জেলা সরকারি মোরগ-মুরগি প্রতিপালন কেন্দ্র তিন বছর বন্ধ, নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি, ক্ষতিগ্রস্ত মোরগ-মুরগি প্রতিপালনকারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলা শহরের রসুলপুর এলাকার একমাত্র সরকারি মোরগ-মুরগি প্রতিপালন কেন্দ্রটি তিন বছর ধরে বন্ধ। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় একদিকে সরকারের প্রায় দুই কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কেন্দ্রে কর্মরত ছয়জন কর্মচারীর কোনো কাজ নেই।
প্রতিপালন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে রসুলপুর এলাকায় তিন একর জমির ওপর ১৯৮৫ সালে মোরগ-মুরগির প্রতিপালন কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়। পরের বছর এর কার্যক্রম শুরু হয়। যশোর সরকারি মুরগির হ্যাচারি থেকে এক দিনের মুরগির বাচ্চা এনে দুই মাস পালন করে এখান থেকে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করা হতো। ২০১১ সাল থেকে কেন্দ্রটিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এক কোটি টাকা মূল্যের চারটি ইনকিউবেটর মেশিন। এছাড়া উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি জেনারেটর, একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি), একটি রেফ্রিজারেটর, একটি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলসহ এক কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে তিনটি ব্যারাক, একটি গুদামঘর, মুরগি পালনের একটি শেড ও একটি অফিসঘর। এ কেন্দ্রে এখন দু’জন তৃতীয় শ্রেণির ও চারজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আছেন। কোনো কাজ না করেই চার বছর ধরে তাঁরা প্রতি মাসে ৫০হাজার টাকা বেতন নিচ্ছেন।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সাতক্ষীরা মোরগ-মুরগি প্রতিপালন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পোলট্রি উন্নয়ন কর্মকর্তা বিপ্লবজিৎ কর্মকার বলেন, ২০১১ সালে যশোর সরকারি মুরগির হ্যাচারি থেকে এক দিনের মুরগির বাচ্চা সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সাতক্ষীরার কেন্দ্রেটিও সেই থেকে বন্ধ। তবে কেন্দ্রেটি আবার চালু হবে বলে জানান তিনি।
শহরের পুরাতন সাতক্ষীরার ফজলুর রহমান, আবদুল মান্নান, মিলবাজার এলাকার কুনু বিশ্বাস, দায়াল সাধু ও বাঁকাল এলাকার আজাদ হোসেন জানান, তাঁরা মুরগির খামার তৈরির পর সরকারি মোরগ-মুরগির কেন্দ্র থেকে স্বল্পমূল্যে উন্নত জাতের বাচ্চা পেতেন। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। বেশি দাম দিয়ে মুরগির বাচ্চা ও খাবার কিনতে গিয়ে অনেকে লোকসানে পড়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।

রপ্তানি বেড়েছে শার্শায় উৎপাদিত টমেটোর

এমএ রহিম, বেনাপোল (যশোর): গ্রীষ্মকালীন সামার্কিং টমেটো চাষ, শার্শা-বেনাপোলে হচ্ছে বারমাস। অসময়ে ভারত থেকে আসা হাইব্রিড টমেটো, সারা বছর বাজারে পাওয়া গেলেও দাম থাকত বেশী। দেশে উদ্ভাবিত হাইব্রিড টমেটোর চাষ শার্শা উপজেলায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পাইকাররা আসছেন শার্শায়। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে টমেটো রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন জেলা শহরে। স্বল্প পূজিতে অধিক লাভের উন্নত জাতের টমেটো চাষ করে ভাগ্য বদলিয়েছেন শার্শা-বেনাপোলের ৫শ’ চাষী। তাদের সংসারে ফিরেছে সুদিন। সামার্কিং জাতের টমেটো চাষে কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ। বিষমুক্ত টমেটোর ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে কদর বাড়ছে। দাম বেশী পেয়ে খুশি চাষীরা। শার্শার আমড়াখালি গ্রামের কৃষক রবিউল ১০শতক জমিতে টমেটো চাষ করে লাভ করেছেন ১ লাখ টাকা। এ টমোটো চাষে তিন থেকে ৫ গুণ লাভ হওয়ায় তার দেখা দেখি বিভিন্ন এলাকার চাষ বেড়ে গেছে। উপজেলায় এবার তিন হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে বলে জানান কৃষি অফিসার হীরক কুমার সরকার।
উপজেলা কৃষি অফিসার হীরক কুমার সরকার বলেন, দিন বদলের সাথে সাথেই সবুজে ঘেরা কৃষি পল্লীখ্যাত শার্শা-বেনাপোলে হাইব্রিড জাতের সামার্কিং বারী তিন, চার ও পাঁচ জাতের টমোটো চাষ করে ভাগ্য বদলিয়েছে কয়েকশ চাষী। দেশী জাতের টমেটো শীতকালে পাওয়া গেলেও এই জাতের টমেটো পাওয়া যায় বার মাস। গাছ হয় বড়, ফল ধরে বেশী, ঝরে কম, ফলন ও দাম পাওয়া যায় অধিক। বাশ তার ও সতুলী দিয়ে তৈরী পালার উপরে থোকাই থোকাই ধরে টমেটো। গ্রীষ্ম বর্ষা শীত সব মৌশমে টমেটো ফলে অধিক। ঝাকে ঝাকে টমেটো দেখে কৃষকের মুখে থাকে নবান্নের হাসি। দিন দিন এই টমেটোর চাহিদা বাড়ছে। এলাকায় ব্যাপক হারে চাষ বেড়ে যাওয়ায় সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্রই। প্রথম সামার্কিং জাতের সফল টমেটো চাষী শার্শা লক্ষণপুর ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, তিনি ব্র্যাক ও কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমে তিন শতক জমিতে করেন টমেটো চাষ। প্রতি শতকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ করে টমেটো বিক্রি করেন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। প্রতি শতকে তার লাভ হয় ১০/১২ হাজার টাকা। এবার তিনি ১০ শতক জমিতে চাষ করেছেন। টমেটো চাষে আগ্রহী কৃষক ফজলুর রহমান বলেন তার দেখে খামারপাড়ার আবু রায়হান, জসিম, নিজামপুরের রহমান, আক্কাস, মুন্সি আলীসহ অনেকেই টমেটোর চাষ করে লাভবান হযেছেন। অধিক মুনাফার টমোটোর চাষ ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক এলাকায়। আগামীতে ১০হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হবে বলে জানান উপজেলা কৃষি অফিসার।

