মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

অবশেষে আসছে কাঙ্ক্ষিত পেপাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
অবশেষে আসছে কাঙ্ক্ষিত পেপাল

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পেপাল চালুর আলোচনা যেন এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার গল্প। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বারবার আশার সঞ্চার, উদ্যোগের ঘোষণা, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক— কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বারবারই ব্যর্থতা।

তবে এবার প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন— বাংলাদেশে পেপালের কার্যক্রম চালু করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এমনকি এ লক্ষ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

২০১৬ থেকে অপেক্ষা

বাংলাদেশে পেপাল চালুর আলোচনা শুরু হয় মূলত ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে। ২০১৬ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়, এমনকি ২০১৭ সালে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়— সব মিলিয়ে তখন বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়।

কিন্তু সেই সময় বাস্তবে চালু হয় কেবল Xoom— যা পেপালের একটি সহায়ক সেবা। ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে PayPal Xoom সেবা। ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে এ সেবার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এটি দিয়ে প্রবাসীরা বাংলাদেশে অর্থ পাঠাতে পারলেও ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণ বা অনলাইন ব্যবসার পূর্ণাঙ্গ সুবিধা কখনোই চালু হয়নি।

পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালেও পেপাল চালুর ঘোষণা আসে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে ফ্রিল্যান্সারদের কাছে “পেপাল আসছে”— এটি এক ধরনের পুনরাবৃত্ত প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য পেপাল শুধু একটি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম নয়— এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। তারা বলছেন এবারের উদ্যোগ সফল হলে— বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য এটি হতে পারে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন।

কেন বারবার থেমে গেছে উদ্যোগ?

বাংলাদেশে বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম PayPal দীর্ঘদিন ধরেই চালুর আলোচনা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।

বাংলাদেশে পেপাল চালু না হওয়ার কারণগুলো কেবল প্রযুক্তিগত নয়; বরং এটি একটি জটিল নীতিগত, আর্থিক ও আন্তর্জাতিক কাঠামোর সঙ্গে জড়িত। এ নিয়ে নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা ব্যাখ্যা রয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, একাধিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কারণের সমন্বয়েই পেপ্যালের কার্যক্রম দেশে চালু করা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান বাধাগুলোর একটি হলো দেশের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেটেলমেন্ট’ কাঠামোর অভাব। অনলাইনে প্রতারণা বা আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক প্রতিকার দেওয়ার মতো ২৪ ঘণ্টার কোনো কেন্দ্রীয় সাপোর্ট সিস্টেম এখনও গড়ে ওঠেনি। ফলে আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অনুপস্থিত রয়ে গেছে।

এছাড়া, ব্যবহারকারীদের নির্ভরযোগ্য পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইকরণ (কেওয়াইসি ও অ্যাড্রেস ভেরিফিকেশন) ব্যবস্থার দুর্বলতাও বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পেপ্যালের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর তথ্য যাচাইয়ের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হওয়ায় এই সীমাবদ্ধতা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি করে।

পেপ্যালের ব্যবসায়িক কাঠামোও এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি কেবল একটি পেমেন্ট গেটওয়ে নয়, বরং দ্বিমুখী লেনদেননির্ভর একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস। কিন্তু বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রিত ও অনেকাংশে একমুখী (ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সনির্ভর) থাকায় এই প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিয়ন্ত্রক দিক থেকেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে। পেপ্যাল চালুর জন্য প্রয়োজন অবাধ অর্থপ্রবাহ—অর্থাৎ টাকা আসা-যাওয়ার স্বাধীনতা (inflow ও outflow)—যা বর্তমান কাঠামোয় সীমিত।

পরোক্ষ কারণগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ঘাটতিও উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ থেকে পেপ্যাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের অনেক উদ্যোগ ভারতের আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়ে এবং প্রত্যাশিত অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, পেপ্যাল চালুর ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিই নয়, বরং নীতিগত সংস্কার, আর্থিক নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় জোরদার করা জরুরি। যদিও সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে, তবুও এসব মৌলিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

নতুন করে আশার আলো যেখান থেকে

২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ঘোষণা দেন—পেপাল বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহী। পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে সরকার, ব্যাংকার এবং আইসিটি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে।

২০২৬ সালের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী জানান, পেপাল “নীতিগতভাবে আগ্রহী”, তবে এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক চালুর সম্ভাবনা না থাকলেও আলোচনার গতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। এবার সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংসদীয় ঘোষণা বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

নতুন বাস্তবতা: কেন এবার ভিন্ন?

