১৬ ডিসেম্বর ১৬ টাকায় বিমান টিকিট!

অনলাইন ডেস্ক: মহান বিজয় দিবসে মাত্র ১৬ টাকায় এয়ার টিকিট বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে অনলাইন টিকিট এজেন্সি ২৪ টিকিট ডটকম। আগামী ১৬ ডিসেম্বর সারাদিন ২৪ ঘণ্টার জন্য পাওয়া যাবে ‘বিজয় উল্লাস অফার’।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুধু অভ্যন্তরীণ রুটে এয়ার টিকিট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি ১৬ জনের একজন ১৬ টাকায় টিকিট কিনতে পারবেন। বিকাশ, ডিমানি, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, এআরবি ব্যাংক, ইবিএল, লংকা-বাংলাসহ আরও কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জন্য থাকছে এই সুযোগ।

এবারের ১৬ ডিসেম্বর বিক্রি হওয়া মোট টিকিটের প্রতি ১৬ জনের মধ্যে একজন ভাগ্যবান ক্রেতা ১৬ টাকা বাদে অবশিষ্ট টাকা ফেরত পাবেন। একজন ক্রেতা যত খুশি টিকিট কিনতে পারবেন ও একাধিকবার বিজয়ী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিজয় দিবসে ১৬ টাকায় বিমান টিকিট বিক্রির পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক রুটে বেস ফেয়ারের ওপর বিশেষ ছাড় দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে তাদের ওয়েবসাইটে (www.24tkt.com)।

২৪ টিকিট ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বরকে রাঙিয়ে তুলতে ‘বিজয় উল্লাস অফার’ ঘোষণা করা হয়েছে। অনলাইনে এয়ার টিকিট ক্রয়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা এই অভিনব পদ্ধতি বেছে নিয়েছি। বিজয় দিবসে ২৪ ঘণ্টায় আমরা ১৬০০ গ্রাহককে ১৬ টাকায় এয়ার টিকিট দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।’

২৪ টিকেট ডটকম হলো ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বিডি ট্যুরিস্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

শীতে শ্রীমঙ্গল, খেয়ে আসুন আট রঙের চা

ভ্রমণ ডেস্ক: চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলে যেতে পারেন এই শীতে। মৌলভীবাজারের এই উপজেলার বেশিরভাগটা জুড়েই রয়েছে চা-বাগান; এর অপার নিসর্গে মন্ত্রমুগ্ধ হন প্রায় সব পর্যটকই। পাহাড়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা চা বাগান, বিস্তীর্ণ হাওড়ের জলরাশি, অবারিত সবুজ বনানী এখানে সৃষ্টি করেছে অপরূপ সৌন্দর্যের এক উপাখ্যান। তাই প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম একটি প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গল।

শ্রীমঙ্গলে উপভোগ করার মত অনেক কিছুই রয়েছে। চা বাগান, বাইক্কা বিল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক সবসময় পর্যটকদের সমাগমে মুখর থাকে। চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল বেড়াতে আসবেন আর নীলকণ্ঠ চা কেবিনের কাপে চুমুক দেবেন না তা কি করে হয়! জনপ্রিয় এই সাতরঙা চা হয়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের অন্যতম এক অনুষঙ্গ।

নীলকণ্ঠ চা কেবিন, দোকানের নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক ধরণের মাধুর্য। আর এই দোকানেই পাওয়া যায় দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত ‘সাত রঙের চা’। তবে এখন আট রঙের চা পাওয়া যায়। গ্রিন চা, ব্লাক চা, লেবু, আদা ও দুধ মিশ্রণেই তৈরি হয় এই চা। চায়ের আটটা রং পরিস্কার বোঝা যায়। বর্তমানে আট স্তরের চা ৮০ টাকা, সাত স্তরের ৭০ টাকা, ছয় স্তরের ৬০ টাকা, পাঁচ স্তরের ৫০ টাকা, চার স্তরের ৪০ টাকা, তিন স্তরের ৩০ টাকা ও দুই স্তরের চা ২০ টাকা। এছাড়া হাই স্পেশাল চা ২০ টাকা, স্পেশাল দুধ চা ১০ টাকা, গ্রিন চা ৫ টাকা, আদা চা ৫ টাকা, লাল চা ৫ টাকা এবং লেবু চা ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গলের চা বাগান

শ্রীমঙ্গলের চা বাগান

এই চা নিয়ে লোকমুখে নানা গল্প শোনা যায়, তবে আসল গল্পটা হলো- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার আটানিবাজারে যৌথভাবে ব্যবসায় নেমেছিলেন রমেশ রাম গৌড়। ব্যবসার দুবছর না যেতেই এক অংশীদার পুরো টাকা আত্মসাৎ করে নেয়। পরে তিনি ভাগ্য বদলের জন্য ২০০০ সালের মার্চে পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে চলে আসেন। সঙ্গে ছিল মাত্র দেড় হাজার টাকা। রামনগর মণিপুরী বস্তিতে ঘর ভাড়া নিয়ে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে চাকরি নেন।

কয়েক মাস যেতে না যেতেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ফিনলে টি কোম্পানির কাকিয়াছড়া চা বাগানে একটি চায়ের দোকান খুলে বসেন। এরপর নিজে গবেষণা করে ২০০২ সালে এক গ্লাসে দুই-রঙা চা আবিষ্কার করেন। ধীরে ধীরে চায়ের স্তর বাড়াতে শুরু করেন। এ পর্যন্ত তার চায়ের কাপ আট স্তরে এসে দাঁড়িয়েছে।

রমেশের আবিস্কৃত এ চায়ের মতো অবিকল চা এখন পাওয়া যায় অনেক স্থানেও। তবে তার চায়ের মতো স্বাদ নেই। রহস্যজনক এই আট ও সাত রঙয়ের চা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ভাবনীয় বিষয়। এক লেয়ার অপর লেয়ারের সঙ্গে মিশে না! এই রহস্যময় চা শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের উপস্থিতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া উদ্যানের পাশেই চা দোকানটি অবস্থিত। প্রথমেই শ্রীমঙ্গল বা কমলগঞ্জে আসতে হবে। এরপর রিকশা বা যে কোনো বাহনযোগে শহরের শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে অথবা মণিপুরী অধ্যুষিত রামনগর এবং কালিঘাট রোডের ১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ক্যান্টিনে রমেশের নীলকন্ঠ-এ আসতে পারেন।

বান্দরবানের ‘দার্জিলিং’ ও সাঙ্গু নদীতে একদিন

ভ্রমণ ডেস্ক: বান্দরবান, স্রষ্টা এই জেলাতে উজাড় করে ঢেলেছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পাহাড়, নদী ও বন—কোনোটিরই অভাব নেই। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের বুকে জেগে আছে গাছ-গাছালি ও বিশাল এক প্রাণীজগৎ। এখানকার পথে-ঘাটে ছড়িয়ে আছে ভিন্ন ভিন্ন জীবনকথা। কয়েকদিন আগেই ঘুরে এলাম বান্দরবানের দার্জিলিং পাড়া থেকে। তবে গল্পের শুরুটা হয়েছিল একটা নদী নিয়ে।

বান্দরবান শহর থেকে কিছুটা ভেতরে যেতেই দেখা পেলাম সুন্দর একটি নদীর। পাহাড়, সবুজ আর বিশাল আকাশে ভেসে থাকা শুভ্র মেঘের সৌন্দর্যের ভিড়েও এই নদীটির রূপ উপেক্ষা করার কোনো উপায় ছিল না। সবুজ জল বুকে ধারণ করা নদীটির পাশ ঘেঁষা পাহাড় ও সবুজের চাদর সৌন্দর্য ঢাকেনি নদীটির, বরং আরো বাড়িয়েছে। পাহাড়ি পথে চলতে চলতে অদ্ভুত এক প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছিলাম সবুজ জলের এই নদীটির দেখা পেয়ে। অসাধারণ সৌন্দর্যের এই নদীর নাম সাঙ্গু।