উন্নতজাতের থাই পেয়েরা চাষে শার্শা-বেনাপোলে হাজার পরিবারে ভাগ্যবদল

এমএ রহিম, বেনাপোল (যশোর): বাসাবাড়ির ছাদে সমতল ও উচু নিচু সব রকম জমিতেই করা যায় সম্ভাবনাময়ী উন্নতজাতের থাই-ত্রি পেয়ারার চাষ। বিদেশী জাতের থাই-৩ হাইব্রিড পেয়ারার চাষ ছড়িয়ে পড়েছে যশোরের শার্শা বেনাপোল ও চৌগাছায় এলাকায়। অল্প খরচে বেশী লাভ দেখতে চাকচিক্য ও সুস্বাদু পেয়ারার চাষে ঝুকছেন চাষীরা। বেনাপোলের বাহ্দাুরপুর মাঠে ১১৩৩ শতক (৩৪)বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন রায়হান উদ্দিন। তিনি ৩ বছরে থাই পেয়ারা বিক্রি করে লাভ করেছেন ১৯ লাখ টাকা। তার দেখে শার্শা ও ঝিকরগাছায় ১ হাজার বিঘা জমিতে থাই পেয়ারার চাষ হয়েছে। পেয়ারা চাষে চাষীদের বাড়ছে উপার্জন। সৃষ্টি হচ্ছে অনেকের কর্মসংস্থান। সম্ভাবনাময় উন্নতজাতের থাই পেয়েরা চাষে-শার্শা-বেনাপোলে হাজার পরিবারে ভাগ্যবদল হয়েছে। চাষীদের মধ্যে ফিরেছে সুদিন। পেয়ারা চাষে সাবলম্বি হয়েছেন অনেক পরিবার।
এ ও সি ভিটামিন সমৃদ্ধ বহুবিধগুণের অধিকারী নিরক্ষীয় অঞ্চলের পেয়ারাকে বলা হয় আপেল। উন্নতজাতের থাই পেয়ারা চাষ ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের সর্বত্রই। শীতকালে পাওয়া যায় বিভিন্ন জাতের পেয়ারা। থাই-৩, ৫ ও ৭ জাতের পেয়ারা পাওয়া যায় বারো মাস। গাছের সাইজ ছোট হলেও পেয়ারার আকার হয় বড়। দেখতে গোলাকার রঙ হলুদ ও সবুজ থাই পেয়ারার ওজন হয় প্রতিটি ২শ’ থেকে ৫শ’ গ্রাম। প্রতি ১কেজি দাম ৮০ থেকে ১৩০টাকা। চৌগাছার চাষী রায়হান উদ্দিন বেনাপোলের বাহাদুরপুরে ৩৪ বিঘা ও চৌগাছায় ১৪বিঘা জমিতে চাষ করেছেন সম্ভাবনাময় উন্নতজাতের থাই-৩ পেয়েরা। তিন বছরে খরচ করেছেন ৪০লাখ টাকা। লাভ করেছেন ১৯ লাখ টাকা। এ বছরে তিনি আরো ২০লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। শখের বসে ৪বছর আগে রাজশাহী বেড়াতে যেয়ে সেখান থেকে আনেন থাই থ্রি জাতের পেয়ারা। সফল চাষী রায়হান উদ্দিন তার পেয়ারা ক্ষেতেই সাথী ফসল কুমড়া, ঝাল, বেগুন, টমেটো, মূলা, কলা ও সবজির চাষ করে উপার্জন করছেন বাড়তি অর্থ। ৬জন নিয়মিত সহ অর্ধশত শ্রমিক কাজ করছেন তার পেয়ারা খেতে। অধিক লাভের থাই পেয়ারা চাষ দেখে বেনাপোল ধান্যখোলা কাশিপুর ফুলসরা ও চৌগাছার বিস্তৃন্ন এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে পেয়ারার চাষ। পেয়ারা চাষে চাষীদের ফিরছে সুদিন।
থাই পেয়ারা চাষী রায়হান উদ্দিন বলেন, পেয়ারা চাষ তার ভ্যাগ্য বদলে দিযেছেন। পেয়েছেন সরকারের কৃষি পদক স্বীকৃতি। এলাকায় সফল পেয়ারা চাষী হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। পেয়ারা ক্ষেতের শ্রমিক ওমর আলী বলেন, রায়হান উদ্দিনের পেয়ারা খেতে কাজ করে সুদিন ফিরেছে শত কৃষকের। এলাকায় দিন দিন থাই পেয়ারা চাষ বেড়েই চলেছেন। সফল চাষী রায়হান উদ্দিনের পেয়ারা ক্ষেতের শ্রমিক আদম আলী বলেন, বেনাপোল ধান্যখোলাসহ সমগ্র এলাকায় উন্নতজাতের থাই পেয়ারা চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বল্প সময়ে পেয়ারা চাষে সুদিন ফিরেছে অনেক পরিবারে।
শার্শা উপজেলা সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ মীর বকস বলেন, রায়হাদ উদ্দিন থাই পেয়ারা চাষ করে উপজেলায় নজীর সৃষ্টি করেছেন। তার দেখে শার্শা বাগআচড়া কাশিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় থাই পেয়ারার ছাষ করে অনেক চাষীর পরিবার পরিজন নিয়ে দিন কাটছে সুখে স্বাচ্ছন্দে। সুমিষ্ট থাই পেয়ারার চাষ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পেয়ারা চাষে কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ।

বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন জেলা শাখার বার্ষিক সাধারণ সভা

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ, সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে গত শনিবার সকাল ১১টায় খামারবাড়ি, সাতক্ষীরা’তে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে সাবেক কৃষিবিদ ও ঊর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মৃত মিকাইল হোসেন’র স্মরণে ১মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা উপ-পরিচালক প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর, মোঃ আব্দুল হাই, প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক ভিটিআই ডাঃ মো আব্দুর রাজ্জাক, আইডিয়াল পরিচালক ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কৃষিবিদবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সদস্যগণের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে কৃষিবিদ ডাঃ মোঃ আব্দুর রাজ্জাককে সভাপতি এবং কৃষিবিদ জিএমএ গফুরকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫সদস্য বিশিষ্ট ২০১৫-২০১৬ সালের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ৪ সদস্য বিশিষ্ট কাউন্সিলর গঠন করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

জযনগরে কৃষক সমাবেশ

জয়নগর (কলারোয়া) প্রতিনিধি: জয়নগরে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের আয়োজনে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এলাকার কৃষকদের নিয়ে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিঃ কর্র্র্তৃপক্ষ এ সমাবেশ করেছে। ওই সমাবেশে এলাকার ৪০জন আদর্শ কৃষক হাজির হয়ে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে রোপনের উপর বিশদভাবে ধারণা নেন। সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের কলারোয়ায় এলাকার সেলস মার্কেট ডেবেলপর শাহিনুর রহমান ও এমপিপিও শফিকুল ইসলাম সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের বীজ ও বিভিন্ন প্রকার বালাই নাশকের উপর আলোচনা করেন। ওই সমাবেশে সিনজেনটা লিঃ’র স্থানীয় রিটেইলার আব্দুর রহমান উপন্থিত ছিলেন।

ধুলিহরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের গোবিন্দপুর ২ গ্রাম উন্নয়ন কমিটি গঠন

ডেস্ক রিপোর্ট: সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কমিটি গঠন উপলক্ষ্যে উঠান বৈঠক শনিবার বিকালে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডাঃ দীনেশ দত্তের সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে গোবিন্দপুর ২ গ্রাম উন্নয়ন দলের সভাপতি আনন্দ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবিরসহ ৬০ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের ইউনিয়ন মাঠ সহকারী শংকার তরফদার। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

হায়বাতপুরে বিজয় দিবস পালন

শ্যামনগর অফিস: গত ১৩ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকপ্রাপ্ত হায়বাতপুর আইসিএম মডেল কৃষি ক্লাব ও কৃষি নারী সংগঠনের সভানেত্রী এফটি ফরিদা পারভীন তার শতাধিক নারী ও পুরুষ সদস্য নিয়ে ব্যানারসহ র্যালী সহকারে গোপালপুর শহিদ স্মৃতিসৌধে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বারসিকের সমন্বয়কারী শাহিন ইসলাম। বিকাল ৩টা থেকে সদস্যদের অংশগ্রহণে খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কবিরাজ জাহাঙ্গীর আলম।

কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ফসল ক্রয়ের দাবীতে জাসদের সমাবেশ

