পুলিশ সুপারের প্রেস ব্রিফিং: ২২ লাখ টাকা ও একটি পিস্তল নিয়ে পালিয়েছে সাদিক (ভিডিও)


প্রকাশিত : December 1, 2019 ||

আসাদুজ্জামান সরদার: কালিগঞ্জে বিকাশের ২৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের মাষ্টার মাইন্ড (মুল হোতা) জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক। ছিনতাইয়ের পর ২২লাখ টাকা তার হাতে তুলে দেয় দীপ ও সাইফুল। সাইফুল ও দ্বীপ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও সৈয়দ সাদিকুর রহমান ২২ লাখ টাকা ও কিছু অস্ত্র নিয়ে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত আছে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রোববার বেলা ১টার দিকে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাতক্ষীরা পুলিম সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, টাকা ছিনতাই ঘটনার সাথে জড়িত মোট নয়জনের সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এরই মধ্যে দুই আসামি সাইফুল ইসলাম ও মামুনুর রহমান দ্বীপ গত ২৯ নভেম্বর রাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। অস্ত্রসহ আটক দু’জন আসামি আজিজুর রহমান ওরফে সামী হাসান ওরফে সোহানকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কে কি করে সেটা দেখা হবে না। অপরাধ করলে তাকে অপরাধী হিসেবে দেখা হবে এবং অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে।
ছিনতাইকারীদের স্বীকাররোক্তির বর্ণনা দিয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্যামনগর উপজেলা বিকাশ এজেন্টের শাখা ব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার, ফিল্ড কর্মকর্তা তামিম ও কাস্টমার কেয়ার অফিসার মিথুন সাতক্ষীরা সাউথ ইস্ট ব্যাংক থেকে বিকাশের ২৬ লাখ টাকা নিয়ে মোটর সাইকেলে শ্যামনগর যাওয়ার সময় কালিগঞ্জের কাটাখালি এলাকায় পৌছালে তিন ছিনতাইকারী পিস্তল দিয়ে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে টাকা ছিনতাই করে আশাশুনি উপজেলায় যেয়ে মোটর সাইকেলের রং পরিবর্তন করে টাকা নিয়ে সাতক্ষীরায় আসে। এসময় তাদের আগে পাহারা দেওয়ার জন্য আরও একটি মোটর সাইকেল ছিলো। এ ঘটনায় মামলা হলে মামলা তদন্তকালে নিবিড় তদারকী ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এবং পরিকল্পনায় সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় অংশগ্রহণকারী আসামী কালিগঞ্জের সাইহাটি গ্রামের সবুর সরদারের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩০) সদর উপজেলার মুনজিতপুরের মঈনুল ইসলামের ছেলে মামুনুল ইসলাম ওরফে দ্বীপকে বৃহস্পতিবার মুনজিতপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তাদের অন্যান্য সহযোগী আসামীদের নাম-ঠিকানা এবং তাদের দলনেতার নামসহ সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের নাম প্রকাশ করে। তাদের স্বীকারোক্তি মতে ছিনতাইকৃত টাকা ও ছিনতায়ে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কালিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল যৌথভাবে অভিযান করে। ৩০ নভেম্বর রাত ৩টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের বকচরা বাইপাস সড়কের আমিননগর চার রাস্তার মোড়ে পাড়া রাস্তার উপর ফাঁকা জায়গায় তাদের সহযোগি ছিনতাইকারী আসামী ও পুলিশের মধ্যে গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলাগুলির এক পযায়ে আসামী সাইফুল ইসলাম (৩০) ও মামনুল ইসলাম দ্বীপ (২২) নিহত হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ২টি দেশীয় তৈরী ওয়ান শুটারগান, ৪ রাউন্ড গুলি, দুটি সুইচ যুক্ত চাকু, নগদ ১০হাজার টাকা, ১টি ব্লু রংয়ের রেজিস্টেশন বিহীন ১৫০ সিসি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত শহরের রসুলপুর গ্রামের আনিচুর রহমান, শহরের মুনজিতপুর এলাকার আরশাদ আলীর ছেলে আজিজুল ইসলামকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, একটি পালসার মটর সাইকেল এবং ছিনতাইকৃত টাকায় কেনা একটি ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ভিভো মোবাইল উদ্ধার করা হয়। আসামীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিকাশের ২৬ লক্ষ টাকা ছিনতাই ঘটনার আদ্যপান্ত বর্ণনা করে স্বীকারোক্তি দেয় এবং ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা (মাস্টার মাইন্ড) মুনজিতপুর এলাকার মৃত সৈয়দ মোখলেছুর রহমানের ছেলে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক এবং ঘটনার প্রধান সমন্বকারী আসামী সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য সহযোগী আসামীদের নাম প্রকাশ করে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জনাববন্দী দেয়। তাদের তথ্যমতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত আশাশুনির কল্যাণপুর এলাকার ইসহাক আলীর ছেলে মেহেদি হাসান এবং তার হাং মটর সাইকেল আটক করা হয়। সে বিকাশ কর্মতাদের টাকা নিয়ে যাওয়া এবং অবস্থান সম্পর্কে আসামীদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ছিনতাইয়ের সময় মটর সাইকেলে থানা তিন আসামীর একজন কালিগঞ্জের আশিকুর আলম এবং ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামী একই উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শামিম এহসানকে রোববার ভোর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ছিনতাইয়ের সময় লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ বন্দুকযুদ্ধে নিহত দ্বীপ ও সাইফুলসহ ৯জনকে আটক করেছে। প্রেস ব্রিফিংকালে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইলতুৎমিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাহউদ্দিনসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা।