যে আঘাতে ক্রিকেটার থেকে ইসলাম প্রচারক সাঈদ আনোয়ার


প্রকাশিত : December 1, 2019 ||

অনলাইন ডেস্ক: সাঈদ আনোয়ার, নামটা শুনলেই মনে পড়ে যায় ভারতের বিপক্ষে ১৯৪ রানের সেই ইনিংস। ১৩ বছর ধরে ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটি ছিলো সাঈদ আনোয়ারের দখলে।

পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনার ধরা হয় সাঈদ আনোয়ারকে। পারিবারিক এক বিপর্যয়ে জীবন মোড় ঘুরিয়ে ফেলেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা এ ব্যাটসম্যান। ক্রিকেটার থেকে হয়ে যান পুরো দস্তুর একজন ধর্ম প্রচারক।

১৯৬৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন সাঈদ আনোয়ার। তার বাবা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতেন। তবে ক্রিকেট ছেড়ে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজের পেশাজীবন শুরু করেন তার বাবা।

বাবার কাজের সুবাদে আনোয়ারের শৈশব কেটেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে কৈশোরে ফিরে আসেন করাচিতেই। সেখানেই তার ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়। করাচির এনইডি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে সিএসই’তে স্নাতক পাস করেন আনোয়ার। ক্রিকেট তার মূল লক্ষ্য ছিলো না। উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা যাবেন বলে মনস্থির করেন তিনি।

তবে শেষমেষ ক্রিকেটই হয়ে যায় তার ধ্যান-জ্ঞান। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে জাতীয় দলে ডাক পেলেন আনোয়ার। এরপর বনে যান ওপেনার ব্যাটসম্যান।

১৯৮৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক সাঈদ আনোয়ারের। ১৯৯০ সালে শুরু হয় সাদা পোশাকের যাত্রা। ক্যারিয়ারে ৫৫ টেস্টে ৪৫.৫২ গড়ে করেছেন ৪০৫২ রান। সর্বোচ্চ সংগ্রহ ১৮৮*। ২৪৭টি ওয়ানডেতে ৩৯.২১ গড়ে তার সংগ্রহ ৮৮২৪ রান। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ১৯৪।

১৯৯৬ সালে চিকিৎসক লুবনাকে বিয়ে করেন সাঈদ আনোয়ার। পরের বছর পেপসি ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে ভারতের বিপক্ষে ক্যারিয়ারসেরা ১৯৪ রান করেন তিনি। ১৩ বছর পর সে রেকর্ড ভেঙে ফেলেন জিম্বাবুয়ের চার্লস কভেনট্রি। সে বছর উইজডেন পত্রিকার বিচারে বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছিলেন তিনি।

২০০১ সালে মুলতানে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে পাকিস্তান জয়লাভ করলেও সাঈদ আনোয়ারের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনায় তছনছ হয়ে যায় তার জীবন। দীর্ঘ অসুখের পরে না ফেরা দেশে পাড়ি জমায় তার তিন বছরের শিশুকন্যা, বিসমাহ। এরপর থেকে আনোয়ারের কাছে জীবনের অর্থই পাল্টে যায়।

ক্রিকেটের বাইশ গজ ছেড়ে জীবন নিবেদিত করেন ধর্মপ্রচারে। তার একমাত্র সঙ্গী হয় ধর্মীয় বই। কন্যা হারানোর শোক ভুলতে ইসলামের বাণীতেই সান্ত্বনার আশ্রয় খুঁজে নেন তিনি।

২০০৩ সালে ক্রিকেটে ফিরেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে নিজের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার রান ছিল ৪০। তার আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে হাঁকানো শতরান তিনি উৎসর্গ করেন বিসমাহ’র স্মৃতিতে।