শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

চৈত্রান্তে চড়ক: লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
চৈত্রান্তে চড়ক: লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনচর্চাকে যদি একটি বাক্যে ধরতে হয়, তবে “বারো মাসে তেরো পার্বণ” প্রবাদটি অনিবার্যভাবে সামনে আসে। এই প্রবাদ শুধু উৎসবের প্রাচুর্যকে নির্দেশ করে না; এটি একটি জাতির জীবনদর্শন, অনুভূতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরে। বাঙালির প্রতিটি উৎসবের মধ্যেই রয়েছে কোনো না কোনো সামাজিক, অর্থনৈতিক কিংবা আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। এই ধারাবাহিকতার সূচনা হয় পয়লা বৈশাখের নবজাগরণের মধ্য দিয়ে, আর সমাপ্তি ঘটে চৈত্র সংক্রান্তির গাম্ভীরে‌্য।

 

এই শেষ প্রান্তেই দাঁড়িয়ে চড়ক পূজা যেন একদিকে বিদায়ের বেদনা, অন্যদিকে পুনর্জন্মের প্রত্যাশা বহন করে। চড়ক পূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির এমন একটি বহুমাত্রিক উপাদান, যেখানে ধর্ম, সমাজ, অর্থনীতি, শরীরী সাধনা এবং মানসিক বিশ্বাস একসূত্রে গাঁথা। এটি মূলত শিবকেন্দ্রিক গাজন উৎসবের অংশ, যা চৈত্র মাসব্যাপী চলে এবং সংক্রান্তির দিনে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।

 

গাজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ভক্তি ও তপস্যার প্রকাশ ঘটে, অন্যদিকে এটি হয়ে ওঠে মানুষের সম্মিলিত জীবনযাপনের এক প্রতীকী মঞ্চ। চড়ক পূজার উৎপত্তি নিয়ে নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য না থাকলেও এর চারপাশে গড়ে উঠেছে নানা লোককথা ও কিংবদন্তি। রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুরের নাম এই প্রসঙ্গে প্রায়ই উচ্চারিত হয়, তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এই উৎসবের শিকড় আরও গভীরে-গ্রামীণ ও কৃষিভিত্তিক সমাজের প্রাচীন বিশ্বাসে।

প্রকৃতির অনুকূলতা লাভ, রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি এবং জীবনের পুনর্জন্মের ধারণা-এই তিনটি উপাদান চড়ক পূজার ভিত গড়ে দিয়েছে। এই উৎসবের মধ্যে যে ভৌতিক শক্তি, ভূতপ্রেত কিংবা অলৌকিক বিশ্বাসের উপস্থিতি দেখা যায়, তা আসলে প্রাচীন মানুষের অজানাকে ব্যাখ্যা করার একটি প্রচেষ্টা। যখন বিজ্ঞান ছিল না, তখন মানুষ প্রকৃতির অদৃশ্য শক্তিকেই দেবত্ব দান করেছিল।

সেই ধারাবাহিকতায় চড়ক পূজা একধরনের লোকধর্মীয় আচার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। চড়ক পূজার সবচেয়ে আলোচিত দিক নিঃসন্দেহে এর শরীরনির্ভর আচার। আধুনিক সভ্যতার চোখে যা অনেক সময় নিষ্ঠুর বা অমানবিক বলে মনে হয়, তা অংশগ্রহণকারীদের কাছে একধরনের আধ্যাত্মিক সাধনা। শরীরকে কষ্ট দিয়ে আত্মার পরিশুদ্ধি-এই ধারণা বহু প্রাচীন ধর্মীয় প্রথার সঙ্গে সম্পর্কিত।চড়কগাছে সন্ন্যাসীদের বেঁধে ঘোরানো, শরীরে হুক প্রবেশ করানো, জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর হাঁটা, ধারালো বস্তুর ওপর লাফানো-এসব আচার কেবল দেহের সহনশীলতার পরীক্ষা নয়; এগুলো বিশ্বাসের গভীরতার প্রকাশ। যারা এই আচার পালন করেন, তারা মনে করেন-এই কষ্টই তাদের পাপমোচনের পথ, এই যন্ত্রণা তাদের মুক্তির দিশা।

 

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক দিকও রয়েছে। চরম শারীরিক কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ একধরনের আত্মিক তৃপ্তি লাভ করে, যা তাকে নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার অনুভূতি দেয়। এই অভিজ্ঞতা অনেক সময় ধর্মীয় উন্মাদনা বা একধরনের তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থার সৃষ্টি করে, যা তাদের কাছে দেবতার সঙ্গে সংযোগের এক মাধ্যম হয়ে ওঠে। চড়ক পূজার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র। সন্ন্যাসী হিসেবে পূজার সমস্ত আচার সম্পন্ন করেন, এবং এই প্রক্রিয়ায় তারা একধরনের সামাজিক মর্যাদা অর্জন করেন। এই দিকটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চড়ক পূজা একধরনের সামাজিক প্রতিবাদের ভাষা।