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বৈকারী ইউনিয়নের কাথন্ডা বাজারে এক পথ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বৈকারী ইউনিয়ন জাসদ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ। সাতক্ষীরা সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মোঃ রবিউল ইসলাম’র সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জাসদ সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, জাতীয় কৃষকজোট কেন্দ্রীয় যুগ্মসাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার ও সদর উপজেলা জাসদ সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, জাসদ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সরদার কাজেম আলী ও সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম হেলাল প্রমূখ। সভায় বক্তাগণ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হলে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, দলবাজী, টেন্ডারবাজীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সভায় বক্তাগণ আলুসহ সব্জীর আগাম মূল্য নির্ধারণ পূর্বক কৃষকদের কাছ থেকে ফসল সরাসরি ক্রয়ের দাবী জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

জাতীয় কৃষক সমিতি’র কর্মিসভা অনুষ্ঠিত

জাতীয় কৃষক সমিতি’র আসন্ন খুলনা জেলা সম্মেলনকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় কৃষক সভা-সমাবেশ চলছে। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ফুলতলা উপজেলার মুজারঘুটা বসুরাবাদ এলাকায় জাতীয় কৃষক সমিতির এক কর্মীসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষকনেতা বাবু চণ্ডীদাস মণ্ডল। এ সমাবেশে জেলা প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষক নেতা গাজী নওশের আলী ও সন্দীপন রায়। সমাবেশে বক্তৃতা করেনÑকৃষকনেতা কালিদাস মণ্ডল, রজত মণ্ডল, সুব্রত মল্লিক, দেবব্রত মল্লিক, লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। কর্মীসভায় সর্বসম্মতিক্রমে কৃষকনেতা কালিদাস মণ্ডলকে আহক্ষায়ক করে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
এছাড়া আজ বিকেল ৫টায় জাতীয় কৃষক সমিতির উদ্যোগে ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষ্ণনগর-তেঁতুলতলা এলাকায় এক কর্মীসভা কৃষকনেতা বাবু সার্থক কুমার বৈরাগীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তৃতা করেনÑকৃষক সমিতির জেলা প্রতিনিধি কৃষকনেতা গাজী নওশের আলী, সন্দীপন রায় ও শেখ সেলিম আখতার স্বপন এবং অধ্যাঃ রেজওয়ান রাজা, অধ্যাঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ হান্নানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

শ্যামনগরে বিষমুক্ত সবজী উৎপাদন প্রশিক্ষণ

শ্যামনগর অফিস: শ্যামনগর উপজেলায় নওয়াবেকী গণমুখী ফাউন্ডেশন (এনজিএফ) এর উদ্যোগে পিকেএসএফ এর সহযোগিতায় এনজিএফ এর শংকরকাটি শাখার অধীনে কৃষি ইউনিট ও প্রাণি সম্পদ ইউনিটের আওয়াতায় গতকাল সকাল ১০টায় এনজিএফ’র কার্যালয়ে দিন ব্যাপী বিষমুক্ত সবজী উৎপাদন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ প্রদান করেন শ্যাামনগর উপজেলা কৃষি কর্তকর্তা এস এম মিজান মাহমুদ। কৃষি ইউনিট ও প্রাণি সম্পদের কো-অডিনেটর মোঃ অব্দুল হামিদ, শাখা ব্যবস্থাপক জিএম আনোয়ার হোসেন, পিএ টেকনিক্যাল মোঃ আবু সাঈদ সহ ৩০জন উপকার ভোগী প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারীদের বিষমুক্ত সবজী চাষে ফেরোমন ফাদ ব্যবহারের নিয়ম-কানন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে উপকার ভোগীদের মাঝে ফেরোমন ফাঁদ বিতরণ করা হয়।

শ্যামনগরে শংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিত নতুন ধানের ফসল কর্তন উপলক্ষে মাঠ দিবস