নদীটির আরেক নাম ‘শঙ্খ’; এর অপার রূপ দেখে মুগ্ধ হবেন না এমন মানুষ পাওয়া ভার। অপূর্ব এই নদীর দুইদিকে পাহাড়ের সারি। বর্ষায় পাহাড় বেয়ে নামে ছোট-বড় অসংখ্য ছড়া। ছল ছল শব্দে ছড়ার চঞ্চল জল এসে মেশে নদীতে। পাহাড়ের ওপরে ভেসে বেড়ায় মেঘ। মনে হয়, ওই চূড়ায় উঠলেই বুঝি ছোঁয়া যাবে! বান্দরবানে গিয়ে এমনটা মনে হওয়াটা মোটে বেশি নয়। সাঙ্গুর তীরবর্তী পাহাড়ের চূড়ায় সত্যিই জমে থাকে মেঘ। গাছের ফাঁকে আটকে যায়। সেখানেই ঝরে যায় বৃষ্টি হয়ে।

সাঙ্গু নদী

সাঙ্গু নদী

পাহাড়ের কোল বেয়ে এঁকে-বেঁকে চলছে কোথাও উন্মত্ত আবার কোথাও বা শান্ত এই নদী। দুই তীরের পাহাড়, বন, নদী ও ঝরনার সৌন্দর্যে আপনি বিমোহিত হবেন। এক কথায় এই নদীটির সৌন্দর্যে আপনি শুধু অবাকই হবেন না বরং মুগ্ধতা আপনাকে গ্রাস করবে। এই সৌন্দর্য সত্যিই ভুবন ভোলানো। শীতকালে এই নদীটিতে তেমন স্রোত না থাকলেও বর্ষাকালে এখানে প্রবল স্রোত থাকে।

বান্দরবান থেকে কেওক্রাডংয় যাত্রায় আপনি চাইলে সাঙ্গু নদী, চিংড়ি ঝরনাসহ আরো কিছু প্রাকৃতিক মুগ্ধতার সঙ্গে যোগ করতে পারেন দারুণ একটি গ্রামের সৌন্দর্যও। নাম- দার্জিলিং পাড়া। এই গ্রামটি অনেকের কাছে বাংলাদেশের দার্জিলিং। অনেকেই শুনে থাকবেন এই গ্রামের নামটি, সঙ্গে এর মন ভোলানো সৌন্দর্যের কথাও। কেওক্রাডং পাহাড়ে যাওয়ার পথে রয়েছে এই গ্রামটি। পাহাড়ের চূড়ার অনেকটা কাছাকাছি পৌঁছালেই দেখা মিলবে ছোট্ট এই গ্রামের। পুরো পথের তুলনায় জায়গাটি ব্যতিক্রম। দূর থেকেই দৃষ্টি কাড়ে এখানকার রঙিন বাড়িগুলো। তাছাড়া এখানে দেখা পাবেন জানা, অজানা অনেক রঙিন ফুলের।

পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত ছোট্ট গ্রামটি যেন প্রাকতিক সৌন্দর্যে আঁধার। সবুজের সমারোহে সাজানো চারপাশ। কিছুটা দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন হাত বাড়ালেই মেঘ ছোঁয়া যাবে। তবে মেঘেরা এখানে বাড়িগুলোর চেয়েও অনেকটা নিচে থাকে। ভোরে পাহাড়ের মাঝখানে ঝুলে থাকা মেঘের দৃশ্য দেখতে বেশ লাগবে। এছাড়া দূর পাহাড়ের কোলঘেঁষে সূর্যটা যখন আলো ফেলে এই গ্রামে সেই দৃশ্যটিও আপনাকে মুগ্ধতায় ঘিরে ফেলবে। আমরা যখন পাহাড়ের বুকে বেশ পথ হেঁটে এই গ্রামে পৌঁছেছিলাম তখন দুপুর হয়ে গিয়েছিল। মাথার ওপর ঝলমলে রোদে এই গ্রামটি তখন শান্তির উৎস হয়ে উঠেছিল আমাদের কাছে।

মুগ্ধকর পাহাড়

মুগ্ধকর পাহাড়

সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়, এটি বেশ পরিচ্ছন্ন ও গোছানো একটি গ্রাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আরো বেশি মুগ্ধ হতে হয় এখানকার মানুষের ব্যবহার ও আচরণে। গ্রামটিতে বাস করা মানুষের সংখ্যা বেশ কম। ৩০টির মতো পরিবার বসবাস করে এখানে। এদের অধিকাংশই বম জাতি। আমাদের চেয়ে তাদের জীবনযাপন যেমন ভিন্ন, তেমনি ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য ভাষার বেলাতেও।

দার্জিলিং পাড়া থেকে ফেরার পথে আবারো চোখে পড়লো সাঙ্গু বা শঙ্খ নদী। অপরূপ এই নদীর জলে আপনি স্বল্প খরচে দারুণ নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পেতে পারেন। এই নদীর উদার সৌন্দর্য যেমন আপনাকে মুগ্ধ করবে তেমনি মনে এনে দেবে অনাবিল প্রশান্তি। অপূর্ব জলের বুকে ভেসে বেড়াতে বেড়াতে আপনি হারিয়ে যাবেন সৌন্দর্যের জগতে। নদীর দুপাশের পাহাড়ি সৌন্দর্য আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করবেই। সাঙ্গু নদীতে নৌকা ভ্রমণের পাশাপাশি নদীর আশেপাশে পিকনিকের সুব্যবস্থা আছে। তাই চাইলে সদলবলে পিকনিকের আনন্দেও মেতে উঠতে পারবেন।

ঘুরে আসুন ‘পাখির গ্রাম’ পুন্ডুরিয়া

অনলাইন ডেস্ক: হেমন্তের রাতে গায়ে কাঁথা জড়িয়ে ঘুমালেন আপনি। চোখ বুজতেই হলো ভোর। চারদিকে কুয়াশার দাপট, চুলায় ভাপা পিঠা। আপনাকে বিছানা থেকে নামানোর দায়িত্বটা পাখিদের। নানা রংয়ের বর্ণের পাখির কিচিরমিচির ডাকে উঠে যেতেই হবে আপনাকে। পুন্ডুরিয়া গ্রামের প্রতিটি সকালই এমন।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় পুন্ডুরিয়া গ্রামের অবস্থান। এই গ্রামে প্রবেশ করলেই হয়তো আপনি লিখে ফেলবেন- আহা শীতের সকালে কত ফুল ফোটে, কত পাখি গায়। এদেশ পাখির দেশ, কত পাখি আছে এই দেশে, কত রূপ! কত রং! কত গান সে পাখিরা জানে। নানা রং রূপের বৈচিত্রময় পাখিরা বাংলাদেশকে রূপময় করেছে।

পুন্ডুরিয়া গ্রামের ছন্দময় রূপে বিমোহিত হতে প্রতিদিন শত শত লোকজন আসেন। তাই পুন্ডুরিয়া গ্রাম এখন পাখির গ্রাম নামেও পরিচিতি লাভ করেছে। জানা যায়, ষাটের দশক থেকে এ গ্রামে দেশি বিদেশি নানা জাতের পাখিদের আগমন ঘটে। পাখিদের প্রতি গ্রামের লোকজনের ভালোবাসায় তারা খুঁজে পেয়েছে এক অভয়ারণ্য। এখানে বসবাস করা পাখি গুলো ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর পাশাপাশি থাকছেও দলবেঁধে। এদের মধ্যে থাকা রাতচোরা, শামুকখোল, বক, পানকৌড়ি, হারগিলা ও বাদুর অন্যতম।

গাছে গাছে দেখা মেলে হাজারো পাখির

গাছে গাছে দেখা মেলে হাজারো পাখির

স্থানিয় রায়কালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান বলেন, পুন্ডুরিয়া পাখি গ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সরকারের সহযোগিতায় দেশি-বিদেশি ওই সব পাখিদের জন্য অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, পুন্ডুরিয়া গ্রামের গাছ গুলোতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার পাখির বসবাস। পাখিগুলোকে রক্ষা করার জন্য যাতে কোনো রোগ বালাই না হয় সে জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি তদারকি করা হচ্ছে।

সেন্টমার্টিন ট্যুর প্ল্যান: দুই দিন এক রাত

অনলাইন ডেস্ক: নভেম্বর থেকে মার্চ—এই পাঁচ মাস সেন্টমার্টিন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। বালি, পাথর, প্রবাল কিংবা জীব বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য অনুপম অবকাশ কেন্দ্র সেন্টমার্টিন। আকাশ আর সমুদ্রের নীল সেখানে মিলেমিশে একাকার, তীরে বাঁধা নৌকা, নান্দনিক নারিকেল বৃক্ষের সারি আর ঢেউয়ের ছন্দে মৃদু পবনের কোমল স্পর্শ—এটি দেশের প্রবাল দ্বীপটির সৌন্দর্য বর্ণনার ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র!