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ২০২৫ সালের পর থেকে পরিস্থিতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথমত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ঘোষণা দেন যে পেপাল বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আগ্রহী। তিনি বলেছিলেন, মূলত ফ্রিল্যান্সার, ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও আইটি খাতে সহজ লেনদেন নিশ্চিত করতেই পেপাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই সময় পেপালের দক্ষিণ এশিয়া (সিঙ্গাপুরভিত্তিক) টিম বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ও আইসিটি বিভাগের সঙ্গে বৈঠকও করেছিল।

দ্বিতীয়ত, পেপালের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে সরকার, ব্যাংকার এবং আইসিটি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে—যা অতীতে খুব কমই ঘটেছে।

তৃতীয়ত, চলতি বছরের শুরুতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী স্পষ্টভাবে বলেন—পেপাল “নীতিগতভাবে আগ্রহী”, যদিও এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

চতুর্থত, ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তার এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতের দ্রুত বৃদ্ধি—এই দুইটি বিষয় পেপালের মতো প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বাস্তবায়নের ঘোষণা ইশতেহারে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পেয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম, যেমন- পেপাল—চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপালের কার্যক্রম শুরু করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোর কার্যকর পরিচালনা এবং দেশে পেপালের কার্যক্রম চালু করতে ইতোমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অর্থাৎ সরকার জানিয়েছে— পেপাল চালুর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালুর পরিবেশ তৈরির কাজ চলছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে বিষয়টি এখন আর কেবল আলোচনার পর্যায়ে নেই; বরং বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

তাহলে কি এবার সত্যিই আসছে?

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়—বাংলাদেশে পেপাল চালুর সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বাস্তবসম্মত। কারণ সরকার সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছেকেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান তুলনামূলক ইতিবাচক। পেপালের উচ্চপর্যায়ের আগ্রহ রয়েছে। ডিজিটাল অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে?

পেপাল চালু হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক প্রভাব পড়তে পারে। পেপাল চালু হলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে তিনটি খাতে:

ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং খাত

বর্তমানে অনেক ফ্রিল্যান্সার পেমেন্ট পেতে বিকল্প ও ব্যয়বহুল পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেন। পেপাল চালু হলে দ্রুত, নিরাপদ ও সরাসরি পেমেন্ট গ্রহণ সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় ফ্রিল্যান্সিং বাজার। কিন্তু পেমেন্ট জটিলতার কারণে অনেকেই আয়ের পূর্ণ সুবিধা পান না। পেপাল চালু হলে এই বাধা দূর হবে।

ই-কমার্স ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা

ছোট উদ্যোক্তারা সহজেই আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রি করে অর্থ দেশে আনতে পারবেন।

রেমিট্যান্স প্রবাহ

প্রবাসীরা সহজে অর্থ পাঠাতে পারলে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়তে পারে।

ডিজিটাল অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি

ক্যাশলেস ট্রানজেকশন, অনলাইন ব্যবসা ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী হবে।

বাস্তবতা বনাম প্রত্যাশা

তবে বাস্তবতা হচ্ছে— পেপাল চালু করা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি জটিল আর্থিক ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া। পেপাল নিজস্ব ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, বাজার সম্ভাবনা এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে একটি কমিটি গঠন বা আগ্রহ প্রকাশ—এই দুটি ধাপের পরও বাস্তবায়নে সময় লাগবে।

Ads small one

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।”

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সেক্রেটারি অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে।

এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও হয়রানির বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন অ্যান্ডা ফিলিপ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বলে মনে করেন আইপিইউ সেক্রেটারি। সাক্ষাতে নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

অবশেষে সেই ঘোষণা এলো যেটির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হচ্ছিল আর্জেন্টিনা ও ফুটবল বিশ্বকে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানান আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা।

ইনস্টাগ্রামে হাতে লেখা নোটের ছবি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘ফাইনালের পর সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে সবাইকে জানাতে চাই, আমি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি।’

‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আমাকে কষ্ট দিয়েছে—এখনো ভেতর থেকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, সময় এসে গেছে।’

আর্জেন্টিনার হয়ে শুধু শেষ কয়েক বছরে নয়, পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেসি, ‘আমি সবসময় আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তখন নয়; তার আগেও। এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি, মাঠে সবকিছু দিয়েছি—ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত করতে।’

মেসির এই ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন এক ব্যক্তিগত অধ্যায়ও। তার বাবা হোর্হে মেসি গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত লেখার শেষে মেসি একটি বিশেষ নোটও যোগ করেছেন, ‘আমি এই কথাগুলো ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আজ, আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার পর আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি একদিনে নেওয়া নয়। বিশ্বকাপের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন মেসি। বাবার মৃত্যুর পর সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে।

আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মেসি লিখেছেন, ‘আমি জাতীয় দলের অংশ হতে ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময় ভালোবাসবো। আমি আমার সবকিছু দিয়ে দিয়েছি। আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। তাছাড়া দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এখানে থাকার যোগ্য।’

দুই দশক ধরে সমর্থকদের ভালোবাসার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, ‘গত ২০ বছরের সব ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। মাঠ থেকে আপনাদের কণ্ঠ শুনতে আমি ভীষণ মিস করবো। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে দলকে সমর্থন করবো—ভালো সময়েও, খারাপ সময়েও; বিশেষ করে খারাপ সময়গুলোতে।’

পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও দলের কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলোকে জীবনের ‘অবিস্মরণীয় স্মৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ার শেষ হচ্ছে একেবারে রূপকথার মতো। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতান তিনি। এটি ছিল আর্জেন্টিনার ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ। তার আগে দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে ২০২৪ সালেও কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখে তারা।

তবে সেই সাফল্যের আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির পথচলা ছিল হতাশায় ভরা। ২০১৬ সালে টানা তিনটি ফাইনালে হারের পর একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফিরে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসিই সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোল করা খেলোয়াড়। জাতীয় দলের হয়ে ২০৩ ম্যাচে তার গোল ১২৪টি।

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসেও সর্বোচ্চ গোলদাতা পুরুষ খেলোয়াড় তিনি। দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি শুধু রেকর্ডই গড়েননি, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোরও অংশ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ হাতে তুলে ধরেই পূর্ণতা পেয়েছে তার স্বপ্ন।

দাপুটে জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
দাপুটে জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

নারী এশিয়া কাপে দারুণ জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নাহিদা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা আক্রমণাত্মক করেছিল ইন্দোনেশিয়া। ওপেনার মারিয়া ও প্যাঙ্গেসতুতির ব্যাটিং কিছুটা শঙ্কাও জাগিয়েছিল বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে।

তবে মারুফা আক্তারের জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এরপর মেঘলা, নাহিদা ও ফাহিমাদের দারুণ বোলিংয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইন্দোনেশিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২ রান করেন ওপেনার মারিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং করেছেন নাহিদা আক্তার। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৫ ওভারে ৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়ার ইনিংস।

এর আগে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইন্দোনেশিয়া। দলীয় ১৬ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ফিরে গেলে জুটি গড়েন দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি।

দুজনের ৪০ রানের জুটি ভাঙে ২৭ রান করা দিলারা ফিরলে। এরপর সোবহানা মোস্তারি দলীয় সর্বোচ্চ ৪০ রান করে ফেরেন। ৪২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় এই রান করেন তিনি।

শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ১০০ রান পেরোয় বাংলাদেশের স্কোর। ১৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রানের ক্যামিও খেলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।