বাংলাদেশের কৃষি সংস্কৃতি অনুযায়ী কৃষি কেন্দ্রিক যে কোন সমস্যা সমাধানে কৃষকেরাই উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন নিজেদের জ্ঞাণ-দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট নোনা পানির দৃর্যোগ ঝূঁকিপূর্ণ উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার কৃষি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সময়ের প্রয়োজনে রোগবালাই, দূর্যোগ সহনশীল এবং উৎপাদন লাভজনক এমন ধানের জাত উদ্ভাবনই সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে এ অঞ্চলের কৃষকেরা। বুধবার সকাল ৯টায় উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের অভিজ্ঞ কৃষক দিলীপ তরফদারের শংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিত নতুন ধান জাতের ফসল কর্তন উপলক্ষ্যে একটি মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। মাঠ দিবসে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরুস্কার প্রাপ্ত কৃষাণী ফরিদা পারভীন, চ্যানেল আই কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক সিরাজুল ইসলাম, প্রেসক্লাব সাংবাদিক জাহিদ সুমন, শেখ আফজাল, বারসিক কর্মকর্তা শাহীন ইসলাম, কৃষিবিদ পার্থ সারথী পাল এবং চন্ডিপুর ও হাটছালা গ্রামের কৃষক-কৃষাণীরা অংশগ্রহণ করেন। মাঠ দিবসে দিলীপ তরফদারের বিড্রিং করা ধান প্লটের ১ বর্গমিটার জায়গার ধান কেটে তা মাড়াই করে ৬১৬ গ্রাম ধান পাওয়া যায়, যা থেকে বিঘা প্রতি ২০.৬ মণ ফলন পাওয়া যায়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, শুস্ক অবস্থায় বিঘা প্রতি ১৮মণের বেশী ফলন পাওয়া যাবে। অভিজ্ঞতা উপস্থাপনের সময় কৃষক দিলীপ তরফদার বলেন, “আমি ২০১০ সালে ফিলিপাইনের ব্রিডিং বিজ্ঞাণীর কাছ থেকে আরো অনেক কৃষকের সঙ্গে ধানের ব্রিডিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এরপর নিজ উদ্যোগে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে ধানের নতুন জাত তৈরীতে ব্রিডিং কার্যক্রম শুরু করি। স্থানীয় কুটেপাটনাই ও খাজুরছড়ি ধান জাতের ব্রিডিং করে আমার মায়ের নামে “চারুলতা” নাম দিয়েছি। চতুর্থ প্রজন্ম পর্যন্ত কাজ করেছি। আরো ২বছর পর এলাকার কৃষকদের মাঝে এ ধানের বীজ বিতরণ করবো। এতিমধ্যে ৩ থেকে ৪টি গ্রামের ১৫/১৬ জন কৃষক চারুলতা ধান চাষ করছেন। এ ধান জাতটি রোগ-বালাই সহনশীল, গাছ শক্ত বলে হেলে পড়ে না, শিষ লম্বা, গাঁথুনী ঘন (প্রতিটি শিষে ৩ শতাধিক ধান থাকে)। গবেষণা সংস্থা বারসিক আমার এ কাজকে শুরু থেকে সার্বিক সহযোগিতা করছে। জাতটি আমাদের এলাকার কৃষি সমস্যা সমাধান ও কৃষকের চাহিদা পূরণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে আমার বিশ্বাস”। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনেও গুরুত্ব দিতে হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনেও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে ফসলে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। প্রতিমন্ত্রী সোমবার সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী কৃষি ও প্রযুক্তি মেলা-২০১৪ এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের কৃষক, শ্রমিক মেহনতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সংগ্রাম করেছেন। সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ, কৃষি গবেষণায় অধিক অর্থ বরাদ্দ ও কৃষি সহায়তা কার্ডের মাধ্যমে নানা রকম ভর্তূকি প্রদান করছে। প্রতিমন্ত্রী মেলায় প্রদর্শিত কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগের জন্য সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তা ও কৃষকদের সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান মোঃ খান আলী মুনসুর। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছু দ্দৌজা। স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা কৃষি বিষয়ক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম মানিকসহ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। কৃষক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পদক প্রাপ্ত খর্ণিয়ার কৃষক আবু হানিফ মোড়ল। আলোচনা শেষে প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় কৃষি বিষয়ক ২০টি স্টল অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকাবি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপকূলীয় কৃষাণী ফরিদা পারভীন ও অল্পনা রানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার অর্জন

