খুব দ্রুত সাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি জয়


প্রকাশিত : December 3, 2019 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে বিকাশের ২৬ লাখ টাকা ছিনতাই ও অস্ত্র মামলার মোস্ট ওয়ান্টেড আসামী সাদিককে খুঁজছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুলিশ জানায়, ২৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাইফুল ও দীপ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও সাদিকুর রহমান এর ২২ লাখ টাকা ও কিছু অস্ত্র নিয়ে পলাতক রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজী হয়নি পুলিশ। সূত্র জানায়, সাদিক যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য সীমান্তে বিজিবি সতর্ক আছে।
এদিকে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক পত্রদূতকে বলেন, ‘সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিকের বিষয়ে আমরা জানি। খুব দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎমিশ বলেন, ‘সাদিকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। তাকে ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘এত কিছুর পরও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সাদিকের থাকাটা রহস্যজনক। তার কারণে ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে। বন্দুকযুদ্ধে নিহত দীপ ও সাইফুল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিকের খুব কাছের লোক ছিল। সেই সাহসে বাজে আচরণ করতো। কিন্তু কিছু বলতে পারিনি। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কখন কিছু বলতে পারতো না। ওই নেতা আরও দাবি করেন, দীপ ও সাইফুল বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলে সাদিক বাহিনীর অন্যান্য সন্ত্রাসীরাও গা ঢাকা দিয়েছে। তবে সুযোগ পেলে আবারও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে পারে।
জেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, দীপ মুন্সিপাড়ার সোহাগ নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেও সাদিক ও স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির কারণে রক্ষা পেয়ে যায়। এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে সাদিক বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা। সাদিক নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঢাকায় অবস্থা করছিল। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দিতে কেন্দ্রীয় নেতারা সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় গেলেও সে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা আসেনি। দীপ ও সাইফুল নিহত হওয়ার পর সে ফেসবুকে তাদের পক্ষে আবেগি স্ট্যাটাস দিলেও পরে সেটা ডিলিট করে দেয়। এরপর থেকে সাদিকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে।
সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, ‘জেলা ছাত্রলীগ নেতা সাদিকের ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনও মেসেজ নেই। তবে সাতক্ষীরার বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবির টহল সর্তক অবস্থানে আছে। কেউ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে আটকে দেওয়া হবে।’
এদিকে ১ ডিসেম্বর বেলা ১টার দিকে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, টাকা ছিনতাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোট ৯জনের মধ্যে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এরই মধ্যে দুই আসামি সাইফুল ইসলাম ও মামুনুর রহমান দীপ গত ২৯ নভেম্বর রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। অস্ত্রসহ আটক দুই আসামি আজিজুর রহমান ওরফে সামী হাসান ওরফে সোহানকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।