দখলমুক্ত হওয়ার পর ফের দখল আটুলিয়ার কুল্লন খাল: জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা


প্রকাশিত : November 22, 2019 ||

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলা আটুলিয়া ইউনিয়নের সরকারি খালের ইজারা এখনো বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে আব্দুল জলিল বলেন, আমরা শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ৩, ৪ ও ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বর্ষা মৌসুমের সময় আমন ফসল ভালো হয় না। অনাবৃষ্টি অথবা অতিবৃষ্টির কারণে প্রতিবছর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমির মালিক সরকারি কুল্লন খালটির মিষ্টি পানি দিয়ে ইরি ধান চাষ করে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশার বলেন, বিলে আনুমানিক ৯০০ একর জমি আছে। এই এলাকার মাটির নিচের পানি লবণাক্ত হওয়ার কারণে তা কৃষি কাজে ব্যবহার করা যায় না। তাই বৃষ্টির পানি দিয়েই আমরা আমন মৌসুমে ধান চাষ করি। এই বিলের মধ্যে কুল্লন খাল নামে একটি মাত্র খাল আছে এবং এই খাল দ্বারা বৃহত্তর বিলের পানি নিষ্কাশন করা হয়। কিন্তু খালটি বর্তমানে ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় থাকা আটুলিয়ার বেলায়েত আলীর ছেলে আব্দুর রহমান (বাবু)  ও আব্দুল গফুরের ছেলে রফিকুল ইসলাম খালটির অবৈধভাবে দখল নিয়ে পুনরায় মাছ চাষ করার কারণে প্রায় প্রতিবছর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আটুলিয়া মৌজার জেএল নং-১০৭, এসএ দাগনং -১৯৫৬, ১নং খতিয়ানভুক্ত কুল্লন খালটির ইজারা নিয়ে তিন বছর নেট-পাটা দিয়ে মাছ চাষ করে। স্থানীয় আলাউদ্দিন বলেন, খালটির বন্দোবস্ত নিয়ে দখলদারিত্বের কারণে আমরা কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া ও প্রাকৃতিক মাছ ধরার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। গত তিন বছরে যারা খালটি ইজারা নিয়েছিল তাদের ডাকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও জোরপূর্বক দখল করে মাছ ধরা কাজ অব্যাহত রেখেছে।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিশেষভাবে সতর্ক করার পরে গত ২৫-০৯-২০১৯ তারিখ শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করিয়া সরজমিনে নেট-পাটা কাটিয়া উন্মুক্ত করে দেয়। আইন অমান্য করে গায়ের জোরে খালটি নেট-পাটা দিয়ে পুনরায় দখল করে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, বিষয়টা আমি দেখছি।

পুনরায় দখলের বিষয়টি শ্যামনগর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ হাসানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, এলাকাবাসী আমার কাছে অভিযোগ করেছিল। আমি এমপি স্যারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। মাছ ছাড়া এলাকাবাসী সব ব্যবহার করতে পারবে এবং বৈশাখের ৩০ তারিখ পর্যন্ত ইজারা বহাল থাকবে।

খালের ইজারা বাতিল করে অবৈধভাবে মাছ চাষীদেরকে উচ্ছেদ করে জলাবদ্ধতা নিরসন, দরিদ্র কৃষকগণের কৃষি ফসল চাষে সেচ প্রদান, প্রয়োজনমত পানি নিষ্কাশন ও মাছ ধরার ব্যবস্থা করার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।