প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব মেলবন্ধন ‘ইত্যাদি’


প্রকাশিত : December 2, 2019 ||
পত্রদূত ডেস্ক:  ‘ইত্যাদি’ মানেই ব্যতিক্রমী আয়োজনের অন্যরকম কিছু। যা দর্শককে বিনোদিত করার পাশাপাশি অনিমেষ মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন করে। সেসঙ্গে দেশপ্রেম, মানবতার জয়গান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সামাজিক সচেতনতা নিয়ে উপহার দেয় নানা আয়োজন। এবারো ঘটেনি তার ব্যত্যয়। অনুষ্ঠানটির এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছিল ঢেউ খেলানো পাহাড়-ঝর্ণা-নদী-সবুজ অরণ্য আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিচিত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে। ধারণস্থান ছিল বান্দরবান শহরের প্রাণকেন্দ্রে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬০০ ফুট উপরে টাইগার পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত অপরূপ পর্যটন কেন্দ্র নীলাচলে। অনুষ্ঠানজুড়ে এখানকার সৌন্দর্যের পাশাপাশি আশেপাশেরও বিভিন্ন সৌন্দর্য তুলে ধরা হয় দারুণভাবে। এসবের মধ্যে এমন এমন দুর্গম অঞ্চলও রয়েছে যেখানে টিভি অনুষ্ঠান নির্মাণতো দূরের কথা কোনো টিভি ক্যামেরাও কখনো পৌঁছেনি।
এছাড়া আমেরিকা ও ভারতের নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনগুলোও ছিল বেশ আকর্ষণীয়। এবারের ইত্যাদিতে প্রচার হওয়া প্রতিটি প্রতিবেদনই ছিল মানবতার দুর্দান্ত প্রকাশ। বিশেষ করে ডাক্তার ভাই ও ডাক্তার দিদি জেসন-মারিন্ডি দম্পতির ব্যতিক্রমী কার্যক্রমের উপর প্রতিবেদনটি ছিল এককথায় অসাধারণ। এটি ছিল ২০১১ সালে ইত্যাদিতে প্রচার হওয়া একটি প্রতিবেদনের ধারাবাহিকতা। ওই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী ছিলেন ডা. এড্রিক বেকার। সেখানকার আরাম আয়েশের জীবন বাদ দিয়ে তিনি জীবন কাটিয়েছেন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে। টানা ৩২ বছর টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরের কালিয়াকুড়ি গ্রামের দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা দিয়েছেন তিনি। তাদের জন্য গড়ে তুলেছিলেন হাসপাতাল। সবাই তার মানবসেবায় মুগ্ধ হয়ে তাকে ‘ডাক্তার ভাই’ বলে ডাকতেন। এ প্রতিবেদনটি সেসময় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। নিজের তৈরি হাসপাতালেই ২০১৫ সালে মারা যান এড্রিক বেকার। মৃত্যুর আগে তিনি চেয়েছিলেন এ দেশের কোনো ডাক্তার যেন গ্রামে এসে তার প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের হাল ধরেন। কিন্তু ইত্যাদির প্রতিবেদন থেকেই জানা যায়, এ আহ্বানে কেউ সাড়া দেননি। তবে দেশের কেউ সাড়া না দিলেও তার আহ্বানে সুদূর আমেরিকা থেকে ছুটে এসেছেন আরেক মানবতাবাদী ডাক্তার দম্পতি জেসন এবং মারিন্ডি। শুধু বঞ্চিত মানুষকে চিকিৎসা দেবেন বলে তারা আমেরিকার বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে বাংলাদেশে এসে গ্রামের ধুলামাটির সঙ্গে পেতেছেন সুখের সংসার। শুধু যে নিজেরা এসেছেন তা নয়, সন্তানদেরও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন তারা। ভর্তি করেছেন গ্রামেরই স্কুলে। গ্রামের শিশুদের সঙ্গে তারা খেলছে। তারা থাকেন মাটির ঘরে। ডা. জেসন লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার স্ত্রী মারিন্ডি পরছেন শাড়ি। দুজনই বাংলা শিখেছেন। তাদের ছেলেমেয়েরাও শিখছে বাংলা। বলা যায় মানবতায় পরিপূর্ণ অন্যরকম এক জীবনযাপন। যা দারুণ শিক্ষণীয়ও বটে। এছাড়া এবারের অনুষ্ঠানে পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চঞ্চল কান্তি চাকমার ব্যতিক্রমী উদ্যোগের উপর প্রচার হওয়া মানবিক প্রতিবেদনটিও ছিল ভিন্নতায় ভরপুর। এবারের এসব আয়োজনের কারণে অনায়াসেই বলা যায়, মানবতা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে এবারের ইত্যাদিতে। আর অনুষ্ঠানের অন্যান্য আইটেমও ছিল বরাবরের মতোই বেশ উপভোগ্য। সব মিলিয়ে চমৎকার একটি ‘ইত্যাদি’ উপহার দেয়ার জন্য এর জনক হানিফ সংকেতের জন্য রইলো অনেক অনেক অভিনন্দন। আর এর পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডকেও সাধুবাদ।