ঢাকা থেকে বাসে টেকনাফ জাহাজ জেটিতে পৌঁছাতে ১০-১২ ঘণ্টা সময় লাগে। বাসের ধরণ ও মান অনুযায়ী জনপ্রতি টিকেটের ভাড়া আটশ’ থেকে দুই হাজার টাকা হতে পারে। টেকনাফ জাহাজ জেটি থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টায় সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ ছেড়ে যায়। তাই তার আগেই আপনাকে যেতে হবে টেকনাফে। অন্যদিকে প্রতিদিন বিকেল ৩টায় এসব জাহাজ সেন্টমার্টিন ছেড়ে আসে। জাহাজের শ্রেণীভেদে যাওয়া-আসা ভাড়া ৫৫০ থেকে ১৫০০ টাকা।

প্রথম দিন

বাস আপনাকে জেটির কাছেই নামিয়ে দিবে। জাহাজের টিকিট অগ্রীম কাটা না থাকলে তখনই সংগ্রহ করে নিবেন। টেকনাফ থেকে কেয়ারী সিন্দাবাদ, কেয়ারি বে ক্রুজ এন্ড ডাইন, এম ভি গ্রীনলাইন ১, এমভি ফারহান, আটলান্টিকসহ আরো কয়েকটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। যেতে সময় লাগবে আড়াই থেকে তিনঘণ্টা।

ছেঁড়া দ্বীপ

ছেঁড়া দ্বীপ

দুপুর ১২ টার মধ্যেই সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছে যাবেন। হোটেল বুকিং করা না থাকলে ঠিক করে নিন। তারপর চেক ইন করে বেরিয়ে পড়ুন সমুদ্র স্নানের উদ্দেশ্যে। এরপর দুপুরের খাবার খেয়ে নিন। এক্ষেত্রে কেয়ারি মারজান রেস্তোরাঁ, বিচ পয়েন্ট, হোটেল আল্লার দান, বাজার বিচ, আসাম হোটেল, সি বিচ, রিয়েল রেস্তোরাঁ, হাজী সেলিম পার্ক ও হোটেল সাদেক-কে বেছে নিতে পারেন।

বিকেল বেলা পশ্চিম বিচে সময় কাটাতে পারেন অথবা হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকলে জেটি ঘাট থেকে ট্রলার/স্পিড বোটে চলে যান ছেঁড়া দ্বীপ ভ্রমণে। যদি ছেঁড়া দ্বীপ যান তাহলে সূর্যাস্থ দেখে হোটেলে সন্ধ্যার ফিরে আসুন। রাতে বারবিকিউ করতে চাইলে আপনার রিসোর্টের সঙ্গে কথা বলুন; তারাই ব্যবস্থা করে দিবে। এক্ষেত্রে নিজেরা মাছ বাচাই করে কিনে দেয়ার চেষ্টা করবেন।

দ্বিতীয় দিন

ঘুম থেকে উঠুন খুব ভোরে। তারপর সাইকেল ভাড়া করে বা পায়ে হেঁটে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ঘুরে দেখতে পারেন। পায়ে হেঁটে দ্বীপ ঘুরতে বের হলে অবশ্যই সঙ্গে খাবার পানি নিয়ে নিবেন। ৩-৪ ঘণ্টা সময় নিয়ে দ্বীপের চারপাশ ঘুরে দেখতে ভালই লাগবে। আর আগের দিন যদি ছেঁড়া দ্বীপ না গিয়ে থাকেন তাহলে সকালের সময়টা কাটিয়ে আসুন। দুপুরের আগেই শেষ সমুদ্র স্নান করে নিতে পারেন! খাওয়া দাওয়া সেরে তিনটার মধ্যে জাহাজে চড়ে বসুন।

সেন্টমার্টিন জেটি ঘাট থেকে জাহাজগুলো ঠিক বিকেল ৩ টায় ছেড়ে যায়। তাই সময়ের আগে জেটি ঘাটে উপস্থিত না হতে পারলে জাহাজ মিস হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এমন ক্ষেত্রে হয় আপনাকে সেদিন দ্বীপে থাকতে হবে অথবা ট্রলারে করে ফিরতে হবে; যা অনেকটা ঝামেলার। সেন্টমার্টিন দ্বীপের জাহাজ জেটি এবং টেকনাফ জাহাজ জেটি থেকে সরাসরি ঢাকায় আসার বিভিন্ন বাসের টিকেট পাওয়া যায়। আপনার পছন্দের বাসে বাড়ির পথে রওনা দিয়ে দিন। অথবা যদি কক্সবাজার যেতে চান তাহলে টেকনাফ থেকে বাসে বা সিএনজিতে কক্সবাজার যেতে পারবেন।

শতবর্ষী ‘গায়েবি দেউল’ অযত্নে থাকলেও গায়ে জমেনি শ্যাওলা

অনলাইন ডেস্ক: লাল রঙা একটি সুউচ্চ দালান। এতে নেই কোনো দরজা জানালা। চতুর্দিকে তার দেয়ালের প্রাচীর। বিস্তৃত জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা ১২ কোণ বিশিষ্ট একটি স্থাপনা। ভূমি থেকে প্রায় ২০ ফুট পর্যন্ত সমানভাবে ওপরে উঠে গেছে। এটি একটি দেউল। প্রায় ৮০ ফুটের মত উচ্চতা হবে এর। দেউলের দেয়ালে আঁকা দেব-দেবী ও জীব-জন্তুর চিত্রকলা। বলছি মথুরাপুর দেউলের কথা।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এক কোঠাবিশিষ্ট বিশাল এই দেউলটির নির্মাতা কে তার সঠিক কোনো তথ্য জানা নেই কারো। তবে অত্র অঞ্চলে জনশ্রুতি আছে, মোঘল সম্রাট-এর সেনাপতি সংগ্রাম সিংহ ভূষণার রাজা (বর্তমানে মাগুরা জেলার তৎকালীন রাজা) মুকুন্দরাম রায়কে ফতেহগঞ্জপুরে যুদ্ধে পরাজিত করে বিজয়ের স্মারক হিসেবে এই দেউলটি নির্মাণ করেন। তবে কেউই নিশ্চিত নয় দেউলটি কার। তাই অনেকে গায়েবি দেউল বলেও জানে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়টি হলো, শত শত বছর ধরে অযত্নে পড়ে থাকা এই দেউলের গায়ে সামান্য শ্যাওলাটুকুও জমেনি।

দেউলের অবস্থান

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে অবস্থিত এই দেউলটি। তাই এর নাম মথুরাপুর দেউল। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী বাজার থেকে মধুখালী-রাজবাড়ী ফিডার সড়কের দেড় কিলোমিটার উত্তরে এটি। আবার মধুখালী-বালিয়াকান্দি আঞ্চলিক সড়কে মধুখালী সদর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে গাজনা ইউনিয়নে সড়কের পশ্চিম দিকে অবস্থিত এটি। এর বিপরীত দিক দিয়ে বয়ে গেছে চন্দনা নদী।

এক ঐতিহাসিক নিদর্শন এটি

এক ঐতিহাসিক নিদর্শন এটি

দেউল কথন

মথুরাপুরের এই ঐতিহাসিক দেউলকে ঘিরে স্থানীয় অধিবাসীদের নিকট হতে জানা যায় অনেক তথ্য। মথুরাপুর গ্রামের সন্তান যিনি একটি পাটকলের কর্মকর্তা মোঃ সেলিমুজ্জামান এই দেউলটি সম্পর্কে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, দেউলটির গাঁয়ে অনেক নকশা ও মুর্তি আঁকা রয়েছে। সেখানে লক্ষণের তৈরি মুর্তিও রয়েছে। সেই থেকে অনেকের ধারণা এটি পাল বংশের আমলের।

