শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

অবশেষে আসছে কাঙ্ক্ষিত পেপাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
অবশেষে আসছে কাঙ্ক্ষিত পেপাল

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পেপাল চালুর আলোচনা যেন এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার গল্প। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বারবার আশার সঞ্চার, উদ্যোগের ঘোষণা, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক— কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বারবারই ব্যর্থতা।

তবে এবার প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন— বাংলাদেশে পেপালের কার্যক্রম চালু করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এমনকি এ লক্ষ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

২০১৬ থেকে অপেক্ষা

বাংলাদেশে পেপাল চালুর আলোচনা শুরু হয় মূলত ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে। ২০১৬ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়, এমনকি ২০১৭ সালে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়— সব মিলিয়ে তখন বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়।

কিন্তু সেই সময় বাস্তবে চালু হয় কেবল Xoom— যা পেপালের একটি সহায়ক সেবা। ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে PayPal Xoom সেবা। ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে এ সেবার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এটি দিয়ে প্রবাসীরা বাংলাদেশে অর্থ পাঠাতে পারলেও ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণ বা অনলাইন ব্যবসার পূর্ণাঙ্গ সুবিধা কখনোই চালু হয়নি।

পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালেও পেপাল চালুর ঘোষণা আসে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে ফ্রিল্যান্সারদের কাছে “পেপাল আসছে”— এটি এক ধরনের পুনরাবৃত্ত প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য পেপাল শুধু একটি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম নয়— এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। তারা বলছেন এবারের উদ্যোগ সফল হলে— বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য এটি হতে পারে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন।

কেন বারবার থেমে গেছে উদ্যোগ?

বাংলাদেশে বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম PayPal দীর্ঘদিন ধরেই চালুর আলোচনা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।

বাংলাদেশে পেপাল চালু না হওয়ার কারণগুলো কেবল প্রযুক্তিগত নয়; বরং এটি একটি জটিল নীতিগত, আর্থিক ও আন্তর্জাতিক কাঠামোর সঙ্গে জড়িত। এ নিয়ে নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা ব্যাখ্যা রয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, একাধিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কারণের সমন্বয়েই পেপ্যালের কার্যক্রম দেশে চালু করা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান বাধাগুলোর একটি হলো দেশের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেটেলমেন্ট’ কাঠামোর অভাব। অনলাইনে প্রতারণা বা আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক প্রতিকার দেওয়ার মতো ২৪ ঘণ্টার কোনো কেন্দ্রীয় সাপোর্ট সিস্টেম এখনও গড়ে ওঠেনি। ফলে আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অনুপস্থিত রয়ে গেছে।

এছাড়া, ব্যবহারকারীদের নির্ভরযোগ্য পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইকরণ (কেওয়াইসি ও অ্যাড্রেস ভেরিফিকেশন) ব্যবস্থার দুর্বলতাও বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পেপ্যালের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর তথ্য যাচাইয়ের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হওয়ায় এই সীমাবদ্ধতা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি করে।

পেপ্যালের ব্যবসায়িক কাঠামোও এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি কেবল একটি পেমেন্ট গেটওয়ে নয়, বরং দ্বিমুখী লেনদেননির্ভর একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস। কিন্তু বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রিত ও অনেকাংশে একমুখী (ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সনির্ভর) থাকায় এই প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিয়ন্ত্রক দিক থেকেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে। পেপ্যাল চালুর জন্য প্রয়োজন অবাধ অর্থপ্রবাহ—অর্থাৎ টাকা আসা-যাওয়ার স্বাধীনতা (inflow ও outflow)—যা বর্তমান কাঠামোয় সীমিত।

পরোক্ষ কারণগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ঘাটতিও উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ থেকে পেপ্যাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের অনেক উদ্যোগ ভারতের আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়ে এবং প্রত্যাশিত অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, পেপ্যাল চালুর ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিই নয়, বরং নীতিগত সংস্কার, আর্থিক নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় জোরদার করা জরুরি। যদিও সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে, তবুও এসব মৌলিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

নতুন করে আশার আলো যেখান থেকে

২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ঘোষণা দেন—পেপাল বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহী। পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে সরকার, ব্যাংকার এবং আইসিটি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে।

২০২৬ সালের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী জানান, পেপাল “নীতিগতভাবে আগ্রহী”, তবে এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক চালুর সম্ভাবনা না থাকলেও আলোচনার গতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। এবার সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংসদীয় ঘোষণা বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

নতুন বাস্তবতা: কেন এবার ভিন্ন?

