শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

বৈশাখ: উৎসবের আড়ালে বাঙালির আত্মপরিচয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখ: উৎসবের আড়ালে বাঙালির আত্মপরিচয়

 

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ-শুধু একটি উৎসবের নাম নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। ক্যালেন্ডারের একটি তারিখকে ঘিরে এত গভীর আবেগ, এত ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং এত বহুমাত্রিক অর্থ-বাংলা নববর্ষকে তাই নিছক আনুষ্ঠানিকতার গ-িতে আটকে রাখা যায় না। এটি একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে আত্মসমালোচনা; একদিকে ঐতিহ্য, অন্যদিকে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক চলমান প্রক্রিয়া। পহেলা বৈশাখের শেকড় নিহিত রয়েছে মুঘল আমলে। সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত ফসলি সন মূলত রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে চালু হয়েছিল। কৃষকের ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে খাজনা আদায়ের সময়কে সমন্বয় করার প্রয়োজনে যে বর্ষপঞ্জির জন্ম, সেটিই আজ বাঙালির সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই ইতিহাস আমাদের শেখায়-বৈশাখের জন্ম অর্থনীতির ভেতর, কিন্তু তার বিকাশ সংস্কৃতির ভেতর। অর্থাৎ, জীবিকা ও জীবনবোধের এক অনন্য মেলবন্ধনই পহেলা বৈশাখ। গ্রামবাংলায় বৈশাখ মানে নতুন ফসলের আনন্দ, হালখাতা, মেলা, আর মানুষের আন্তরিক মিলন। কৃষক বছরের হিসাব মেলান, ব্যবসায়ী নতুন খাতা খোলেন, আর সাধারণ মানুষ উৎসবের আমেজে মেতে ওঠেন। পান্তা-ইলিশ, গ্রামীণ মেলা, লোকগান-এসব কেবল বিনোদন নয়; এগুলো একটি সমাজের স্মৃতি, অভ্যাস ও পরিচয়ের অংশ। এখানেই বৈশাখ সবচেয়ে প্রাণবন্ত, সবচেয়ে স্বতঃস্ফূর্ত। শহরে এসে বৈশাখ অনেকটাই বদলে গেছে। এখানে উৎসবের জায়গা নিয়েছে আয়োজন। রঙিন পোশাক, ব্র্যান্ডের প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি-সব মিলিয়ে বৈশাখ এখন এক ধরনের “পাবলিক পারফরম্যান্স”। তবে এই রূপান্তরের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রা শহুরে বৈশাখকে নতুন অর্থ দিয়েছে। এটি কেবল আনন্দযাত্রা নয়, বরং একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, যেখানে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতা ও সাম্যের বার্তা তুলে ধরা হয়। পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় দিক তার সর্বজনীনতা। ধর্মীয় উৎসবগুলো যেখানে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে বৈশাখ সবার। এই উৎসব মানুষকে একত্রিত করে, বিভাজন ভুলিয়ে দেয়। আজকের বিশ্বে, যেখানে পরিচয়ের সংকট ও বিভাজন ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে পহেলা বৈশাখ আমাদের মনে করিয়ে দেয়-আমাদের একটি অভিন্ন পরিচয় আছে, আমরা বাঙালি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশাখ ক্রমশ বাণিজ্যিক হয়ে উঠছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন হাউস, রেস্তোরাঁ-সবাই এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যবসার সুযোগ নিচ্ছে। এটি একদিকে অর্থনীতির জন্য ভালো, কিন্তু অন্যদিকে প্রশ্ন তোলে-উৎসবের মূল চেতনা কি হারিয়ে যাচ্ছে? বৈশাখ কি এখন শুধুই “ডিসকাউন্ট সিজন”? একসময় যে গ্রাম ছিল বৈশাখের প্রাণকেন্দ্র, আজ সেখানে উৎসবের জৌলুস কমে এসেছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সাংস্কৃতিক চর্চার অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব-সব মিলিয়ে গ্রামীণ বৈশাখ অনেকটাই নিস্তেজ। অন্যদিকে শহরে আয়োজনের জাঁকজমক বাড়লেও অনেক সময় তা হয়ে উঠছে কৃত্রিম। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবায়। বর্তমানে পহেলা বৈশাখের সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে- নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্যচর্চার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। বড় জনসমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্লাস্টিক ও বর্জ্যের কারণে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যদিও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও আশার জায়গা আছে। নতুন প্রজন্ম যদি সচেতন হয়, যদি তারা বৈশাখের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারে, তবে এই উৎসব তার স্বকীয়তা হারাবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও গণমাধ্যম এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পহেলা বৈশাখকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ, গ্রামীণ মেলা পুনরুজ্জীবন, শিল্পীদের সহায়তা-এসব উদ্যোগ না নিলে এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে পারে। পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায়-পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুনকে গ্রহণ করতে। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং একটি দৃষ্টিভঙ্গি। জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব, নতুন করে শুরু করার সাহস-এসবই বৈশাখের মূল শিক্ষা। বৈশাখকে আমরা কীভাবে দেখব-সেটাই আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এটি কি কেবল একটি দিন, নাকি একটি চেতনা? যদি আমরা এর গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে পারি, তবে পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসব হয়ে থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে আমাদের আত্মপরিচয়ের শক্তিশালী ভিত্তি। বৈশাখ তখনই সত্যিকার অর্থে ‘সবার উৎসব’ হয়ে উঠবে, যখন তা আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হবে। পহেলা বৈশাখ আমাদের কেবল আনন্দ দেয় না; এটি আমাদের চিন্তা করতে শেখায়। এটি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করে, আবার ভবিষ্যতের পথও দেখায়। এই উৎসব আমাদের শেখায়-
পুরোনোকে ভুলে নয়, বরং তাকে ধারণ করেই নতুনকে গ্রহণ করতে হয়।নতুন বছরের সূর্য তাই শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি দর্শন-পুনর্জন্মের, পুনর্গঠনের, পুনরুত্থানের। এসো, আমরা পহেলা বৈশাখকে কেবল উৎসব হিসেবে নয়, একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখি। সংস্কৃতি রক্ষা, মানবিকতা চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করি। শুভ নববর্ষ

হাদিপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
হাদিপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার হাদিপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের বিদায় জানানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব হোসেন রাজু। শিক্ষক স্বপন কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা খাতুন। অন্যান্যের মধ্যে মাহমুদুল্লাহ শুভসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

কালিগঞ্জে সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের পিতার ইন্তেকাল, রিপোর্টার্স ক্লাবের শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের পিতার ইন্তেকাল, রিপোর্টার্স ক্লাবের শোক

বিশেষ প্রতিনিধি: সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ পত্রিকার ব্যুরো প্রধান শেখ শরিফুল ইসলামের পিতা শেখ আব্দুর রহমান (৮০)। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য ওযুরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (্ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে, ৪ মেয়ে, দুই স্ত্রী, আত্মীয় স্বজনসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজা নামাজে মথুরেশপুর ইউপির বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও নাজিমগঞ্জ বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি শেখ ফিরোজ কবির কাজল, মথুরেশপুর ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি মো. আজগর আলী, প্রত্যয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম,নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সহকারি সহকারী অধ্যাপক মো. আনিসুর রহমান, রিপোর্টার্স ক্লাবের অর্থ সম্পাদক মো. শের আলী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিসহ মুসুল্লীরা অংশগ্রহণ করেন।
রিপোর্টার্স ক্লাবের সিনিয়র সদস্য শেখ শরিফুল ইসলামের পিতার মৃত্যুতে রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে গভীর শোক জ্ঞাপন করা হয়েছে। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ কওছার তুহিন, সহ-সভাপতি আহাদুজ্জামান আহাদ, শেখ সাদেকুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক জেহের আলী, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী অধ্যাপক মাসুদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মো. শের আলী, দপ্তর সম্পাদক মো. জামাল উদ্দীন, তথ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন সবুজ, কার্যনির্বাহী সদস্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক সনৎ কুমার গাইন, রেদওয়ান ফেরদৌস রনি, মোল্লা আব্দুস সালাম, এসএম আরিজুল ইসলাম, সদস্য আফজাল হোসেন, শেখ ইকবাল আলম বাবলু, শেখ শাওন আহম্মেদ সোহাগ, আবু বক্কর সিদ্দীক, আব্দুল মজিদ, শামীম কওছার, জাহাঙ্গীর আলম, মোখলেসুর রহমান মুকুল, আবুল হোসাইন, লাভলু আক্তার, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আলাউদ্দীন, তাজুল হাসান সাদ, শেখ ফারুক হোসেন, সাংবাদিক শেখ ইয়াসিন আলী প্রমুখ।