 

এটি এমন একটি মঞ্চ, যেখানে সমাজের প্রান্তিক মানুষ নিজের অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠা করে। ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে তারা একটি বিকল্প সামাজিক কাঠামো তৈরি করে, যেখানে শ্রেণিবৈষম্য কিছুটা হলেও লঘু হয়। চড়ক পূজাকে ঘিরে যে মেলা বসে, তা গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি একটি সামাজিক মিলনমেলা, যেখানে মানুষ আনন্দ, বিনোদন এবং পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ পায়। স্থানীয় কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প, মাটির তৈরি জিনিস, খেলনা, মিষ্টান্ন-সবকিছুই এই মেলায় স্থান পায়।

 

একই সঙ্গে থাকে লোকসংগীত, যাত্রাপালা, গম্ভীরা, বাউল গান-যা এই উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ফলে চড়ক পূজা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি সামগ্রিক গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রতিফলন। বর্তমান সময়ে চড়ক পূজাকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছে আধুনিক মানবাধিকার ও বিজ্ঞানমনস্কতা, যা শরীরকে আঘাত করে এমন আচারকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। অন্যদিকে রয়েছে ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্ন, যা এই আচারগুলোকে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখছে।

 

অনেক জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চড়ক পূজার ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। হুক দিয়ে ঝোলানো বা শরীরে বাণ বিদ্ধ করার মতো আচার অনেক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। তবে তাতে উৎসবের মূল চেতনা হারিয়ে যাচ্ছে কিনা-সেই প্রশ্নও উঠে আসছে। এই দ্বন্দ্ব আসলে একটি বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন-কিভাবে একটি সমাজ তার অতীতকে ধারণ করে বর্তমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য স্থাপন করবে। চড়ক পূজা এই প্রশ্নের একটি জীবন্ত উদাহরণ।চৈত্র সংক্রান্তি মূলত একটি সমাপ্তির প্রতীক-পুরোনো বছরের শেষ।

 

আর এই সমাপ্তির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন শুরুর সম্ভাবনা। চড়ক পূজা সেই সম্ভাবনাকেই প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে। শরীরের কষ্ট, আগুনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়া, বেদনার অভিজ্ঞতা-সবকিছু যেন একধরনের শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নতুন বছরের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চড়ক পূজা একটি পুনর্জন্মের আচার। এটি শুধু ধর্মীয় নয়; এটি মানসিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনের একটি প্রতীক। চড়ক পূজা আজও বেঁচে আছে-সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে।

 

হয়তো অনেক আচার বদলেছে, অনেক কিছু হারিয়ে গেছে, আবার নতুন কিছু যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এর মূল সুরটি অটুট-মানুষের বিশ্বাস, কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা, এবং নতুন করে শুরু করার আকাক্সক্ষা। চৈত্রের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়-সংস্কৃতি কখনও স্থির নয়; এটি প্রবাহমান। আর সেই প্রবাহের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একটি জাতির ইতিহাস, তার সংগ্রাম, তার আনন্দ এবং তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন। চড়ক পূজা তাই শুধু একটি উৎসব নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক গভীর প্রতিফলন-যেখানে অতীত ও বর্তমান মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

 

 

 

হাদিপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
হাদিপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার হাদিপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের বিদায় জানানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব হোসেন রাজু। শিক্ষক স্বপন কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা খাতুন। অন্যান্যের মধ্যে মাহমুদুল্লাহ শুভসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

কালিগঞ্জে সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের পিতার ইন্তেকাল, রিপোর্টার্স ক্লাবের শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের পিতার ইন্তেকাল, রিপোর্টার্স ক্লাবের শোক