তবে প্রচলিত আরেকটি গল্পও রয়েছে, রাজা মথুরা নামে একজন রাজা ছিলেন। যিনি এটি তৈরি করেন। তবে রাজা মথুরার ব্যাপারে আর কিছুই জানা নেই কারো। আবার এটি মোঘল আমলে যুদ্ধক্ষেত্রের ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল বলেও অনেকে মনে করেন।

সেলিমুজ্জামান বলেন, আমরা ছোটবেলায় দেখেছি সেখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পুজা করতেন। এছাড়া সেখানে মেলাও হতো। তবে এখন আর এসব হয়না। তার মতে, এই দেউলটি দেশের প্রাচীন স্থাপনার একটি অনন্য কীর্তি। এটিকে কেন্দ্র করে এখানে পর্যটনভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠা সম্ভব।

মথুরাপুর দেউলের লাগোয়া উত্তর দিকের প্রতিবেশী ফরিদপুর চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রায়হান শিকদার বলেন, ছোটবেলায় দেখেছি দেউলে একটি ছোট সাইনবোর্ড ছিল। সেখানে উল্লেখ ছিল যে এটি মোঘল সাম্রাজ্যের আগে সেনাপতি মানসিংহের স্মৃতিস্তম্ভ। সেটি এখন নেই। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে একটি বড় সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। সেখানে এর ঐতিহাসিক বিবরণ লেখা রয়েছে।

তিনি জানান, অনেকে এই দেউলটিকে একটি গায়েবি স্থাপনা বলে থাকে। তবে প্রকৃত অর্থে এটি একটি স্মৃতিস্তম্ভ। এই দেউলটি প্রতিদিন অনেক পর্যটক দেখতে আসেন। তবে এখানে আসা দর্শণার্থীরা দীর্ঘসময় কাটাতে এসে বিপাকে পরেন। সেখানে নেই টয়লেট। বাধ্য হয়ে আমাদের বাড়িতেই তারা ধর্ণা দেন। এজন্য আমরা প্রতিনিয়ত একটি বিড়ম্বনায় পড়ি। এখানে কোনো শেড বা ছাউনিও নেই। বৃষ্টি এলে দর্শনার্থীদের দাড়ানোর কোনো জায়গা থাকেনা। গাড়ি পার্কিংয়েরও কোনো ব্যবস্থা নেই।

এক ক্ষবিশিষ্ট দেউল

এক ক্ষবিশিষ্ট দেউল

দেউলের কাঠামো

দেউলটি বারো কোণ বিশিষ্ট এবং মাটি থেকে প্রায় ২১ দশমিক ২ মিটার উঁচু; যার ভেতর একটি ছোট কক্ষ রয়েছে। এর গঠন-প্রকৃতি অনুসারে একে মন্দির বললে ভুল হবে না। এটি একটি রেখা প্রকৃতির দেউল। ষোড়শ শতাব্দীর স্থাপনাগুলোর মধ্যে মথুরাপুর দেউল সম্ভবত একমাত্র রেখা প্রকৃতির দেউল। এটি বারো কোণ বিশিষ্ট একটি ভবনের মতো স্থাপনা। দেউলটিতে দুইটি প্রবেশপথ আছে। একটি দক্ষিণমুখী, অন্যটি পশ্চিমমুখী।

এটি তৎকালীন ভবনগুলোর মধ্যে একমাত্র বারো কোণবিশিষ্ট কাঠামো। বারোটি কোণ থাকায় ওপর থেকে দেখলে এটিকে তারার মতো দেখা যায়। দেউলটির উচ্চতা ৮০ ফুট। স্থাপনাটির মূল গঠন উপাদান চুন-সুরকির মিশ্রণ। দেউলের বাইরের দেয়ালটি লম্বালম্বিভাবে সজ্জিত, যা আলোছায়ার সংমিশ্রণে এক দৃষ্টিনন্দন অনুভূতির সৃষ্টি করে।

পুরো স্থাপনায় টেরাকোটার জ্যামিতিক ও বাহারি চিত্রাঙ্কন রয়েছে। রামায়ণ কৃষ্ণলীলার মতো হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীর চিত্র, গায়ক, নৃত্যকলা, পবন পুত্র বীর এবং যুদ্ধচিত্রও এই দেউলের গায়ে খচিত রয়েছে। প্রতিটি কোণের মাঝখানে কৃত্তিমুখা স্থাপন করা রয়েছে। তবে দেউলটির কোথাও কোনো লেখা পাওয়া যায়নি। বাংলার ইতিহাসে এর নির্মাণশৈলী অনন্য বৈশিষ্ট্য বহন করে।

দেউলের গাঁয়ে আঁকানো বিভিন্ন নকশা

দেউলের গাঁয়ে আঁকানো বিভিন্ন নকশা

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে, সংগ্রাম সিং নামক বাংলার এক সেনাপতি এটি নির্মাণ করেছিলেন। ১৬৩৬ সালে ভূষণার বিখ্যাত জমিদার সত্রাজিতের মৃত্যুর পর সংগ্রাম সিংকে এলাকার রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেয়া হয় এবং তৎকালীন শাসকের ছত্রছায়ায় তিনি বেশ ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। এলাকার রীতি অনুসারে, তিনি কাপাস্তি গ্রামের এক বৈদ্য পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করেন এবং মথুরাপুর বসবাস শুরু করেন। অন্য এক সূত্র মতে, সম্রাট আকবরের বিখ্যাত সেনাপতি মানসিং রাজা প্রতাপাদিত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের স্মারক হিসেবে এই দেউল নির্মাণ করেছিলেন। সে অনুযায়ী, মথুরাপুর দেউল একটি বিজয়স্তম্ভ। তবে সূত্রটির সত্যতা নিরূপণ সম্ভব হয়নি।

দেউলের বর্তমান অবস্থা

দেউলটি রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য সেখানে একজন কেয়ারটেকার রয়েছেন। রায়হান শিকদার বলেন, শত শত বছরের প্রাচীন এই দেউলটি দীর্ঘকাল অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকলেও এর গায়ে কোনোদিন শ্যাওলা পড়েনি। তবে ২০০০ সালে যেই সংস্কার কাজ করা হয়েছে সেগুলো নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। তিনি জানান, দেউলের সঙ্গেই অনেক পুরনো একটি কালিমন্দির ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পরপর মন্দিরটি ভেঙে যায়। সেটি আর সংস্কার করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও পুত্রবধুসহ অনেক দেশবরেণ্যরা ঐতিহাসিক এই নিদর্শনটি দেখতে সেখানে গিয়েছেন। এখনো দেশ বিদেশের অনেক পর্যটক সেখানে যান দেউলটি দেখতে। দেশে এমন স্থাপনা আরো দু’টি স্থানে থাকলেও এটিই সেরা। এজন্য এই স্থাপনাটিকে ঘিরে সরকার আরো উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নিতে পারে। এতে এই স্থানটি একটি অন্যতম পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

বাংলাদেশিদের জন্য সিঙ্গাপুর ট্যুরিজম বোর্ডের নতুন উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক: পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর ট্যুরিজম বোর্ড (এসটিবি)। এর শিরোনাম ‘ইন সিঙ্গাপুর ইনসেন্টিভস অ্যান্ড রিওয়ার্ডস (ইন্সপায়ার)’। বৈশ্বিক সম্মেলন, ইনসেন্টিভস, কনভেনশন ও প্রদর্শনী (এমআইসিই) ক্ষেত্র থেকে দেশটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পর্যটক সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় এসটিবি।

সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ট্যুরিজম বোর্ড এমআইসিই আওতাভুক্ত পর্যটকদের জন্য দলবদ্ধভাবে ভ্রমণের ৬৩ ধরনের অভিজ্ঞতা নির্বাচন করেছে। এসব অভিজ্ঞতার মধ্যে খাবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দর্শনীয় স্থানে দলগঠনের চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা হবে। দলবদ্ধভাবে ভ্রমণকে উৎসাহ প্রদান এবং পর্যটকরা যেন সিঙ্গাপুর ভ্রমণের অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন সেজন্য এসব সুবিধাকে ‘ইন্সপায়ার’ প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এগুলোকে ভাগ করা হয়েছে চারটি বিভাগে। যেমন সিঙ্গাপুরের খাবার, বিনোদন ও রাতের জীবন, থিম্যাটিক ট্যুর ও শেখার অভিজ্ঞতা, আকর্ষণভিত্তিক ও স্বতন্ত্র দল তৈরির কার্যক্রম।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র বোটানিক গার্ডেনে পর্যটকদের পছন্দ অনুযায়ী গুল্ম ও স্পাইস দিয়ে তৈরি খাবার পাওয়া যায়। কোনও পর্যটক দল যদি সিঙ্গাপুরের সিলিকন ভ্যালি সফরে আগ্রহী হন, তাহলে তারা ওয়ান নর্থ এলাকায় ভ্রমণ করতে পারেন। যেসব পর্যটক সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত সবুজ ভূমির সৌন্দর্য দেখতে চান তারা সমুদ্রের পাশের গার্ডেনগুলোতে র‍্যাপসোডি শো উপভোগ করতে পারেন। ওসিবিসি স্কাইওয়ে থেকে সাগরের পাশের এসব জায়গায় রাতের মনোরম রূপ দেখা যায়।

এ বছরের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সিঙ্গাপুরে ভ্রমণ করলে ইন্সপায়ার প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারবেন এমআইসিই ক্ষেত্রের পর্যটকরা। দলটিতে সর্বনিম্ন ২০ জন বিদেশির অংশগ্রহণ থাকতে হবে এবং তাদের সিঙ্গাপুরে কমপক্ষে তিন দিন অবস্থান করতে হবে। আগ্রহীদের অবশ্যই ২০২১-এর ৩১ মার্চের মধ্যে https://www.visitsingapore.com/mice/en/ ওয়েবসাইটে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

সিঙ্গাপুরে পাখির খেলা উপভোগ করছেন পর্যটকরাবিশ্বব্যাপী ইন্সপায়ার প্রোগ্রামটি চালুর মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে বিটিএমআইসিই ভ্রমণকারীদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশাবাদী দেশটির ট্যুরিজম বোর্ড। ২০১৮ সালে ২৯ লাখেরও বেশি বিটিএমআইসিই পর্যটক সিঙ্গাপুরে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন, যা ২০১৭ সালের পর্যটক সংখ্যা থেকে ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। ২০১৮ সালে বিদেশি পর্যটক সমাগম আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬৮ কোটি সিঙ্গাপুর ডলার রাজস্ব এসেছে।
সিঙ্গাপুর ট্যুরিজম বোর্ডের ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ মেলিসা অও বলেন, ‘২০১৮ সালে বিটিএমআইসিই ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের পর বৈশ্বিকভাবে ইন্সপায়ার প্রোগ্রামটি চালু করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে করপোরেট গ্রুপে এই সুবিধা দেওয়া হয়। এবারের ইন্সপায়ার-এর বৈশ্বিক সংস্করণে আমেরিকা, উত্তর এশিয়া, ওশেনিয়াসহ আরও কিছু দেশের বাজারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

সড়কপথে বিশ্ব দেখছেন বাংলাদেশের অপু

অনলাইন ডেস্ক: বিদেশ যাত্রা মানেই বিমানে চড়া। কিন্তু বাংলাদেশের ছেলে তানভীর অপু বেছে নিয়েছেন সড়কপথকেই। এরইমধ্যে বিশ্বের ৬৮টি দেশের ৭১৫টি শহর ঘুরেছেন তিনি। দূরত্বের হিসাবে যা প্রায় ১ লাখ কিলোমিটার। কোনো শহরে যাওয়ার আগে সেখানকার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সন্ধান করেন অপু। আগেই জেনে নেন সেখানে কোনো বিখ্যাত মানুষের বাড়ি বা জাদুঘর আছে কি-না, জাতীয় উদ্যান বা বিখ্যাত ভাস্কর্যের খোঁজও নেন। পরিকল্পনা পাকা করেই পথ ধরেন নতুন কোনো অজানা দর্শনে।

বিশ্ব পরিব্রাজক তানভীর অপুর পেশাগত জীবনে স্থায়ী কোনো চাকরি নেই। ঘুরতে ভালোবাসেন। এক শহর থেকে আরেক শহরে চলে যান হুটহাট করেই। ফলে স্থায়ী কোনো চাকরি করা সম্ভব হয় না। মন চাইলে আর পকেটে টাকা থাকলেই বেরিয়ে পড়েন ঘুরতে। কীভাবে সম্ভব? প্রশ্নটা আপনার মাথায় আসতেই পারে। অপু বলেন, ‘পরিশ্রমই হচ্ছে আমার সম্বল। খণ্ডকালীন বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হই। পয়সা জোগাড় হলেই বেরিয়ে পড়ি ঘুরতে। ভ্রমণের জন্য মনের ইচ্ছেটা জরুরি, অর্থ নয়। আমি সস্তা হোটেলে রাত কাটাই, সস্তা খাবার খাই, প্রচুর হাঁটি। নতুন একটা শহর হেঁটে হেঁটে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলি। জীবন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।’

৩৯ বছর বয়সী অপুর বেড়ে ওঠা রাজশাহীতে। মা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক পদে চাকরি করতেন, বাবা ইব্রাহীম আলী দেওয়ান ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক। দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে সবার বড় অপু। ২০০৬ সালে তিনি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডে পাড়ি জমান। এখনো থাকেন ফিনল্যান্ডে; দেশটির নাগরিকত্বও পেয়েছেন। তবে ভ্রমণে অনুপ্রাণীত হয়েছেন পাখিবিশেষজ্ঞ ইনাম আল হকের কাছ থেকে। তানভীর অপু বলেন, ‘ইনাম আল হকের অনুপ্রেরণায় ভ্রমণের প্রতি আগ্রহটা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে আমার ছোট ভাই বিশ্ব পর্যটক তারেক অনু একশটিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করে অনুপ্রাণিত করেছে।’

শহরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সন্ধান করেন অপু

শহরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সন্ধান করেন অপু

তানভীর অপু সর্বপ্রথম ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন ২০০৬ সালে। প্রথমে যান এস্তোনিয়ার রাজধানী তালিমে। এ সময় তিনি ভ্রমণ করেন জার্মানি, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, লিথেনেস্টাইন ও চেক রিপাবলিকে। আর এ বছর ভ্রমণ করেছেন ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, পাঞ্জাব, মানালি, দিল্লি ও কুল্লুতে। যে দেশেই যান, লাল-সবুজের বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তানভীর অপু।

তানভীর অপুর ভ্রমণের পেছনের রহস্যটা কী? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে পৃথিবীটাই একটি দেশ। আমরা মানুষ, এটাকে ভাগ করেছি। এজন্য বিভিন্ন দেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের যেমন ধরুন ৬৪ জেলা, আমাদের উচিত প্রতিটি জেলায় ভ্রমণ করা। আমাদের ভাষা বাংলা হলেও প্রতিটি জেলার ভাষার আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। খুলনায় যেমন সুন্দরবন আছে, সিলেটে আছে চা বাগান। সব দেখা উচিত। যখন ভ্রমণ শুরু করেছি, ভেবেছি পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে আমি পা রাখব।’

তানভীর দেশে দেশে ঘুরে বেড়ানোর ছবিগুলো নিয়ে চারটি প্রদর্শনী করেছেন। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ করেছেন ‘যাত্রা হলো শুরু’ শিরোনামের একটি বইও। এখন স্বপ্ন দেখেন নিজের অভিজ্ঞতা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। নিজের স্বপ্নের কথা বলে যান, ‘বিভিন্ন দেশ ঘুরে আমার হয়তো অর্থ ফুরিয়েছে, কিন্তু জমে আছে অনেক গল্প। বিচিত্র সৃষ্টির ছবি-ভিডিও। এগুলোই আমার সম্পদ। এসবই আমি স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের দেখাতে চাই। ভ্রমণে আগ্রহী করতে চাই। স্বপ্ন দেখাতে চাই।’