শাহীন ইসলাম<=> গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় প্রতি বছর কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রদান করেন। সরকারী নির্ধারিত পুরস্কারের ১০টি বিভাগে আবেদন জমা নেওয়া হয় উপজেলা পর্যায়ে। উপজেলা কমিটি প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে শ্রেষ্ঠ একজন নির্বাচন করেন। এভাবে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বাছাইয়ের পর সর্বশেষ সেগুলো কৃষি মন্ত্রণালয়ে জমা হয়। রাষ্ট্রীয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারের জন্য মনোনিত আবেদন সমুহ ট্রাস্টি বোর্ডে জমা হয়। সর্বশেষ চুড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করেন। ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকা ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ বছর বিজয়ীদের বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বছর কৃষিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ পদক, ৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রৌপ্য পদক এবং ১৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করেন। এ বছর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার হায়বাতপুর গ্রামের কৃষাণী ফরিদা পারভীন ও ধুমঘাট গ্রামের অল্পনা মিস্ত্রী কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ব্রোঞ্জ পদক গ্রহণ করেন। স্থায়িত্বশীল পদ্ধতিতে কৃষি চর্চায় সাফল্য অর্জনকারী ফরিদা পারভীন ২০১৩ সালে এবং অল্পনা রানী ২০১৪ সালে উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতার পুরস্কার লাভ করেছেন। কৃষাণী অল্পনা রাণী মিস্ত্রী এবং ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন যাবৎ স্থায়িত্বশীল কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপকুলীয় কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ ভুমিকা রেখে চলেছেন। খাদ্য নিরাপত্তায় স্থানীয় বৈচিত্র্যময় ফসলের বীজ সংরক্ষণ, বিনিময় ও অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী একজন সফল গ্রামীণ নারী শ্যামনগর উপজেলার হায়বাতপুর গ্রামের কৃষানী ফরিদা। ৫ সদস্যের পরিবারের নিয়ে তার সংসার। মোট জমি পরিমান বসতভিটাসহ ২ বিঘা। ফরিদা পারভীন পরিকল্পনা করে গড়ে তুলেছে প্রাণবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি বাড়ি। পরিকল্পিতভাবে মাচা তৈরী করে উপরে সবজি ও নিচে মাছ চাষসহ কিভাবে অল্প জায়গার মধ্যে ফলের জাতবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায় তার একটি উৎকৃষ্ট মডেল ফরিদার কৃষি বাড়ি। ঝড়, বন্যা, খরা, জলাবদ্ধতা ও লবনাক্ততাসহ বিভিন্ন দূর্যোগে কৃষি বাড়ির কোন ক্ষতি করতে পারবে না। প্রাণবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ফরিদার কৃষি বাড়ীতে শীতকালীন সবজির জাত: ১৫ প্রকার, বর্ষাকালীন সবজির জাত: ১৫ প্রকার, বারমাসি সবজির জাত:-১৫, শিম ও ঝাল ১৭ প্রকার, অচাষকৃত শাকবৈচিত্র্য: ১৯, ঔষধি উদ্ভিদবৈচিত্র্য: ৪০ প্রকার এবং ৮৬টি স্থানীয় ধানের জাত রয়েছে। সংগঠন উদ্যোগে ফরিদা পারভীন স্থানীয় কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য গবেষণা, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করেন। ফরিদা স্থায়ীত্বশীল কৃষি চর্চা, কৃষিতে নারীর ক্ষমতায়নে ২০১২সালে কৃষি নারী সংগঠন গঠন করেন। দেশী/বিদেশী অসংখ্য সাংবাদিক, গবেষক, উন্নয়ন কর্মী, উদ্ধতন সরকারি/বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাণবৈচিত্র্য নির্ভর জনগোষ্ঠী তার সমৃদ্ধ কৃষি বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের অসংখ্য দৈনিক পত্রিকায় ফরিদার সফল উদ্যোগ সম্পর্কে তুলে ধরেছেন গুণী সাংবাদিকেরা। প্রতিদিন সরকারি/বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষক টিম ও স্থানীয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষক-কৃষানী-বনজীবী-আদিবাসী-কবিরাজ-জেলে পেশার মানুষেরা ফরিদার কৃষি বাড়ি পরিদর্শন করে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পাওয়ায় অনুভূতি প্রকাশে ফরিদা পারভীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরুস্কার পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এ পুরুষ্কার আমার কাছে অনেক মূল্যবান ও সম্মানের। এই স্বীকৃতি আমার সংগঠনের কাজকে