বিশেষ প্রতিনিধি: সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ পত্রিকার ব্যুরো প্রধান শেখ শরিফুল ইসলামের পিতা শেখ আব্দুর রহমান (৮০)। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য ওযুরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (্ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে, ৪ মেয়ে, দুই স্ত্রী, আত্মীয় স্বজনসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজা নামাজে মথুরেশপুর ইউপির বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও নাজিমগঞ্জ বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি শেখ ফিরোজ কবির কাজল, মথুরেশপুর ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি মো. আজগর আলী, প্রত্যয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম,নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সহকারি সহকারী অধ্যাপক মো. আনিসুর রহমান, রিপোর্টার্স ক্লাবের অর্থ সম্পাদক মো. শের আলী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিসহ মুসুল্লীরা অংশগ্রহণ করেন।
রিপোর্টার্স ক্লাবের সিনিয়র সদস্য শেখ শরিফুল ইসলামের পিতার মৃত্যুতে রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে গভীর শোক জ্ঞাপন করা হয়েছে। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ কওছার তুহিন, সহ-সভাপতি আহাদুজ্জামান আহাদ, শেখ সাদেকুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক জেহের আলী, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী অধ্যাপক মাসুদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মো. শের আলী, দপ্তর সম্পাদক মো. জামাল উদ্দীন, তথ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন সবুজ, কার্যনির্বাহী সদস্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক সনৎ কুমার গাইন, রেদওয়ান ফেরদৌস রনি, মোল্লা আব্দুস সালাম, এসএম আরিজুল ইসলাম, সদস্য আফজাল হোসেন, শেখ ইকবাল আলম বাবলু, শেখ শাওন আহম্মেদ সোহাগ, আবু বক্কর সিদ্দীক, আব্দুল মজিদ, শামীম কওছার, জাহাঙ্গীর আলম, মোখলেসুর রহমান মুকুল, আবুল হোসাইন, লাভলু আক্তার, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আলাউদ্দীন, তাজুল হাসান সাদ, শেখ ফারুক হোসেন, সাংবাদিক শেখ ইয়াসিন আলী প্রমুখ।

 

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জমি লিজ নিয়ে তোলপাড়, যা বলছে কলেজ প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জমি লিজ নিয়ে তোলপাড়, যা বলছে কলেজ প্রশাসন

ইব্রাহিম খলিল : সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের কৃষিযোগ্য ১০ বিঘা জমি লিজ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ধানক্ষেতের একটি অংশে বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধন করাকে ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কলেজ ক্যাম্পাসের কৃষি চাষের উপযোগী ১০ বিঘা জমি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের (০১ বৈশাখ ১৪৩৩ থেকে ৩০ চৈত্র ১৪৩৩) জন্য লিজ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৩ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় কলেজ শিক্ষক পর্ষদ মিলনায়তনে প্রকাশ্যে ডাক অনুষ্ঠিত হবে। লিজ গ্রহণে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মহিলা হোস্টেলের নিরাপত্তার কথা বলে কয়েক বছর ধরে প্রায় ১০ থেকে ১৩ বিঘা জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে সেখানে ধান চাষ করা হচ্ছে। এতে ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে তাদের দাবি। তাদের মতে, এর কারণে খেলার মাঠের পরিসর কমে গেছে, নিয়মিত খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রুপ স্টাডি, আলোচনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী বখতিয়ার হোসেন বলেন, মহিলা হোস্টেলের নিরাপত্তার নামে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ১২ থেকে ১৩ বিঘা জমি আটকে রাখা হয়েছে। এর কিছু অংশ আমাদের ক্যাম্পাসের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো ধানক্ষেত চাই না। নিরাপত্তার জন্য ফুলের গাছ বা অন্য কোনো সৌন্দর্যবর্ধক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এদিকে বৃহস্পতিবার কলেজ প্রাঙ্গণে ধানক্ষেতের একটি অংশে বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের তোপের মুখে পড়ে তড়িঘড়ি করে গার্ডেনের সাইনবোর্ড স্থাপন ও উদ্বোধন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনের ঘোষণা দেওয়া হলেও এর প্রকৃত আয়তন, ব্যবহারের সীমা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
তাদের প্রশ্ন, ১০ বিঘার বেশি জমির মধ্যে কতটুকু অংশ গার্ডেনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রবেশ করতে পারবে কি না। পাশাপাশি বাকি ধানক্ষেত ভবিষ্যতে পুনরায় লিজ দেওয়া হবে কি না এ নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম বলেন, কলেজের মোট প্রায় ৯০ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র ১০ বিঘা জমি লিজ দেওয়া হয়েছে, যা কলেজের অতিরিক্ত ও অব্যবহৃত জমি।
তিনি বলেন, এ জমি লিজ দেওয়ার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে এবং কলেজ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হচ্ছে। প্রতি বছর এই জমি থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মণ ধান উৎপাদিত হয় এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এছাড়া সরিষাও উৎপাদন হয়।
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, কলেজে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ রয়েছে এবং উন্মুক্ত জায়গা নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের কিছু দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে বলেন, অব্যবহৃত জমি উৎপাদন কাজে ব্যবহার করাই বর্তমান সময়ের প্রয়োজন।
জমি লিজ, ধান চাষ এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের ভিন্নমুখী অবস্থান তৈরি হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টির একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।