বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বৈশাখ: উৎসবের আড়ালে বাঙালির আত্মপরিচয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখ: উৎসবের আড়ালে বাঙালির আত্মপরিচয়

 

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ-শুধু একটি উৎসবের নাম নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। ক্যালেন্ডারের একটি তারিখকে ঘিরে এত গভীর আবেগ, এত ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং এত বহুমাত্রিক অর্থ-বাংলা নববর্ষকে তাই নিছক আনুষ্ঠানিকতার গ-িতে আটকে রাখা যায় না। এটি একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে আত্মসমালোচনা; একদিকে ঐতিহ্য, অন্যদিকে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক চলমান প্রক্রিয়া। পহেলা বৈশাখের শেকড় নিহিত রয়েছে মুঘল আমলে। সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত ফসলি সন মূলত রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে চালু হয়েছিল। কৃষকের ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে খাজনা আদায়ের সময়কে সমন্বয় করার প্রয়োজনে যে বর্ষপঞ্জির জন্ম, সেটিই আজ বাঙালির সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই ইতিহাস আমাদের শেখায়-বৈশাখের জন্ম অর্থনীতির ভেতর, কিন্তু তার বিকাশ সংস্কৃতির ভেতর। অর্থাৎ, জীবিকা ও জীবনবোধের এক অনন্য মেলবন্ধনই পহেলা বৈশাখ। গ্রামবাংলায় বৈশাখ মানে নতুন ফসলের আনন্দ, হালখাতা, মেলা, আর মানুষের আন্তরিক মিলন। কৃষক বছরের হিসাব মেলান, ব্যবসায়ী নতুন খাতা খোলেন, আর সাধারণ মানুষ উৎসবের আমেজে মেতে ওঠেন। পান্তা-ইলিশ, গ্রামীণ মেলা, লোকগান-এসব কেবল বিনোদন নয়; এগুলো একটি সমাজের স্মৃতি, অভ্যাস ও পরিচয়ের অংশ। এখানেই বৈশাখ সবচেয়ে প্রাণবন্ত, সবচেয়ে স্বতঃস্ফূর্ত। শহরে এসে বৈশাখ অনেকটাই বদলে গেছে। এখানে উৎসবের জায়গা নিয়েছে আয়োজন। রঙিন পোশাক, ব্র্যান্ডের প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি-সব মিলিয়ে বৈশাখ এখন এক ধরনের “পাবলিক পারফরম্যান্স”। তবে এই রূপান্তরের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রা শহুরে বৈশাখকে নতুন অর্থ দিয়েছে। এটি কেবল আনন্দযাত্রা নয়, বরং একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, যেখানে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতা ও সাম্যের বার্তা তুলে ধরা হয়। পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় দিক তার সর্বজনীনতা। ধর্মীয় উৎসবগুলো যেখানে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে বৈশাখ সবার। এই উৎসব মানুষকে একত্রিত করে, বিভাজন ভুলিয়ে দেয়। আজকের বিশ্বে, যেখানে পরিচয়ের সংকট ও বিভাজন ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে পহেলা বৈশাখ আমাদের মনে করিয়ে দেয়-আমাদের একটি অভিন্ন পরিচয় আছে, আমরা বাঙালি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশাখ ক্রমশ বাণিজ্যিক হয়ে উঠছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন হাউস, রেস্তোরাঁ-সবাই এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যবসার সুযোগ নিচ্ছে। এটি একদিকে অর্থনীতির জন্য ভালো, কিন্তু অন্যদিকে প্রশ্ন তোলে-উৎসবের মূল চেতনা কি হারিয়ে যাচ্ছে? বৈশাখ কি এখন শুধুই “ডিসকাউন্ট সিজন”? একসময় যে গ্রাম ছিল বৈশাখের প্রাণকেন্দ্র, আজ সেখানে উৎসবের জৌলুস কমে এসেছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সাংস্কৃতিক চর্চার অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব-সব মিলিয়ে গ্রামীণ বৈশাখ অনেকটাই নিস্তেজ। অন্যদিকে শহরে আয়োজনের জাঁকজমক বাড়লেও অনেক সময় তা হয়ে উঠছে কৃত্রিম। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবায়। বর্তমানে পহেলা বৈশাখের সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে- নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্যচর্চার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। বড় জনসমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্লাস্টিক ও বর্জ্যের কারণে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যদিও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও আশার জায়গা আছে। নতুন প্রজন্ম যদি সচেতন হয়, যদি তারা বৈশাখের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারে, তবে এই উৎসব তার স্বকীয়তা হারাবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও গণমাধ্যম এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পহেলা বৈশাখকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ, গ্রামীণ মেলা পুনরুজ্জীবন, শিল্পীদের সহায়তা-এসব উদ্যোগ না নিলে এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে পারে। পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায়-পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুনকে গ্রহণ করতে। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং একটি দৃষ্টিভঙ্গি। জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব, নতুন করে শুরু করার সাহস-এসবই বৈশাখের মূল শিক্ষা। বৈশাখকে আমরা কীভাবে দেখব-সেটাই আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এটি কি কেবল একটি দিন, নাকি একটি চেতনা? যদি আমরা এর গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে পারি, তবে পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসব হয়ে থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে আমাদের আত্মপরিচয়ের শক্তিশালী ভিত্তি। বৈশাখ তখনই সত্যিকার অর্থে ‘সবার উৎসব’ হয়ে উঠবে, যখন তা আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হবে। পহেলা বৈশাখ আমাদের কেবল আনন্দ দেয় না; এটি আমাদের চিন্তা করতে শেখায়। এটি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করে, আবার ভবিষ্যতের পথও দেখায়। এই উৎসব আমাদের শেখায়-
পুরোনোকে ভুলে নয়, বরং তাকে ধারণ করেই নতুনকে গ্রহণ করতে হয়।নতুন বছরের সূর্য তাই শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি দর্শন-পুনর্জন্মের, পুনর্গঠনের, পুনরুত্থানের। এসো, আমরা পহেলা বৈশাখকে কেবল উৎসব হিসেবে নয়, একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখি। সংস্কৃতি রক্ষা, মানবিকতা চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করি। শুভ নববর্ষ

Ads small one

আইপি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল: বেনাপোল বন্দর দিযে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
আইপি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল: বেনাপোল বন্দর দিযে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): আইপি বা এনওসি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল করায় বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতীয় ইলিশ আমদানি বানিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গতকাল থেকে ভারতীয় কোন ইলিশের চালান বাংলাদেশে আসেনি বলে নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দর মৎস্য পরিদর্শক আস ওয়াদুল আলম।

মৎস্য কর্মকর্তা জানান. মঙ্গলবার বংলাদেশ মৎস্য অধিদফতর ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

মৎস্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ভারতীয কর্তৃপক্ষ ইলিশ রফতানিতে কোন নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদফতরের একটি চিঠিতে অনেকগুলো অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে অন্য সাদা মাছ আমদানি সচল থাকবে বলে জানান তিনি।

ইলিশ আমতানির সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

 

 

 

 

কয়রা উপকূলেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
কয়রা উপকূলেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮

জি এম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): খুলনার সুন্দরবনবেষ্টিত কয়রা উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করা হয়। অন্যরা চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২০ দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৮ জন। তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও আটজন নারী। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে দু’জন। গেল আগস্ট মাসে ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। মোট ৫৭ জন রোগীর মধ্যে ১০ জনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আর ৪৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এছাড়া অনেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ থেকে জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

২০ সেপ্টেম্বর সরেজমিন হাসপাতালে যেয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে হাত-পা ব্যবহার করছে রোগীর স্বজনরা। বারান্দায় ও কেবিনের সামনে কয়েকজন রোগীর দেখা মেলে।
রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরে কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কয়রায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি কয়রায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারীরাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে যেয়ে পাঁচজন রোগীর দেখা মেলে। ওইদিন একজনকে খুলনায় রেফার্ড করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি মদিনাবাদ গ্রামের শাহিন বলেন, ‘বাড়িতে থেকেই কাজকর্ম করি। পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছি। প্রথমে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে শয্যা সংকট থাকায় ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছে।’

সোহেল নামে এক রোগীর পিতা বলেন, হাসপাতালে প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। খাওয়ার পানিরও ব্যবস্থা নেই। বাইরে থেকে পানি কিনে খেতে হচ্ছে। ডেঙ্গু পরীক্ষা ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষা করাতে বাইরে যেতে হচ্ছে। তাঁর প্লাটিলেট ৪৯ হাজারে নেমে গেছে বলেও জানান তিনি। দিনমজুরের কাজ করা ওই রোগী আক্ষেপ করে জানান, বাইরে থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা ও পানি কেনার খরচ জোগাড় করতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কালনা গ্রামের মাসুরার ভাষ্য, সাড়ে চার বছরের শিশুকে নিয়ে দুইদিন আগে ভর্তি হয়েছি। শরীরে ১০৫ জ্বর; বাথরুম হচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছি না। পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে।

