মহাকাশে নভোচারীদের হাতে আইফোন, বিশ্বজুড়ে কৌতূহল
অর্ধ শতাব্দি পর চাঁদে যাওয়ার ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ অভিযানে নাসার নভোচারীদের হাতে দেখা গেছে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স।
১৯৭২ সালের পর এটিই প্রথম চন্দ্রাভিযান যেখানে সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে নাসা। মহাকাশযানের ককপিটে গত বুধবার আইফোন ভাসতে দেখার পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাকাশচারীরা ফোন দিয়ে মূলত ছবি ও ভিডিও ধারণ করবেন। তবে মহাকাশে এগুলো সাধারণ ফোনের মতো কাজ করবে না। নিরাপত্তার খাতিরে ডিভাইসগুলোয় ইন্টারনেট সংযোগ বা ব্লুটুথ ব্যবহারের সুযোগ নেই। এমনকি ফেসটাইম কল বা কোনো গেম খেলার সুবিধাও বন্ধ রাখা হয়েছে। মহাকাশচারীরা আইফোনের মাধ্যমে মহাকাশযানের জানালা দিয়ে রকেটের বিভিন্ন পর্যায় এবং পৃথিবীর বিরল সব মুহূর্তের ছবি তুলছেন।
নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানান, নভোচারীদের পরিবারের জন্য বিশেষ মুহূর্তগুলো ধরে রাখা ও বিশ্ববাসীর জন্য অনুপ্রেরণামূলক ছবি শেয়ার করার লক্ষ্যেই আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে তাদের।
তবে মহাকাশে পাঠানোর আগে প্রতিটি হার্ডওয়্যারকে দীর্ঘ ও জটিল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টোবিয়াস নিডারউইজারের মতে, এ প্রক্রিয়া সাধারণত চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে হার্ডওয়্যারটি নিরাপত্তা প্যানেলের সামনে উপস্থাপন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে এর সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো (যেমন কাচ ভেঙে যাওয়া বা যন্ত্রাংশ খুলে পড়া) শনাক্ত করা হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে সে ঝুঁকি মোকাবেলার পরিকল্পনা তৈরি ও কার্যকারিতা প্রমাণ করা হয়।
তিনি বলেন, মহাকাশে অভিকর্ষ বল কাজ না করায় প্রতিটি জিনিস ভাসতে থাকে। তাই আইফোনগুলো যেন হারিয়ে না যায় বা আঘাত না লাগে, সেজন্য মহাকাশযানের ভেতরে ভেলক্রো ব্যবহার করে সেগুলো আটকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি রকেট উৎক্ষেপণের সময় অন্তত ফোনটি নভোচারীর বিশেষ স্যুটের পকেটে চেইন দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।
নাসা জানায়, আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলের সবচেয়ে আধুনিক ক্যামেরা হলেও এটিই একমাত্র সরঞ্জাম নয়। পাশাপাশি নভোচারীরা ২০১৬ সালের নিকন ডি৫ এবং ২০২২ সালের গোপ্রো হিরো ১১ ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। যদিও ২০১১ সালের শেষ স্পেস শাটল মিশনে আইফোন ৪ পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল ও ২০২১ সালের বেসরকারি মিশনেও স্মার্টফোন ব্যবহার হয়েছে, তবে আর্টেমিস-২ অভিযানের মাধ্যমেই আইফোন পূর্ণাঙ্গভাবে মহাকাশে দীর্ঘ ব্যবহারের স্বীকৃতি পেল।
অ্যাপল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোম্পানিটি এ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিল না।






