ইট পোড়াতে টায়ারের কালি: ক্যান্সার ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য


প্রকাশিত : December 1, 2019 ||

এম জিললুর রহমান: পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা লংঘন করে জেলার বিভিন্ন ইটভাটায় অবৈধভাবে পোড়ানো হচ্ছে টায়ার। এতে সৃষ্টি হচ্ছে বিষাক্ত কালি। এই কালির ধোঁয়া ক্যান্সার সহায়ক। যে সকল ইটভাটায় টায়ারের কালি ব্যবহার করা হচ্ছে সেখানে কর্মরত শ্রমিকসহ ইটভাটার আশপাশের এলাকায় বসবাসকারি জনসাধারণ পড়েছেন মারাত্মক ক্যান্সার ঝুঁকিতে। বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনাকে বার বার অবহিত করার পরও অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে জেলার অধিকাংশ ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানী হিসেবে ইটভাটায় কয়লা ব্যবহার করার কথা। কিন্তু জ্বালানি সাশ্রয় ও ইটের রং সুন্দর করার জন্য জেলার কলারোয়া, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার কিছু ইটভাটা মালিক তাদের ইটভাটায় কয়লার গুড়ার সাথে টায়ারের কালি মিশিয়ে ব্যবহার শুরু করছেন। এজন্য তারা গোপনে তাদের ইটভাটায় টায়ারের কালি মজুদ করে রাখছেন। সহজে যাতে নজরে না আসে সেজন্য বস্তায় ভরে এসব কালি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কম খরচে অধিক মুনাফা লাভের আশায় বিভিন্ন ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লার সাথে ব্যবহারের জন্য এই টায়ারের কালি মজুদ করা হয়েছে। পরিবশে অধিদপ্তরের নীতিমালা লংঘন করে অনেক ইটভাটা মালিকরা এই অবৈধ কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু টায়ারের কালি পোড়ানো ধোঁয়া মারাত্মকভাবে ক্যান্সার সহায়ক। ফলে কয়লার সাথে টায়ারের কালি ব্যবহার করা ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিকসহ ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারি সাধারণ জনগণ নিজেদের অজান্তে পড়ছেন মারাত্মক ক্যান্সার ঝুঁকির মধ্যে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার বামনখালী, হেলাতলা ও দমদম এলাকায় অবস্থিত ইটভাটাসহ কালিগঞ্জ, শ্যামনগর ও দেবহাটা উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটায় গোপনে কয়লার সাথে টায়ারের কালি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এছাড়া পৌর এলাকার মধ্যে ইটভাটা পরিচালনা করা নিষিদ্ধ হওয়া স্বত্বেও তা মানছেন না কয়েকজন ইটভাটা মালিক। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী পৌর এলাকার মধ্যে ইটভাটা পরিচালনা করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ এবং এবিষয়ে ব্যবস্থা নিলে সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিক কোন আপিল করতে পারবেন না। কিন্তু এসব নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সাতক্ষীরা পৌর এলাকার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগি জানান, টায়ার পোড়ানো কালি মারাত্মক বিষক্ত। বিষয়টি জানা স্বত্বেও ইটভাটায় টায়ারের কালি ব্যবহার করে সাধারণ জনগণকে ক্যন্সারের ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিকরা। জ্বালানী সাশ্রয় ও ইটের রং সুন্দর করার জন্য ইটভাটা মালিকরা গোপনে এই কালি কয়লার সাথে মিশিয়ে ইটভাটায় ব্যবহার করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনাকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে সংশ্লিষ্ট ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। ফলে ভাটার মালিকরা প্রতিবছর ইট পোড়ানোর সময় এই টায়ারের কালি ব্যবহার করছেন। অভিযোগ আছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভাটা মালিকরা এই গরহিত কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ক্যান্সার ঝুঁকি থেকে জনগণকে রক্ষা করতে ভাটায় জ্বালানী হিসেবে কয়লার সাথে টায়ারের কালি পোড়ানো বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, টায়ার পোড়ানো কালিতে কার্বন মনোঅক্সাইড থাকে যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। টায়ারের কালি বিষাক্ত হওয়ায় ইটভাটায় পোড়ানো দন্ডনীয় অপরাধ। এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি সম্পর্কে দ্রুত খোঁজ খবর নেয়া হবে। এধরনের কাজের সাথে কোন ইটভাটা মালিক জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়ার জন্য আমি এডিএম সাহেবকে বলবো। তিনি জেলার ভাটা মালিকদের ডেকে প্রথমে তাদেরকে সর্তক করবেন। তারপরও কাজ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।