৬০ বছরে পানি নয় পেপসি পানেই বেঁচে আছেন বৃদ্ধা

অনলাইন ডেস্ক: যদিও পানি না খেয়ে এভাবে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। তবে তিনি যথেষ্ট সুস্থ ও স্লিমই রয়েছেন। তার ওজনও তেমন একটা বাড়েনি। জ্যাকি বলেন, আমি এটাতে আসক্ত কিনা তা আমার জানা নেই, তবে আমার বয়স ৭৭ বছর। আমি এ পর্যন্ত পেপসি খেয়েই বেঁচে আছি। বোতলে পেপসি পানে আগ্রহ পান না পেজ। তার পছন্দ ক্যান। আর সেটা অবশ্যই ঠান্ডা হতে হবে।

তার নিজের হিসেব অনুযায়ী, ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ৯৩ হাজার ৪৪০ ক্যান পেপসি খেয়েছেন। তার মানে ৩ হাজার কেজি শর্করা তার শরীরে গিয়েছে শুধু পেপসি থেকেই। তবুও জ্যাকি ফিট। তিনি মনে করেন, এটি তার উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

সূত্র: খালিজটাইমস

কত টাকায় ‘আস্ত দ্বীপ’ কিনেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ?

অনলাইন ডেস্ক: শীতের শুরু মানেই সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভিড়। যারাই এক বা দু’রাতের জন্য দ্বীপটিতে বেড়াতে যান ‘সমুদ্র বিলাস’-এ ঢুঁ মেরে আসেন। থাকা হোক আর না হোক, দেখে আসতে তো অসুবিধা নেই। এক পর্যটক একবার গিয়ে হয়তো আবারো যাবেন। কিন্তু বাড়ির মালিক হুমায়ূন আহমেদ এখানে আর আসবেন না, পূর্ণিমার জোয়ারে ভেসে যাওয়া সৈকত দেখবেন না।

দ্বীপের অনেকেই মনে করেন, হুমায়ূন আহমেদের কারণেই পর্যটকদের নজরে পড়েছে এই দ্বীপ। তার লেখা দারুচিনি দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি উপন্যাস পড়ে দলে দলে তরুণেরা ছুটে এসেছেন এই দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। পর্যটন মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই হুমায়ূনের বাড়ি সমুদ্র বিলাসের সামনে খানিকটা হলেও ভিড় দেখা যায়। হুমায়ূনের উপন্যাসের নামে তৈরি করা কটেজগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন পর্যটকরা। যেতেও সময় লাগে না; জেটিঘাট থেকে রিকশা-ভ্যানে মাত্র ১৫ মিনিটে যাওয়া যায় ‘সমুদ্র বিলাস’।

তবে এই বাড়ি কেনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক মিথও। এমনই একটি মিথ হল, লেখালিখি করে উপার্জিত টাকায় আস্ত একটি দ্বীপ কিনেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ! জল্পনারও কমতি ছিল না বিষয়টি নিয়ে। একজন লেখক কতটা বড়লোক হলে আস্ত একটা দ্বীপ কিনতে পারেন! দ্বীপ নিয়ে করবেনই বা কী তিনি! তবে জল্পনার খুব বেশি সুযোগও ছিল না। দূরের মানুষেরা দ্বীপ কেনার খবরে বিস্মিত হলেও, কাছের মানুষেরা ঠিকই জানতেন প্রকৃত তথ্য। কিন্তু কি সেটি?

‘সমুদ্র বিলাস’ রিসোর্ট

‘সমুদ্র বিলাস’ রিসোর্ট

আদতে তিনি কোনো দ্বীপ কেনেননি। তবে সেন্টমার্টিনে অনেক জমি কিনেছিলেন। সেখানেই থাকার জন্য বাড়ি বানিয়েছিলেন। জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ১৬ মার্চ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা জোলেখা খাতুনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২২ শতক জমি কেনেন হুমায়ূন আহমেদ। পরে ১৯৯৪ সালে তিনি একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। নাম দেন ‘সমুদ্র বিলাস’। ওই সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিক ও মো. উসমানকে বাড়িটি দেখাশোনার জন্য মাসিক বেতনভুক্ত করে দায়িত্ব দেন।

কম-বেশি সবাই জানি এই লেখক নিজে যা করে আনন্দ পেয়েছেন নাটক, সিনেমা বা উপন্যাসে বিভিন্নভাবে তা দেখিয়েছেন ভক্তদের। সুন্দর এই কটেজেরও বর্ণনা দিয়েছেন বিভিন্নভাবে। সমুদ্র বিলাসের কটেজগুলোর নাম দেয়া হয়েছে তার বিভিন্ন উপন্যাসের নামে। যেমন- দারুচিনির দ্বীপ, শ্রাবণ মেঘের দিন, কোথাও কেউ নেই, মিমির আলী আপনি কোথায়, হিমুর মধ্য দুপুর ও আমার আছে জল। এছাড়া শঙ্খনীল কারাগার নামে একটি রেস্তোরাঁ তৈরি এবং ওই এলাকাকে নুহাশ পয়েন্ট নামকরণ করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলার সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপের অবস্থান কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে। বাংলাদেশের সর্ব-দক্ষিণে এ দ্বীপ টেকনাফ উপজেলার একটি ইউনিয়ন। দ্বীপের লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। দ্বীপজুড়ে প্রচুর নারকেল গাছ আছে বলে স্থানীয়দের ভাষায় এ দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত।

দ্বীপের চারপাশেই সাগরের স্বচ্ছ নীল পানির ঢেউয়ের খেলা। প্রবাল, শৈবাল, সামুদ্রিক মাছ, কেওড়াবনসহ নানা জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এ দ্বীপ। সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য লীলাভূমি। এ দ্বীপের পাশে ছেঁড়াদ্বীপ নামে আরো একটি ছোট্ট বিচ্ছিন্ন দ্বীপ আছে। এটি বঙ্গপোসাগরের মাঝে জেগে থাকা বাংলাদেশের মানচিত্রের শেষ বিন্দু। সেন্টমার্টিন থেকে স্পিডবোটে মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় ছেঁড়াদ্বীপে পৌঁছানো যায়।

হনুমান তাড়াতে বাঘের সাজে কুকুর!

অনলাইন ডেস্ক: হনুমানের উত্পাতে নষ্ট হচ্ছিল খেতের ফসল। আর তাই চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন কৃষকরা। সর্বশেষ সবাই মিলে এক নকল বাঘের ব্যবস্থা করেন। একটি কুকুরের গায়ে বাঘের মতো রঙ করে দেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের কর্ণাটকের তীর্থহালি তালুকের নালুরু গ্রামে।

জানা যায়, প্রথমে গ্রামবাসী ব্যবহার করছিলেন একটি বাঘের পুতুল। খেতের কাছে সেটি উঁচু জায়গায় রেখে দেন কৃষক শ্রীকান্ত। তা দেখে ফসলের দিকে ঘেঁষার সাহস পাচ্ছিল না হনুমানগুলো। এই কৌশল দিন দুয়েক পরে অন্য একটি জমিতেও একই পদ্ধতি ব্যবহার করেন। সেখানেও ফল একই।

‘বাঘ’ ব্যবহারের কৌশল দু’বার কাজে দিলেও বেশিদিন যে এটা চলতে পারে না, সেটাও বেশ জানতেন এলাকাবাসী। আর তাই তারা কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আনেন। একটি কুকুরকে বাঘের মতো ডোরাকাটা রঙ করেন। কুকুরটির গায়ে কলপের কালো রং মাখিয়ে দেন। দূর থেকে তার ডোরাকাটা দাগ দেখলে মনে হবে সত্যিই যেন একটি বাঘ দাঁড়িয়ে রয়েছে।

গ্রামবাসীর এ কৌশল ভালোই কাজে দিয়েছে। বাঘ সেজে কুকুরটি খেতের চারদিকে ঘুরে বেড়ায় আর তার ভয়ে হনুমান ফসলের ধারে কাছেও ঘেঁষার সাহস করে না।

