আটক আকবরকে যুদ্ধাপরাধ মামলায় আটক দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল


প্রকাশিত : December 2, 2019 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মাওলানা আকবর আলীকে প্রডাকশন ওয়ারেন্টের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আদালত তাকে ১২ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহীনুল ইসলাম, বিচারপতি আমির হোসেন ও বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদ্দারের বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মাওলানা আকবরকে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদনের শুনানি করেন, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম এবং চমন আরা।
১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা হাটখোলায় পুত্র গোলাম মোস্তফাকে নিয়ে বাজার করতে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী দেবহাটা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের রহমাতুল্যাহকে পুত্রের সামনেই নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে মাওলানা আকবর আলীর বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে মামলা করেন রহমাতুল্যার পুত্র গোলাম মোস্তফা। মামলাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খান পিপিএম বিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাওলানা আকবর কালিগঞ্জ উপজেলার ইন্দ্রনগর গ্রামের মৃত শেখ জবেদ আলীর পুত্র। দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর তিনি গত ৩০ অক্টোবর জেলার কলারোয়া থেকে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি একাধিক নাশকতা মামলায় আটক হয়ে সাতক্ষীরা কারাগারে আছেন।
যুদ্ধাপরাধসহ অর্ধশত নাশকতা মামলার পলাতক আসামি জামায়াত নেতা মাওলানা আকবর আলীকে গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ। ১০টি মামলায় তার বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলতবি আছে।
আকবর আলী যুদ্ধাপরাধী মামলাসহ ২০১৩ সালে নাশকতায় অভিযোগে জেলার বিভিন্ন থানায় প্রায় ৫০টিরও বেশি মামলায় আত্মগোপনে ছিলেন। তবে তিনি আত্মগোপনে থেকেও তার পুত্রদের সহযোগিতায় স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ৩৭ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫০৫ টাকা কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতা উত্তোলন করেছেন।
গত ৩০ অক্টোবর বুধবার রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ব্রজবক্স গ্রামে তার মেয়ের বাড়ি থেকে এক যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই), সাতক্ষীরা এই অভিযানে অংশ নেয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার) নিজে এই অপারেশনের নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও অপারেশনে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, এসবি, কলারোয়া থানা পুলিশের একাধিক দল অংশগ্রহণ করেন।
আকবর আলীর বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে যুদ্ধাপরাধের মামলা দায়ের হয়, যার নং জিআর ৯২/৯, কালিগঞ্জ।
২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে মাওলানা আকবর নিজেকে বাঁচাতে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর ২০১৩ সালে বিএনপি-জামাতের নেতৃত্বে দেশে নাশকতা শুরু হলে মাওলানা আকবর আলী সরকার পতনের লক্ষ্যে জামায়াতের হাইকমান্ডের নির্দেশে আবারো এলাকায় ফিরে নাশকতায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর পলাতক থাকা অবস্থায় পেনশনের প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করেন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা তাকে খুঁজছিল।