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ২০২৫ সালের পর থেকে পরিস্থিতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথমত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ঘোষণা দেন যে পেপাল বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আগ্রহী। তিনি বলেছিলেন, মূলত ফ্রিল্যান্সার, ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও আইটি খাতে সহজ লেনদেন নিশ্চিত করতেই পেপাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই সময় পেপালের দক্ষিণ এশিয়া (সিঙ্গাপুরভিত্তিক) টিম বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ও আইসিটি বিভাগের সঙ্গে বৈঠকও করেছিল।

দ্বিতীয়ত, পেপালের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে সরকার, ব্যাংকার এবং আইসিটি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে—যা অতীতে খুব কমই ঘটেছে।

তৃতীয়ত, চলতি বছরের শুরুতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী স্পষ্টভাবে বলেন—পেপাল “নীতিগতভাবে আগ্রহী”, যদিও এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

চতুর্থত, ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তার এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতের দ্রুত বৃদ্ধি—এই দুইটি বিষয় পেপালের মতো প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বাস্তবায়নের ঘোষণা ইশতেহারে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পেয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম, যেমন- পেপাল—চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপালের কার্যক্রম শুরু করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোর কার্যকর পরিচালনা এবং দেশে পেপালের কার্যক্রম চালু করতে ইতোমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অর্থাৎ সরকার জানিয়েছে— পেপাল চালুর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালুর পরিবেশ তৈরির কাজ চলছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে বিষয়টি এখন আর কেবল আলোচনার পর্যায়ে নেই; বরং বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

তাহলে কি এবার সত্যিই আসছে?

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়—বাংলাদেশে পেপাল চালুর সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বাস্তবসম্মত। কারণ সরকার সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছেকেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান তুলনামূলক ইতিবাচক। পেপালের উচ্চপর্যায়ের আগ্রহ রয়েছে। ডিজিটাল অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে?

পেপাল চালু হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক প্রভাব পড়তে পারে। পেপাল চালু হলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে তিনটি খাতে:

ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং খাত

বর্তমানে অনেক ফ্রিল্যান্সার পেমেন্ট পেতে বিকল্প ও ব্যয়বহুল পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেন। পেপাল চালু হলে দ্রুত, নিরাপদ ও সরাসরি পেমেন্ট গ্রহণ সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় ফ্রিল্যান্সিং বাজার। কিন্তু পেমেন্ট জটিলতার কারণে অনেকেই আয়ের পূর্ণ সুবিধা পান না। পেপাল চালু হলে এই বাধা দূর হবে।

ই-কমার্স ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা

ছোট উদ্যোক্তারা সহজেই আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রি করে অর্থ দেশে আনতে পারবেন।

রেমিট্যান্স প্রবাহ

প্রবাসীরা সহজে অর্থ পাঠাতে পারলে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়তে পারে।

ডিজিটাল অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি

ক্যাশলেস ট্রানজেকশন, অনলাইন ব্যবসা ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী হবে।

বাস্তবতা বনাম প্রত্যাশা

তবে বাস্তবতা হচ্ছে— পেপাল চালু করা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি জটিল আর্থিক ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া। পেপাল নিজস্ব ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, বাজার সম্ভাবনা এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে একটি কমিটি গঠন বা আগ্রহ প্রকাশ—এই দুটি ধাপের পরও বাস্তবায়নে সময় লাগবে।

হাদিপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
হাদিপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার হাদিপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের বিদায় জানানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব হোসেন রাজু। শিক্ষক স্বপন কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা খাতুন। অন্যান্যের মধ্যে মাহমুদুল্লাহ শুভসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

কালিগঞ্জে সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের পিতার ইন্তেকাল, রিপোর্টার্স ক্লাবের শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের পিতার ইন্তেকাল, রিপোর্টার্স ক্লাবের শোক