ভারতে হানিমুন করার সেরা তিন জায়গা

অনলাইন ডেস্ক: বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী মিলে বেড়াতে যাওয়া এখন একটা চিরাচরিত প্রথা হয়ে গেছে। কারণ একে অপরকে চেনা এবং আলাদা করে সময় দেয়ার ব্যাপারটাও প্রাসঙ্গিক বৈ কি! বাংলায় যাকে বলা হয় ‘মধুচন্দ্রিমা’, ইংরেজিতে ‘হানিমুন’। এই শীতে যারা বিয়ে করছেন তারা চাইলে ভারতে ঘুরে আসতে পারেন। কাশ্মির, সিমলা ছাড়াও ভারতে অনেক জায়গা আছে হানিমুন করার মতো। তেমন তিন জায়গার খোঁজখবর নিয়ে এই আয়োজন-

১. আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ অবস্থিত বঙ্গোপসাগরে। এই দ্বীপপুঞ্জে মোট ৫৭৪টি দ্বীপ রয়েছে, যার মাত্র ৩৬টি ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে প্রথমেই যেতে হবে এখানকার পোর্ট ব্লেয়ার। এটাই হলো এন্ট্রি এবং এক্সিট পয়েন্ট। কলকাতা থেকে বিমানে পোর্ট ব্লেয়ার যেতে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা। সমুদ্র পথেও যেতে পারেন, সময় লাগবে ৬০ ঘণ্টা! যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে হোটেল ও গাড়ি বুকিং দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি জায়গা

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি জায়গা

জারওয়া, অঙ্গা, সেন্টিনেলিজ, সাম্পেনদের অভিনব জীবনযাপন আমাদের সভ্যতা থেকে একদমই আলাদা। করভিন কোভ বীচের গোধূলি বেলার দৃশ্য আপনাদের দু’জনের খুবই ভালো লাগতে পারে। বারতাং দ্বীপের জারোয়া সংস্কৃতি দেখার জন্য আদর্শ। রেন ফরেস্টের মধ্যে বন্ধুরপথ ও ম্যানগ্রোভের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে পাড়ি দিন লাইমস্টোন কেভে। দর্শন করুন মহাকালের বিগ্রহ। জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা বাজেট রাখলেই হবে।

২. মুন্নার

মুন্নারকে কেরালার কাশ্মীর বলা হয়। মুধিরাপুজা, নাল্লাথানি ও কুন্দালি নদীর স্রোত যেন এক হয়ে মিলেছে মুন্নারের ঠিক মাঝখানে। হয়তো এই নদীর কারণেই প্রাকৃতিকভাবে মুন্নারের আবহাওয়া, জীবজন্তু ও গাছপালা অন্য যে কোনো জায়গা থেকে আলাদা। মুন্নারের চা বাগানে ঘেরা পরিবেশে কয়েকদিন কাটালেই মন ভালো হয়ে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

মুন্নারের চা বাগান মুগ্ধ করবেই

মুন্নারের চা বাগান মুগ্ধ করবেই

আনাইমুদি শৃঙ্গ ট্রেকিং করতে করতে কুয়াশায় মোড়া চা বাগানগুলো আপনার চোখে আরাম দেবে তা চোখ বুজে বলে দেয়া যায়। এরপর মাত্তুপেটি ড্যাম এবং সেখানে কাপল বোটিং করে সময় কাটাতে পারেন। চেখে দেখতে পারেন বিখ্যাত রিসোর্টে সি ফুড প্ল্যাটার। তারপর চলে যান টপ স্টেশন, যা ১৭০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। সেখানের মূল আকর্ষণ হলো নিলাকুঞ্জীরি ফুল, যা ১২ বছরে ফোটে মাত্র একবার। জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

৩. শিলং

তুলনামূলক কম খরচে দেশের বাইরে হানিমুন করতে চাইলে আদর্শ জায়গা হতে পারে মেঘালয়। জীবনের নতুন ইনিংসের শুরুটাকে আরো বেশি রোমাঞ্চকর করতে যেতে পারেন মেঘ, পাহাড়-পর্বত, ঝরনা আর জলপ্রপাতের রাজ্য মেঘালয়ের শিলং। পরিকল্পনায় রাখতে পারেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের এলাকা চেরাপুঞ্জিটাও! বাংলাদেশ সিলেট সীমান্ত থেকে চেরাপুঞ্জি সোজাসুজি বিশ কিলোমিটারেরও কম।

শিলং ও তার আশেপাশে দেখার মতো অনেক কিছুই আছে

শিলং ও তার আশেপাশে দেখার মতো অনেক কিছুই আছে

মেঘালয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও যেতে পারেন আপনারা, আবার নির্ভরযোগ্য কোনো ট্যুর অপারেটরের সহায়তা নিতে পারেন। দ্বিতীয়টি বেছে নিলে আপনাকে ভিসার আনুষ্ঠানিকতা, যাতায়াত ও থাকা-খাওয়া নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। যদিও এতে খরচটা একটু বেশি পড়বে, তবে আপনার ভ্রমণ হবে অনেক নিরাপদ। নিজ ব্যবস্থাপনায় গেলে একটু সতর্ক থাকতে হবে। জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকায় কয়েকদিন ঘোরা যাবে।

এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর গ্রামে ঘুরে আসুন

ভ্রমণ ডেস্ক: চারপাশটা সবুজে আচ্ছাদিত। কোথাও লতানো পাতাবাহার, কোথাও রঙিন ফুলের গাছ। ঝকঝক করছে রাস্তাঘাট। একবিন্দু ময়লা পড়ে নেই কোথাও। এতটাই পরিচ্ছন্ন যে গ্রামটির রাস্তায় জুতা পায়ে হাঁটতেও মায়া লাগে! বলছিলাম এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম মাওলিননং এর কথা। এটির অবস্থান ভারতের মেঘালয়ে।

মাওলিননং ওয়ার্ল্ড ক্লিনেস্ট ভিলেজের স্বীকৃতি পায় ২০১৩ সালে। এই গ্রামের বাসিন্দারা যথেষ্ট সৌন্দর্য সচেতন। তারা সবসময় নিজেদের গ্রামকে পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্যোগী। ময়লা ফেলার জন্য সবাই ব্যবহার করেন বাঁশের তৈরি ডাস্টবিন। সেই বর্জ্য থেকেই সার উৎপন্ন হয়– যা চাষের কাজে লাগে।

মাওলিননং গেলেই মনে হবে এ যেন ফুলের গ্রাম! গ্রামটি জুড়ে নানারঙের ফুলের গাছ দেখে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। সেখানকার ফুলগুলোকে উড়ে উড়ে পাহারা দেয় প্রজাপতি। গাছ থেকে ফুল তোলা একেবারেই নিষেধ। গ্রামবাসীদের পোশাক-আশাকও দেখার মতো সুন্দর। এই সৌন্দর্যের টানেই এখানে ছুটে যান পর্যটকরা। শিলং শহর থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের নিবাস মাওলিননং গ্রামটি। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের একেবারেই কাছাকাছি এই গ্রামে প্রতিদিনই আসেন অসংখ্য পর্যটক।

এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রামের একটি রাস্তা

এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রামের একটি রাস্তা

গ্রামবাসীরা পরিবেশ সচেতনতা থেকেই প্লাস্টিক ব্যবহার করেন না। মাওলিননং গ্রামটি এই সব কারণেই দেখার মতো। গ্রামটির বাসিন্দারা নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করে থাকেন। এখানকার সব বাড়িই ঘিরে রেখেছে সবুজ। কোথাও কোথাও পর্যটকদের জন্য বসেছে ছোট দোকান। এখানে স্থানীয় অধিবাসীদের হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়। এখানে বেড়াতে গেলে অব্যশ্যই ঘুরে আসবেন ‘শেষের কবিতার দেশ’ শিলং থেকে।