আরো শক্তিশালী করবে। আমি ভবিষ্যতে একটি বীজ ব্যাংক তৈরী করতে চাই। রাসায়নিক মুক্ত সবজির বাজার সৃষ্টি ও কৃষিতে আমার মত শতশত নারীকে আত্মনির্ভরশীল করতে চাই। ২০০১ সাল থেকে আমি বারসিকের কাজের সাথে সম্পৃক্ত। আমার এ পুরুষ্কার অর্জনের জন্য বারসিকের অবদানকে আমি আজীবন স্মরণ করবো। পক্ষান্তরে রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট গ্রামের অল্পনা রানীর স্বামী ও দুই সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবার। স্বামী গংগারাম পেশায় কৃষক ও দিনমজুর। দিনের অধিকাংশ তিনি দিন মজুরীর কাজ করেন। নিজের মাত্র ১বিঘা বসতভিটায় অল্পনা রাণী যে সকল প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করেন, তা হলো: (ফলজ ও বনজ উদ্ভিদবৈচিত্র্য) আম (গোবিন্দভোগ, নিলাম্বরী, লতা) জাম, কলা (সবরী, কাঁচকলা, কাঁঠালে, বড়বাউলে, ডয়রা) নারকেল, পেয়ারা (দেশী, কেজি ও লাল), পানি আমড়া, সবেদা, জামরুল (সাদা ও লাল), বাতাবি লেবু, ডাবো, ডুমুর, তাল, খেজুর, করমচা, কেওড়া, রেইনট্রি, নিম, কদবেল, পাতিলেবু, লিচু, আপেল, কুল (নারকেল, বিলিতে), তেঁতুল, আঁশফল, আমলকি, জলপাই, গবেদা, কমলালেবু, ডালিম, বেদানা, কাঁঠাল, সুপারি, পেঁপে, গাব গাছ, দেশী বেল। ঔষধি বাগানে রয়েছে অনন্তমূল, অপরাজিতা, ঈষাণমূল, লালকেউটে, কালকেউটে, শিউলি, সোনাঝুরি, কৃষ্ণ তুলসী, রাধা তুলসী, মাধবীলতা, যাঁতিফুল, শিষ আকন্দ, শ্বেত আকন্দ, বাউফুল, কানফুল, ঝাউগাছ, চিরবসন্ত, পাথরকুচি, দূর্বাঘাস, মেহেদী, ধুতরা, গাদাফুল প্রভৃতি। স্থানীয় ফসল বৈচিত্র্যের মধ্যে লালশাক, ডাটাশাক, পালংশাক, সীম, বরবটি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, ঢেড়স, চালকুমড়া, উচ্ছে, করল্লা, বেগুন, টমেেেটা, ওল, কচুরমুখী, আদা, হলুদ, শসা, পেয়াজ , রসুন, পুইশাক, সরিষা, মরিচ/ঝাল, আলু,ওলকপি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মূলা, বড় আলু. মানকচু ইত্যাদি চাষাবাদ। অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের মধ্যে আদাবরুন/বিলশাক, তেলাকচু, ঘুমশাক, কলমীশাক, গাদামনি শাক, হেলাঞ্চ, মাটিফোড়া শাক, খুদকুড়ো, হাতিশূর, সেঞ্চি শাক, ঘোড়া সেঞ্চি, কাটানটি, গিমে শাক, থানকুনি, কালকচু ইত্যাদি। অল্পনা রাণী বাড়িতে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ভেড়া) পালন করেন। পুকুরে সারা বছর কৈ, শিং, মাগুর, মলা, শোল, ঢেলা, চ্যাং, ব্যাদলা, পুটি, মরুল্য, রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, খুরকুল্লো, আমলেট, খয়রা, গলদা, টেংরা, চিংড়ি সংরক্ষণ করেন। আমার পরিবারে তেল ও নুন ছাড়া কিছুই বাজার থেকে কেনা লাগে না। সারা বছর নিজের পরিবারের সব ধরনের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। বছরে কৃষি কাজ করে অল্পনা ২০/২৫ হাজার এবং ফরিদা পারভীন ৪০/৫০ টাকা সঞ্চয় করেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পাওয়ার পর অল্পনা রাণী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার পাওয়ার আনন্দ কোনদিন আমি ভূলতে পারবো না। বারসিকের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ আমার মত দরিদ্র কৃষানী আজ এই পুরুস্কার পেয়েছি। ভবিষ্যতে আমি মানুষের, সমাজের ও দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমি বারসিক, শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা ও জেলার সাংবাদিকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থাপনার মূল চালিকা শক্তি গ্রামীণ নারী সমাজ। নারী তার লোকায়ত জ্ঞান প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী শক্তির দ্বারা কৃষি হয়েছে সমৃদ্ধশীল। সরকারি/বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে প্রাণবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ও জলবায়ু সহনশীল ফরিদা পারভীন ও অল্পনা রাণীর কৃষি বাড়ি স্থায়িত্বশীল কৃষির একটি উৎকৃষ্ট মডেল। বীজের নিরাপত্তা ও কৃষিতে নারীর ক্ষমতায়নে তাদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ শত শত নারীর জীবনকে আলোকিত করছে। কৃষাণী ফরিদা পারভীন ও অল্পনা রাণীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক অর্জন উপকূলীয় কৃষিতে নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক যা এ জনপদের প্রাণের সকল ধরনের বৈচিত্র্য সুরক্ষাসহ সমৃদ্ধ করবে আগামীর বাংলাদেশ। লেখক:গবেষক।

