনি স্বক্রিয় ছিলেন। এখান থেকে ৩৫ বছর আগে ইউনিয়নে প্রথম আওয়ামী লীগের যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল সে কমিটির সভাপতি ছিলেন সরদার রহিলউদ্দীন। সেখান থেকে অদ্যবধি তিনি সুনামের সহিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারা অবিলম্বে ওই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অনুপ্রবেশকারী মোশা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।