মাওলিননং ঘুরতে চাইলে আপনাকে ভিসা করাতে হবে ডাউকি দিয়ে। সিলেট নেমে তামাবিল বর্ডারে এসে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ঢুকে পড়ুন মেঘালয়ে। চলে যেতে পারেন শিলং, ডাউকি কিংবা চেরাপুঞ্জিতে। মাওলিননং উচ্চ মানের থাকার ব্যবস্থা নেই। তবে খুব সম্প্রতি গড়ে উঠেছে হোম স্টে। সেখানেই রাত্রিবাস করতে পারেন, অথবা শিলং থাকতে পারেন।

জুমার দিনের বিশেষ ৩ আমল

অনলাইন ডেস্ক: জুমার দিনে মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল। এগুলো মধ্যে তিনটি আমল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর তাহলো-

(১) জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াত করা:

পবিত্র কোরআনুল কারিমের ১৫তম পারার ১৮নম্বর সূরা এটি। যদি কেউ সম্পূর্ণ সূরাটি তেলাওয়াত করতে না পারে তবে সে যেন এ সূরার প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করে।

যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে তার জন্য এক জুমা থেকে অপর (পরবর্তী) জুমা পর্যন্ত নূর হবে।

> যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, সে আটদিন পর্যন্ত সর্বপ্রকার ফেতনা থেকে মুক্ত থাকবে। যদি দাজ্জাল বের হয় তবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকেও মুক্ত থাকবে।

এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত তার সব (কবিরা গোনাহ ব্যতিত) গোনাহ মাফ হয়ে যাবে।

(২) জুমার দিনে বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা:

> জুমার দিনে বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ। যদি কোনো ব্যক্তি একবার দরূদ পড়ে তবে তার প্রতি ১০টি রহমত নাজিল হয়।

দরূদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ হচ্ছে ‘দরুদে ইব্রাহিম’; যা নামাজে পড়া হয়।

দরুদে ইব্রাহিমের আরবি, অর্থ, উচ্চারণ:

আরবি:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌاللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيد

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা সাল্লেআ’লা মোহাম্মদাও ও আ’লা আলি মোহাম্মদ, কামা সাল্লাইতা আ’লা ইব্রাহিমা ও আ’লা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আ’লা মোহাম্মাদেওঁ ও আ’লা আলি মোহাম্মদ, কামা বারকতা আ’লা ইব্রাহিমা ও আ’লা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ

অর্থ:
হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর এই রূপ রহমত নাজিল করো, যেমনটি করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তার বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করো, যেমন বরকত নাজিল করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়।

(৩) জুমার দিন দোয়া কবুলের সময়:

পবিত্র জুমার দিনের আমলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এদিনে বিশেষ একটা মুহূর্ত আছে, তখন বান্দা তার রবের কাছে যা-ই চায়, প্রিয় রব দিয়ে দেন।

প্রিয় নবীজি (সা.) জুমার দিনের কথা আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন,

فِيهِ سَاعَةٌ، لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ، وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي، يَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى شَيْئًا، إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ

‘এদিনে একটা সময় আছে, মুসলিম বান্দা একাগ্র হয়ে নাছোড়বান্দার মতো, আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করতে থাকলে, তিনি তাকে দিয়েই দেন। নবীজি (সা.) একথা বলার পর, হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে বুঝিয়েছেন, দোয়া কবুলের সেই সময়টা খুব দীর্ঘ নয়। স্বল্পমেয়াদী।’ (আবু হুরায়রা (রা.), বুখারি)।

তাহলে সময়টা কখন? এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামেরও কৌতূহল ছিল। বড় বড় সাহাবী এর অনুসন্ধান করেছেন। হাদিসে কয়েকটা সময় উল্লেখিত হয়েছে।

> প্রথম সময়:

ইবনে উমার (রা.) এর সঙ্গে দেখা হলো আবু বুরদার। জানতে চাইলেন,

> আপনার বাবা (আবু মুসা আশআরী (রা.)-কে জুমার দিনের বিশেষ সময় সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন?

> জি, শুনেছি। বাবা বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূলের (সা.) কাছে শুনেছি,

هِيَ مَا بَيْنَ أَنْ يَجْلِسَ الإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصَّلاَةُ

সে সময়টা হলো, ইমাম মিম্বরে বসার পর থেকে সালাত সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত (মুসলিম ৮৫৩)।

> দ্বিতীয় সময়:

জুমার দিনের শেষ সময়।

يَوْمُ الجُمُعة ثِنْتَا عَشْرَةَ سَاعَةً ، لاَ يُوجَد فِيهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ الله شَيْئاً إِلاَّ آتَاهُ إِيَّاهُ ، فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ العَصْر

জুমার দিন বারো ঘণ্টা। (তার মধ্যে এমন বিশেষ এক ঘণ্টা বা মুহূর্ত আছে) তাতে কোনো মুসলিম বান্দা দোয়া করলে, আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেই নেন। তোমরা সে বিশেষ মুহূর্তকে, আসরের পরে (মাগরিবের আগে) শেষ সময়টাতে অনুসন্ধান কর (জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.), আবু দাউদ ১০৪৮)।

আরেক হাদিসে সময়টা আসরের পর থেকে সূর্য ডুবা পর্যন্ত বলা হয়েছে।

আমার নানা সমস্যা? আমি বিপদে আছি? পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ? আর্থিক অনটন প্রকট? সামাজিক বা রাজনৈতিক শত্রুরা কষ্ট দিচ্ছে? বিশেষ কোনো চাওয়া আছে? চাকুরি-বিয়ে-সন্তান?
জুমার দিন বসে যাই না!

জুমার সময় দুই খুতবার মাঝখানে, ইমাম যখন নিরব হয়ে বসেন? আসরের পর- মাগরিবের আজান হয়ে যাওয়া পর্যন্ত?

বিশেষ করে-
জুমার দিন ও জুমার নামাজ আদায় মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক গুরুত্ব ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনের প্রতিটি আমলই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার নামাজ পরিত্যাগ করার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি (ইচ্ছা করে) অলসতাবশত তিনটি জুমা ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তায়ালা তার হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।’ (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুয়াত্তা মালেক)।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে জুমার নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। জুমার দিনের আমল ও করণীয়গুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন।

জুমার দিনে মর্যাদা ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সবাইকে মাফ করে দিন। আল্লাহুম্মা আমিন।

মানুষ খায় যে জাতি!

ফিচার ডেস্ক : মানুষখেকো মানুষের কথা শুনেছেন কি? এমন জাতি এই পৃথিবীতে আছে শুনলেই ভয়ে কুকড়ে ওঠেন নিশ্চয়! অবাক লাগে, যখন জানতে পারা যায় এমন মানুষ এই সভ্য জগতে এখনো আছেন।

তবে এমনই এক মানুষখেকো জাতির সন্ধান পাওয়া গেছে পাপুয়া নিউগিনিতে। মানুষ খাওয়ার অপরাধে সেখান থেকে ২৯ জনকে আটক করা হয়েছিল।

ইউকে টেলিগ্রাফ পত্রিকার এই খবরে বিশ্ববাসী রীতিমতো হতবাক হয়ে যায়। কয়েকজন ডাক্তারের অস্বাভাবিক মৃত্যুরহস্য বের করতে গিয়ে পুলিশ তাদের সন্ধান পায়। পুলিশ ধারণা করেন, প্রায় ৭০০ থেকে ১০০০ লোক এই গ্রপের সদস্য এবং এরা সবাই কম-বেশি মানুষের মাংস ভক্ষণ করেছে।

আরো জানা যায়, এরা সবাই কমপক্ষে সাতজন মানুষকে সরাসরি হত্যা এবং ভক্ষণের সঙ্গে জড়িত। এ নিয়ে বিচার শুরু হয়। কোর্টে সবাই স্বীকার করে যে তারা ডাক্তার হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল।

তাদের ভাষ্যমতে, এসব ডাক্তাররা ভয়ঙ্কর কালো বা জাদুকরী বিদ্যাচর্চা করত। তারা ডাক্তারকে হত্যা করে তার মগজ ভক্ষণ করেছে। তারা দাবি করে কালো জাদুকর এই ডাক্তাররা বহু মানুষকে হত্যা করে এই জাদুবিদ্যা চর্চা করে আসছে। যার ফলে তারা এসব ডাক্তারদের ভক্ষণ করেছে।