শ্যামনগরে ভূয়া পরীক্ষার্থী আটকের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন


প্রকাশিত : December 2, 2019 ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরের শংকরকাটি তাহেরিয়া সুন্নিয়া স্বতস্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার ইবতেদায়ী ৫ম শ্রেনীর ভূয়া পরীক্ষার্থী আরিফা খাতুন আটকের ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত কমিটি আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত তদন্ত কমিটিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আকরাম হোসেনকে আহবায়ক, একাডেমিক সুপারভাইজার মিনা হাবিবুর রহমান ও উপজেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষা অফিসার সোহাগ হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে। আরিফা খাতুন কাছিহারানিয়া গ্রামের ইয়াকুব আলীর কন্যা। সে শংকরকাটি খাদিজা বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। গত ২৪ নভেম্বর ইবতেদায়ী প্রাথমিক সমাপনি শেষ পরীক্ষা (গণিত) গোবিন্দপুর আবু হানিফ কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্র থেকে  তাকে আটক করা হয়। কেন্দ্র পরীক্ষা সরকারি কর্মকর্তা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্টেক্টর আনোয়ার কবীর ও কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ গাজী শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে আরিফা খাতুন লিখিত অঙ্গীকার পত্রে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জানান, তাকে ভূল বুঝিয়ে এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাতে বাধ্য করান। ফলে সে সমাপনী এ পরীক্ষা স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে  বাতিল করতে ইচ্ছা পোষণ করেন। তার রোল নং-ম-১৬৬। তার পিতা ইয়াকুব আলী পরীক্ষা স্থগিত করে নিজ জিম্মায় বাড়িতে নিয়ে যান।সরেজমিনে দেখা যায়, আরিফা, ইয়াছমিন, নাজমা, সাদিয়া শংকরকাটি খাদিজা বালিকা বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ/৭ম শ্রেণিতে বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছে। জারিন তাসরিন মৌরী (জেএসসি ফলপ্রার্থী)। শংকরকাটি খাদিজা বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের ১০হাজার টাকা গ্রহণ করে তার ছাত্রীদের ৫ম শ্রেণিতে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করার সংবাদে সরেজমিনে তিনি অস্বীকার করেন,তবে ছাত্রীরা বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে স্বীকার করলেও তাদের তথ্য লিখিত দিতে অস্বীকার করেন। হাবিবুর রহমান সাজু গোবিন্দপুর কলেজিয়েট স্কুলে ৭ম শ্রেণিতে বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে রেজাউল করিম তার মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করান মর্মে সমাপনী পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।  যথাযথ তদন্তে মূল রহস্য বের  হবে। এদিকে স্থানীয়রা জানান একই নামে পাশাপাশি দুটি ইবতেদায়ী/দাখিল মাদ্রাসা থাকায় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণ নানাবিধ সমস্যায় পড়েন। প্রতিযোগিতায় টিকতে শিক্ষক রেজাউল করিম দুর্নীতি ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ২০১৯ সালে ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় ৬জন ছাত্র-ছাত্রীকে অংশগ্রহণ করার অভিযোগে তদন্তের দাবী উঠে। শিক্ষক রেজাউল করিম প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, আরিফা খাতুন আটক হলে তার পিতার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।