এদিকে, হাসপাতালের ৩১ শয্যার মূল ভবন নির্মাণের কাজ কয়েক বছর বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার পরে পুনরায় টেন্ডার হয়েছে। তবে এখনো কাজ শুরু হয়নি।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পুরুষ ও নারী রোগীদের আলাদা শয্যা নির্ধারিত রয়েছে। জ্বরের রোগীদের পরীক্ষার জন্য ঘঝ১ টেস্টের কিট রয়েছে এবং বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আইভি স্যালাইনও পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।”

তিনি আরো জানান, ৩১ শয্যার মূল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। ১৯ শয্যার ভবনে কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। আর প্যাথলজিস্ট না থাকায় বাইরে থেকে রোগীদের অন্যান্য পরীক্ষা করা লাগছে।

 

 

সাতক্ষীরায় দেশি-বিদেশি ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ হলেও কমেনি দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দেশি-বিদেশি ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ হলেও কমেনি দাম

এম শফিকুল ইসলাম: সাতক্ষীরা শহর ও শহরতলীর হাট-বাজারগুলো এখন ইলিশে ভরপুর। পর্যাপ্ত ইলিশ সরবরাহের রমরমা খবর ছড়াতে শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদে চালানো হচ্ছে মাইক প্রচার। ইলিশের স্বাদ নিতে প্রচারাভিযানে আকর্ষণ বাড়ানো হচ্ছে ভোক্তাদের। বছরে একবার ইলিশের স্বাদ পেতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভোগতারা ছুটে আসছে শহরের মাছ বাজারে।

 

বিপুল পরিমাণ ইলিশের সরবরাহ থাকলেও দাম আকাশ ছোঁয়া। মাছ কেনার অদম্য ইচ্ছা থাকলেও অর্থাভাবে কিনতে পারছে না সাধারণ ক্রেতারা। সামর্থবানরা পছন্দের মাছ কিনলেও বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষ। ওজন ও আকারভেদে ইলিশের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। দেশে ভরা মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার যোগান দিতে ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে পর্যাপ্ত ইলিশ। গত দুই মাসে ভারতের গুজরাট থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিকটন ইলিশ আমদানি হয়েছে। আরো ১৫০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি করা এসব ইলিশের বেশিরভাগই পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছ বাজার হয়ে গুজরাটের ভরুচ থেকে দেশে এসেছে। ভারত থেকে আসা এসব ইলিশ দেশীয় বরিশাল ও পদ্মার ইলিশ দেখিয়ে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশি বিদেশি ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহের দাম কম হওয়ার কথা থাকলেও কারসাজি আর অতি মুনাফা লাভের কারণে দামের স্থিতিশীল প্রভাব পড়েনি বাজারে। সুতরাং ইলিশের চড়া দামে নাকাল সাধারণ ক্রেতা। মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলছেন, বাংলাদেশের ইলিশ ভারতের বাজারে বিশেষ আকর্ষণের পণ্য ছিল, সেই বাংলাদেশের বাজারে এখন ভারতীয় ইলিশ ডুকছে।

 

বাণিজ্যের এই বিপরীতমুখী প্রবাহ বিস্ময়কর হলেও গত দুই বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র বলছেন, ১৯৮৭ সাল থেকে ২০২২-২৩, অর্থবছর পর্যন্ত দেশে ইলিশ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল। কিন্তু ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো উৎপাদন প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে যায়। ওই দুই অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন কমেছে যথাক্রমে ৭ দশামিক ৩৩ শতাংশ এবং ৫ দশামিক ৫১ শতাংশ।

 

তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উৎপাদনের তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি মৎস্য অধিদপ্তর। এদিকে ইলিশের উৎপাদন কমার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে জাটকা রক্ষায় দুর্বল আইন প্রয়োগ, নদী দূষণ ও পলি জমার বিষয় রয়েছে। জাটকা আহরণ বন্ধে আইন প্রয়োগ যথাযথ না হওয়ায় ইলিশের উৎপাদন এর প্রভাব পড়েছে।