বিশেষ প্রতিনিধি: সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ পত্রিকার ব্যুরো প্রধান শেখ শরিফুল ইসলামের পিতা শেখ আব্দুর রহমান (৮০)। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য ওযুরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (্ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে, ৪ মেয়ে, দুই স্ত্রী, আত্মীয় স্বজনসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজা নামাজে মথুরেশপুর ইউপির বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও নাজিমগঞ্জ বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি শেখ ফিরোজ কবির কাজল, মথুরেশপুর ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি মো. আজগর আলী, প্রত্যয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম,নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সহকারি সহকারী অধ্যাপক মো. আনিসুর রহমান, রিপোর্টার্স ক্লাবের অর্থ সম্পাদক মো. শের আলী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিসহ মুসুল্লীরা অংশগ্রহণ করেন।
রিপোর্টার্স ক্লাবের সিনিয়র সদস্য শেখ শরিফুল ইসলামের পিতার মৃত্যুতে রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে গভীর শোক জ্ঞাপন করা হয়েছে। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ কওছার তুহিন, সহ-সভাপতি আহাদুজ্জামান আহাদ, শেখ সাদেকুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক জেহের আলী, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী অধ্যাপক মাসুদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মো. শের আলী, দপ্তর সম্পাদক মো. জামাল উদ্দীন, তথ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন সবুজ, কার্যনির্বাহী সদস্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক সনৎ কুমার গাইন, রেদওয়ান ফেরদৌস রনি, মোল্লা আব্দুস সালাম, এসএম আরিজুল ইসলাম, সদস্য আফজাল হোসেন, শেখ ইকবাল আলম বাবলু, শেখ শাওন আহম্মেদ সোহাগ, আবু বক্কর সিদ্দীক, আব্দুল মজিদ, শামীম কওছার, জাহাঙ্গীর আলম, মোখলেসুর রহমান মুকুল, আবুল হোসাইন, লাভলু আক্তার, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আলাউদ্দীন, তাজুল হাসান সাদ, শেখ ফারুক হোসেন, সাংবাদিক শেখ ইয়াসিন আলী প্রমুখ।

 

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জমি লিজ নিয়ে তোলপাড়, যা বলছে কলেজ প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জমি লিজ নিয়ে তোলপাড়, যা বলছে কলেজ প্রশাসন

ইব্রাহিম খলিল : সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের কৃষিযোগ্য ১০ বিঘা জমি লিজ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ধানক্ষেতের একটি অংশে বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধন করাকে ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কলেজ ক্যাম্পাসের কৃষি চাষের উপযোগী ১০ বিঘা জমি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের (০১ বৈশাখ ১৪৩৩ থেকে ৩০ চৈত্র ১৪৩৩) জন্য লিজ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৩ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় কলেজ শিক্ষক পর্ষদ মিলনায়তনে প্রকাশ্যে ডাক অনুষ্ঠিত হবে। লিজ গ্রহণে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মহিলা হোস্টেলের নিরাপত্তার কথা বলে কয়েক বছর ধরে প্রায় ১০ থেকে ১৩ বিঘা জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে সেখানে ধান চাষ করা হচ্ছে। এতে ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে তাদের দাবি। তাদের মতে, এর কারণে খেলার মাঠের পরিসর কমে গেছে, নিয়মিত খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রুপ স্টাডি, আলোচনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী বখতিয়ার হোসেন বলেন, মহিলা হোস্টেলের নিরাপত্তার নামে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ১২ থেকে ১৩ বিঘা জমি আটকে রাখা হয়েছে। এর কিছু অংশ আমাদের ক্যাম্পাসের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো ধানক্ষেত চাই না। নিরাপত্তার জন্য ফুলের গাছ বা অন্য কোনো সৌন্দর্যবর্ধক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এদিকে বৃহস্পতিবার কলেজ প্রাঙ্গণে ধানক্ষেতের একটি অংশে বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের তোপের মুখে পড়ে তড়িঘড়ি করে গার্ডেনের সাইনবোর্ড স্থাপন ও উদ্বোধন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনের ঘোষণা দেওয়া হলেও এর প্রকৃত আয়তন, ব্যবহারের সীমা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
তাদের প্রশ্ন, ১০ বিঘার বেশি জমির মধ্যে কতটুকু অংশ গার্ডেনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রবেশ করতে পারবে কি না। পাশাপাশি বাকি ধানক্ষেত ভবিষ্যতে পুনরায় লিজ দেওয়া হবে কি না এ নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম বলেন, কলেজের মোট প্রায় ৯০ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র ১০ বিঘা জমি লিজ দেওয়া হয়েছে, যা কলেজের অতিরিক্ত ও অব্যবহৃত জমি।
তিনি বলেন, এ জমি লিজ দেওয়ার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে এবং কলেজ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হচ্ছে। প্রতি বছর এই জমি থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মণ ধান উৎপাদিত হয় এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এছাড়া সরিষাও উৎপাদন হয়।
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, কলেজে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ রয়েছে এবং উন্মুক্ত জায়গা নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের কিছু দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে বলেন, অব্যবহৃত জমি উৎপাদন কাজে ব্যবহার করাই বর্তমান সময়ের প্রয়োজন।
জমি লিজ, ধান চাষ এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের ভিন্নমুখী অবস্থান তৈরি হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টির একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।