কৃষি কাজ করে ডুমুরিয়ার কৃষক হানিফ আজ সাবলম্বী, পেয়েছেন জাতীয় কৃষি পদক

আব্দুল লতিফ মোড়ল, ডুমুরিয়া (খুলনা): ইচ্ছা শক্তিই বড় শক্তি। চিরন্তণ সত্য এই উক্তিটি বাস্তবে প্রমান করেছেন ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া গ্রামের শিক্ষিত ও পরিশ্রমী যুবক কৃষক আবু হানিফ মোড়ল। তিনি উচ্চতর লেখা-পড়া করেও পরাধীন না হয়ে স্বাধীন পেশা হিসেবে কৃষিকাজকে বেছে নেন। আর এই কৃষিকাজ করেই তিনি পেয়েছেন ব্যাপক সাফাল্য। ফলে অর্থ উপার্জনের সাথে সাথে স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়েও পেয়েছেন বিরল সম্মাননা।
জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মোড়লের ছোট ছেলে আবু হানিফ মোড়ল। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল খুব মেধাবী। কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর ভর্তি হয় ভার্সিটিতে। সেখানে তিনি পড়াশুনা শেষ না করে তিন বছর পর বাড়িতে ফিরে যোগ দেন কৃষিকাজে। পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া সাত একর জমি নিয়েই শুরু করেন জীবন সংগ্রাম। উন্নত প্রযুক্তি ও দৃঢ় মনোবল কাজে লাগিয়ে জমিতে লালশাক, শিম, পালংশাক, ফুলকপি, টমোটো ও লাউ চাষ করে প্রথম বছরই পেয়ে যান সাফল্য। ওই বছর তিনি প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করে আয় করেন পাঁচ লাখেরও বেশি টাকা। ফলে তার প্রচেষ্টা ও উদ্যাম আরও বেড়ে যায়। এমনিভাবে ৭/৮ বছর ধরে কৃষিকাজ করে কৃষক হানিফ হয়েছেন বিত্তবান ও সাবলম্বী। শুধু অর্থই নয় পেয়েছেন উপজেলা পর্যায়ে এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের পুরুস্কারও। ২০১৩ সালে হানিফ রাষ্ট্রীয় খরচে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন গমন করেন। সর্বশেষ তিনি গত ১৩ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরুস্কার ১৪১৯-রৌপ্য পদক লাভ করেছেন। তার এই অসামান্য সাফল্যে কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর ডুমুরিয়ার আয়োজনে গতকাল সোমবার তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে হানিফ জানান, ছাত্র জীবনে দেখলাম লেখাপড়া শেষে চাকুরী পাওয়া খুবই কঠিন। তাই মাষ্টারর্স সম্পন্ন না করেই বাড়ি ফিরে কৃষিকাজে নেমে পড়ি। একেবারে প্রথম বছরই লালশাক ও ফুলকপি বিক্রি করে হাতে পাই অনেক টাকা। এরপর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরে গিয়ে অফিসারের সাথে কথা বলে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে থাকি। জমিতে রাসায়নিক সার ত্যাগ করে গড়ে তুলি কম্পোস্ট সার এবং জৈব বালাই ব্যবস্থপনা। এক পর্যায়ে ফসল উৎপাদনের সাথে সাথে ঝুকে পড়ি বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের দিকে। ওই বছর পাট, ফুলকপি, লালশাক ও শিমের বীজ বিক্রি করে অনেক টাকা পেয়ে যাই। এক পর্যয়ে তিনি বলেন, কৃষিকাজ করে আমি মহাসুখী। আমি কয়েকবার উপজেলা শ্রেষ্ট কৃষি পদক পেয়েছি। তাছাড়া সরকারিভাবে ফিলিফাইন দেশ ভ্রমণ করেছি এবং সর্বশেষ এ বছর বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরুস্কার ১৪১৯-রৌপ্য পদক লাভ করেছি। তার এ সাফল্য তুলে ধরে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম জানান, কৃষক আবু হানিফ একজন আদর্শবান চাষী। তার নিজের উন্নতির সাথে সাথে দেশ ও জাতির জন্যেও রয়েছে অনেক অবদান। তিনি এলাকায় কৃষিকাজ প্রসারিত করতে নিজ উদ্যোগে মাঠ দিবস, চাষীদের উৎসাহিত করণ ও বিনামূল্যে বীজ বিতরনসহ অনেক ভুমিকা রেখেছেন।

‘খাদ্য অধিকার মানবাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা

খাদ্য নিরাপত্তা আইন পাশ করার দাবিতে ‘খাদ্য অধিকার মানবাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা সোমবার বিকাল ৪টায় সাতক্ষীরা শহরের শহীদ নাজমুল সরনির বাকশিস কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বদেশ’র নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্তের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ আবদুল হামিদ, বাকশিস’র জেলা সম্পাদক মোবাশ্বেরুলহক জ্যোতি, পবিত্র মোহন দাশ, জান্নাতুল মাওয়া, এ্যাডঃ আজাদ হোসেন বেলাল, আবু জাফর সিদ্দিকী, রানা গাইন, মরিয়ম মান্নান, শহিদ হাসান, সিরাজুন সঞ্জু, ফজিলাতুন্নেছা, অপরেশ পাল প্রমুখ। সভায় ‘খাদ্য নিরাপত্তা’ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বক্তারা বলেন, খাদ্য অধিকারের জন্য মানুষের প্রাপ্যতা থাকতে হবে। প্রাপ্যতা হচ্ছে উৎপাদনশীল জমি বা অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে সরাসরি খাদ্য গ্রহণের সুযোগ। এর মাধ্যমে খাদ্যের একটি দক্ষ বণ্টন ব্যবস্থা, প্রμিয়াজাতকরণ ও বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন স্থল থেকে যেখানে প্রয়োজন সেখানে খাদ্যের যোগান দেয়া। স্থিতিশীলতার মাধ্যমে স্থিতিশীল খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, সকল সময়ে সকল স্থানে খাদ্য প্রাপ্যতার বিষয়টি স্থিতিশীল হতে হবে। অভিগম্যতার মাধ্যমে সকল মানুষ যেন অর্থনৈতিক ও শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী যথেষ্ট পরিমাণে পর্যাপ্ত খাদ্য পায়। পর্যাপ্ত খাদ্য সংগ্রহ এবং গ্রহণের খরচ এমন হতে হবে যাতে তা অন্যান্য মৌলিক চাহিদা সন্তোষজনকভাবে পূরণের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি না করে। স্থায়িত্বশীলতার মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা এমন হতে হবে যাতে তা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মেও জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করে। এবং পর্যাপ্ততার মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তির পুষ্টি চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যের যোগান অবশ্যই থাকতে হবে, যা হবে ক্ষতিকর পদার্থমুক্ত এবং সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। এগুলো বাস্তবায়ন হলে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি