সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে বিএলসি নবায়ন: এক লক্ষ টাকার রাজস্ব ও ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ


প্রকাশিত : November 27, 2019 ||

শ্যামনগর অফিস: ১ জুলাই থেকে সুন্দরবনে বনজীবিদের প্রবেশাধিকারে বিএলসি নবায়ন শুরু হয়ে তা চলমান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৪টি স্টেশনে বুধবার পর্যন্ত ৩২০০ বিএরসি নবায়ন হয়েছে। তাতে দেখা যায়, ১ লক্ষ টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় হয়েছে আর অসাধু বনরক্ষীর পকেটে ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ। প্রত্যক্ষদর্শী জেলে বাউয়ালী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রতি বিএলসি নবায়নে সরকারি রাজস্ব নৌকা প্রতি ৬-২৫ টাকা পর্যন্ত কিন্তু, পশ্চিম সুন্দরবনের এই ৪ স্টেশন কর্মকর্তা যথাক্রমে কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম, কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা নুরুল আলম, বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান ও কোবাতক স্টেশন কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন প্রতি বিএলসিতে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা ক্ষেত্র বিশেষে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করেছেন। ৪ স্টেশনে সারকারি রজস্ব দাঁড়িয়েছে লক্ষাধিক টাকা। আর নিরীহ বনজীবিদের কাছ থেকে অসাধু বনকর্তারা নিজেদের আখের গোছাতে ঘুষ আদায় করেছেন ২০ লক্ষাধিক টাকা। এ অভিযোগ বনজীবীদের।

গাবুরার আনছার আলী, মোন্তেজ ঢালী, মোবারেক মোল্যা, দাতিনাখালীর রজব আলী, কওসার গাজী ও আমিনুর রহমান জানান, সুন্দরবনে বন দস্যুর তান্ডবে প্রায় একযুগ নাজেহাল হয়েছে বনজীবীরা। কিন্তু, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারে যুগোপযগী পদক্ষেপের কারণে আজ বনজীবীরা বনদস্যুর হাত থেকে পুরোপুরি মুক্ত। কিন্তু মুক্ত হতে পারছে না বন বিভাগের অসাধু বনরক্ষীর হাত থেকে। তারা আরও জানান, সেই বৃটিশ শাসনামল থেকে অদ্যাবধি এই অসাধু কর্মকর্তাদের বনজীবীদের কাছ থেকে ঘুষ বাণিজ্য ও নানামুখী দুর্নীতি, অপকর্ম চলেই আসছে। যা কোন সরকারই বন্ধ করতে পারেনি। বিএলসি নবায়নে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দায়িত্বশীল বনকর্মকর্তা জানান, বিএলসি নবায়নে ২০ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য হতে পারে। কিন্তু, এই টাকার ভাগ বাটোয়ারা বিভিন্ন মহলে বন্টন হয়ে যাওয়ায় দায়িত্বরত স্টেশন কর্মকর্তাদের ভাগে সীমিত কিছু অর্থ থাকে। পশ্চিম সুন্দরবনে বনকর্মকর্তাদের বিএলসি নবায়নে সীমাহীন ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি ধামা চাপা দিতে কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা নুরুল আলম ও বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান খামের ভিতরে টাকা নিয়ে বিষয়টি ম্যানেজ করার জন্য নাকি শ্যামনগরে বিভিন্ন সাংবাদিকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্যামনগর উপজেলার বেশ কিছু সাংবাদিক জানিয়েছে, নুরুল আলম ও আক্তারুজ্জামানের ওই টাকা এবং খাম কেউ গ্রহণ করেননি। বিষয়টি নিয়ে পুরো শ্যামনগর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দারকে জানানো হলে তিনি বলেন, বিএলসি নবায়নে বনকর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি আমিও শুনেছি। বিষয়টি অতি দ্রুত বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে অবহিত করা হবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে ৪ স্টেশন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন প্রকার মুখ খুলতে রাজি না হয়ে সব বিষয় এড়িয়ে যান। এব্যপারে ডিএফও সুন্দরবন, বশিরুল আল মামুন বলেন, অভিযোগ আপনার মুখে শুনলাম। যাচাই করা হচ্ছে। প্রমান হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।