 

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জমি লিজ নিয়ে তোলপাড়, যা বলছে কলেজ প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জমি লিজ নিয়ে তোলপাড়, যা বলছে কলেজ প্রশাসন

ইব্রাহিম খলিল : সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের কৃষিযোগ্য ১০ বিঘা জমি লিজ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ধানক্ষেতের একটি অংশে বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধন করাকে ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কলেজ ক্যাম্পাসের কৃষি চাষের উপযোগী ১০ বিঘা জমি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের (০১ বৈশাখ ১৪৩৩ থেকে ৩০ চৈত্র ১৪৩৩) জন্য লিজ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৩ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় কলেজ শিক্ষক পর্ষদ মিলনায়তনে প্রকাশ্যে ডাক অনুষ্ঠিত হবে। লিজ গ্রহণে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মহিলা হোস্টেলের নিরাপত্তার কথা বলে কয়েক বছর ধরে প্রায় ১০ থেকে ১৩ বিঘা জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে সেখানে ধান চাষ করা হচ্ছে। এতে ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে তাদের দাবি। তাদের মতে, এর কারণে খেলার মাঠের পরিসর কমে গেছে, নিয়মিত খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রুপ স্টাডি, আলোচনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী বখতিয়ার হোসেন বলেন, মহিলা হোস্টেলের নিরাপত্তার নামে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ১২ থেকে ১৩ বিঘা জমি আটকে রাখা হয়েছে। এর কিছু অংশ আমাদের ক্যাম্পাসের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো ধানক্ষেত চাই না। নিরাপত্তার জন্য ফুলের গাছ বা অন্য কোনো সৌন্দর্যবর্ধক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এদিকে বৃহস্পতিবার কলেজ প্রাঙ্গণে ধানক্ষেতের একটি অংশে বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের তোপের মুখে পড়ে তড়িঘড়ি করে গার্ডেনের সাইনবোর্ড স্থাপন ও উদ্বোধন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনের ঘোষণা দেওয়া হলেও এর প্রকৃত আয়তন, ব্যবহারের সীমা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
তাদের প্রশ্ন, ১০ বিঘার বেশি জমির মধ্যে কতটুকু অংশ গার্ডেনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রবেশ করতে পারবে কি না। পাশাপাশি বাকি ধানক্ষেত ভবিষ্যতে পুনরায় লিজ দেওয়া হবে কি না এ নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম বলেন, কলেজের মোট প্রায় ৯০ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র ১০ বিঘা জমি লিজ দেওয়া হয়েছে, যা কলেজের অতিরিক্ত ও অব্যবহৃত জমি।
তিনি বলেন, এ জমি লিজ দেওয়ার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে এবং কলেজ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হচ্ছে। প্রতি বছর এই জমি থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মণ ধান উৎপাদিত হয় এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এছাড়া সরিষাও উৎপাদন হয়।
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, কলেজে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ রয়েছে এবং উন্মুক্ত জায়গা নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের কিছু দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে বলেন, অব্যবহৃত জমি উৎপাদন কাজে ব্যবহার করাই বর্তমান সময়ের প্রয়োজন।
জমি লিজ, ধান চাষ এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের ভিন্নমুখী অবস্থান তৈরি হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টির একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।